মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

মাতৃগরব

মাকে দেখিনি কখনো 
কারণে, অকারণে, ঢলে পড়তে
বাবার গায়ে ।
অথচ আদর ঝরতে দেখেছি দৃষ্টিতে,
যখন পায়ে পায়ে চলে, 
প্রায় কপোত-কপোতীর মত
প্রতিটি কাজ 
জাগরণ হতে শয়ন অবধি
তালে-তাল ভাগ করে নেওয়ায় !

বাবার অনুপস্থিতিতে
বাকরহিত মাকে, কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে,
ঝরঝর করে কেঁদে ফেলতেও দেখেছি
আমারই অক্ষম কিশোরবেলায়,
নিভৃতির আকষ্মিক সুযোগের ধূর্ত
সদ্ব্যবহারে,
দেওর অথবা সন্তানের হোম টিউটরের
অযাচিত প্রেম নিবেদন-প্রয়াসের
অপ্রত্যাশিত আক্রমণে ।

সরাসরি চোখের উপরে চোখ রেখে
বলতে পারেননি সেদিন 
আমার স্বভাবে-শান্ত মা
"আমার এ শরীর-মন্দিরে
সুড়সুড়ানির অশুভ উদ্যোগে 
কোনও লম্পট কামুকের জন্য
কোনও প্রকার রোমাঞ্চিত আবাহন অথবা 
গুপ্ত প্রবেশাধিকার আদপে নেই ।"

ভালবাসা - শ্রদ্ধার সুসহযোগে
অপরাধ ছিল না সেদিনও !
তবে, প্রেমে পড়ার বাহানায়,
নিছক নগ্ন কামনার চরিতার্থতায়
একান্ত আপনজনটির সমান
শরীরের অধিকার দাবী করে বসা -
হাস্যকর রকমের বেঢপ 
একটি মানসিক স্থুলতা ও দূর্বলতা বলে
বিবেচনা করতো সেকালের সেকেলেও ।

না, আমার নিরহঙ্কারী মা 
আমাকে মুখোমুখি বসিয়ে,
তারপরে, বড় বড় বাক্য সাজিয়ে
চরিত্রের প্রকৃত শিক্ষা 
দান করেননি এযাবৎ কখনও ।