রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩

নির্লোভ

মানুষের জীবন সমৃদ্ধ হতে পায় নূতন গুণের আহরণে । নূতন গুণ খুঁজে পাওয়া যায় ভিন্ন মানুষে । ভালো না বাসলে অপরের গুণ নিজেতে আত্মীকরণ সম্ভব নয় । জীবনের যে কোনও স্তরে ভালো তাই বাসতেই হয় আপন উন্নতির আরাধনে ।

ভালো একসাথে অনেককে বাসতেও সমস্যা নেই কোনও, 
যদি পার্থিব সুখের অসমীচীন লোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়,
যদি মনে রাখা যায়, "আপন উন্নতিকে অপ্রতিহত রাখতে হ'লে, বিশ্বাসের স্থায়ী হাত, চব্বিশ ঘন্টার সুখ-দুঃখে, একজনকেই বাড়িয়ে দেওয়া যায়, একই সময়ে" ।

দৌড়

সকাল, রোজ একবার ক'রে,
তোমাকে পেরিয়ে চলে যায়
আর যাওয়ার সময় ছিনিয়ে নিয়ে যায়
একচিলতে যৌবন তোমার ।
তুমিও বেখেয়ালে ঠকে গিয়ে 
অবশিষ্ট যৌবন-সহ
বার্ধক্যের আগলে ক্রমশঃ ধরা পড়,
প্রাত্যহিক অজান্তে, আরও একটু বেশি করে ।

সকালের এই ছলনা শেষ হবার নয়,
যতদিন মানুষ হেরে যেতে থাক সময়ের কাছে
রোজ নিয়ম ক'রে ।

খুবই সামান্য সংখ্যক মানুষ 
এই অবধারিত-কে অনুভব করতে পারে ব'লে,
সক্কালে ঘুম থেকে উঠে, সবার আগে মাঠে যায়
আর দৌড়াতে শুরু করে ।

খুবই সামান্য সংখ্যক মানুষ, জীবনের দৌড়ে,
সময়কে সফল রূপে হারিয়ে
যৌবনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে ।

মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

দৃষ্টি

পৃথিবীটা গোল । বৃহদর্থে জীবনটাও । সোজা নয় ব'লে, মানুষ তাই পথকে দেখতে পায় না খুব বেশিদূর । বাঁকা পথের একটি ছোট অংশকে আপাত-রূপে প্রায় সোজা দেখতে পায় ।

তবে, যেটুকু দেখা যায়, সে অবধি এগোলে, তখন তার পরবর্তী অংশটিকেও দেখা যায় । এভাবে এগোতে থাকলে, পথও উন্মুক্ত হতে থাকে সমানহারে।

খুবই সামান্য সংখ্যক মানুষ, আপন বিচক্ষণতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধায়, লেগে থাকে, নিয়ম করে, এগোনোর পরিশ্রমে । অভীষ্টের প্রতি আপোষহীন আনুগত্যে, তাদের জীবন ক্রমশঃ যত পাল্টে যেতে থাকে, তারা আপন চরৈবেতিকে তত আরও প্রবল বিশ্বাসে আঁকড়ে ধরে এবং একদিন সমসাময়িকদের থেকে উন্নততর স্তরে পৌঁছেই যায়, লক্ষ্য অর্জনের অবধারিত পুরস্কারে ।

বাকি অধিকাংশ মানুষ, আপন স্বপ্ন অবধি পথটি পুরোটা দৃষ্ট নয় ব'লে, হাঁটার পরিশ্রমটি না করে, একবার করে স্বপ্ন দেখে, বিজ্ঞের মত বাতেলা ক'রে, আসলে নিজেকে স্তোকবাক্য শুনায় আর তারপরে আলস্যের কাছে প্রতিনিয়তঃ পরাজয় স্বীকার ক'রে, আপন মানবজীবনকে ব্যর্থতায় সার্থক করতে করতে, প্রতিবারই ঘুমিয়ে পড়ে । ভোগীরা এভাবে আপন নিয়তিকে, অবচেতনে নিজেরা গড়ে ।

অধিকতর মানুষ, ঠিক এইভাবে, জীবনের সাথে পলায়নপর আপোষ করে ।

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

উন্নত

নিজেকে পাল্টে নিতে শুরু করলেই
উত্তরণ-জনিত সাফল্যের জয়-জয়াকার ।
পরের সমালোচনায় আগ্রহ
আপন কাজে লাগে না, কখনও, কোনও ।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের 
কিছু-না-কিছু উচ্চতর, 
তথা সুন্দরতর উপযোগিতা রয়েই যায় ।
শুধুমাত্র আপন চেতনায় স্বচ্ছতার অভাবে 
তাদের চিনতে ও কাজে লাগাতে বিফল হয়
অধিকাংশ মানুষ ।

