শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫

ভাবনার খেলনাবাটি

পার্থিব দখলদারি নিয়ে ভাবছি না।
কারণ - শরীর ভোগের 
শেষ ব'লে হয় না কখনো কিছু।

তবে, পার্থিব অধিকারবোধ
সুখকে যত না স্থায়ী করে,
দুঃখকে আমন্ত্রণ জানায়
তার থেকে সর্বদা অনেক বেশি।

তবু, অধিকারবোধেরও সৌন্দর্য হয়,
যদি হয় শুদ্ধ বন্ধুত্বে,
দেনা-পাওনার ফাঁদে না প'ড়ে।
বন্ধু-সুলভ দাবীতে তাই
মনের উপরে চাপ পড়ে না কোনও,
জোর - যতই খাটানো হোক ।

তাব'লে ভোগ কি অসুন্দর কিছু?
না, তেমনও মোটেই নয়।
ভোগ তৃপ্তি দানের চরমে ওঠে
যখনই একটি সংবেদনশীল মন
নিজের চাহিদা অপেক্ষা
অপরের চাহিদাকে
অধিকতর গুরুত্ব দিতে শেখে। 

সবই তো বোঝা গেল।
কিন্তু তারপরেও আমাদের মাঝে
কী যেন একটা কিছু
খুবই গুরুত্বপূর্ণ 
এখনও বাকিই রয়ে গেল !

বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫

স্বপ্ন

খুব পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে
একদিন এমন একটা ঘরে
যার চারপাশ বাগানে ঘেরা
আর একটু দূরে সাদা বরফের পাহাড়।
বাগান আর পাহাড়ের মাঝে
ঘন সবুজ বন
যেখানে অনেক রকম পাখির বাস।
আমার অবশ্য
বাঘ-সিংহদের বেশ ভয় করে।

আমি যদিও একলা থাকতে
দিব্যি ভালবাসি, তবে,
একজন মনের মত মানুষ পেলে
আমার দিনভর
বকবক করতে ইচ্ছে করে।

আমার স্কুল-বেলায়
তেমন প্রাণের বন্ধু ছিল
মাত্র একজন,
যে কথা বললেই মনে হতো
আমারই ভাবনার প্রতিধ্বনি,
যে সুইসাইড করে মারা গেছে
কয়েক বছর আগে
আর আমি স্বপ্ন দেখলাম
আমার আগে হাঁটতে হাঁটতে
ক্রমশঃ এতই দূরে চলে গেল সে,
সহস্রবার নাম ধরে ডেকেও
সাড়া আর পেলাম না তার।

হাতে পয়সা এলে ভাবছি
বেরিয়ে পড়ব একদিন।
তুমি কি না ব'লে
হঠাৎ সঙ্গী হবে আমার?
তোমাকে যদিও এখনো চিনি না।

বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫

প্রগতির পথ

মনে ভরে ওঠে মধুর স্বপ্নে,
বারংবার উন্নতির ভাবনায়,
তবুও মানুষের বাস্তবের ইতিহাসে
কিছুই তেমন প্রাণ পায় না তার।
পুরোনো অভ্যাসের জঞ্জাল 
আর সচেতন ইচ্ছার উপরে
প্রতিবার প্রবৃত্তির ধূর্ত প্রতিশোধ
ছিনিয়ে নেয় মনের সব কোণ,
নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য 
উদ্যমের পরিসর 
দিনের শেষে অবশিষ্ট থাকে না আর।

প্রতিটি সকাল
যদিও মন ধোয়া-মোছার সময়—
গতকালের বিফলতার ভার 
ঝেড়ে ফেলার সুযোগ,
চিন্তার বাগান পরিষ্কার করে
নতুন কিছু গজিয়ে ওঠার 
যোগ্য জায়গা নিকোনো।

তারপর শুরু হয় সাজিয়ে তোলা:
শৃঙ্খলার মজ্জায় দৃঢ় থাকার জন্য;
সময়ের প্রতি সচেতনতা 
রক্তে জীবন্ত রাখার জন্য;
আর ধারাবাহিকতার ত্বকে
সবকিছুকে একসাথে বাঁধার জন্য।

এই আত্মসূত্রগুলো 
শক্তভাবে বুনে নেওয়া আবশ্যিক,
স্তরে স্তরে, গভীর ও স্থায়ীভাবে।
যখন এগুলো 
মনের মাটিতে অটুট শিকড় গাড়ে,
উন্নতি আর থাকে না দূরের কিছু।

