অর্কেস্ট্রা_________রণদেব দাসগুপ্ত
আমাদের একটা অর্কেস্ট্রা চাই
যারা একা একা গান গাইতে চায়
যারা একা একা ছবি আঁকতে পারে
একা একা কবিতা সাজাতে জানে যারা তাদের সেলাম _
কিন্তু আমাদের একটা অর্কেস্ট্রা চাই
মধ্যরাতে ফুটপাথে পুলিশ যাদের লাথি মারে
উড়ালপুলের নিচে
যাদের গ্রাম ফ্যালফ্যালে চোখ
যাদের অবোধ হাসি দা ভিঞ্চি আঁকেননি কখনো
তাদের জন্য একটা অর্কেস্ট্রা চাই আমাদের
নরম শিউলির গন্ধে সবার ভোর লিখতে চায় যারা
আরতি আজান আর ক্যারল ডিঙিয়ে
যারা শুধু ভাত গাইতে চায়
গরম রুটির বুকে লিখতে চায় পৃথিবীর নাম
তাদের জন্য একটা অর্কেস্ট্রা চাই
ছেলেটির ঘুমচোখে দিগন্ত জাগুক
মেয়েটির এলোচুল আগুন জ্বালাক
স্ফটিকের মতো দিন ডেকে নিক বৃন্দগান
সমস্ত বাদ্যযন্ত্রে ছুঁয়ে যাক যৌথ স্বরলিপি
আমাদের আশ্চর্য অর্কেস্ট্রায় বেজে উঠুক প্রেম ও পতাকা
তুলি ও কলম আছে কন্ঠ আছে ক্যানভাসও আছে
মঞ্চ আছে , যন্ত্রণাও আছে
শুধু একটা অর্কেস্ট্রা চাই আমাদের ।~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~.
কৈফিয়ৎ নাই_____Arup Sarkar
অর্কেষ্ট্রা ছিল না কোনদিন
এমন তো নয় ! ছিল !
সাড়া - বিবেকে বিবেকে জেগেছিল !
স্লোগানে স্লোগানে প্লাবনের তোড়ে
সর্বহারার জয়গান
একদিন বাঙালির সর্বাঙ্গে বেজেছিল !
কত কত তরুণ, যুবক,
তাদের ঘাম, রক্ত, প্রেম আর
জীবনের অমূল্য সময়
বিনা দ্বিধায় উৎসর্গ করে গেছে
বছরের পর বছর ধরে
অকপট বিশ্বাসে !
তাদের প্রৌঢ়ত্বে আজ
দশকের পর দশক ধরে
বাড়তে থাকা প্রবঞ্চনা - সঞ্চয়ে শুধু,
অর্কেষ্টার
অভিযোগের অজুহাত-তীর
একতরফা
অপরে তাক করে রাখার চতুর অভীপ্সায়
সুদূর কারণের অস্বচ্ছতার কারণসুধায়
জনগনকে মাতালে-বেতাল রাখতে পারার
নিগূঢ় অভিসন্ধিতে
আপন অকর্মন্যতা আড়াল করে,
ধূর্তের যেনতেন প্রকারেণ
গদিটি কেবল দখলে রাখার নীতিতে
সাধারণ মানুষের
চৌঁত্রিশ বছরের বিশ্বাস উজাড় করে দেওয়া
নেতৃত্বের সুযোগ দুহাত ভরে পেয়েও
প্রকৃত বিপ্লবে
ফলহীনতার চরম শঠতায়,
যুগের পরাবর্তে
ইতিহাস হতে বাস্তবের শিক্ষায়
একালের জনমানসে
মুখোশ-সর্বস্ব মাকালের
ক্ষমতালোভী বাতেলার প্রতি
অতি স্বাভাবিক আগ্রহশূন্যতায়
কালের করালে
অসৎ এর অসত্যের পরম্পরায়
হে বন্ধু, বিবেকের নিরুপায়ে
দীর্ঘশ্বাসের নির্লিপ্তি শুধু ছায় !.