সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০

লাড্ডু

সঙ্গম-মাত্রে, আপন ঐকান্তিক গভীরে
অদ্বৈতের আদি আহ্বাণে
অভেদকে অতি সাময়িকে ছুঁতে পারে ৷
নারী-পুরুষে প্রতিটি প্রেম তাই
মরীয়া হয়ে 
যেন-তেন উপায়ে সঙ্গম-শিকারী হতে চায় !

তবু, একথাটি মানুষ ভুলেই যায়,
এক বাটি লোভনীয় আহার
আর একটি সঙ্গম
সাময়িক সুখের নিরিখে
প্রায়ই একই দূরত্ব অবধি 
সমানতালে উপযোগী হতে পারে ৷

রাঁধুনী-ভেদে, আস্বাদনে
তৃপ্তির হারে পার্থক্যও থাকতেই পারে ৷
তবে, সে ও সমগ্র জীবনের
মহানতার নিরিখে
তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় !

গুরুত্বে যেটি শতগুণ, সে হলো -
তৃপ্তির লেখচিত্রটি যেই
সময়ের প্রবাহমানতার পরিসরে
অবধারিত ভাবে নীচে নামতে শুরু করে,
আবেগে শূন্যতার হাহাকার
ওমনি প্রবলতর বেগে ফের বর্তায় !

তৃপ্তির পুনরুত্থান-পিপাসা 
মানুষকে অহোরাত্র অধিকতর তাড়া করে ৷
পরনির্ভর তাই সুখের উৎসে পুনর্বার
আসক্তির অবধারিতে নিরুপায়ে ধায় !
আড়বুঝো, একবগগা আবেগ 
ধার ধারে না সামাজিক বিধির ৷
তৃপ্তির উচ্চতর হারের সংরক্ষণ
তার, তখন, যে কোনও মূল্যে চাই !

ইতিহাসকে বিশৃঙ্খলার 
অভিশাপে, 
অতঃপর, বিনা দ্বিধায় ছেয়ে ফেলে
অভিসার - 
আত্মশ্রদ্ধাশূন্য দাসত্বের শৃঙ্খলটি অচিরে, দাবীর অধিকারে 
পরিপাটি নিয়তি করে নিতে পারে !

মুখ্য

যে দায়টি তোমার নয়
তা নিয়ে দুঃখ পেয়ো না কখনো !

নিজেকে দুঃখী ভেবে
ব্যথার সুখটি মৃদু মৃদু খোঁজা
কৃপণের সুচতুর নেশা ৷
এ নেশা বেশ্যার পেশায়
একদিন মারক হতে পারে ৷

দুঃখ পেয়ো না এই তো সেদিন
পার্টিতে গিয়ে শোর মচাতে না পেলে !

দুঃখ পেয়ো না - অনেকদিন
প্রিয় সঙ্গীর হাত ধরে
দূর দেশে বেড়ানো হলো না বলে ৷

দুঃখ পেয়ো না ছুটির দিনগুলো
বেকার অপব্যয়ে চলে গেলে ৷

দুঃখ পেয়ো না স্বীকৃতির লোভে
ঘন ঘন, 
আগাডুম বাগাডুম বিরহ লিখে গেলে ৷

দুঃখ পেয়ো না, এমনকি,
তার সাড়া থেকেও বঞ্চিত থেকে,
এ যাবৎ হাসি ফুটেছে মুখে
যাকে নিঃশর্তে ভালবাসো ব'লে ৷

যে দায়টি তোমার নয়
তা নিয়ে দুঃখ পেয়ো না যেন
বোকার মত ৷

দুঃখ পেয়ো - আপন সংজ্ঞার 
ধারক অভিধানে
বিগত এগারো ঘন্টায়, নিজে,
একটিও সুন্দরতর ভাব-বন্ধ,
ভালবাসার, অস্মিতা-মুক্ত,
ঊর্ধ্বগামী ওজঃ রসে
অনায়াসে, নিখাদ স্বর্ণকমলে
প্রসবিত - আদৌ হতে না দিলে ৷