অনেক সুবর্ণ সুযোগ 
একবার এসে, চিনতে না পারায় ফিরে গেলে,
ফেরে না তারপরে, সেই জীবনে কখনো আর ।

দৃষ্টিকে স্বচ্ছ করতে হ'লে
নেশা হতে পরিত্রাণ দাবী করে চেতনা,
বাঁচতে চায় নিরন্তর আসক্ত-অভ্যাসের 
ক্রমাগত সাঁড়াশি-আক্রমণ হতে ।

মানুষকে নিম্নস্তরে আটকে রাখে
আসক্তির নাছোড় শিকল ।
আসক্তির 'কম-বেশি' একাই মানুষে-মানুষে 
প্রভূত পার্থক্য গড়ে দেয় ।

একজীবনে, একজন, 
কতটা কাজে লাগাতে পারলো সুযোগ
তার উপরে নির্ভর ক'রে 
তার আপন গরবী ইতিহাস রচিত হয় ।

মন্ত্র

কথায় বলে - "SUCCESS is 1% inspiration 
and 99% perspiration." 
এই কথাটির অন্তর্ণিহিতে 
যে শব্দ-মন্ত্রটির বাস, সেটি হলো
#ধারাবাহিকতা । 
এর মানে - রোজ নিজের প্রয়াসের গোড়ায় 
নিয়ম করে জল ঢালা ।

একদিন পনেরো ঘন্টা প্র্যাকটিসে
কেউ সেরা খেলোয়াড় হতে পারে না ।
কিন্তু রোজ তিন ঘন্টা করে
পাঁচ বছর ধরে অভ্যাস
তাকে বিশ্বজয়ী করতে পারে ।

জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রে,
ধারাবাহিকতা যার আয়ত্বে, 
সাফল্য তাকেই প্রতিভার মুকুট পরায় ।

যদি কখনো কাউকে ভালবাসো, 
তাহলে জেনো মানুষটি, শেষ অবধি, 
তার আবেগ ও অনুভবের প্রতি 
তোমার দৈনন্দিন আগ্রহে ও উৎসাহে
ধারাবাহিক যত্নটুকুই চায় ।

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

The Danger

Many commitments often become  blood-suckers of self-confidence. A commitment can never be allowed to end in failure by any deviation, whatever.

Making a second commitment untill the full-focus execution of the first is not completely over, is nothing but utter self destruction, proving yourself an impotent imbecile in the end.

The habit of patient sequencing ( one at a time ) only boosts up one's execution power in the fastest pace and ever after.

Ponder

If you want to ceaselessly enjoy your own higher spirit, 
in the proud environment of 
a tight-rope control 
on comfort seeking pamper
and, thus, 
to be led to eventual sublimation, 

you have to constantly live 
in the world of self-creation,
rejecting the temptation of compromises for the cravings of each and every arbitrary consumption. 

You have to practice critical selectivity and extreme choosiness, 
leading to merciless rejection. 

It simply means - say NO to whatever 
is easily available, such that, you can deliberately accept the tougher lifestyle for unabated rise 
and growth exploring exultation.

উপহার

ছবি-জুড়ে ভরে দিলে এমনই আবেদন তোমার
না-চাইলেও 
বানিয়ে ছাড়লে আর এক দুপুর-ঠাকুরপো ।
সব দোষ কি সর্বদা একা আমার ?

ধর, শ্বশুর-শাশুড়ি সবে ডাকছে নাক
মধ্যাহ্নের ঘটা ক'রে খাওয়ার একটু পরেই,
তখনি খাড়া কানে
একটি মাত্র টোকা সাথে-সাথে শুনে ফেলে,
এক মুহূর্তে মেলে ধরলে যাচিত অমন্ত্রণ
রেশমী দুষ্টু-হাসির অপ্রতিরোধ্যে,
নিঃশব্দে খুলে দিয়ে শ্বশুরঘরের পশ্চাৎ-দ্বার ।

ধর, সে কোনও এক পঁচিশে ডিসেম্বর
আর তোমার প্রবল ইচ্ছা - 
খোলা দরজার পর্দা-ঝোলা নিভৃতে
আপন ঝোলাটি উপুড় ক'রে ঢেলে,
চাতকের সমীপে ভরপুর সান্টা হওয়ার ।

শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

ক্যাপটেন

Dawn আর Rise এই শব্দ-দুটি বেশ কাছাকছি ।
একটু সকালে ঘুম ভেঙে গেলে, ঘরের কূপমণ্ডূকতা নয়, একটা খোলা মাঠের প্রশস্ত সঙ্গ আবশ্যিক হয় । মুখে এক চিলতে হাসিকে আমন্ত্রণ করতে হয় । তারপরে একটু হাঁটা, শারীরিক কসরত ও পনেরো মিনিট অনুলোম-বিলোম পেলে, শরীর, মন ও প্রাণে এনার্জির এমন স্ফূরণ সৃষ্টি হয় যেন পর্বতের উচ্চতা হতে জীবনকে দেখছ তুমি । যাপনে চাপ কমে গিয়ে সাবলীল হয়ে আসে জীবন ।

