কবির যেদিন কেউ ছিল না
সেদিন কবির অভীষ্ট ছিল
একার অধিকারে
একটিমাত্র কাছের মানুষ ।
তবে, মোহের
ফানুসের আয়ু দীর্ঘ হয় না কখনো ।
শ্রদ্ধাহীনের নিত্য-শ্রাদ্ধে
কাছের মানুষটি
এত তাড়াতাড়ি ডাল-বরাবর
বিস্বাদ হয়ে যায়,
যে, তাকে নিয়ে খুব বেশিদিন
নতুন কবিতা রচনা চলে না আর ।
প্রতিটি অহমিকা-জনিত অশ্রদ্ধা,
গুণে গুণে, কঠিন ও সফল কোপ মারে
ভালবাসার কোমল গোড়ায় ।
ফলতঃ, ধারালো, খোঁচা খোঁচা,
স্বার্থ বেঁচে থাকে শুধু ।
বেদরদের আরোপিত অবহেলায়
অনুরাগের প্রাণদায়ী রসটুকু
সহজেই শুকিয়ে, ফুরিয়ে যায় ।
অথচ
একটা কবিতার বই ছাপাতে হলে
ন্যূনতম
চল্লিশটি কবিতা লেখা না হলে হয় ?
তাই এবার প্রেমে পড়তেই হয়
একটি দূরের মানুষের ।
আবার
আচমকা, বেহিসেবী প্রেমে পড়লে পরেও
বেশ কবিতা গজায় পরাণে -
এমনটাও হতে পারে ।
পরকীয়ায় রোমাঞ্চ সর্বদা অধিকতর ।
যে ভাবেই হোক, দূরের মানুষটিকে
আবিষ্কার করা মাত্রই
কবিতার চাষ তাই তুমুল বাড়তে পারে ।
ঝটপট বই বেরোতে পারে
বাজার কাঁপিয়ে
একটা, দুটো, তিনটে ।
তবে, এমনটা চলে না বেশিদিন ।
হিসেব কবিকে অবধারিত বশ ক'রে নেয় ।
দূরের যে মানুষটির প্রেমে পড়া গেল
তার দিক থেকে
কদাচিৎ, ফাঁকেতালে,
দুই একবার অন্ততঃ
শরীরী সাড়া না পেলে,
কিছুদিন পরে বিরহের ভারে
বাধ্য ঝিমিয়ে পড়েন বেচারা কবি ।
কলম চলতে চাওয়ার আগেই
হাঁপিয়ে যায় ।
দূরদর্শী অনায়াসে চিনতে পারেন -
জগৎজুড়ে আত্মশ্রদ্ধাশূন্য ভোগীদের
ঠিক এমনই বিভৎস প্রকার
কবিত্বে সাময়িক অভিসার ।
অথচ, স্বল্পায়ুদের থেকে বহুদূরে
একক ও একাকী প্রেমে
বিরলতম রবির
অশ্রদ্ধা-বর্জিত ফুলের বাগানে শুধু
জীবনভর অক্লান্ত সুন্দরের বাহার !
.