তখন তা ধীরে ধীরে উঠে আসে—
নিশ্চিত ও স্থির পদক্ষেপে,
নিজের তৈরী পথে নিজেকে তৈরী করতে,
মূর্ত হয়
ইচ্ছার ছুরির ভাস্কর্যে, কেটে কেটে,
খোদাই করা অপরূপ অবয়বে।

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৫

নিঃশব্দ উদযাপন

মন, প্রায়ই কোলাহলে জড়িয়ে প'ড়ে
উদযাপনকে ভুল বুঝে।
অধিক কিছু চাইতে থাকে—
অধিক স্বাদ, অধিক শব্দ, অধিক আয়োজন—
মনে করে 
সাফল্য বুঝি প্রমাণের জন্যই
এবং 
একটি ভোগের আয়োজন আবশ্যিক।

এই মুহূর্তে,
মন ভুলে যায় ভাবতে,
ভুলে যায় গভীরভাবে অনুভব করতে।
প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং
চালিত করে 
ক্ষণিকের আনন্দের দিকে,
আর সচেতন মন
ছায়ায় অপেক্ষা করে,
নিঃশব্দ, অদৃশ্য।

কিন্তু প্রকৃত সাফল্য—
যা আত্মসৃজন থেকে জন্ম নেয়—
কোনও জাঁকজমক চায় না।
এটি চায় না কোনো মঞ্চ,
কোনও উচ্চ ঘোষণা নয়।
এটি নিঃশব্দে শ্বাস নেয়,
নিয়মিত শান্তির ছন্দে
এবং আত্মমর্যাদার উষ্ণতায়।

এখানে, সাফল্য প্রসারিত হয়
নিজের মধ্যেই ।
আনন্দ ভোরের আলোর মতো ফুটে ওঠে,
নরম কিন্তু নিশ্চিত,
একটি স্বাভাবিক আলো
যা পোড়ায় না, শুধুই উষ্ণতা দেয়।

এই নীরবতায়,
মন স্থির কিন্তু জীবন্ত হয়ে ওঠে
নিজের বেড়ে ওঠায় 
আপন শিকড়টি সঞ্চালন ক'রে।
এটি উপস্থিতির সরলতা আস্বাদন করে,
পান করে ভালবাসা-জনিত
প্রশান্তির ঝর্ণা থেকে,
এবং জানে— এটাই যথেষ্ট।

কোনও প্রদর্শনী নয়,
কোনও বাড়াবাড়ি নয়।
শুধু শান্ত উপলব্ধি—
আমি বেড়ে উঠেছি,
এই মুহূর্তে আমি সম্পূর্ণতর
এবং এটাই সব।

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫

যেতে দিও না

স্রষ্টার দিব্যি
তাকে থামাও যাবার আগে,
কারণ -
তার আত্মা 
শিখে নেয় বিদায়ের ভাষা অতি দ্রুত,
তার ক্ষত রূপ নেয় নীরবতার দুর্গে।

যখন সে চলে যাবে,
সে শুধু ব্যথা নিয়েই যাবে না—
সঙ্গে নিয়ে যাবে সেই নরম নক্ষত্রপুঞ্জ,
যা একদিন তোমাদের মাঝখানের আকাশ আলোকিত করেছিল।

সে হয়তো ছুঁড়ে ফেলে দেবে 
তোমার আকুতি
ভুলে যাওয়া বাতাসের মতো,
তুমি যখন ব্যস্ত রইবে
খোদাই করতে তার নাম 
নক্ষত্রের মজ্জার গভীরে,
সত্যতার নদী ঢালবে অতল গহ্বরে,
তবু তার পথ বেঁকে যাবে এমন দূরত্বে,
যেখানে ভালোবাসাও পৌঁছাতে পারে না।

একবার হৃদয় ভাঙলে,
তা নিজেকে রূপ দেয় এক অটল দুর্গে,
যেখানে অশ্রু দিয়ে গড়া হয় ইস্পাত,
আর দরজা বন্ধ থাকে
অব্যক্ত বিদায়ের গভীরতায়।

যদি ভালোবাসো, 
তাকে আঁকড়ে ধরো এখনই—
তার আগেই,
যে দূরত্বে জন্ম নেবে শিকড়,
আর আফসোস ছায়ায় লিখবে তার নাম।

তাকে হারিয়ে যেতে দিও না
অবিরাম নীরবতার ভেতরে,
কারণ একবার সে চলে গেলে,
সেতুগুলো বিলীন হয়ে যাবে
"যদি এমন হতো"র ছাইয়ে ।

