অকারণ ভয় আর অন্ধ-সংস্কার
যুগে যুগে পরমুখাপেক্ষী করেছে মানুষকে !
আর সেই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে
শার্দূল কর্তৃত্ব-লোভ, কেবল ধূর্ততার অধিকারে,
মানুষকে, গলায় বকলেস বেঁধে,
একটি মনুষ্যেতর পরিচয়পত্র মাত্র ঝুলিয়ে,
চারপেয়ে তে পাল্টে, হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলেছে
গড্ডলিকা প্রবাহে,
আপন স্বার্থসিদ্ধির এক এর পর এক দিশায়,
রাজনীতি আর ধর্মের সুবিধাবাদী মুখোশ
নিজে আগে পরিপাটি করে সর্বাঙ্গে গলিয়ে নিয়ে !
সুদীর্ঘ দৈন্যের পরম্পরা মুক্তি দেবে না সহজে ৷
এ চারপেয়ে-যাপনের দুর্ভোগ
সাহসে-পঙ্গু মানুষকে
এখনো অনেকদিন ভোগাবে ৷
তারপরে একদিন ফের
সকালের মত সকাল আসবে
একে একে সকলের জন্য,
মানুষ যেদিন মুখোশের আড়ালে থাকা
প্রতিটি কুটিলতাকে ঠিক-ঠাক বুঝতে পেরে,
তার অপ্রয়োজনীয়ের ভারকে
ঠিক কমিউনিজমের মত
জীবন হতে খুলে, ছুঁড়ে,
চিরতরে সংস্পর্শের বাইরে ফেলে দেবে ৷
"ভালবাসা ছাড়া
আর কোনও নৈতিক নিরাপত্তার
প্রয়োজন নেই আদপে মানুষের" -
একথা খোলাখুলি উচ্চারণে
যেদিন আর ভয় থাকবে না কোনও,
নিছকই ফাঁকা বুলি-সর্বস্ব
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভেদাভেদের
যত্ন করে সাজানো জটিলতার পসরাকে সেদিন
তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তেই হবে,
মানুষ যেদিন ফের
শুধু আপন দুই পায়ের জোরে
নতুন ক'রে, গর্ব-ভরে,
হাসতে হাসতে আবার উঠে দাঁড়াবে ৷
মানবিকতার অফুরাণ ঐশ্বর্য্যে, মানুষের পরিচয়ে -
ঠিক যেমন রাজকীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠার কথা,
শুদ্ধ আত্ম-নির্ভরতাকে স্থায়ী রূপে অন্তরে পেয়ে
মানুষ ও তার স্বাধীনতা, সেদিন,
ঠিক তেমনই অপ্রতিহত ঔজ্জ্বল্যে অটুট হবে ৷