শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

বিষাদ

 মনখারাপেরও একটা বাগান আছে, জানো ?


সব সময়ে খুঁজে পাবে না তার তোরণ !

তবে যখন পাবে, যদি ঠেলে ভিতরে ঢোকো,

দেখবে সে এক উল্টোর জগৎ !


মনখারাপরা সেখানে গাছে গাছে

হেঁটমুণ্ড-ঊর্ধ্বপদ হয়ে পাশাপাশি ঝুলে আছে ৷

তারা শাস্তি পেয়েছে উপর্যুপরি পরনির্ভরতার !

অপরাধবোধে

কথা বলছে না তাই কেউ কারও সাথে !


অর্জন-লভ্য লক্ষ্যকে অবহেলার ঔদ্ধত্যে,

তারা গতির আনন্দময়তা হতে

স্থবিরতার জগতে পৌঁছে, বিরূপতার দীক্ষায়,

অবসাদের লোহিত-ক্ষরণ ক্ষতের যন্ত্রণায়,

অসহনীয় ভারাক্রান্ত হতে হতে,


অবশেষে আচমকা বাঁক নিয়ে 

হারিয়ে গেছে অবাস্তবের ছাই-রঙা রাস্তায়,

যার শেষে আর কোনও পথ অবশিষ্ট নেই,

নূতন বাঁক নেই, দেখারও নেই কিছুই 

দূরে অথবা কাছে,

কেবল আকাশ-সমান উঁচু একটি প্রাচীর 

আপোষহীন নির্লিপ্তিতে 

প্রতিরোধ হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷


মনখারাপরা নিশ্চিত - 

"ভুল - তেমন কিছু হয়নি তাদের ৷"

কাছে গেলে, তাকাতেও পারে তোমার দিকে ৷

তবে চমকে যেও না, যদি দেখ -

তারা তোমাকে চিনেও চিনছে না, 

মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে প্রতিবার

দুঃখবাদী উদাসীনতায়, 

শুধরে একবারটি দাও যদি পাছে !

.

দাগী

কত শত প্রত্যন্তের 

আপাতঃ-অন্তর্হিত অঙ্গ-রেখা 

নিবিড়ে বহন করে চলেছো আজও

সাংখ্য মতে, অম্লান পুষ্প-দলে, 

হে বিদ্রোহী, বিদুষিণী দ্বারী !


চরৈবেতি-পথ পাল্টে পাল্টে গেছে রথ

সুবিধানুযায়ী, আপোষহীন তাড়াতাড়ি ৷


উৎরোল স্ফূর্তি হরমোনের দাবী,

হোক না কবি,

হোক না ভালবাসা-জনিত আশা - 

সখেদে একতরফা বাড়াবাড়ি ৷


তোমার প্রেমের আদ্য-নিয়তি,

ইতিহাসের ধারায় নিয়ত যতি ও চ্যুতি,

তোমার উদাত্ত কোমলের রসিকা অভ্যন্তরে

উদ্ভাসিত ভাস্কর্যের অতঃপর স্তরে স্তরে

সে দিক-নির্দেশক রেখাদের

দৈর্ঘ্য ও গভীরতার নিরিখে আদৌ না যুঝেও

কি ভাবে যে হুবহু বুঝে নিতে পারি !

.