বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪

কপাল

আহা রে! জনমের পর জনম
কী লিখন কপালে তোমার!

নারীর কাছে নিজের মত
উদারতা আশা করে
সকাল-সন্ধে ব্যাজার মুখে
খিস্তি খেতে থাকো 
যে অগোছালো আর বেহিসেবী তুমি,

সেই তুমিই, রাত বাড়লে
ঠিক মাফ করে দাও রোজ,
নারী যেই বালিশ ছেড়ে 
বাহুর উপরে উঠে আসে আর
আয়েশ ক'রে জড়িয়ে ধ'রে
ঠ্যাং তোলে গায়ের উপর,
অতঃপর নাক ডাকে মনের সুখে।

তুমি তখন আলতো ক'রে 
হাত বুলিয়ে দাও
তার চুলে আর পিঠে
আর সাচ্চা ভালবাসতে-বাসতে
প্রায় নিঃশব্দে চুম্বন করো 
তার নিয়মিত সৌভাগ্যের কপাল।
ঘুমিয়ে পড়ার সামান্য আগে
অবধারিত হাসি ফোটে তখন
সুখী মুখে তোমার, 
বাধ্য রাত গভীর হতে চাইলে
প্রতিটিবার।

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪

নদী

ইচ্ছা মানে যদি 

শুধু কামনা-বাসনা জাগে মনে

তাহলে একটা সময়ের পরে

বিরহ, ব্যর্থতার টানে

ইচ্ছাদের মৌন অভিমানে ঘেরে।


ইচ্ছারা অন্যরকমও হতে পারে।

ভালবাসা নিজেই যখন 

শুদ্ধ আনন্দের বাসরঘর

যত দূরেই থাকুক

মানুষ দিব্যি স্বাধীন তখন

আপন আপন উৎসবের

বুকভরা উদযাপনে।


অধিকারবোধ ডুবে গিয়ে

সুরের অভেদ যেই না রাজা,

ঘুচলো জেনো আপন-পর

তখন জীবন মানে কেবল মজা।

ভালবাসার কী আসে যায়

তুমি আর কার প্রেম, বৌ বা বর?

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

প্রতিরোধ

সাপের পারা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে 

ক্রমশঃ ওপরে ওঠে।

সবার প্রথমে বিষ ঢেলে

অচল করে পা।

হাঁটু বাবাজি বেশিদিন বাদ যায় না।

অতঃপর কিডনি আর মাজা।

প্রেশার সুগারের 

জ্বালাতন না থাকলেও

এরপরে ক্রমশঃ একদিন হৃদয়

আর ফুসফুসও ধরা পড়ে।

তারপরে অবশেষে মাথা।

আচমকা না বলে সময় ঘনিয়ে এলে

আগে থেকে, হয়তো একটিবারও, 

জানতে পারবে না।


বার্ধক্য সবার আগে আক্রমণ করে

পা।

যারা লাফানো আর দৌড়ানোতে

শৈশবের উচ্ছলতার মজা 

বজায়ে রাখে রোজ, নিয়ম করে,

তাদের তাই অচল জীবনের গল্প

চট করে ছুঁতে পারে না।

মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০২৪

নিবৃত্তি

নারী হোক অথবা পুরুষ, প্রতিটি মানুষে দুটি বিপরীত প্রকৃতি কমবেশি থাকতেই হয়। 

মানুষের যত প্রকার ভোগাকাঙ্খা, তথা, কামনা-বাসনা-উদ্ভূত ইচ্ছা ও তদজনিত মানসিক পীড়ন জাগে তার অবচেতন প্রবৃত্তি হতে। এটি তার নারী প্রকৃতি যার পক্ষে ইচ্ছার ঊর্ধ্বে ওঠা প্রায় অসম্ভব ও অতীব পীড়াদায়ক।

জীবনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে, তাকে অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর নিয়মানুবর্তিতা, অধ্যবসায় ও দীর্ঘকাল কষ্ট সহ্য করার প্রতিজ্ঞা ও তদজনিত ঋজুতা আসে মানুষের পুরুষ প্রকৃতি হতে। এই ঋজুতার জন্য প্রবৃত্তির প্রত্যাহার সহজাত, অবধারিত ও আবশ্যিক।

গতির অধিক বৈচিত্র-সুখ দিতে পারে না অপর কেউ।

যে মানুষে পুরুষ-প্রকৃতি যত প্রবল, আপন গতির আনন্দময়তার কারণে সে তত দ্রুত উন্নতি করতে পারে এ জগতে। 

কোনও ভোগের পরেই পড়ে থাকে না অবশিষ্ট কোন লাভ। যে মানুষে নারী প্রকৃতি যত প্রবল, তার জীবন তাই ততই পৌনঃপুনিক বৈচিত্রহীনতায় স্থবির।