বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১

আলিঙ্গন


প্রথম যৌবনে
বক্ষযুগলের কোমলতা ও দৃঢ়তা
শুরু-শুরু তে
বিপরীতের পরশ-সুখের লোভে
একে অপরকে মুহূর্মুহূ আলিঙ্গন করে ।

মধ্যযৌবনে এসে 
তেমন অধিকাংশ পৌনঃপুনিকতা
বাহুল্য মনে হয় !

যে আগ্রহরা তারপরও বেঁচে থাকে, 
তারা বিচক্ষণতায় অতীব বিরল ।
শরীরে শরীর নয়, 
হৃদয়ে হৃদয়ের পরশের মাঝে
ভালবাসার উষ্ণতাটি 
শ্রদ্ধা ও যত্ন-সহকারে অম্লান রেখে,
জীবনকে যারা
সুদীর্ঘদিন চুটিয়ে উপভোগ করে যায় ।

বাসস্থান

পার্থিব-স্বার্থশূন্য অনুরাগও বিলকুল ঘর বাঁধতে পারে ! নজরে নজর মিলতেই স্বাধীন চৌহদ্দিটি তার স্বচ্ছ ধরা পড়ে প্রতিটিবার সচকিত হৃদয়ের উদ্বেলিত সুবাস বিনিময়ে । শুভদৃষ্টি, রোজ ভোরের প্রেরণায় ঘুরেফিরেই হাজির হয়ে, হাসিতে উদীয়মান অরুণের লালচে আভা ছড়াতেই থাকে । দৃষ্টিতে অপরের বর্তমান অনুভব ও ইচ্ছাকে ধারণের পরিসর যথাযথ রইতে পেলে, সে ঘর তুলতে তৃতীয় কোনও পক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে কোনও শক্ত-পোক্ত দেওয়ালের দরকার পড়ে না । 

পাকা দেওয়ালের বদ্ধতায় অবধারিত হাঁপিয়ে ওঠে বেচারা মানুষ । ছিটকে বেরোতে চেয়ে হাঁসফাঁস করে পরাণ । একবারটি বেরোলে, কেউ কেউ ফিরেও আসে পরে, পুরানো হাজতঘরে ! আবার কেউ কেউ এ জীবনে ভুলেও পিছু ফেরে না । 

একমাত্র শুদ্ধ অনুরাগে বাঁধা ঘর তাই বিরাগ-ভাজন কমই পারে হতে, এমনকি জীবনের শেষ শ্বাসটি অবধি !