মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর, ২০২২

কলির অন্ত

আবেগ নয়, বিবেক নির্দেশিত
সত্যের হাতখানি অবিচল ভাবে 
যাপনে ধরে রাখতে পারার নাম সততা !

চুম্বকের সাথে থাকতে থাকতে
লোহা যেমন 
ক্রমশই চৌম্বকত্ব প্রাপ্ত হয়,
সততার সাথে অবিরাম বাসে
মানুষের মধ্যে তেমন ভাবে 
সত্যের সুর 
সঠিক-রূপে চিনতে পারার যোগ্য
দিব্য-বোধের উদয় হয় ৷

সত্যের সাথে বাসের 
দুটি উপযোগিতা অবশ্যই আছে !

যক্তি তর্কের ব্যাজার লড়াই বাদ দিয়ে
প্রতিটি ঘটনার অন্তর্ণিহিত সত্যটি,
প্রমাণ ছাড়াও, তার দ্বারা প্রতিবারই
প্রায় অনায়াসে প্রত্যক্ষ হতে হয় ৷

সর্বদা সত্য উচ্চারণ করে যে,
তার মুখ-নিসৃত বাক্য, বাস্তবে,
যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন,
অচিরে সত্যে পরিণত হয় ৷

আপেক্ষিকতা

কর্ম - সহজতম বিষয় ভেবেছ ?
তাহলে ভারতবর্ষের এত এত যোগী
অন্য সব যোগে প্রভূত সফল,
কেবল কর্মযোগে অনাগ্রহী
ও অন্ধ শিক্ষক কেন ?

কিছু একটা, যাহোক, পয়দা করে দিলেই
ওমনি কালজয়ী দাঁড়িয়ে যাবে ?
সময়কে পথের ধুলোর মত 
অনাদিকাল ধরে সুলভ ও মূল্যহীন ভেবে
হুজুগে পায়ের খামখেয়ালিপনায় 
যেমন-তেমন মাড়িয়ে গেলে
অপচয়ের অপর নাম হতে হয়
আপন জীবন ।

অথচ সময় তার খাপে খাপে 
প্রতিনিয়তঃ ধারণ করে
বিভিন্ন ক্ষমতার বিরল বারুদ ।
প্রতিটি রাসায়নিককে ঠিকঠাক চিনে,
অভ্যাসযোগ-লব্ধ যতনে
ছেঁকে আলাদা ক'রে,
যে বাঁধতে জানে সময়কে, 
তার আপন বিশিষ্ট নিয়মে,
অতীব সতর্কতায়, সঠিক ভাগ মেনে, 

তার জীবনের 
যে কোনও বিস্তর বাধার পাহাড়কে
এক মুহূর্তে ধূলিস্যাৎ ক'রে 
পরবর্তী পথকে প্রশস্ত ক'রে দিতে,
সেই একই সময় আবার 
হয়ে উঠতে পারে অবধারিত এটমবোম্ব ।

তোমার হলো ? ওঠার কি
অনেক দেরী আছে এখনও ?
পরস্মৈপদী, হলুদ প্রতিযোগের
একঘেয়ে নিঃসরণ শেষে,
শ্রদ্ধাশীল চেতনার আপন সাধনভূমে
একাগ্রতার কেন্দ্রবিন্দুকে 
বরাবরের মত ফিরাবে কখন ?