কোন পরিপ্রেক্ষিত হতে দেখা হচ্ছে' - তার উপরে নির্ভর করে জীবনের রূপ কার কাছে কেমন । আপন আপন দৃষ্টিকোণ হতে জীবনকে সম্পূর্ণ পৃথক দেখতে লাগে বলেই একজন ধর্ষক ও একজন সাধক পৃথিবীতে একই সময়ে বাস করতে পারে ।
এরকম দুটি পৃথক দৃষ্টি হলো সমালোচকের দৃষ্টিকোণ ও স্রষ্টার দৃষ্টিকোণ । মূলতঃ সমালোচক মানুষ প্রবৃত্ত হয় পরের দোষ ধরার স্বপক্ষে যুক্তি শানানোয় আপন জীবনটি বায় করায় । এদের সম্বল তাই পরের বিরুদ্ধে ক্রোধ ও ঘৃণার মরীয়া সঞ্চয় !
অপর পক্ষে, স্রষ্টার দৃষ্টিকোণ সম্পন্ন মানুষ নিজের প্রতি গভীর অপত্যে নিজের সীমাবদ্ধতার প্রবৃত্তিগুলি একে একে উৎপাটন পূর্বক নিজের উপযোগিতাকে ক্রমশই বাড়ানোর মাধ্যমে, তৈরি করতে থাকে নূতন নূতন অর্জন ক্ষমতা, যা পরবর্তীকালে অনুদিত হতে থাকে তার ব্যক্তিগত আর্থিক সামর্থ্যে ।
আর্থিক ক্ষেত্রে, অবশ্য, ছিনতাই তথা ঠকানোর প্রবৃত্তি হতেও মানুষ মানুষকে শোষণ করে । তবে তার পরেও, শুদ্ধ স্রষ্টারা বেঁচে থাকে পৃথিবীতে, যারা আক্ষরিক অর্থেই টাকা তৈরি করতে পারে ছিনতাই বা শোষণ না করে ! এদের কাঁধে ভর দিয়েই একটি জাতি বা দেশ ধনী হয় ।
একটি তুলনা এই বিষয়টিকে বোঝা সহজ করতে পারে । আন্তর্জাতিক সমীক্ষা হতে পাওয়া যায়, 2020 খ্রিষ্টাব্দে যেখানে অ্যামেরিকাতে 2700000 স্ব-নিযুক্ত উদ্যোক্তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, সেখানে ভারতবর্ষে সেই সম্ভাবনাটি মাত্র 10500 জনের ! অর্থাৎ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, ভারতের তুলনায় ইউ এস এ-র ধনী হতে পারার অনুপাত সরলতম দৃষ্টিতে 2700000:10500 অথবা 257 গুণ । এটিই প্রধান কারণ - টাকার তুলনায় ডলারের দাম দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ার ।
এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক । বিল গেটস এর একটি বিখ্যাত উক্তি এই প্রসঙ্গে এসেই পড়তে হয় । সেটি হলো - It is no crime to be born poor but it is certainly a crime to die poor. অর্থাৎ গরীব হিসেবে জন্ম পাপ নয়, কিন্তু গরীবের অপমৃত্যু মানবজীবনের হতাশাজনক অপব্যয় মাত্র ।
কেবলমাত্র সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি কোনও ব্যক্তিকে ধনিতম-দের মধ্যে স্থান দিতে পারে নি মানবজীবনের এযাবৎ ইতিহাসে । একটি মাত্র অতিরিক্ত টাকাও নতুন করে সৃষ্টি হলে, তা হয় - কোনও একজন স্রষ্টার দ্বারা ! কোনও অতি বিখ্যাত সমালোচক বা ঘৃণিত শোষকের দ্বারা একবারের তরেও যা সম্ভব নয় ।
বামপন্থীদের, তথ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানের দ্বারা, মূলত ঘৃণার মাধ্যমে, জনগনের মধ্যে প্রতিশোধ-প্রবণতায় ইন্ধন যোগানো আমাদের অতীব সুপরিচিত ! অথচ, আত্মশ্রদ্ধাবোধের অপ্রতিহত দীপ্তিতে আপন সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে কি ভাবে প্রকৃত অর্থেই প্রতিশোধ নেওয়া সম্ভব, - সে পথ বাস্তবের ইতিহাসে খোদাই করে গেছেন একজন শ্রদ্ধেয়তম ভারতীয়, যা আমাদের পরানুকরণপ্রিয়তা বাস্তবায়িত করতে ভুলে যায় আপন জীবনে ।
Link - https://www.youtube.com/watch?v=3dOaQlo9S98
ধনীরা আমাদের বঞ্চনা করে চলেছে - এ ই কি আমাদের দুঃখ ও হতাশার কারণ হওয়া উচিত ? নাকি আমাদের মানসিকতা আরও দশটি মাত্র এমন মহান মানুষের জন্ম দিতে সক্ষম নয় - এটি ?
Link : https://www.youtube.com/watch?v=L0Nj5qNxPsw
অতঃপর পাঠকদের নিকটে জীবনের আবশ্যিক-তম মূল প্রশ্নটি রাখা যেতেই পারে -
পরমুখাপেক্ষী নিরাপত্তার লক্ষ্যে শোষক হতে ছিনতাইয়ের অভিসারে আন্দোলন, জিন্দাবাদ, দলবাজি ইত্যাদির মাধ্যমে ঘৃণা, ঈর্ষা, ক্রোধ, আর ক্ষোভের নিয়মিত অভ্যাসে মেকী বিপ্লবের দ্বারা,
নাকি
পূর্ণ আত্ম-মুখাপেক্ষিতায়, ভালবাসার সু-সাহচর্যে, আত্ম-সৃজন তথা আত্ম-বিপ্লবের চির-স্বাধীনতায় মানুষের জীবনের মূল সাফল্য ও শ্রেষ্ঠ উৎকর্ষ-সাধন সম্ভব ?