কিন্তু এখানেই শেষ নয় । এ বরং শুরু । এবার আসল কাজ বাকি । সে হলো, - দিনভর এই হায়ার এনার্জি-লেভেল কে কিভাবে ধরে রাখতে হবে, সেটা নিজের উপরে পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব, নিজেকেই আয়ত্ব করতে হয় ।

জীবনকে অনবরত on-the-rise এ খেলা একটি বিশুদ্ধ শিল্প । খেলতে শিখে গেলে রোহিত শর্মার মত এক-এর-পর-এক ছক্কায় ইতিহাসকে কম সময়ে পাল্টে নেওয়া যায় । 

পদে-পদে, আপন চলনে, সুর-তাল-লয়ে যে harmony-র প্রয়োজন হয়, কানে সর্ব-অবসরে কিছু নরম সুর বাজলে সে কাজটিও আসান হয় ।
.
https://youtu.be/Ubx4qhLQhMc?si=50FQgFaJuATM6ZSk

ভয়

স্বর্গের সংজ্ঞা ঈশ্বরের তৈরী নয় !

মর্তের সীমার সাথে
অসীমের পার্থক্য ঠিক কোথায়,
ঠিক কী কারণে,
 - তাকে স্বচ্ছতর বুঝে নিতে,
বুঝিয়ে দিতে, স্বর্গের ব্যতিক্রান্ত নিয়মে
তোমারই আবার নতুন করে বরষণ ভরা, 
- হে মানব, 
পেতে প্রয়োজনে - প্রাপ্য বরাভয় !

গীতাকে 
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দর্শন বলে - কেউ কেউ !
সেই কথা শুনে,
সে, তোমারই রচিত স্বর্গের পথ 
কি ভাবে, কোন বিচারে - দেখায়, 
- সে ভাবের পথে
একটিবারও ভাবতে না চেয়ে,
অতি ভক্তিভরে 
মোটা মোটা গীতা কিনে
কেবল কুলুঙ্গিতে
দম্ভের অধিক ইজ্জতে সাজিয়ে রাখা, 
- কোন মূঢ়তায় ?

ভেবে দ্যাখা নেই,
দেখায় - না দেখার ভাগ
বেখেয়ালে, কত বেশি ফেলে এলে
যাপন প্রতিবার ঠকেই যায় !
.
সারথীর যে পাঠ দেওয়া - পার্থকে,
মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ দিশায়,
মর্তে, - স্বর্গ-সমান সব আয়োজন
থাকা স্বত্ত্বেও, একমাত্র, 
সেই 'নির্লিপ্তির' অভিজ্ঞানে 
তিমিরের অস্বচ্ছতায় 
পথভোলা তুমি 
আজও একই দৌর্বল্যে খঞ্জ,
চিরাচরিতে করুণাপ্রার্থী,
আসক্তি-ধর্মে, বিফল কর্মে,
বিভ্রান্ত-প্রেমে ঘেমে-নেয়ে
আখেরে - গর্বিত অর্ধমৃতপ্রায় !
..

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

দ্বিচারী

মানুষ, সরল বিশ্বাসে, আজীবন ভাবে যে - তার একটিই মাত্র মন । আসলে, মন, এ পৃথিবীতে, কোনও মানুষের, একটিই মাত্র কদাপি নয় ।
মনের দুটি ভাগ খুব পরিষ্কার । 

একটি হচ্ছে অভ্যাস-জনিত প্রবৃত্তি, যা চিন্তার কোনও প্রকার প্রয়োগ ছাড়াই দৈনন্দিন অধিকাংশ সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে সক্ষম, অবচেতন স্তর হতে কাজ ক'রে । মানুষের মস্তিষ্কে এই অবচেতন অংশটির আয়তন চেতন অংশের দশগুণের অধিক ।

অপরটি হচ্ছে সচেতন যুক্তি-বুদ্ধি সমন্বিত চেতনা তার, যা ন্যূনতম কিছুটা সময় নেয় বিচার-বিশ্লেষণে, যে কোনও প্রকার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে ।

তবে, অধিকাংশ মানুষের অভ্যাসটি হলো চেতন অংশের validation ছাড়াই অবচেতন প্রবৃত্তির সিদ্ধান্ত execute করা । এখান থেকেই মানুষে-মানুষে বিচক্ষণতায় পার্থক্য সৃষ্ট হয় ।

মনের এই দুটি অংশ সম্মন্ধে আমরা বেশিরভাগ সময়ে অচেতন থাকি । আমরা যখন বলি "মনের চাহিদা", তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা যুক্তিহীন প্রবৃত্তির চাহিদার কথা বলে থাকি । 