স্ফূটন

“দায়িত্ববোধ” সুসিদ্ধ হতে হতে
তার শৈল্পিক পূর্ণতা খুঁজে পায়
শুধুমাত্র সম্পাদনের জ্বালে।

প্রতিটি কাজ, ইচ্ছার এক একান্ত সুর,
ভর করে কঠোর নিয়মের স্তম্ভে,
যেখানে বিচ্যুতির মায়াবী বিভ্রান্তি
তাড়িত হয় নিষ্ফলা বাতাসে,
আর বিলাসিতার বীজ
মাটি খুঁজে পায় না কোনও।

এই উদ্দেশ্যের কষাঘাতে,
সুখ গলে যায় ছায়ার মায়ায়,
আর স্বাচ্ছন্দ্য হারায় তার ক্ষীণ সিংহাসন।

যা থাকে, তা এক নীরব শিখা,
এক সতর্ক তারার আগুন,
যেখানে আত্মা, পুনর্গঠিত আর দীপ্তিময় হয়ে ওঠে 
একাধারে
প্রদীপ-পাত্র ও তার উজ্জ্বল আলোতে,
অদম্য, অটল,
চিরন্তন।

উপায়

কীভাবে গড়েন একজন মা 
তার প্রিয় সন্তানকে?

মা গড়েন মমতার স্পর্শে, যত্নের আলোয়।
প্রথমেই পূরণ করেন তিনি 
ছোট্ট ইচ্ছেগুলো,
জাগান বিশ্বাস—
সন্তানের নিজের উপর 
আর মায়ের উপর।
এরপরে আলতো হাতে ধরে 
হাঁটান সঠিক পথে,
শিখিয়ে দেন - পথের গতি থেকে 
কিভাবে আহরণ করতে হয়
চলার আনন্দ।

গতি খুলে দেয় মুক্তির আকাশ,
যেখানে আনন্দ বাঁধনহীন, সীমাহীন।
সন্তান পায় নিজের অগ্রগতির দিশা,
জানতে পারে স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।

আমাদের সকলের ভেতরে 
একই প্রকার জড়তার বাস,
অচেতন আসক্তির অদৃশ্য শিকল
আমাদের বন্দী করে রাখে দীর্ঘকাল,
চেতনাকে যখন স্বেচ্ছায়
হতে হয় নিজেরই মা,
উদ্ধার করতে হয় 
অবোধ অবচেতনকে
জড়তার গতানুগতিক আঁধার থেকে
মুক্তির পথে।

গতি ফিরে পেলে 
জীবনের গান বাজে ফের
আর স্বপ্নের নূতন-নূতন দিশা 
খুঁজে পায় আকুল হৃদয়।

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৫

Simple Is Beautiful

All complexes are human creations. Else, human life is pretty simple for an independent mind if one remains pure and honest to one's conscience. Enhancing resilience is the key to breaking every barrier of life.

Please don't be loud while facing your life face to face in an empty mind that is already ready for any amount of action.

Ask your real life - how long it can stick to the sequence of purposeful actions from every day break without taking breaks.

Silently enhance this duration, day by day, to give a broader smile of recognition before you go to bed every night.

So it's over. Cheers!

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫

সুযোগ

তুমি কাকে কতদূর ভালবাসবে
সেই স্বপ্নটি 
সর্বদা একটি শিল্প হয়ে উঠতে চায়
যার শিল্পী কেবল তুমি একা।

তোমার ভালবাসার সার্থকতা তাই
নির্ভর করে 
তোমার সাবধানী তুলির টান
আর রঙের পছন্দের উপরে।

মানবহৃদয় সুন্দরের পূজারী।
এই অভিনয়হীন উত্তরণের সুযোগ
একটি মানবজীবনে
তবু বারবার আসে না।
একবার চলে গেলে, তারপরে
হাত কামড়ানো ছাড়া
থাকে না আর কোনও উপায়।

ভালো থেকো ভালবাসা, চিরকাল,
মানব হৃদয়ের টাটকা সবুজে
উৎকর্ষের মরীয়া কর্ষণে।
কেবলমাত্র নিঃস্বার্থ ভালবাসা 
দিতে পেরে
মানবজীবন অনাবিল হাসে।

দ্বন্দ্ব

মানুষের অপ্রতিরোধ্য জেদ
পুরুষ সত্তা তার,
এটি একটি অচঞ্চল শিখা,
যখন ধারাবাহিকতায় প্রয়োগ হয়,
জীবনের বুননে অলৌকিকতা আঁকতে পারে—
আকৃতিহীনকে নূতন আকার দিতে, অদেখাকে জন্ম দিতে।

