মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

পার্থক্য

তুমুল তর্ক, চুল ছেঁড়াছেঁড়ি ঝগড়া, 

হতাশা, রাগ, অভিমান 

আর হাজারো গণ্ডা অভিযোগেের মধ্যেও

আদরের মখমলি চাদরে, রোজ নিয়ম করে,

মুড়ে রাখতে ও থাকতে পারার নাম 

"ঘর" ৷


ইঁট, কাঠ, সিমেন্ট দিয়ে তৈরী হয়

মানুষের জন্য যে বাসস্থান

তাকে "বাড়ি" বলে ৷


বাড়িকে ঘরে পাল্টে নিতে 

সেই ধরণের ভালবাসাটি লাগে,

যে, কোনও এক অন্তিমে,

ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে,

বাধ্য হার মেনে নিয়ে, 

একবারের জন্য হলেও

ফুরিয়ে ফেলে না নিজেকে কখনও !

.

স্বাধীনতার সুখ

 গাছ কে 

কাছ থেকে দেখেছ কখনও অরুণেশ ?


আলো আর জল ঠিক মত পেলে

সবুজের অভিনিবেশ 

কী অপরূপ রূপ ধারণ করতে পারে, 

একবার, খুব ভাল করে দেখে জানিও ৷


অনেক মিল - গাছের সাথে মানুষের ৷

জল আমি আহরণ করে নিতে পারি

রোজ রোজ, - দূরত্বের সুবিধাটুকু নিয়ে,

তোমাকে নিত্য নতুন রঙে 

শর্তহীন ভালবাসায় রাঙিয়ে নিলে

বুকের ঝরণার স্বতঃস্ফূর্ততার অঝোরে ৷

আমাকে থামাতে 

হাজির নেই যেখানে সাক্ষাৎ তুমিও ৷


ত্বককে ছোঁওয়া নাইবা হলো ৷

তোমাকে প্রলুব্ধ যদিবা করে

আমার প্রয়োজন না পড়তেও পারে কখনো ৷


আমার ভিতরের সবুজকে

অধিক ক্লোরোফিলে ভরে রাখতে ইচ্ছা হলে,

যেমন ব্যস্ত রয়েছ আজও -

আপন আলোর অকৃত্রিম প্রকাশে, 

আপন অভ্যাসে

তেমনটি দরাজ রেখো যত্ন


আর

দূর হতে, যদি পারো,

আমার নিবিড় সোহাগ মেখো তখনো !

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

ঘাপলা

ভালবাসা - সুযোগ-সন্ধানী বড় কম নয় ৷

ইতিউতি চায় আর ওৎ পাতে ৷

দৃষ্টিতে দৃষ্টির সম্মতি মিলে গেলেই

হাত ধরে ওমনি একছুট -

'রে' থেকে সটান 'ধা'-এর পানে !

ঘরে ঢুকে ছিটকিনিটি দিয়ে দিলেই


স্বতস্ফূর্তের নিরাপত্তায়

সাময়িক দম ফিরে পাওয়ার বিরতি,

তারই সাথে, দাম্পত্যের 

চিরকালীন-এঁড়ে অনুশাসন হতে

চুরি করে জিতে নেওয়া দুর্লভ যতি,


ভালবাসা

আড়বাঁশির নিখাদ ব্যাকুলতার সুর হতে

অগতির-গতি লেহ্য-প্রেমে পাল্টে নেওয়ার মুখে, 

এইবার, পরিপাটি সমর্পণ-সুখে

বিছানার কলকে-কাটা থালায় 

নিজেকে থরে থরে বিছিয়েই দেবে,


অতৃপ্তি-অধীর এ জীবন 

অপেক্ষার বিরহী ফাঁকে ফাঁকে 

সোহাগের সিক্ততা আচমকা পরিপাটি পেলে,

আমে-দুধে 

শেষ অবধি, সঘন মিলে গিয়ে,

অন্তরে

উষ্ণতার আকাঙ্খিত সুসহযোগের,


দৈনন্দিনতার মাঝে 

সহসা ফুঁড়ে ওঠা টগবগে 

নিবিড় উদ্দীপনাকে

হুবহু খুঁজে নিতে পারা চলে ৷

.

বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

অনুভব

 শহরের থেকে বেরিয়ে, কিছুটা দূরে,

একটি গাছের তলে বসে

বছর পঁচিশের এক যুবক

আপন মনে পা ছড়িয়ে

নিজের ভাষায় গান গাইছিল ৷


বছর সতেরোর এক তরুণী

রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে

অদ্ভুত সুরটি শুনে 

বাধ্য দাঁড়িয়ে পড়েছিল ৷


ভাষাটি অজানা হলেও

ভাবের তরঙ্গে ভাসা 

পড়েনি আটকে ৷

সুরটি গুনগুন করতে করতে

তরুণীটি একসময়ে, সাহস করে,

নিজের পছন্দ মত 

শব্দ বসিয়ে নিল সে সুরে ৷


এরপরে 

একে অপরের দিকে তাকিয়ে

দুজনে হেসে ফেলেছিল,

দৃষ্টির ভাষা পড়তে

অসুবিধা হয়নি কারও - 

আচমকা বুঝতে পেরে ৷


দুজনে, একটু পরে, 

বেশ মজা পেয়ে

আর একটু নিকটবর্তী হয়ে, 

মুখোমুখি বসে, একই সুরটিতে

ফের নিজের নিজের ভাষায়

আগের মত গান ধরেছিল ৷


তৃতীয় জন

ততক্ষণে থমকে দাঁড়িয়েছিল ৷

দুটি ভাষাই তার জানা ৷

আক্ষরিক অনুবাদ 

আর ভাবানুবাদের মধ্যে

কোনটি সুন্দরতর,

সেদিনই প্রথমবার তার কাছে

বরাবরের জন্য

হঠাৎই স্বচ্ছ হতে পেরেছিল ৷

.

Check yourself ? 

Well  :)

.

https://youtu.be/PccTGESPppE

.

https://youtu.be/dD3Oa0y8n70

.

শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

গল্প হলেও সত্যি

পনেরো বছর অতিক্রান্ত

অভি আর রিমঝিম বিবাহিত দম্পতি ৷


দুজনেই চাকরি করে ৷

অভি রোজ সকালের চা করে 

রিমঝিম কে ডাকে ৷

রিমঝিম ঘরঝাঁট দিতে দিতে

অভি রাতের বাসন মেজে নেয় ৷

রিমঝিম বাথরুমে যায় যখন, স্নান সেরে নিতে,

অভি, ডাণ্ডা দিয়ে, পুজোর জায়গা সহ

চারটি ঘর মুছে রাখে ৷

রিমঝিম স্নান সেরে এসে পুজোয় বসে ৷

তারপরে রান্না ঘরে যায় ৷


এরপরে একটানা কাজ রিমঝিমের ৷

লক ডাউনে যদিও দুজনেরই ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম,

রিমঝিমের সব কাজ শেষ হতে

দুপুর আড়াইটে পেরিয়ে যায় ৷

ফাঁকেতালে থাকে

ছেলে, মেয়ে, আর অভির জন্য

লাঞ্চ বেড়ে দেওয়া ৷


রান্নাঘর ধুয়ে, ভাতের থালা হাতে

রিমঝিম যখন অভির কাছে

অবশেষে পৌঁছায় কিছুটা টলমল পায়ে,

অভি ততক্ষণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ৷


থালাটি রিমঝিমের হাত থেকে টেনে নিয়ে

ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ দিয়ে

একটু একটু করে ভাত মাখতে থাকে ৷

তার পরে গ্রাসে গ্রাসে আদর

বিশ্রান্ত প্রিয়তমার মুখে তুলে দিলে,

রিমঝিমের এযাবৎ ক্লান্তি কেটে গিয়ে

একটু একটু করে রঙ পাল্টানোর সাথে

মুখে অনাবিল হাসি ফের ফুটতে পায় ৷


না না, অভি অথবা রিমঝিম,

কেউই অবাঙালী অথবা বিদেশী নয় ৷

.

প্যারাসাইট

 "কবিতাকে শরীর দেব" -

 

শালা, এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করা মাত্রই

আমার বাম দিকে আর ডান দিকে

ওমনি খাড়া হয়ে গেল যুযুধান দুই পক্ষ

আকস্মিক বাঙালিয়ানার প্রতিযোগিতায়

ঘেউ ঘেউ আস্ফালনে - 

তুমুল বাক-বিতণ্ডা সহযোগে ৷


বাম-পক্ষ বললো - "ও যে রাজি হলো শরীর দিতে,

তা, কবিতা কবে চাইলো নির্লজ্জের মত 

ওরই কাছে বহুমূল্য শরীর ?

কী প্রমাণ আছে তেমন অঙ্গ ওরই একার আছে, 

দেখাতে হবে আগে ৷"


ডান-পক্ষ বললো "ও কত বড় কবি ?