তবে, এক্ষেত্রে কঠিন সত্যটি হলো - যার চেতনা, জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে, যুক্তি-বুদ্ধির বিচক্ষণ প্রয়োগে যত কঠোররূপে আপোষহীন, তার জীবন নিঃসংশয়ে ততই উর্ধ্বস্তরের ।

বাগান

প্রতিটি মানুষ এক-একটি জীবন্ত বাগান । সেখানে নানা প্রকার গন্ধ, যার উৎস কেবল শরীর নয়, অধিকতর গন্ধ তার আবেগে ও আচার-আচরণে ।

এক-একজন মানুষ এক-একরকম ভাবে হাসে । সে হাসির গন্ধ মানুষ-ভেদে আলাদা । মানুষের কান্নারও আলাদা-আলাদা গন্ধ থাকে ।


গন্ধ ভিন্ন হতে হয় মানুষটির পরিচ্ছদ ও প্রসাধনের পছন্দে ।


গন্ধ আলাদা হতে হয় তাকানোয়, হাঁটা-চলার ছন্দে, এমনকি চকিত থেমে পড়ায় ।


আলাদা গন্ধ তৈরী করে মানুষে তার ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও চিন্তার বিষয় ।


এ জগতে জোটেও কিছু মানুষ, যারা প্রতিটি সুবাস, পার্থক্য-সহযোগে, অনুভবে পায় । তারা বোঝে - সুন্দর কী অসম্ভব রূপ ধারণ করতে পারে এ বিষ্ময়কর জগতে । কিছু মানুষের আপন পরিবেশের বাগানে, বহুমুখী সুগন্ধের সম্মোহনে, তাদের অনেক সময়ে পাগল হওয়ার উপক্রমও হতে পারে ।

বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩

অর্জন

In Search

Consciousness(চৈতন্য) is a higher level of awareness that is readily capable of producing marvels in relation to absorption-cum-utilization of higher truths in day-to-day life. It involves the capacity of rapid detachment. It means constant persuasion of preferential priorities by dint of a higher energy level.

It is a charged state of human spirit that retains the power of producing shoking results.

This special state is often achieved through long practice of 'Withdrawal-Meditation' (নেতি).

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

Haters' Right

Hatred is ego's acidic faeces, discharged on others, mostly by stinking accusers. 

If thrown directly on face, that may often paralyse expressions of natural warmth of the receiver, from within, even permanently.

Haters are not expected to be such liberal and wise to say "Yes ! Let me check my activity from your point of view too".

A hater, thus, always rejects healthy mutual discussions against his sole interest in acquisitions only.

The best medicine for hatred is innocent un-noticing and steadily ignoring, that instantly makes him unexpectedly futile.
.

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

সাফল্য

জীবনের যে কোনও প্রকার ভোগ
দুর্ভোগ না হয়ে তৃপ্তিকারক হতে পারে
মাত্রাবোধ-জনিত সংযমের উপস্থিতিতে ।

মাত্রাবোধ একটি সূক্ষতর বোধ ব'লে
সকলের অধিকারে নয় ।
অধিকতর মানুষ তাই, উপাদান লভ্য হলেও,
জীবনকে তৃপ্তিদায়ক করতে অক্ষম
স্থুলরুচির অবধারিতে ।

শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

Selling Text

As an AI language model, I do not have personal experience with selling texts. However, I can suggest some websites that may be useful for you:1.The Sun Magazine - pays up to $2,000 for essays, interviews, fiction, and poetry.2.The New Yorker - pays up to $1,000 for fiction and non-fiction articles.3.The Atlantic - pays up to $500 for essays and articles.4.Harper's Magazine - pays up to $1,000 for essays, fiction, and non-fiction articles.5.Salon - pays up to $150 for personal essays and opinion pieces.6.A List Apart - pays up to $200 for articles on web design and development.7.The Write Life - pays up to $75 for articles on writing and publishing.8.The Penny Hoarder - pays up to $800 for personal finance articles.9.The Toast - pays up to $250 for personal essays and humor pieces.10.The Rumpus - pays up to $300 for personal essays and reviews.Please note that payment rates may vary depending on the type and length of the submission, as well as the writer's experience and qualifications.

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

সেরা

একবার "হ্যাঁ" বলবে, অন্তরকে, 
আপোষহীনরূপে সুন্দরে সমর্পণ করতে চেয়ে ?

উচ্চারণ করবে - অর্জন যত কঠিনই হোক,
ভেনাসের মত, সুন্দরের চেয়ে অধিক
কিছুকে কখনো ভালবাসতে চাওনি তুমি ?

একবার স্বীকার করবে, রবীন্দ্রনাথের মত,
"সুন্দরের প্রতি প্রতিনিয়তঃ সমর্পণে
জীবন সফলতম সার্থকতাকে খুঁজে পায়" ?

