ধীরে এসো।
এমনভাবে এসো
যেমন কুয়াশা প্রবেশ করে নদীর শরীরে—
কোনো শব্দ না তুলে,
কোনো অধিকার ঘোষণা না করে,
শুধু উপস্থিতির শীতলতা রেখে যায়
জলের গভীরে।
আমার জীবনে প্রবেশ করতে হলে
পায়ের শব্দ আগে হত্যা করে এসো।
কারণ আমি বহু আগে
অতিরিক্ত মানুষের ভিড় থেকে
নিজেকে প্রত্যাহার করেছি
একজন নির্বাসিত সম্রাটের মতো।
একসময় আমার ঘরে
অসংখ্য কণ্ঠস্বর ছিল—
অপ্রয়োজনীয় আলাপ,
অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি,
নকল আবেগের রঙিন আসবাব,
এবং এমন সব সম্পর্ক
যারা ভালোবাসার চেয়ে
অধিক শব্দ উৎপন্ন করত।
তারপর একদিন
আমি শিখে গেলাম বর্জনের গোপন বিদ্যা।
আমি একে একে সরিয়ে দিলাম
অতিরিক্ত বাক্য,
অতিরিক্ত ব্যাখ্যা,
অতিরিক্ত অনুনয়,
এমনকি অতিরিক্ত স্বপ্নও—
যেগুলো আত্মাকে ভারী করে তোলে
ডুবে যাওয়া জাহাজের লোহার মতো।
এখন আমার ভিতরটা
একটি প্রায় শূন্য মন্দির।
এখানে প্রতিটি জিনিসের
নিজস্ব নীরবতা আছে।
এখানে বাতাসও প্রবেশ করে
অনুমতি নিয়ে।
তাই যদি আসতেই চাও—
দরজা ভেঙে নয়,
ঝড় হয়ে নয়,
উন্মত্ত অধিকারের পতাকা নিয়ে নয়।
অপেক্ষা করো
যতক্ষণ না আমি নিজেই
আমার অন্ধকারের দরজাটি
অল্প ফাঁক করে খুলে দিই।
কারণ জোরপূর্বক প্রবেশ
ভালোবাসা নয়—
তা কেবল আরেক ধরনের দখলদারিত্ব।
আর আমি বহু আগে
আমার আত্মার সীমান্তে
সেনা বসিয়েছি।
এখন যারা আসে
তাদের আমি পরীক্ষা করি
তাদের শব্দ দিয়ে নয়,
তাদের নীরবতা দিয়ে।
যদি তোমার উপস্থিতি
আমার নিঃসঙ্গতার সৌন্দর্য নষ্ট না করে,
যদি তোমার চোখ
আমার ভাঙাচোরা নক্ষত্রগুলোকে
আরও অস্থির না করে তোলে,
যদি তুমি জানো
কিভাবে একটি মানুষের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়
কোনো ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়াই—
তবে এসো।
ধীরে এসো।
প্রায় নিঃশব্দে।
যেমন মধ্যরাত্রির পর
চাঁদ এসে বসে
একটি পরিত্যক্ত জানালার ধারে।