সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অভিলাষ


সঙ্কোচের মাথাটি খেয়ে

অবশেষে ঘেমে নেয়ে

থমকে যাওয়া কলমের

এই কথাটি ব্যকুল লিখতে চাওয়া -


শাড়ি, গাড়ি, বেড়াতে যাওয়া,

এমনকি 'মা'-ডাক

অথবা একটা গোটা মাছরাঙা-রঙ বাড়ি,

এক জীবনে কতই না তেমন উপহার পাওয়া,


শান্তি - কোথায় যেন আজও অধরা ব'লে

অতৃপ্তি তারপরেও একাই করে !

পারার মত দিতে পারা

বাকিই রয়ে গেছে - সব পাওয়ার পরেও !

বাজছে পরাণে বারেবার - সেই একটিই "নাই, নাই" !


'"যতবার খুশি, যেমন ভাবে প্রাণে চায়,

পরোক্ষ কথায় নয়,

অপেক্ষারা, ব্যথাদের প্রত্যক্ষ পরশে,

দাতা হতে পেরে সার্থক গ্রহীতা হবে"

- স্বপ্নটি এখনো যাপনে হারায় না তাই ।


এ পোড়া-মাটির পুতুল-জীবনে

একটি মাত্র দিনের ব্যতিক্রমী অবসরে

তোমার পাহাড়ী কুঁড়ে-ঘরে, ঘাসের পরাণগন্ধী গালিচায়

উজাড় করে - সারা দিনভর বিলিয়ে দিতে দিতে

এ নশ্বর - প্রাণবন্ত উপহার হতে একবারটি চায় ।

.

.

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

উপহার

জীবন দায়িত্বের ভারে নুয়ে আছে
পদে পদে সময়ের কাছে !

পথদের মিলে যাওয়ার ক্ষণিক সুযোগে
ভালবাসাদের অবসর
তারই মাঝে মাঝে সুযোগ পেলে বাঁচে ৷

কুড়িয়ে নিতে চাওয়ারা জেগে থাক
উৎসাহের নিরন্তরে,
কে জানে কার ঝুলি
কত না সুখ-স্মৃতি জমিয়ে রাখে
বুকের ছায়ায় আড়াল পাওয়া
অমলিন প্রদীপের আঁচে !


.

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

নিরবধি

মানুষে মানুষে প্রাণতরঙ্গে মিল ও পার্থক্য থাকতে আছে ! কিছু মানুষ আজীবন খুঁজে যায় - মিলটি কোথায় লুকিয়ে আছে ! কেউ কেউ আবার সমর্পণের আগ বাড়ানো জোরে, আপন গতানুগতিক অভ্যাসের কঠিন অংশটি ভেঙে ফেলে, খুব সহজেই খুঁজে পায় ! নিজে খুঁজে না পেলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে, মানুষ অপরকে দোষারোপ করে হালটি ছাড়ে ৷


স্কেল চেঞ্জিং হারমোনিয়ামে, যেভাবে প্রয়োজনানুযায়ী স্কেল চেঞ্জ করে, অন্যের সুরের সাথে নিজের সুরকে মিলিয়ে নিতে হয়, - অনুনাদটি খুঁজে পেতে, ঠিক একই ভাবে, মা-রা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্তানকে বুঝে নেয় এই মিলের জোরে ! সন্তানও, মায়ের সান্নিধ্যে, চেনা অনুনাদটি ঝালিয়ে নিতেই, সব বিক্ষিপ্ততা পেরিয়ে আবার সাদৃশ্যের আয়নায় নিজেকে ফিরে পেয়ে, পরম স্বচ্ছন্দ বোধ করে !


একবার স্কেলটি সঠিক খুঁজে পেলে, অতঃপর সুরে সুর মিলাতে পারার ক্রমাগত অভ্যাসে, অনুনাদটি যে হবেই - এই বিশ্বাসটি ক্রমশঃ সত্য হয়ে দানা বাঁধে - সকল অনিত্যের মাঝে ! বিশ্বাসের শিখাটি প্রথমে সাধারণত কাঁপে ! তারপরে ক্রমশঃ শত ঝড় জলের মাঝেও নিষ্কম্প অচঞ্চলতায় স্থির হতে যখন পারে, তখন তার উপরে মানুষ পরম নিশ্চিন্তে প্রতিবার নির্ভর ক'রে, মায়ের কোলের সুখটিকে পেতে পারে !