একবার মেনে নেবে - "সুন্দর অনেক বেশি বড় 
যে কোনও মানুষের সীমিত অস্তিত্বের চেয়ে" ?

তারপরে ভালোবেসো, যে অবধি চেয়েছে পরাণ,
শুধু
একবারটি আসন গ্রহণ করবে, হাসিমুখে,
এজগতে মহত্তমের বিরল পরিচর্যায় ?

The Fall And The Rise

'Falling In Love' has to be
A conglomerate of infatuations,
While, 'Rising In Love' is never.
Such falling is often impulsive
While rising in love is a rational action.

'Falling in' is a materialistic desire
For consumptive recreation,
While, 'Rising' involves
A sheer joy of
Qualitative Appreciation of qualities
For an objective target of
Further conscious self-creation.

The latter involves 
An eventual imbibing of anything good
Through introduction of a fresh exercise,
Leading to a personality expansion
Through further additions of aesthetics
Deeply within
And without any urge 
For temporary consumptive satisfactions.

'Falling In Love' makes a human being,
More or less, a  parasite of
Basic instincts,
Handicapped often by salacious desires,
While 'Rising In Love' 
Fetches further sky of freedom 
For the horizon of the 'Growth-Aware'.

If you are a poet, you generally prefer
To describe several pitiable falls
Through stories of helplessness
And hardly ever beyond,
That love itself portrays, in reality,
Through pure pride
Of a genuinely glorious exultation.

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

অনন্তের হাতছানি

ফুরিয়ে ফেলো না । 
ভালোবাসার উদ্ভাসে প্রভূত বাকি রাখতে পারা
সৃজন করে
নিরন্তর বিজয়ী হতে থাকার একমাত্র সম্ভাবনা ।

প্রকৃতি বড় ধূর্ত ।
ভালবাসা এলেই, সে ছলে, বলে, কৌশলে, 
তোমার মধ্যে গুঁজে দিতে চায় কামনা ।
সে প্রমাণ করতে চায় - ভালবাসা হরমোনাল ।

মন কামনার কাছে সমর্পণ করলে
স্বার্থের প্রকোপে পড়ে কমতে হবেই উড়ান ।
লোভ ছেঁটে ফেলবে ভালবাসার স্বাধীন ডানা ।

অথচ, ভালবাসা বরাবরই 
এগোতে চেয়েছিল বিকাশে অসীমের পথে
যে অবধি সে আসীন শুদ্ধ স্বাধীনতার রথে ।
আর সত্যি বলতে কি, তোমার পরাণ 
কোনও খাঁচায় থাকতে কখনোই চায় না ।

কামনা অত্যাচার ক'রবেই । ক'রলে সহ্য করো ।
সহ্যশক্তির জোরে রোধ কর পতন ।
আপন উড়ানে
ভালবাসার আকাশকে, যত পারো, বাকি রাখো ।

ভালবাসা মানে - আত্ম-সৃষ্টির অফুরাণ জয়গান ।
তাকে ধারণ করতে জেনো অধিকতর,
আপন মহৎ সহন-অধিকারে ।
হঠকারী মোহের ফাঁদে ফের ধরা পড়ে
প্রতিটিবার নিয়ম ক'রে ঠকে গিয়ে
নিজেকে, জীবনের কাছে, শেষ অবধি,
পরাভূত প্রমাণিত করতে দিও না ।

সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

দিশার দায়

শুভ-অশুভ

মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো - 
সে আপন সমস্যার উৎসদের চেনে না ।

সে অনবরত ভোগে মাতাল হতে যায়
আর কিছু পরেই নেশা কেটে গিয়ে
আবার পূর্ববস্থায় ফিরে এসে 
আগের অভাববোধে 
বেচারা অধিকতর পীড়িত হতেই থাকে ।

তাহ'লে, কোনও না কোনও প্রেমে পাগল হয়ে
ভোগে মাতাল হওয়ার অতি সাময়িক সুযোগ
কী আদপে কোনও বিচক্ষণ গন্তব্য হতে পারে ?

ভালবেসে, আপন অন্তরকে 
তুমুল আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে রাখতে,
বাধা, অবশ্য, ছিল না মানুষের কোনওকালে ।

শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

প্রসঙ্গ: স্বনির্ভরতা

এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে ভক্তি-দর্শনে আমরা ভারতীয়-রা পৃথিবীর আর সব জাতির থেকে দশ কদম এগিয়ে ।

তবে, তার সাথে, এই বাস্তব সত্যটিও আমাদের মেনে নিতে হবে, যে কর্মযোগে আমরা ইওরোপ, অ্যামেরিকা, চায়নার চেয়ে এই মুহূর্তে বহুগুণ পিছিয়ে । কর্মযোগ যেহেতূ মানুষকে মূলত আত্মনির্ভর তথা স্বাধীন করে, সুতরাং কর্মযোগ শিক্ষা দেওয়ার ব্যপারে ভারতের তথাকথিত গুরুকুল আপন চাল-কলা-মুলোর স্বার্থে বরাবরই উদাসীন । 

এই আত্মনির্ভরতা-অর্জনের শিক্ষার অভাব বিনা, ভারতের জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নতিতে প্রাথমিক অন্তরায় কি আর কিছু হতে পারে ?