কিন্তু এই শক্তি, 
যদিও প্রভূত প্রভাবশালী, 
বারে বারে পরাজিত হয়
আপন নারীশক্তির ছলনার কাছে
যা বাস করে আসক্তিরূপে 
অবিরাম নেশার বস্তু হয়ে
মানুষটির অবচেতনের ছায়ায়।

আসক্তির কূট ফিসফিস উচ্চারণে থাকে
অবৈধ ইচ্ছা-জনিত তীব্র ক্ষুধার 
সুপ্ত প্রবাহ যা সংকল্পকে গ্রাস করে।
সে আপন ধ্বংসাত্মক অভ্যাসে
বিকেলের ছায়ার মতো কৌশলী,
ইচ্ছার ফাঁক দিয়ে নিঃশব্দে প্রবেশ করে,
প্রতিটি সৃজনশীল স্বপ্নকে
গ্রাস করে পরতে পরতে।

এই প্রবৃত্তি—
আকাঙ্ক্ষার প্রেতাত্মা,
অন্ধকারের রাণী
সত্তার ছায়ামূর্তি—
ক্রমাগত শত্রুতে
রূপান্তরিত হতেই থাকে।
এই চরম অশুভ
উদ্দেশ্যদের ভেতর থেকে খেয়ে ফেলে,
যোজনার দুর্গকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।

মানবের মুক্তি লুকিয়ে থাকে
গোপনের আপোষহীন উন্মোচনে:
অদৃশ্য শত্রুর সঠিক নামকরণে,
ছায়ার আড়াল থেকে তাকে টেনে আনার মধ্যে,
এবং তাকে আবিষ্কার করা মাত্র
কোনও প্রকার 
প্রশ্রয়ের অবকাশ না রেখে,
বলপূর্বক আলোর সামনে 
হিঁচড়ে এনে ফেলে দিলেই 
তার প্রতিটি ছলনা 
বাধ্য হয়ে অবলুপ্ত হয়
এবং শূন্যে বিলীন হয়।

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫

হিসেব

এমন কি কখনো মনে হয় - 
জীবন তোমাকে 
তোমার প্রাপ্য পুরোপুরি দিচ্ছে না?

যদি এরকম হয়, 
তবে, একথাটি নিশ্চিত যে 
তুমি যা দিতে পার জীবনকে
তা আদপে দিচ্ছ না,
কারণ হয়তো
জীবনের হিসেব তোমার রপ্ত নয়।

যে জীবনকে এক দেয়
সেই শুধুমাত্র 
এক-ই ফেরৎ পেতে পারে
আর যে জীবনকে একশো দেয়
তার আছে 
একশো ফেরৎ পাওয়ার অধিকার ।

হিসেব করতে পার এবার সহজেই
তোমার আপন পাওয়া থেকে,
তুমি নিয়ম করে
জীবনকে কতটা দাও।

মানুষের 
অবিশ্বাস্য অপ্রতিরোধ্যতার
সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম যখন,
তোমার কি পরীক্ষা করা উচিত নয়
অন্ততঃ একবার -
তুমি আপন প্রয়াসে কোন অবধি
অধিকতর দিতে পার?

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৫

দ্বান্দ্বিক সময়

যখন হৃদয়ের সাথে
তুমুল যুদ্ধ বেধে যায় মনের,
যখন পরাণ অঝোরে কাঁদে 
ধরে রাখতে
আগের মত ভালবাসার আবেশ,
অথচ, মনের নিরপেক্ষ যুক্তি বলে -
ছেড়ে আসার এসেছে সময়,
তখন সে বড় কষ্টের অভিঘাত
হৃদয়ের অন্দরে সুতীব্র যন্ত্রণায়।
ঘুমাতে পারো না তুমি।
বুকের নিচে বালিশ রেখে
বসে থাকো হয়তো সারারাত,
কখনো-কখনো রাতের পর রাত।

তখন তোমার পূনর্জন্ম হয়
অতীত আসক্তিটির খোলস ছেড়ে।
একদিন অবশেষে 
ধাবমান হও বাধাহীন স্বাধীনতায়
উন্নততর অস্তিত্বের পানে। 
উত্তরণ বরণ করে জীবনকে তোমার
নতুন ভালবাসার চাদরে মুড়ে।

