তিনি চেয়েছিলেন
সমাজে অবশিষ্ট রইবে না
প্রতিভার এমন কোনও উচ্চশৃঙ্গ পর্বত
যার শুভ্র উচ্চতার পরিপ্রেক্ষিৎ হতে
তত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতাটি
সহজেই প্রতিভাত হতে পারে !
প্রতিভামাত্রের জন্য তাই
ক্ষমতার পরবর্তী আদেশ ছিল -
"হয় অনুগমন নতুবা মরণ" ৷
তত্ত্বটি ঠিক কি ছিল ?
তত্ত্বটি হলো -
পর্বত, সমতলভূমি আর সাগরের সমন্বয়
একা প্রকৃতিতে থাকলে, থাক বরং,
মানবসমাজ কেবল সর্বহারা শ্রমিক ও কৃষকদের
সমতলভূমিতে গঠিত হতে হবে ৷
পর্বত ও সমুদ্রের আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই ৷
সেইমত চললো ক্ষমতার বুলডোজার ৷
ফলে যা হবার তাই হলো !
নতুন প্রতিভাদের অঙ্কুরোদগমের পরমুহূর্তে
তাদের পঙ্গু-করণ নিয়মিত হলো
বুলির আগ্রাসনে,
পোষ্য শেফার্ডের সীমিত শিক্ষায় ৷
পাহাড়দের ভেঙে ভেঙে
ভরাট করা হলো সমতলের গর্ত ও খাঁড়ি ৷
উচ্চতার পার্থক্য বাধ্য হারিয়ে গেলে,
ঝাঁপিয়ে পড়ে আর না বইতে পেয়ে,
প্রথমেই যাকে স্থবির হতে হলো, তার নাম - জল ৷
নদীরা শুকালো একটু একটু করে !
সমাজের যত শস্য-শ্যামলা উর্বর জমিন
আর তার সবুজ সম্ভাবনারা
শুদ্ধ প্রাকৃতিক জলের আস্বাদন না পেতে পেতে
ক্রমশঃ রূপান্তরিত হলো
ম্যাড়ম্যাড়ে হলুদ মরুভূমিতে ৷
ইতিহাস আজও বলে - কোনও এক কালে
সে সব দেশের গর্বিত ফলনে ছিল
টলস্টয়, সোলঝেনিৎসিন, রবীন্দ্রনাথ
অথবা এই সেদিনের সত্যজিৎ রায় ৷
তার ধূর্ত শব্দ-সম্মোহনের জাদুর প্রভাবে
আজও ফেঁসে বসে আছ তুমি ৷
বাকি দুনিয়াও ছুঁড়ে ফেলে দিলে
আপন পঙ্গু সন্তানকে, এ প্রজন্মের নামে তাই
ধিক্কার দাও, হে মহান বিপ্লবী ?
আজও, আপন বিবেকের মুখোমুখি না হয়ে,
বিপ্লবের নামে,
বন্ধ্যাত্ব নতুন করে বাড়ানোর স্বপ্ন দেখতে চাও ?