প্রসঙ্গতঃ, আধ্যাত্মিকতা একটি নিরপেক্ষ জ্ঞান । কিন্তু ধর্ম মূলতঃ একপাক্ষিক, একটি নেশা মাত্র । ধর্মের এই আফিঙের নেশা না কাটা অবধি মানুষ বোঝেই না, যে - স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে, তার কর্ম বিনা গতি নেই । তাই আমাদের দেশে মানুষ শৈশব হতে যত ধর্মের আচার শেখে তার শতভাগের একভাগও সচেতনরূপে কর্মপদ্ধতির বাস্তবোচিত শিক্ষা গ্রহণ করে না ।

Fair Play

People may conclude
That you always smile.

But what you really do
Is to laugh at every distraction
And to eventually skip
Another call to mingle.

This is how 
You keep your focus single
To turn yourself more irresistible
Day by day. May be, 
You are ever-compassionate,
Yet it will surely be a fair dribble.

Compromising Conscience

Enduring inevitable pain 
During rising up through stairs
Is a must
For greater horizons
To become clearly visible.

Lifetime Opportunities
Are never identifiable
From the opacity of 
One's comfort zones
Presenting sadly any lower level.

শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

Conscious Control

Every man has a brute's strength,
Often throbbing silently inside.

As one practices and learns
How to snatch
The conscious control of it
From the opportunist instincts
And retain the hold with due patience,
Until it is utilised in real-life purposes
During its fullest exultation,
One can reach the destination
Of achieving mastery
Over one's desired fortune
With the help of
This sheer brute-strength
While remaining, otherwise,
A perfect gentleman.

বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

অভিলাষ

কাব্য আর যুক্তি কদাপি বন্ধু না ।

অথচ দুজনকেই 
আনমনে ধাওয়া করতে হবে,
শেষ অবধি, সত্যের পিছনে ।
তবে, অহমিকা আর প্রবৃত্তির
চোরাস্রোত থাকতেই হয় ব'লে, 
কেউই সত্যকে উদার আবাহনে 
সহজে বরণ করতে রাজি না ।
ফলতঃ, ভাব বিনিময় গতিশীল রাখা
সহজ না ।

যেমন, কারুবাসনা জেগে গেলে
কবিতা তারপরেও লেখা চলে
কল্পনার আর আবেগের বলে,
আপোষের গর্ভে, ছলে, বলে, কৌশলে 
সুন্দরের জন্ম নিতে, 
কখনো যেন, কোনও রকমের বাধাই ছিল না ।

যেমন, তার্কিক তর্ক চালিয়ে যায়
অনুভবের প্রসাদ হতে বঞ্চিত ব'লে,
যখন অহমিকার দোষে,
অবোধ যুক্তিবাদে, মানবিক সহানুভূতির 
পর্যুদস্ত হতে একটুও অসুবিধা হলো না ।

যেমন, উভয়-প্রকৃতির মানুষের সিংহভাগে,
বারংবার, জীবনের হিসেব কিছুতে মেলে না ।

বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩

বিরহ

থাকতে থাকতে 
হঠাৎই একদিন "নেই" হয়ে যায় মানুষ ।
ত্রিমাত্রিক সত্তাটি তার 
আচমকা পাল্টে যায় দ্বিমাত্রিকে ।
ছবি হয়ে দুলতে শুরু করে দেওয়ালে 
আর স্মৃতির খণ্ডহরে ।

কিন্তু, হাজার কাকুতিমিনতি সত্বেও
ধরা দেয় না আর নিবিড় আলিঙ্গনে 
অতীত সুখের বর্ধমান অভিজ্ঞতায় ।

মানুষকে একটু একটু করে মেনে নিতে হয়
বাধ্য-শূন্যতার আবির্ভাব - অন্তর্ভেদী ব্যথার মাঝারে ।
কেউ ভাসে চোখের আকুল জলে 
আর কেউ খুঁজে নেয় স্তব্ধতা - 
নিঃসঙ্গ স্মৃতিদের ক্রমশঃ দীর্ঘতর অবসরে ।

এ পৌনঃপুনিক কষ্টের মাপ বুঝেছে যে একবার 
সামলে ওঠার মরীয়া তাগিদ সহকারে, 
সে কী আর দ্বিতীয়বার চাইতে পারে ?