নিঃশুল্ক

মনীষা অপূর্ব সুন্দরী, বয়স আঠাশ। পাড়ার লোকজন তাকে "মর্ত্যের ভেনাস" নাম দিয়েছিল। মনীষা থাকতো একটি পঁচিশতলা বিল্ডিং এর সতেরো তলায়। তার সাথে বিয়ে হয়েছিল একজন মিলিটারী অফিসারের, যার পোস্টিং ছিল দেশের বর্ডারে।

হঠাৎ একদিন খবর এল - তার স্বামী মারা গেছেন আচমকা শত্রুপক্ষের আক্রমণে। মনীষা অত্যন্ত ভেঙে পড়লো প্রথমে। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে এল দলে দলে। কেউ কেউ বললো তার অর্থকষ্ট থাকবে না বাকি জীবন, কারণ সে প্রচুর ক্ষতিপূরণ পাবে সরকারের কাছে, প্রতিমাসে, যতদিন বেঁচে থাকবে। শোক ধীরে ধীরে থিতিয়ে গেলেও শূন্যতা রয়েই গেল।

পাড়ার যুবক হতে বৃদ্ধ অবধি অনেক মানুষের মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ ইতিমধ্যে বিব্রত করতে শুরু করেছিল তাকে। সম্পূর্ণ একা পুরো জীবন কাটানো যে বোকার মত সিদ্ধান্ত হবে - এ বাস্তববোধ তার ছিল। তবে, "নারীর শরীরকে একবার দখল করার পরেই একটু একটু করে উবে যেতে চায় যে অধিকাংশ পুরুষের প্রেম" - এই তথ্যটি তার বেশ ভালো জানা ছিল। সে তাই নূতন কোনও পুরুষের সাথে আবেগের সম্পর্কে যাওয়ার ব্যপারে সম্পূর্ণ নিস্পৃহ ছিল। আপন জৈবিক চাহিদা অস্বীকার না করলেও সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিনামূল্যে নিজেকে বিলিয়ে না দেওয়ার।

বেশ কিছুদিন পরে এক সন্ধ্যায় কলিংবেল বাজতে দরজা খুলে সে দেখলো সুন্দর দেখতে ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এক তরুণ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সে বললো তার কিছু কথা আছে মনীষার সাথে। তার ভদ্র-সভ্য চেহারা দেখে মনীষা তাকে ভিতরে এসে বসতে বললো। ছেলেটির নাম অভীক, বয়স কুড়ির আশেপাশে। 

এরপর অভীক যা বললো তার অর্থ হলো সে কলেজে পড়ে। দীর্ঘদিন সে প্রেমে পাগল মনীষার। মনীষা তাকে স্বীকার না করলে তার পড়াশোনা ডকে উঠতে চলেছে।

মনীষা মন দিয়ে শুনলো অভীকের কথা। তারপরে বললো তার পক্ষে দীর্ঘদিন প্রেম করা সম্ভব নয়। সে অভীককে একটি রাত দিতে পারে তবে তা বিনামূল্যে দেওয়ায় বিশ্বাসী নয় সে।

অভীক মূল্য জানতে চাইলে মনীষা বললো পাঁচ হাজার টাকা। একথা শুনে অভীক বিদায় নিল।

পরের সপ্তাহে ছেলেটি আবার এল। মনীষা দরজা খুলতে অভীক পাঁচ হাজার টাকা তুলে ধরলো মনীষার মুখের সামনে। মনীষা মিষ্টি হেসে তাকে ভিতরে ডাকলো।

পরদিন সকালে অভীক যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে মনীষা দুইকাপ চা নিয়ে এসে বসলো তার সামনে। আশাতীত তৃপ্ত দেখাচ্ছিল অভীককে। মনীষা তাকে প্রশ্ন করলো একজন কলেজ-ছাত্র হয়ে সে কীভাবে জোগাড় করেছিল এতটা টাকা।

অভীক হেসে বললো সে একটি চালাকি করেছে। আগের দিনে মনীষার দেওয়া শর্তের কথা সে কলেজের সব বন্ধুদের বলেছিল। হাজার জন বন্ধুর প্রত্যেকে পাঁচ টাকা দিয়ে লটারী খেলায় রাজিও করিয়েছিল। লটারীতে যেন কেবল তারই নাম ওঠে সেই চালাকিটি করেছিল বুদ্ধি করে।

