এমন কিছু রাত আছে
যখন ভালবাসা আসে না
যুদ্ধের মতো।
কোনো সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে না।
কোনো দেহ
আহত জন্তুর মতো
আধিপত্যের জন্য লড়াই করে না
পৃথিবীর বিছানার উপর
শতাব্দীজুড়ে জমে থাকা ক্ষুধা
টেনে নিয়ে যেতে নিয়ে যেতে।
বরং—
সে উঠে আসে তার উপর
যেন নিদ্রিত সমুদ্রের বুকে
নিঃশব্দে উঠে আসছে চাঁদের আলো।
আর হঠাৎই
ঘরটি ভুলে যায়
সহিংসতা বলতে কিছু ছিল কখনও।
ছন্দ ভাঙে না।
কিছুই বিচ্ছিন্ন হয় না।
অহংকারের কোনো মরিয়া যন্ত্র
তার লোহার দাঁত ঘষে না
দুই আত্মার মাঝখানের
পবিত্র নীরবতার ভিতরে।
এমনকি বিছানাটিও
ভাসতে থাকে যেন।
বাতাস ধীর হয়ে যায়
তাদের দেখবার জন্য।
পর্দাগুলো ধীরে শ্বাস নেয়
অদৃশ্য দেবদূতদের ফুসফুসের মতো।
দেয়ালগুলো হারিয়ে ফেলে
তাদের জ্যামিতি।
সময় নিজেই
নিজের হাতঘড়ি খুলে রেখে দেয়
ল্যাম্পের পাশে।
সে নড়ে ওঠে
জয়ের মতো নয়,
বরং যেন সংগীত
নিজের আদি যন্ত্রকে
পুনরায় চিনে ফেলেছে।
আর তার নিচের মানুষটি—
সে আর শুধুই মানুষ থাকে না।
সে হয়ে ওঠে এক ভূদৃশ্য।
বৃষ্টির পরের মাঠ।
এক অন্ধকার নদী
যে নিজেকে সমর্পণ করছে
চাঁদের মহাকর্ষের কাছে।
সেখানে কোনো বিষাক্ত নড়াচড়া নেই।
কোনো মালিকানার অহংকার নেই।
কোনো তীক্ষ্ণ সংঘর্ষ নেই
দুই নিঃসঙ্গ অহংকারের
যারা একে অপরকে গ্রাস করতে চায়
কিছুক্ষণ স্বস্তির জন্য।
শুধুই তরঙ্গ।
শুধুই আবেগের আবহাওয়া
ধীরে ধীরে বয়ে যাচ্ছে
ত্বক ও নিঃশ্বাসের ভিতর দিয়ে।
তার চুল নেমে আসে তার উপর
যেন মধ্যরাত্রির বনভূমি
ভেঙে পড়ছে
প্রাচীন মন্দিরের গায়ে।
তার হৃদস্পন্দন গড়িয়ে পড়ে
তার বুকের ভেতর থেকে
নিচে—
তার পাঁজরের ভিতরে,
যতক্ষণ না দুই শরীর
এক অদৃশ্য অর্কেস্ট্রা
ভাগ করে নিতে শুরু করে।
বাইরে
শহরগুলো তখনও
তাদের ধাতব আতঙ্কে ব্যস্ত।
লিফট উঠছে নামছে।
মুদ্রার মান বদলাচ্ছে।
সরকারেরা নিজেদের মিথ্যা
পুনরাবৃত্তি করছে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ
অবিরাম স্ক্রল করছে
আলোকিত বিভ্রান্তির কবরস্থানে।
কিন্তু সেই আধো-অন্ধকার ঘরের ভিতরে
জন্ম নিচ্ছে আরেক সভ্যতা—
এক সভ্যতা
যেখানে কোমলতা শক্তির চেয়েও প্রবল,
যেখানে আত্মসমর্পণ দুর্বলতা নয়,
যেখানে সুখ আসে
নিষ্ঠুরতা ছাড়া,
অভিনয় ছাড়া,
ভয় ছাড়া।
আর ছাদের ওপারে কোথাও
তারারা নীরবে তাকিয়ে থাকে,
সম্ভবত মনে করতে থাকে
গ্যালাক্সিরাও এমন করেই জন্ম নেয়—
সহিংসতার মাধ্যমে নয়,
বরং আকর্ষণের
ধৈর্যশীল ছন্দে,
পরিক্রমায়,
এবং সেই অসহনীয় সৌন্দর্যে
যেখানে এক শরীর
সম্পূর্ণ বিশ্বাসে
নিজেকে সমর্পণ করে
আরেক শরীরের কাছে।