শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯

কর্তব্য

প্রতিটি ধর্মেই কিছু মানুষ এমন থাকতেই হয়, ধর্ম যাদের মানবিক বিবেকটি কখনো কিনতে পারে নি, - কোন শর্তেই ৷ তেমন মানুষদের নিয়ে কোন ধর্মেরই প্রকৃত মানবিক মুখের প্রতিভূদের কোনকালে কোনও বিরোধ নেই !

কিন্তু ধর্ম যখন জন-বিস্ফোরণের অতি সুচতুর কায়দায় অন্যধর্মের বাসস্থান ও ভিত কেড়ে নিতে থাকে, প্রথমে ভালমানুষ উদ্বাস্তুর মুখোশে ঢুকে পড়ে, তারপর তেলের ডলারের তলে তলে গুপ্ত আগ্রাসনে, অপর ধর্মকে নিঃশব্দে একটি একটি করে বাস্তুচ্যূত করে, জমির নিরঙ্কুশ অধিকার স্থায়ীভাবে কায়েম করায়, 

তখন তার স্বপক্ষে কুঁই কুঁই করে ঢপের বিপ্লব শানানো - একমাত্র জারজ বামের চির-কৃতঘ্ন কাম হতে হয় ! 

মানবিক বিবেকসম্পন্ন মানুষে, অবশ্য, দুই মুখোশই একটানে তৎক্ষণাৎ ছিঁড়ে ফেলা - একমাত্র মানায় !

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯

বর্ম

ধর্ম মানে - খোদা জানে,
পিতৃ-তন্ত্রের অবাধ সুবিধা-কামনা !
ধর্ম - আখেরে রাজনীতি ব'লে
সুবিধাবাদী লাল যেমন
সুযোগ পেলেই, কেবল
গেরুয়ার বিরুদ্ধে প্রাণপণ বিপ্লব শানাবে !
কালো দোসর বলে, একটিবারও
মানবিকতার ভণ্ড মুখটি ফিরবে না ।

ধর্মের নির্ভরে, ঘরে, আইন করে,
এক স্ত্রীর পরে
আরও তিন স্ত্রী-নামে,
নিছক হৃদয়হীনের
অবাধ রক্ষিতা পোষার অধিকার !

দারিদ্রের বাজার হতে, আবার,
নয় বছরের বালিকাকে কিনে,
স্ত্রীর পাশ কাটিয়ে
ঘরের দরজা বন্ধ করে,
তাকে করা যায়
চুটিয়ে বিছানায়
দাসী-ধর্ষণের ধর্মীয় নূতন উপচার !

ধর্ম মানে নারীকে ভুলিয়ে
মাথায় তুলে দেওয়া
কাঠ ফাটা রোদ্দুরে
কালো বোরখার দরদী গারদ
বাকি সারা জীবনের মত !

ধর্ম মানে - প্রৌঢ়া স্ত্রীর
কুঞ্চিত চর্মের ঘ্রাণ হতে
পেতে চির পরিত্রাণ,
একটি শব্দের
পরপর তিনবার উচ্চারণে,
পরবর্তী দিন হতে
দিনে আর রাতে
রাস্তার ভিখারিদের সাথে
উত্তরাধিকার-শূন্য ক্ষয়িষ্ণু যাপনে
পরিত্রাণ-হীন
অপার পরিত্যক্ততার নিদান !

ধর্ম - বিশ্বাসের নানা বাহানায়
প্রতিটি যৌন-লোভীর
শোষণ-আগ্রাসী সুযোগ-কামনা !
নারী যেহেতু প্রতিবাদ আজও করে না,
ধর্মের টুপির লোভ তাই, যেন,
টুপি-দাড়িকে ছাড়তে কখনো বোল না !


শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯

শ্লথ


অহং ধরে রেখেছে নিয়ন্ত্রণ

আবশ্যিক অভ্যাসে !

পরাণ অথচ ছেড়েছে বাড়ি, তড়িঘড়ি,

এসে দাঁড়াতে অবশেষে সাগরের মুখোমুখি !

অতঃপর বুক জলোচ্ছ্বাসে ভিজছে, সাগরের আমন্ত্রণী শ্বাসে !

মনের হাতে তখনো অহং এর পোষা - ঘটি

যে ঘটিতে মেটানো

এ যাবত লাভ লোকসানের হিসেব

পাই পয়সায় মেপে মেপে !

পরাণ দেখছে সাগরে ঢেউয়ের অবিশ্রান্ততা !

বুঝছে - ফুরিয়ে গেছে ঘটির কাজ !

মন মানতে অথচ নারাজ কিছুতেই !

জড়বৎ অপারগ তাই আসক্তিকে

মায়া কাটানোর সাহসে

চিরতরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে !

মনে যে সেদিনও জমে ভয়

আবারও ফিরতেই যদি হয় অভ্যস্ত বাড়ি !

.

..

.

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯

বনিতা-জনিতে

পলান্ন - প্রিয়তম আহার ! 


সে কারণে বারণ পেরিয়ে এসেছিলে !
আর আসামাত্রই যেমনটি হতে হয়,

স্বপ্নের বাড়ি পরিপাটি সাজাতে সাজাতে,

হেসে, তোমার অভ্যস্ত নিয়মে, 

আর অধিক না থেমেই,

আঁখি তুলে, নিপুণ প্রেমও সেধেছিলে ৷


অথচ এ ভাঁড়ারে

সব রং মিলে যাওয়ার পরে

তখন অবশিষ্ট পড়ে -

মাতৃপ্রবণ, শুধুমাত্র সফেদ বৃদ্ধি-কারকতা !


পছন্দের আহার না পাওয়ার কারণে

ক্ষুধার কষ্টে জর্জরিত হতে হতে

একসময়ে, দেনা-পাওনায় ধৈর্যের অন্তে

অপারগের কার্পণ্যকে দুষেছিলে !


ফিরে গিয়েছিলে - খেয়াল না করে,

আকুল আমন্ত্রণ, তখনো,

কানায় কানায় ভরেছিল - অপেক্ষায় !

মোহরঙের আধিক্যে, একচোখে  তবু

নিছক গোপে 

আমিষের কুশলী রন্ধনশিল্পী খুঁজেছিলে !


তোমার প্রতিটি রাত্রির

আর্তির ব্যর্থতা-জনিত অভিশাপ

শিশুর বিরল-কোমল খেলনার মত

তুলে রাখা সঞ্চয়ে, যত্নসহকারে,

পরদিন ভোরে !


এ ধরার নির্দোষ নিয়মে

হে অমোঘ, আবার, আরো একবার 

প্রাপ্যকে নিয়তি-রূপ দিয়েছিলে !