কটা পুরষ্কার রেখেছে বগলে, যে ঘটা করে

ঘোষণা দিতে হবে - "কবিতাকে অবয়ব দেওয়ার" ?

কী এমন দৃষ্টান্তমূলক শরীর ও দিয়েছে

অতীতে কবিতায় ?


দুপক্ষ অতঃপর একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো -

"একজনের কেন হবে এত একতরফা বাড় ?

সমবন্টনে প্রতিভার কী মূল্য আছে ?"


ঝগড়া, বাঙালীর নিয়মে, 

দ্রুত হাতাহাতির ঠিক আগের স্তরে পৌঁছে যেতেই,

'লড়াই যথারীতি জমে গেছে' - এ বিষয়ে

পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, 

টুক করে, ছোট, বড়, মেজ,

সকল পরমুখাপেক্ষী বগলের তল দিয়ে গলে,

আমি আর কবিতা 

আত্মমুখাপেক্ষিতায় তুমুল আস্থা রেখে,

হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, 

সটান পাগার পার ৷

বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

ভারী ও হালকা

মুক্তি - কোনও জনমে পর-নির্ভর নয় ৷

আসক্তির বন্ধন ছিন্ন করে 

মুক্তিকে খুঁজে পেতে হয় ৷

পথটি অন্তরে আরোহনের ৷


আসক্তি আত্মস্বার্থের নামান্তর ৷

আত্মস্বার্থকে অবশেষে একদিন

সংকীর্ণতার অভিশাপে 

নিজেরই ভারাক্রান্ত নিকটে 

পরবাস-সম হওয়া ভিন্ন উপায় নেই ৷


ভালবাসা, অপর পক্ষে, শুদ্ধ পরার্থে

আসক্তির বিপরীত দিশায়

আনন্দের ঔদার্যে, 

অবিরাম উৎসবে নিশ্চিত করে 

উৎকণ্ঠাহীন উড়ানের বরাভয় ৷

.

ফেরা

বেশ কিছুদিন যাবৎ

কিছুতেই বোঝাতে পারি না তোমাকে আর,

এই যে নিঃস্ব, রিক্ত, বর্তমানটুকু কে

"একমাত্র তুমি" বলে ধরে বসে আছো,

এটা আদৌ আসল তুমি নয়,

তোমার একটি পরিবেশ-জনিত 

প্রক্ষিপ্ত বিকার মাত্র ৷


তুমি, আসলে, তোমার তেজোদ্দীপ্ত রূপকে ভুলে

দিব্যি আছো, দিনের পর দিন, ভেড়াবৃত সিংহী ৷

মানায় না তোমাকে - এই মেনে নেওয়া "হায় হায়" !


তোমাকে একটিবার, সম্পূর্ণ একা,

নিজের পায়ে হেঁটে হ্রদের পাশে যেতেই হবে

আপন প্রতিবিম্ব প্রত্যক্ষ করে

সুদূর কাঁপানো গর্জনে 

ফের নিজেকে ফিরে পেতে 

আত্মবিশ্বাসীর অপরাজেয় সত্ত্বায় ৷

.

তান

ইচ্ছাশক্তি - নারী-পুরুষে

অসীম বিশ্ব-শক্তির 

একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ ব'লে

সে স্বভাবে স্বাধীন এবং অনন্ত,

মানবজীবনে লভ্য একমাত্র পুরুষকার ৷


শরীর, মন ও প্রাণ-জনিত 

অবশিষ্ট একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ মানুষের

মূলতঃ প্রকৃতির প্রতিরূপ 

এবং স্বভাবে পরমুখাপেক্ষী নারী-স্বরূপ ৷


যে মানব-জনমে

পুরুষকার প্রকৃতির দাস,

সে যাপন বাধ্য বৃত্তাকারে গতির অগতি, 

উন্মেষহীন,

কলুর বলদের পারা 

দীনের দিনগত পাপক্ষয়-জনিত

হতাশার স্তুপ ৷


যে জীবনে 

প্রকৃতি ইচ্ছার স্থির লক্ষ্যে অনুগত সহচরী,

সে আসক্তি-মুক্ত চরৈবেতি 

ক্রমাগত সরলরৈখিক উত্তরণে

সার্থক-জনম ও মহান মুক্তির জয়গান ৷

.

বুধবার, ৯ জুন, ২০২১

Fluidic

Water, trapped wherever,

Waits and waits

To spill out someday

By a lifetime love

As the call finally taps

To instantly catch the flow....

To roll over

Towards an overwhelming exploration

But, of course, in full swing

And without any regret along the go.