আমি, তাই, অনেক আগে থেকেই, 
প্রায় বিনা-কারণে, যৎসামান্য দূরে-দূরে;
পাছে, আমার আগেই, তোমার চলে যাওয়াও
কোনও আকস্মিকে না-বলে এসে পড়ে !
খুব বেশি ভালবেসে ফেলার
বদ-স্বভাব যারা আটকাতে অক্ষম,
তেমন মানুষ 
নিয়ত মেঘলা পরাণের ভারে কী আর করে !
.
https://youtu.be/g5mdrXvluxM?si=7znH5KhIAR9C7HUI

মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

নিরন্তর উদযাপন

- "তুমি সবসময়ে হাসো কেন ?"
- "তার কারণ - নিজে চুটিয়ে উপভোগ না করে, জীবনের পিচ্ছিল সময়ের একটিও মুহূর্তকে, আমাকে ঠকিয়ে দিয়ে, হারিয়ে যেতে দেব চিরতরে, - এমনটা কখনো হতে দিই না ।

এটা সম্ভব হয়, আমি অপরের প্রতি কঠোর রূপে প্রত্যাশাহীন আর নিজের প্রতিও আকাঙ্খা-পিড়িত নয় ব'লে ।

আমি জানি, কিভাবে দীর্ঘদিন ধ'রে, প্রতিদিনের কাজের সঠিক নির্বাচনে ও সুষ্ঠ সমাপনের মাধ্যমে, একটি একটি করে সুঅভ্যাস প্রথিত করতে হয় আপন চরিত্রে । এই সুঅভ্যাস-রা ক্রমে-ক্রমে পাল্টে যায় ব্যক্তিগত গুণে তথা অবধারিত নূতন যোগ্যতায় । 

এই চেতনা আমাকে সেই আত্মবিশ্বাস দেয় যার দ্বারা আমি অনুভব করি - এ জগতে এমন কিছু লক্ষ্য থাকতে পারে না, যা আমার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয় । কেবল ধৈর্যের প্রয়োগে সময়কে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে অবিরত আত্ম-কর্ষণের ক্ষেত্রে ।

মানুষের মধ্যে ভালো আর খারাপ - এই দুটি দিক থাকতেই হবে । উভয়ের দায়ই আবশ্যিকরূপে একা সেই মানুষটির । আমি প্রত্যাশাহীন ব'লে, সদা মুক্ত ।

নিজে প্রতিক্রিয়াহীন হওয়ার কারণে, পরের ভালো এবং খারাপ উভয়কেই নিঃশব্দে, সমানহারে, উপভোগ করা-তে আমার তাই আদপে কোনও বাধা নেই ।

যখন আমি নিজেকে ও পরকে প্রতিনিয়ত তীব্রতম উপভোগ করতে সক্ষম, জীবনকে প্রতিবন্ধকতাহীন মেনে নেওয়া হাসিতে তাহলে বাধা আর রইলো কোথায় ?"

পাগলা, মনটারে তুই বাঁধ

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

The Un-Deviative

He was tender and polite.
He loved to remain sympathetic
To everyone.
He could perceive the beauty
Of any heart 
And indulge deliberate admiration.

Yet he had a purpose of life
Bearing its workload always within.
He, therefore, preferred isolation.
It was almost impossible to distract him
Because of his remaining withdrawn.

The existence of love and detachment
Was the source of his differential grace.
Holding a flute made him often divine.

যে পথ যে দিশায় ধায়

'আমি' কে অহমিকা-কঠিন, উদ্ধত,
আত্মশ্রদ্ধাহীন, কর্তব্যবিমুখ
ও সত্যের প্রতি স্বচ্ছতার সাধনে
মূলতঃ কর্ষণ-হীন করে রেখে
'তুমি'-কেন্দ্রিক সুখের প্রতি 
একতরফা পরমুখাপেক্ষিতা
এ জগতে সর্বপ্রকার দুঃখের প্রাথমিক কারণ ।

জীবন 
আকর্ষণীয় এবং কমনীয় থাকে ঠিক ততদিন, 
যে অবধি যৌবন, আপন অন্তরে,
নিত্যদিনের আত্মউদ্ভাবন ও বিকাশকে 
আশ মিটিয়ে উদযাপন করতে পারে । 

বর্ধিষ্ণুতা অবিরাম থাকে সে অবধি, 
যতদিন কারও চরিত্রে 
প্রবুদ্ধ চেতনার সাহসী প্রয়োগে
নতুন নতুন অভ্যাস আত্মপ্রকাশ করে 
নিয়মিত হারে এবং প্রভূত পরিমাণে। 

কর্ম সম্পাদনের বিচক্ষণ সুযোগে
ছোট ছোট নূতন দায়িত্ব 
দিনের পর দিন একনিষ্ঠ পালনের মাধ্যমে 
ক্রমশ প্রকাশিত হতে পারে 
যা কিছু সুন্দর অভ্যাসের অর্জন-জনিতে,
ব্যক্তিগত গুণের উপর্যুপরি অভিষেকে, 
নিজেকে ক্রমাগত পালটে ফেলতে পারা ।