মনীষা এই কথা শুনে খুব হাসলো। তার বেশ ভালো লেগেছিল অভীককে। মনীষা বললো - সে আজ একটি ব্যতিক্রমী কাজ করবে, যা তার নীতি-বিরুদ্ধ। গতরাতের আনন্দ দেওয়ার বিনিময়ে সে কোনও মূল্য নেবে না অভীকের কাছ থেকে। অভীকের নিজের তরফ থেকে কোনও খরচা হতে দেবে না মনীষা গতরাতের আন্তরিক সান্নিধ্যের জন্য।

এই বলে মনীষা অভীকের হাতে একটি পাঁচ টাকার কয়েন ফেরৎ দিল।

(বিদেশী গল্পের অনুসরণে )

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৫

শক্তিহীন

এ জগতের ইতিহাসে প্রতিটি সফল ও সার্থকনামা পুরুষ আবশ্যিকরূপে বীর্যবান । শুধুমাত্র একজন বীর্যবান পুরুষের সাথে সুগভীর প্রেমে ও নিয়ন্ত্রিত সঙ্গমে প্রবল সুখী হতে পারে নারীর উত্তাল যৌবনের প্রতিটি সুতীব্র আকাঙ্খা । 

কিন্তু বীর্যবান হতে পারা আদপেই সহজ নয় পুরুষের পক্ষে । স্বামী বিবেকানন্দ কোনও এক সময়ে আক্ষেপ করে বলেছিলেন “কেবলমাত্র দশ জন প্রকৃত ব্রহ্মচারী পেলে আমি ভারতবর্ষকে পাল্টে দিতে পারতাম ।” কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মাত্র দশ জন প্রকৃত ব্রহ্মচারী তিনি জীবনভর খুঁজে পাননি সমগ্র ভারতবর্ষে । সমস্যাটি এতটাই গুরুতর ও গম্ভীর ।

বীর্যধারণ পুরুষের মধ্যে নির্মাণ করে সেই জেদের আগুন, যা -
১) যে কোনও ব্যর্থতাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে ।
২) রূপান্তরিত করতে পারে প্রতিটি না কে হ্যাঁ তে ।
৩) সৃষ্টি করতে পারে একটি জাতির উন্নততর পরিচয় ।
৪) আপন নিয়তির প্রতিটি বাধাকে চূর্ণবিচূর্ণ করার ক্ষমতা ধারণ করে ।
৫) আকাঙ্খিত সাফল্যকে বাস্তব রূপ দিতে পারে ।

একটি পৌরুষহীন জাতিকে শোষণ ও নিপীড়নে জর্জরিত হতে হয় যুগ যুগ ধরে । মানুষ আপন বীর্যহীনতা-জনিত অক্ষমতাকে ঢাকতে  প্রতিনিয়ত দোষ দিয়ে থাকে পরকে । প্রতিবাদরা কেবল বি়ফলতাকে চুম্বন করে ক্ষান্ত হয় বাধ্য হয়ে । সার্থক প্রতিরোধের সম্ভাবনা প্রতিবার শেষ হয় অসহায় ক্রন্দনের দীর্ঘশ্বাসে । এ দোষ নারীর কদাপি নয়।

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৫

উদ্ধার

মানুষের ক্ষমতা খুব বেশি নয়।

মানুষ যাকে অন্তর হতে ভালবাসে,
সব বিপদ-আপদ হতে
তাকে প্রাণপণে বাঁচাতে চায়।
মানুষ আর কতটুকু পারে?
প্রবল ঝড় জলে
মানুষ যখন 
নিতান্ত অসহায় হয়ে দেখে
তার কিছুই করার নেই আর,
তখন তার ভালবাসার মানুষ কি
অবধারিত হারিয়ে বা ডুবে যায়?

মানুষ অনেক সময়েই
নির্বাক বিস্ময়ে খেয়াল করে -
যখন বাঁচার আশা ছিল না কোনও,
ঠিক তখনই, কে যেন
বিশ্বস্ততম বন্ধু হয়ে আবির্ভূত হয়,
তার ভালবাসার মানুষটিকে
অধিকতর ভালবেসে
কোলে তুলে নেয় পরম মমতায়
আর তার বিপদের লগন
কতই না অনায়াসে পার করে দেয়।

অহমিকা তখন প্রমাণ পায়
এ জগতের অলক্ষে
অপর কেউ থাকে তার পরম সহায়,
যখন নিঠুর বাস্তব 
মাঝেমাঝেই প্রমাণ করে দেয়
মানুষের আপন ক্ষমতাটুকু
তুচ্ছতার আবিলে
আদপেই খুব বেশি নয়।
.
http://royedds.blogspot.com/2025/01/blog-post.html