মনীষা অপূর্ব সুন্দরী, বয়স আঠাশ। পাড়ার লোকজন তাকে "মর্ত্যের ভেনাস" নাম দিয়েছিল। মনীষা থাকতো একটি পঁচিশতলা বিল্ডিং এর সতেরো তলায়। তার সাথে বিয়ে হয়েছিল একজন মিলিটারী অফিসারের, যার পোস্টিং ছিল দেশের বর্ডারে।
হঠাৎ একদিন খবর এল - তার স্বামী মারা গেছেন আচমকা শত্রুপক্ষের আক্রমণে। মনীষা অত্যন্ত ভেঙে পড়লো প্রথমে। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দিতে এল দলে দলে। কেউ কেউ বললো তার অর্থকষ্ট থাকবে না বাকি জীবন, কারণ সে প্রচুর ক্ষতিপূরণ পাবে সরকারের কাছে, প্রতিমাসে, যতদিন বেঁচে থাকবে। শোক ধীরে ধীরে থিতিয়ে গেলেও শূন্যতা রয়েই গেল।
পাড়ার যুবক হতে বৃদ্ধ অবধি অনেক মানুষের মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ ইতিমধ্যে বিব্রত করতে শুরু করেছিল তাকে। সম্পূর্ণ একা পুরো জীবন কাটানো যে বোকার মত সিদ্ধান্ত হবে - এ বাস্তববোধ তার ছিল। তবে, "নারীর শরীরকে একবার দখল করার পরেই একটু একটু করে উবে যেতে চায় যে অধিকাংশ পুরুষের প্রেম" - এই তথ্যটি তার বেশ ভালো জানা ছিল। সে তাই নূতন কোনও পুরুষের সাথে আবেগের সম্পর্কে যাওয়ার ব্যপারে সম্পূর্ণ নিস্পৃহ ছিল। আপন জৈবিক চাহিদা অস্বীকার না করলেও সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিনামূল্যে নিজেকে বিলিয়ে না দেওয়ার।
বেশ কিছুদিন পরে এক সন্ধ্যায় কলিংবেল বাজতে দরজা খুলে সে দেখলো সুন্দর দেখতে ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এক তরুণ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সে বললো তার কিছু কথা আছে মনীষার সাথে। তার ভদ্র-সভ্য চেহারা দেখে মনীষা তাকে ভিতরে এসে বসতে বললো। ছেলেটির নাম অভীক, বয়স কুড়ির আশেপাশে।
এরপর অভীক যা বললো তার অর্থ হলো সে কলেজে পড়ে। দীর্ঘদিন সে প্রেমে পাগল মনীষার। মনীষা তাকে স্বীকার না করলে তার পড়াশোনা ডকে উঠতে চলেছে।
মনীষা মন দিয়ে শুনলো অভীকের কথা। তারপরে বললো তার পক্ষে দীর্ঘদিন প্রেম করা সম্ভব নয়। সে অভীককে একটি রাত দিতে পারে তবে তা বিনামূল্যে দেওয়ায় বিশ্বাসী নয় সে।
অভীক মূল্য জানতে চাইলে মনীষা বললো পাঁচ হাজার টাকা। একথা শুনে অভীক বিদায় নিল।
পরের সপ্তাহে ছেলেটি আবার এল। মনীষা দরজা খুলতে অভীক পাঁচ হাজার টাকা তুলে ধরলো মনীষার মুখের সামনে। মনীষা মিষ্টি হেসে তাকে ভিতরে ডাকলো।
পরদিন সকালে অভীক যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে মনীষা দুইকাপ চা নিয়ে এসে বসলো তার সামনে। আশাতীত তৃপ্ত দেখাচ্ছিল অভীককে। মনীষা তাকে প্রশ্ন করলো একজন কলেজ-ছাত্র হয়ে সে কীভাবে জোগাড় করেছিল এতটা টাকা।
অভীক হেসে বললো সে একটি চালাকি করেছে। আগের দিনে মনীষার দেওয়া শর্তের কথা সে কলেজের সব বন্ধুদের বলেছিল। হাজার জন বন্ধুর প্রত্যেকে পাঁচ টাকা দিয়ে লটারী খেলায় রাজিও করিয়েছিল। লটারীতে যেন কেবল তারই নাম ওঠে সেই চালাকিটি করেছিল বুদ্ধি করে।
মনীষা এই কথা শুনে খুব হাসলো। তার বেশ ভালো লেগেছিল অভীককে। মনীষা বললো - সে আজ একটি ব্যতিক্রমী কাজ করবে, যা তার নীতি-বিরুদ্ধ। গতরাতের আনন্দ দেওয়ার বিনিময়ে সে কোনও মূল্য নেবে না অভীকের কাছ থেকে। অভীকের নিজের তরফ থেকে কোনও খরচা হতে দেবে না মনীষা গতরাতের আন্তরিক সান্নিধ্যের জন্য।
এই বলে মনীষা অভীকের হাতে একটি পাঁচ টাকার কয়েন ফেরৎ দিল।
(বিদেশী গল্পের অনুসরণে )