তোমার ভালবাসার অবাধ্য বাতাসে
যে একবারও এসে দাঁড়িয়েছে,
সে-ই শুধু জানে—
ডানা না মেলে, ভেসে না গিয়ে,
নিজের পায়ের উপর শরীরের ভারসাম্য রেখে
স্থির থাকা কত প্রবল কঠিন।
কারণ সেই বাতাস
শুধু হাওয়া নয়—
সে এক অদৃশ্য সাগর,
যেখানে মাধ্যাকর্ষণ মাঝেমধ্যে ছুটি নেয়,
আর হৃদয় হয়ে ওঠে এক ভাসমান দ্বীপ।
প্রথম স্পর্শেই মনে হয়,
হাড়গুলো হালকা হয়ে যাচ্ছে,
রক্তে জন্ম নিচ্ছে ছোট ছোট ঘূর্ণিঝড়,
চোখের ভেতর খুলে যাচ্ছে
অপরিচিত আকাশের জানালা।
অনেকে ভাবে প্রেম মানেই উড়ে যাওয়া—
আসলে প্রেম শেখায় দাঁড়াতে,
ঝড়ের মধ্যেও শিকড়ের মতো গভীরে নামতে,
যেন পৃথিবী সরে গেলেও
তুমি না সরো।
তোমার ভালবাসা এমন এক দমকা হাওয়া
যে দিক জিজ্ঞেস করে না,
মানচিত্র মানে না,
সমস্ত যুক্তিকে উড়িয়ে দিয়ে
মনের শহরে বালির টিলা বানায়।
সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানে—
প্রতিটি মুহূর্তে পতনের সঙ্গে চুক্তি করা,
প্রতিটি শ্বাসে স্বীকার করা
যে নিজেকে হারানোর ভয়ই
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
আমি দেখেছি,
কিছু মানুষ সেই বাতাসে
পাতার মতো উড়ে যায়—
তারা আকাশ দেখে,
কিন্তু মাটি ভুলে যায়।
আবার কেউ কেউ
পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে—
তাদের পায়ের নিচে জন্ম নেয় শিকড়,
আর শিকড়ের নিচে আরেক পৃথিবী।
হয়তো ভালবাসার সবচেয়ে গোপন অলৌকিকতা এই—
সে তোমাকে উড়তেও শেখায়,
আবার একই সঙ্গে
মাধ্যাকর্ষণের ভাষাও নতুন করে পড়ায়।
তাই যে একবার তোমার অবাধ্য হাওয়ায় শ্বাস নিয়েছে,
সে আর আগের মানুষ থাকে না।
তার হাঁটা বদলে যায়,
তার ছায়াও যেন একটু দুলে ওঠে।
কারণ সে জানে—
ঝড়ের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা
উড়ে যাওয়ার চেয়েও বড় সাহস,
আর ভালবাসা কখনো কখনো
ডানা নয়,
বরং এক অদৃশ্য ভার—
যা বহন করতেই
মানুষ ধীরে ধীরে
আকাশের সমান হয়ে ওঠে।