মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩

হাসো-তো দেখি

এ জগতে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো
পরকে দোষারোপ করা
আর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো
আপন স্বপ্নকে প্রবলতম ভালবেসে
নিঃশব্দে ঘাম ঝরিয়ে-ঝরিয়ে
অবশেষে
একদা সত্যে পরিণত করতে পারা ।

দ্বিতীয়-টি করতে
অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না,
কারণ অপেক্ষা-রা আবার হামেশাই
জীবনভর হওয়া পছন্দ করে ।
তবে, যা সত্যিই প্রয়োজন পড়ে, সে হলো -
আপোষহীন নিষ্ঠায়
কর্মের সাথে শৃঙ্খলার সুসমন্বয় অর্জন ।

তারপরে ? অবশেষে বোঝা যাবে -
সময়ে-অসময়ে
হাসির বাঁধভাঙা উৎসব
চিরকাল কেবলমাত্র সফলের অধিকারে ।

কর্মণ্যতা

যে কোনও জাতির অর্থনৈতিক দুঃসময় আসতেই পারে সময়ের পরিবর্তনের সাথে । তবে জাতীয় চরিত্রের মেরুদণ্ডে একবার পচন ধরলে সমস্যা অনেক গভীরে যায়, কারণ, একটি জাতির চরিত্রের ভিত্তিমূলে সার্জারী সহজ নয় মোটেও ।

বাঙালি-গর্ভ হতে বিরল প্রতিভার বহুমুখী উৎসারণ প্রায় নিয়মিত ছিল বিগত শতাব্দী অবধি । তবে গত দুই দশকে তেমন ঘটনা দেখা যায়নি আর খুব একটা । 

বিগত ছয় দশক যাবৎ রাজনীতির কুটিল আবর্ত, হঠকারী বিপ্লব ও সমবেত মধ্যাচারী অগ্রগতির দামামায়, প্রায় গলা টিপে ধরেছে বাঙালি প্রতিভার ব্যক্তিত্ব-কেন্দ্রিক ঊর্ধ্বাচারী স্বতঃস্ফূর্ততার । বাঙালির চিরাচরিত জাতিগত আদর্শ-রা বর্তমানে ভূলুন্ঠিত, নীতগত আপোষে ক্রমাগত জড়িয়ে পড়ে, সুদূরপ্রসারী দৈন্য ও হীনতায় । ফলতঃ, বাঙালি বলতে যে যুব-সম্প্রদায় বেড়ে উঠছে আজ, তারা মূলত লেজুড় প্রবৃত্তি-সম্ভূত মেধাশূন্য গড্ডলিকা মাত্র, যাদের সত্যানুভব-জনিত ন্যূনতম তেজ বা ধক নেই, সাহসী সিদ্ধান্তে, আপন কার্যকরী কর্মের নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাসের জোরে, আপন পূর্বসূরিদের মত, উত্তরসূরিদের জন্য যোগ্য পথপ্রদর্শক হওয়ার ।

এ ঘোর কলিতে বাঙালির সামনে কে দাঁড় করাবে অনুসরণযোগ্য আদর্শ আবার নতুন ক'রে ? কোন পথে উত্তির্ণ হবে বাঙালি-জাতি ফের প্রবল পরাক্রমের স্বমহিমায় ? আপামর বাংলা-ভাষীর মধ্য হতে প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি জেগে উঠবে আবার কোন শ্রদ্ধা ও কর্মের দ্বান্দ্বিক অপ্রতিরোধ্যতায় ?

আত্মশ্রদ্ধা শব্দটির সাথে সম্পর্কশূন্য, পরমুখাপেক্ষিতার পরকাষ্ঠারা কেবল চলে-ফিরে বেড়াচ্ছে বর্তমানে, এদেশে, মানুষের অবয়বে, সমবেত অদূরদর্শিতার, তথা, অকর্মণ্যতার 'গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক'-এর বিবশ উদযাপনে ।