যে সম্পর্কে যতই আবেগপ্রবণতা অথবা কল্পনাকুলতা থাকুক না কেন, জীবনের অনাগত গানে - অনুভবের মধ্যে সাধারণ সত্যের যোগসূত্রটির এই নিষ্কম্প অস্তিত্বই দুটি মানুষের মধ্যে অসুরহীন সম্পর্কের শেষ কথা হতে চায়, কি শ্রদ্ধায়, কি স্নেহে, কি প্রেমের অপ্রতিহত গতিময়তার অভিসারে ৷

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ভিন্নাচার


যদি প্রশ্ন করো - "কি চেয়েছিলাম ?"

মূক হয়ে উত্তরই খুজে যাবো 

হয়তো আজও !


যদি প্রশ্ন করো "কি পারো নি ?"

সাথে সাথে উত্তর প্রস্তুত !

সততঃ পারগ নারীর মত

অপ্রাপ্তির ভারকে নামাতে পারিনি -

তুমুল কেঁদে কেটে ।

আর পারিনি ব'লেই

একদিন সহনের বাঁধ ভেঙে পড়তে গেলে

বাধ্য হয়েই, বাঁধের মাটিতে

ইষ্পাতের দৃঢ়তা সরবরাহের আয়োজন 

প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল ৷

হেরে যেতে যেতে, হেরে যেতে যেতে,

অবশেষে হার না মানাও অপেক্ষায় থাকে !

জীবনের অভিধানে "তুমি"-র আকাঙ্খিত মানে

না পেতে পেতে, একদিন

কেবল "আমি"-তে স্থায়ী উৎস খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম !

যাপন - তখনো যেহেতু প্রভূত বাকি আর

ভালবাসা ছাড়া বাঁচায় - মসৃনতার প্রশান্তি

অবধারিত অধরা ব'লে

তোমার পরে পরনির্ভরতার প্রশ্নে - 

সিদ্ধান্ত-নিরূপক উত্তরে

ইচ্ছায় - সুখের প্রথম অধিকারের বিপরীতে

মুখ শেষবারের মত ঘুরিয়ে নিয়েছিলাম ৷

প্রতিদানাকাঙ্খাহীন দরদের অযাচক ক্ষরণে

সম্রাটের একতরফা ভাণ্ডারকে 

পিতৃত্বের দায়ে সফল গড়ে নিতে,

আপন সংবদ্ধতায় স্বাধীন উৎকর্ষ-বিহারে,

আমারই মত 

আরও অসংখ্য তৃষ্ণার্তের কথা মাথায় রেখে,

অনিমেষ জলরাশির একটা গোটা সমুদ্র খুঁড়ে ফেলায়

অন্তরে নিবিষ্ট হয়েছিলাম !

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

চিঠি


.

ঝাঁকে ঝাঁকে প্রজাপতি, বহুযুগ পরে, হঠাৎই মুখে করে বয়ে নিয়ে এসে, খোলা বারান্দায় বৃষ্টির ছাঁটে তাদের ছিটিয়ে ফেলে রেখে দিয়ে, তারপরেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল ! ছোট ছোট টুকরোগুলো পরম মমতায় হাতের তালুতে তুলে নিতেই - অবাক কাণ্ড ! ওমনি জড়সড় হয়ে তারা একে অপরের সাথে চিটে গিয়ে পাল্টে গেল একটি ঠিকানা লেখা নিটোল খামে ! খাম খুলে দেখি - লম্বা চিঠিটির কতই না শব্দ, সব আবারও একে একে জুড়ে একটিই মাত্র শব্দতে ঘুরেফিরে প্রশ্নচিহ্ন হয়ে, মুখোমুখি দাঁড়াতে চাইছে আমার, বারেবার ! শব্দটি হলো "আনুগত্য" !


তখন গভীর ভাবে ভেবে দেখলাম - অনুগত থাকতে পেরেছি, একথা বলতে পারি না বুকের জোরে ৷ প্রকৃত আনুগত্য - স্থিতির গল্প নয়, স্থিরলক্ষ্য গতির অবধারিতে বাস করে ৷


যে নিজের নিকটে নিজেই অনুগত রইতে অক্ষম, তার কাছে তাই অপরের প্রতি অবিচল আনুগত্য আশা করা বৃথা ৷ এ ধরার অপ্রতিরোধ্য নিয়মে নিজেরই যে বারংবার দিশা হারাতেই হয় - প্রাকৃত তোলপাড়ে ! তখন, আরও একবার তাই ঝড় থামার বাধ্য অপেক্ষা ! আবার দাঁড়িয়ে পড়ে, নতুন করে দিকনির্ণয় করার সময় সামনে হাজির হয় - অনির্বচনীয়ের উত্তরে৷


সময়, অসময়কে পেরিয়ে, ফের শান্ত হলে, অতঃপর, অবশ্য, চলতেই চাওয়া ফের - কত না দিনের চেনা শাশ্বত সুরটির হাসির তালে, অভ্যস্ত নির্ভরের হাতে হাত ধরে৷

.

.