নদীর ধারে এসে পৌঁছেছো—
কাদা ভেজা পায়ের নিচে পৃথিবীর নিঃশ্বাস,
জল কাঁপছে আয়নার মতো,
তোমার মুখ দেখাচ্ছে, আবার দেখাচ্ছে না।
তুমি পারো—
জলে নামতে,
নিজের শরীর খুলে দিতে শীতল স্রোতের হাতে,
পারো একমুঠো জল তুলে
তৃষ্ণার নাম ধরে ডাকতে।
পারো সাঁতার কেটে
অন্য পারে পৌঁছতে,
যেখানে তুমি আজও তুমি,
কেবল দিকটা বদলেছে।
কিন্তু তুমি পারো না—
জলকে বোঝাতে কেন তাকে যেতে হবে উল্টো দিকে,
পারো না স্রোতের কণ্ঠ চেপে ধরতে,
“থামো” বলে তাকে চুপ করাতে।
তুমি জানো না কতটা গভীর
এই নীলের নিচে নীল,
কত স্মৃতি, কত ডুবে যাওয়া আকাশ
ঘুমিয়ে আছে।
তুমি পারো না
রঙ বদলে দিতে স্থায়ীভাবে—
রক্ত মিশলেও সে আবার স্বচ্ছ হতে শেখে।
পারো না ঠিক করে দিতে
মাছের স্বপ্ন, শামুকের ভবিষ্যৎ,
জলের ভেতর জন্ম নেওয়া অদৃশ্য প্রার্থনাগুলো।
এত কিছু যখন পারো না,
তখন হাত নামাও।
জলকে জল থাকতে দাও।
নদীকে তার নিজের মতো
ভুল করতে, ভাঙতে, গড়তে দাও।
তুমি কেবল
নিজের সাঁতারটা জানো,
নিজের তৃষ্ণাটা বোঝো,
নিজের শরীরের ওজনটুকু সামলাও।
নদী কোনো উপদেশ চায় না।
সে কেবল বয়ে যায়—
আর তোমাকে শেখায়
কোথায় থামতে হয়
অপ্রয়োজনীয় নাক গলানো থেকে।