বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সুখ ও আনন্দ

মানুষ আত্মহত্যা কেন করে ?


কল্পসুখের মোহে 

ভালবাসার ভুল ব্যাখ্যায়

বাস্তব হতে সরে আসতে আসতে

একসময়ে পায়ের তলে

দাঁড়ানোর মত শক্ত মাটি

আর একটুও খুঁজে পায় না ব'লে ৷


মানুষ আত্মহত্যা কখন করে ?


স্বার্থপর স্বভাব,

অন্যের ইচ্ছাকে না বুঝে

আর গুরুত্ব না দিয়ে দিয়ে,

আনন্দের প্রতিটি উৎসকে খুইয়ে ফেলে,

কেবল আত্মকেন্দ্রিকতার নেশায়

সময়কে ঠকাতে ঠকাতে,

নিজেকে জীবনের কাছে

একদিন উপযোগহীন মিথ্যার সম্ভারে

পরিণত করে ফেলে ব'লে ৷

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিশ্ব-শ্রেষ্ঠ

এ জগতের চিরন্তন নিয়মে

প্রতিটি মানুষ 

এক একটি বিবর্তনশীল দশা মাত্র !

তুমি আমি সকলেই তাই ৷

স্থায়ী বলে আমাদের কিছুই নাই !

যার সবই অদূরে ক্ষয়িষ্ণু

তার কোনও অহঙ্কার কি সত্যিই মানায় ?


তবুও ব্যতিক্রম যে আছে !

কেবল রবীন্দ্রনাথ পূর্বসূরি ব'লে,

অনুভবের অগাধ ঐশ্বর্য্যে,

আমি দুই হাজার দুইশো বত্রিশ রকম উপায়ে

ভালবাসতে শিখেছি গীতবিতানের কাছে !


ভেবে দেখেছো কখনও ?


ভালবাসার সে নিত্য-নূতন রাজপ্রাসাদ রচনায়

তোমার সাড়া প্রতিবার চাইতে পারা -

আমার কাছ থেকে

ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা 

এ জগতে কোনও শক্তিধরের নাই ৷


হ্যা ! আমি অহঙ্কারী ৷

সারা পৃথিবীর 

আর কোনও ভাষার উত্তরাধিকারে

এই ঐশ্বরিক সম্পদের ছিঁটেফোঁটা আর কোথায় ?


কূপমণ্ডূক-কুল যুগ যুগ ধরে

অনভিজাতর সতত দৈন্যে, ব্যস্ত থাকুক 

অবনত-মুখে, 

দেশী ও বিদেশী অবাঙালীর পদলেহনে ৷

ক্রীতদাস-রুচিতে রাজাকার-সুলভ

জারজ-ধর্ম আবশ্যিক হতে হয় ৷


বস্তুতান্ত্রিকতার জগতে, স্থুলত্বের বেঢপ প্রতিযোগিতায়,

আর্থিক স্বীকৃতি যদি অপ্রতুলও হয়,

মানবিকতার এমন অফুরন্ত নির্ঝরে, 

অনুভবের সাবলীল পারাপারে,

সম্রাটের নীল রক্তের ব্যতিক্রমী আভিজাত্য,

অকপট আত্মশ্রদ্ধাশীলতার চাষে শুধু

গর্বিত বাঙালীর চৈতন্যে রইতে পায় ৷


সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

স্নান

অভিমানের পরে

মান-ভাঙানো আদরে

ভালবাসার লক-গেট

হু হু জোয়ারে খুলে গেলে,

হাসতে হাসতে 

আঁখির নরমে হারাতে

দুবাহু বাড়াতে

কী যে ভালই না লাগে !


অভিমান আমাকেই ভাঙাতে হবে ৷

কিন্তু তখন কম যাও নাকি

তুমি কিছু, প্রতিযোগিতার ভাগে ?


কে ভাসবে আর ভাসাবে

কার আগে ?

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অসম্পূর্ণ

ভরে আছে ঘর

থরে থরে জমিয়ে রাখা

টুকরো কাগজে ৷

প্রতিটিতে

অংশতঃ কবিতা লেখা !


অসম্পূর্ণের আড়ৎ !

শুরু হয়েছিল প্রবল আগ্রহভরে !

মাঝপথে শুকিয়ে গেছে কলমের কালি !


শুষ্কতা ছুঁতে পারে না যাকে

তার জন্য অধীর

প্রতিটি বধির অসমাপ্তি !


সে এসেছিল, থেমেছিল,

তাকিয়ে দেখেছিল,

তারপর ধীর পায়ে চলে গেছে ৷


কাঁচা পাণ্ডুলিপিদের তাই

সার্থক-জনম পরিগ্রহণ

রয়ে গেছে আজও অপেক্ষায় !

চাহিদা

তুমি চাও কেউ তোমাকে

ঠিকঠাক বুঝুক !
বুঝুক তোমার না বলা
ইচ্ছা আর অনিচ্ছাদের,
জীবন যেন সহজেই গতি পায় !

এই বোঝা
বুদ্ধি-বিচারের কাছে
অনন্ত বোঝা ৷

অনুভব প্রাণের পরশ,
মাতৃত্বের সহজাত ৷
যুক্তি-সর্বস্ব মনের লভ্য নয় ৷

তফাৎ বোঝ না আজও, তাই
বারেবার হারাও উপেক্ষায় ৷

আকাশ

নিজে থেকে, কাছে ডেকে,

পাত পেতে বেড়ে দিতে পারো 

সপ্ত ব্যাঞ্জন !


গ্রহণ তৃপ্তি দিলে - স্বীকৃত চমৎকার !

তারপরে উঠে পড়তেও

সামান্যই সময় লাগে !

যাকে যখন যেটুকু ভালবেসেছো

তার থেকে বড় সত্য

সৃজিত-সুন্দরে

সে মুহূর্তে কিছুই ছিল না আর ৷


সময় হাসিমুখে চলে গেছে এগিয়ে 

স্বাধীনতার অবিরত মহোৎসবে !

সেদিনের সেই গানটি অলখে

একটু একটু করে পুরানো হলেও

রয়েও গেছে স্মৃতির ইউ-টিউবে  

তোমার অন্তরে আদিগন্তকাল ৷


সত্যকে সহজিয়া মেনে নিলে,

বুঝতে পেলে -

ইচ্ছারা বাঁধা ছিল না যেমন

তোমার প্রকাশে সেদিন,

সে ও ঠিক তেমনই সুরে, 

মোহটুকু টুটে গেলে,

পায়ে পায়ে ফিরে যাবে ফের

স্বাধীনতার অবাধ মুক্তির দিশায় !


প্রতিটি ভালবাসা তাৎক্ষণিক সত্য !

মোহের লেজটি, অবশ্য, দীর্ঘকাল !

না হলে যে, 

হাঁপিয়ে উঠবেই ক্লান্ত জীবন ৷


উল্লাসের অনন্ত হাতছানি এড়িয়ে

পোষা ছাগলের মত

বাঁধা থাকতে আসেনি এ পৃথিবীতে 

কেউ চিরতরে কারও একার !