বিশ্বাস - ভীতির বিপরীত শব্দ, জ্যোতি বইতো নয় !
যে আলোর তরে হৃদয়মাঝেই শুধু আসন পাতা যায় ।
বিশ্বাস নিবেদিত শ্রদ্ধার সুমধুর সুবাস বই তো নয় !
বিশ্বাস আত্মার তেজময় দ্যুতি, একাকী সাহসে অর্জিত জয় ।
সীমাবদ্ধ-প্রাণ বিশ্বাসের নির্ভর-হাত ধরে বিকাশের অসীমকে ছোঁয় ।
যার নিবিড় ভরসায় দুর্গম লক্ষ্য যত - মানুষ অধিকারে পায় ।
যে বিশ্বাস এ ধরাকে সুউচ্চ অবয়বের এলবার্ট বা রবিকে দেয়,
সেই একই বিশ্বাসের প্রতিবাদী প্রমাণ তসলিমা, অভিজিত রায় ।
আলো বা সুবাস, যাই হোক, আকৃতি কি কিছু তার হয় ?
পরিবেশন তাকে, কোনও ভাবে, সীমিত পাত্রে কি করা যায় ?
অথচ অবোধ মন বিশ্বাসকে অবিরাম ত্রিমাত্রিক ভেবে নিয়ে দৈর্ঘ্যে প্রস্থে ছুঁতে চায় !
চেয়ে ছুঁতে না পেরে, আত্মবিশ্বাসে হেরে, বিশ্বাসের একককে
মন্দির মসজিদ গির্জার কৃষ্ণগহ্বরে বৃথা যৌথ খুঁজে, হায়
দালানের গণ্ডিতে, মূর্খের সন্ধিতে, মাথা ঠোকে নিরূপায় ।
মানুষের এই ভাবের অভাবটুকুই দুর্বলতা ছিল মোটে ,
তার অবৈধ সুযোগ নিয়ে দালানের দালাল আর দারোয়ানরা জোটে ।
বিশ্বাসকে ধর্মের সম্পত্তি দাবী করে ধর্মীয় বিধানের চায় প্রথম মালিকানা ।
কুসংস্কারের হাড়িকাঠে বিশ্বাসের প্রাণপাতের বিনিময়ে ছেটায় আশীর্বাদের দানা ।
সরল বিশ্বাসের বক্র সুযোগ নিতে সংস্কারে মেশায় ঘৃণার বিষ,
নিপাট নিরীহ মানুষের মাথায় প্রতিশোধ-স্পৃহা চেপে শুরু হয় হাত নিসপিস ।
ক্ষমতার প্রলোভনে তলে তলে সদা ধর্ম রাজনীতিকেও কাছে পায়,
দিশাহীন মন ঈশ্বরকে উৎকোচ দিতে অবিরত গির্জায়, মন্দিরে, হজে যায় ।
দালালের সাফল্যে লোভ বাড়ে দিনে দিনে, দালানরা ক্রমশ স্ফীত হয় ।
আপন ধর্মে শোষণের মৌতাতে মজে দৃষ্টি এবারে বহির্মুখেও চায় ।
তখনই শুরু হয় অন্যের জমি হাতিয়ে নেওয়ার সুচতুর আগ্রাসন,
প্রাণহানি আর নিষ্পেষণ সমাজকে ঘেরে - যে ধর্মের যতটা প্রয়োজন ।
.
.
মানুষ ধর্মের অন্ধ নিদানকে অলঙ্ঘ-ভ্রমে বিবেকের নির্ভর ও নির্ভার হারায়
