বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩

সুর

যুক্তি আর বুদ্ধি কতদূর যেতে পারে ?
ততদূরই, 
যে অবধি সে পায়ের তলায় মাটি পায় ।
অনায়াসে ডুব-সাঁতার দিতে জানে ব'লে
ভালবাসা নির্দ্বিধায় জলে নেমে যায় ।

প্রতিটি মানব-জন্ম আপন প্রবৃত্তিদের দ্বারা
সীমা-বিধৃত হতে হয় ।
একটি অদৃশ্য খাঁচার ভিতরে বাস প্রত্যেকের ।
যখন তুমি কাউকে ভালবাসো,
তখন দ্বান্দ্বিকতার নান্দনিকে অবগাহন কর ।
একটিই মানুষকে, তার আপন অনুভবের চোখে,
আবার তোমার আপন পৃথক দৃষ্টিতে,
এভাবে, একই সময়ে দুইভাবে দেখতে পাও ।

ফলতঃ, তাকে একটুও আঘাত না ক'রে
তার বাহিত খাঁচাটির তার একটি একটি ক'রে
খুলে দিতে পারা সম্ভব হয় তোমার দ্বারা
অথবা পায়ের তলার কাঁটাদের খুঁজে পেয়ে,
উপড়ে নিয়ে, তার দীর্ঘ কষ্ট-বহন কে 
নিরসন দাও ক্রমশই,
যেন তার অস্তিত্ব, তার যাপন, জীবন পরিক্রমা,
ক্রমশই অধিকতর মুক্তি, 
তথা 
বন্ধনহীন স্বাধীনতা ও আলোকের স্বাদ পায় ।
ভালবাসা 
এভাবে এটুকু উপকার করতে পারে মানুষের ।

জান্তব প্রবৃত্তিরা মানুষেরও থাকে । তবে,
তুমি তেমন অনুদার নও যে কেবল শুতে চাও ।
অন্তরে একজন সুন্দর মানুষ হলে,
'ভালবাসা কিভাবে মানুষকে বিবর্তিত করে' -
তুমি তা আপন জীবনে, আপন নিষ্ঠার অধিকারে,
অনেক বেশি সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে চাও !
তোমার দ্বারা আর একটি মানুষের যাপন-পরিসর প্রসারিত হ'লে
তোমার নিজের এ ধরায় আগমন সার্থক মনে হয় ।

তুমি তাই ভালবাসতে ভালবাসো !

কুটিল

অহমিকা 
একটি অপ্রয়োজনীয় কাঠিন্যের খোলস,
নমনীয়তা তার সাময়িক অভিনয়
হতেই পারে, সহজাত আয়ত্বে নয় ।

নমনীয়তা স্বতঃস্ফূর্ত হলে 
প্রয়োজন অনুযায়ী
খাপ খাইয়ে নিতে পারে
যে কোনও পরিস্হিতির সাথে, হাসিমুখে সচেতনতার ধারণে 
আপন লক্ষ্য হতে বিচ্যুত না হয়ে ।

অহমিকা, আপন শোষক প্রবৃত্তিতে,
অভ্যস্ত ক্রূর সমালোচনায়,
সরলতরের প্রতি
যাবতীয় তিক্ততা-জনিত অত্যাচারের কারক ।

তাই তার এ জগতে সর্ববিধ শুভ প্রাপ্য নয় ।
.

অবিচ্ছেদ্য সন্ধি

সহ + অনুভূতি = সহানুভূতি

মানে - বিবেকের সজীবতার
ও আগ্রহের তীব্রতার জোরে
তুমি যে অবধি অনুভব কর
তেমন ক'রেই ঠিক সে অবধি 
আমিও অনুভব করতে পারি ।

মানে - বাস্তবের প্রতিটি বিষয়ের
অনুভব-ভিত্তিক অনুবাদে
তোমার আর আমার প্রসার 
যথার্থই সহগামী এবং অভেদ ।

মানে - দ্বিতীয় স্তরের মানুষের মত 
একে অপরকে নিম্নতর প্রমাণের তাগিদে
ক্রমাগত দোষারোপে বিশ্বাসী নই,
কারণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সাথে
আমরা আপোষ করি না একটিবারও ।

মানে - অনুভবের জগতে 
চালাকির নাক-গলানো
ও আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থ-জনিত 
প্রতিটি অনুদার অভিসন্ধি
সমান গৌণ উভয়ের কাছে ।

মানে - অস্থির দৃষ্টির মুষিক-সম নয়, 
আমরা সম্রাটের ঔদার্যে, সিংহ-হৃদয়ে,
ভালবাসাকে 
সফল অবিচলতায় ধারণ করতে জানি ।

আমরা

"আমরা" এমন একটি মহৎ একাত্মবোধ
যা দিয়ে যে কোনও লড়াই আসান হয়,
যে কোন প্রকার সমস্যার সহজ সমাধান
অল্প আয়াসে খুঁজে বের করা যায় ।

অথচ অহমিকা প্রথম সুযোগেই 
"আমরা"-র এই অনবদ্য যৌথতার সম্প্রীতিকে
কসাই-সুলভ ক্রূরতায়  
"আমি" আর "তুমি" তে দ্বিখণ্ডিত করে নেয়,
যেন, পদে পদে, অভিযোগের নিষ্পেষণে,
"তোমার" অস্তিত্বটিকে ভৃত্যতর প্রমাণ করে
"আমার" অবশ্যম্ভাবী কর্তৃত্বটিকে 
প্রভুত্বের আসনে ঠারে ঠারে বসিয়ে রেখে
"তোমার" বাধ্য, বিনীত, সেবা 
দিনের পর দিন চুটিয়ে উপভোগ করা যায় ।