Water just seems to be like a woman

Who's dreaming all through her life

To uproot herself from all useless past

For a final abundance to humbly abide.

.


.

সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

স্রোতস্বিনী

 উৎসটি তথাপি নিবেদিত কিনা

সেকথা কেউ এভাবে, বাইরে নামিয়ে এনে, 

বেবাক খুলে ফেলে পরীক্ষা করে ?

ফেরার পথটিই, 

হতচ্ছাড়া, সবার আগে চুরি করে নেবে,

এমনটি জানলে

কেউ কি আর সখ করে এসে বিপদে পড়ে?


সরল মানুষের

লজ্জার মাথা খেয়ে

এখনও কী পরিমান বোকার ঠকা বাকি,

'নিবারণ' - ব'লে এই যে বাধ্য ফিরে ফের ডাকি,

সে উচ্চারণকে লুকিয়ে কি করে রাখি 

সমস্বরের অনুনয় হতে,

এ জাগরণ-ব্যপী উৎকণ্ঠাদের ঘরে ঘরে ?

রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

কৃপণ

চিরটাকাল গলা-জড়াজড়ি বন্ধুত্ব

অভিমান আর অভিযোগে !

নিয়ম করে চোখে হারাতে থাকে

একে অপরকে

মাসের পর মাস, বছরের পর বছর !


তৃষ্ণা উভয়েরই পায় - দীর্ঘ শুষ্কতার দহনে ৷

শুকিয়ে আসে যখন গলা, 

একে হাত রাখে অপরের কাঁধে, 

না বলেই বুঝে নেয় !


ভালবাসা স্বভাবে কৃপণ ! সচরাচর দূরে থাকে ৷

কেবল কালেভদ্রে আসে জোয়ার ঠেলে দিলে !

একবার পৌঁছে গেলে 

তুমুল ভিজিয়ে যায় হেসে-খেলে ৷


অভিমান আর অভিযোগে আকর্ষণ অত্যধিক !

একের নিশ্বাস অপর-জন প্রশ্বাসে পেলে

বর্তে যায় !

পার্থক্য শুধু সৌন্দর্যবোধের 

হামেশা না খেয়াল করা একটি সূক্ষ্ম মাত্রায় !


ভালবাসার চৌম্বকক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়ে তার ?

ঝাঁপিয়ে আসার কালেও অভিযোগ হতে তাই, 

যৎসামান্য হলেও, অভিমানের পানে বেঁকে যায় ?

.

এ দুরন্ত মানব-জীবন

"গড় মান" - বলে একটি প্রথম বন্ধনী চিরকাল রয়ে  যাবে পৃথিবীতে ৷ এই মানে বাঁধা পড়ে থাকবে সেই পরমুখাপেক্ষী মানুষেরা, যারা নিজেদের দিকে সৃজনশীল দৃষ্টিতে তাকাতে জানে না ৷ যারা অলীক ভবিতব্যের দিকে তাকিয়ে থেকে, কলুর বলদের চেতনায়, জীবনভর দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে ৷ একটি মানবজীবনের অন্তরে কী বিশাল সম্ভাবনা রইতে পারে - তাকে বাস্তবে প্রতিনিয়ত আবিষ্কারে ও সদব্যবহারে সমূহ অক্ষম এরা ৷


চেতনার তারতম্যে এর বাইরে যারা, একমাত্র তারাই খুঁজে পাবে - দৈনন্দিন জীবনের ঘন্টায় ঘন্টায়, কেবল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কিরূপে সঠিক কর্মটি নির্বাচন মানুষের প্রাথমিক দায়িত্ব হতে পারে ৷ 


কর্ম নির্বাচন একবার হয়ে গেলে, তাকে সার্থক রূপে কার্যকর করারও শতাধিক পদ্ধতি রইতে পারে ৷ এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠতম পদ্ধতিটি অবলম্বন করা চেতন মানুষের দ্বিতীয় দায় ৷


তৃতীয় দায়টি হলো - জীবনের ন্যূনতম সময় খরচ করে শ্রেষ্ঠতম কর্তব্যটি, নিয়মিত রূপে, এমন ভাবে সম্পাদন করা, যাতে সে আপন উৎকর্ষকে ভরপুর উপভোগ করতে পারে ৷


অতঃপর চতুর্থ দায়টি অবধারিত ভাবেই হতে চায় - অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কর্মে, পূর্ব প্রকারে, সচেতন মনোনিবেশ-সক্ষমতা অর্জন করতে পারা ৷