শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

হতভাগা

- "বাঙালি কী করে ?"

- " বাস্তবে আত্মোন্নতির জন্য নিয়ম করে খুব কিছু করতে পারে না ।

অল্প বয়সে চায়ের দোকানে আড্ডা মারে আর রাজনীতি করে । নেতার কথায় পাড়ার ভাইকে বোম মেরে ভাবে দারুণ বিপ্লব করছে । প্রতিবাদের নামে জিন্দাবাদ আর মিছিল করে ।
তবে প্রতিরোধ করতে পারে না খুব একটা । মাঝে মাঝে অল্প মাইনের চাকরি করে ভাবে জিতে নিয়েছে জীবন । কেউ কেউ 'একদিন খুব বড় সাহিত্যিক হবে' এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঘোরে সাহিত্যের খাতা হাতে ক'রে, প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ।

জীবনে দ্রুত উন্নতি করতে হলে যে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন, স্থিরলক্ষ্যে, তার ধারপাশ দিয়েও যায় না । নিজের ভাগ্যের জন্য বিরুদ্ধ রাজনীতিকে নির্দ্বিধায় সব দোষ দিতে পারে নিয়ম ক'রে ।

রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের "কাছের-লোক" হওয়ার মরীয়া চেষ্টা করে । হ'তে পারলে দুনম্বরী কামাই ক'রে কিছুটা বড়লোক হতে পারে ।"

বাঙালির গর্ভেই জন্ম নিয়েছিলেন রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, নেতাজীর মত মানুষ, এসব ভুলে, আত্মবিস্মৃত, হতভাগ্য, বাঙালি জাতি এখন বিদেশী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদর্শকে খুঁজে পায় ।

উত্তরণ

সাফল্য আর ঘোড়ায় চড়ায় বিস্তর ফারাক ।

এক লাফে ঘোড়ায় চড়া যায় ।
সাফল্যের চূড়ায় এক লাফে উঠে পড়া
কিন্তু কদাপি সম্ভব নয় ।

নিছক ট্রেকিং এ 
পাহাড়ের আশেপাশে দিব্যি ঘোরা যেতেই পারে,
তবে, শীর্ষে উঠতে চাইলে
একমাত্র বিশেষ প্রশিক্ষণের পরেই
ক্লাইম্ব করার মত 
হাজারো দুর্গম সিঁড়ি পেরোনো যায় ।
আত্মবিশ্বাসের অনমনীয় পরীক্ষায়
লক্ষ্যটি আদপেই সহজ নয় ।

মানুষ যেহেতু ভ্রান্তি-বশতঃ ভেবে নেয় যে
সাফল্য - অনায়াসে
এক লাফে ঘোড়ায় চড়ার মত কিছু,
তাই প্রতিটি সিঁড়ি পেরোনোকে
সে বারংবার বিফলতা ভাবতে শুরু করে
আর বিফলতা ভাবে ব'লে
সে বেচারা ঘন ঘন হতোদ্যম হয়ে পড়ে 
সাফল্যে উত্তীর্ণ হওয়ার বেশ আগেই ।
ফলতঃ, জীবনকে সুকঠিন ভেবে 
অধিকতম ক্ষেত্রেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয় ।

পাহাড়ের চূড়ায় আরোহন, অথচ,
একটি উপভোগ্য অভিযান হতে পারে,
মানুষ, আকাশকুসুম কল্পনা না ক'রে, 
যদি, আপোষহীন-রূপে 
পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল আর বাস্তববাদী হয় ।