কর্মের সার্থক সম্পাদন
মানুষের মধ্যে জাগরিত করে সাফল্যের বোধ,
যে বোধ হতে 
সে আত্মতৃপ্তির বিরল স্বাধীনতা অর্জন করে ।

আপন অস্তিত্বকে, একান্তে, নিঃশব্দে,
নিঃসংশয়ে উপভোগ করতে শেখার
বিরল সৌভাগ্য একমাত্র তখনই
নির্ভরযোগ্যরূপে স্থায়ী, এক
আনন্দদায়ক চিত্ত-প্রসারণ হতে পারে ।

শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

How A Human Being Exults

Life remains attractive and charming
So long youth celebrates everyday growth.

Growth remains unabated, so long
New habits flourish in one's character
Regularly and abundantly.

New habits are formed by completion
Of small tasks and achieving success everyday.

One remains genuinely happy, so long
Successful accomplishments 
Are immediately celebrated in full spirit
And preferably silently within.

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভোলানাথ

একটি গ্লাসে কতটা জল ধরে ?
চার আউন্স, আট আউন্স বা ষোল আউন্স ।
আমাদের প্রয়োজন জল । 
গ্লাসটি কিন্তু ধারক মাত্র ।
জল-সমেত গ্লাসটি 
কয়েক সেকেন্ড হাতে ধরে রাখলে
আদৌ তেমন কোনও সমস্যা থাকে না ।

তবে, কয়েক ঘন্টা ধরে রাখলে 
তখন কিন্তু প্রবল সমস্যা থাকে ।
হাতে অসহ্য যন্ত্রণা হতে পারে ।
অথচ, ধারক গ্লাসটি নীচে নামিয়ে রাখলে
আর তেমন কোনও সমস্যাই থাকে না ।
জলও সঞ্চিত থাকতে পারে আগের মতই ।

মন চিন্তার ধারক ।
আমরা তখনই সবচেয়ে বেশি কষ্ট বা দুঃখ পাই
যখন আমরা বিশেষ কোনও বন্ধ্যা চিন্তা
অথবা ঘটনার স্মৃতি সচেতন মন থেকে 
সাময়িক অবচেতন হয়ে আপন অচেতনে 
নিশ্চিন্তে নামিয়ে রাখতে পারি না ।
এর অর্থ - প্রয়োজনানুযায়ী
নির্লিপ্ত হতে পারার সুঅভ্যাস ।
প্রসঙ্গতঃ, গীতাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ
ব'লে মানেন বহু প্রবুদ্ধ ব্যক্তি,
অর্জ্জুন কে দেওয়া 
নির্লিপ্তির এই শিক্ষাটির কারণে ।

অভ্যাস-সাপেক্ষ হলেও, মানুষের পক্ষে
এটা যে সচেতন প্রচেষ্টায় অসম্ভব, 
তেমনও কিন্তু না । 
এছাড়া, লক্ষ্য করলে দেখা যাবে -
যারা বাস্তবে সুখী-স্বভাবের,
তারাই এ জগতে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি 
নির্লিপ্ত হতে বদ্ধপরিকর ও সফল মানুষ ।

সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩

The Disrespectful

A human being remains a loser,
So long, he keeps losing everyday.

He loses his time of life
That never comes back,
So long, he accepts
A regular failure
In converting his time
Into permanent assets
In the form of his personal worth.

A human-being 
Always has every right
To lead a worthless life
Till death.

A human being
May still beg noble compassion
From others
For his futile worthlessness.

শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩

জাত্যাভিমান

কবিরা নিঃসন্দেহে একটা আলাদা জাত ।
গগনচুম্বী কল্পনার সাহসে
তারা এ বলে আমায় দ্যাখ,
তো, ও বলে আমায় ।
কল্পনা তাদের, সুন্দর ছবি আঁকতে জানে
আর শিল্পকে হামেশা ভালোমত চেনে ।
কবিদের মধ্যে নারী-দরদীরও অভাব নেই ।

তবে, একটি বিশেষ জায়গায় 
বেশিরভাগেই প্রায় একপ্রকার ।
সে হলো -
নারী-মূর্তির মাটির প্রাকৃতে
পোড়ার আগে নিরন্তর সযতনে গড়ায়
জলের কখন, কতটা, প্রবাহ প্রয়োজন
সে বোধটি কেউ 
বড় একটা স্বচ্ছ ভাবে খোঁজেনি ।

নাকি, সময় দেওয়ার ঝক্কি এড়াতে,
মৌন-শ্রবণের আলতো অবসরে 
পাশে বসে, হৃদয় দিয়ে, আদপে বোঝেইনি ?

বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

অপারগ

এই জগতে প্রায় প্রতিটি মানুষ 
সহজাত প্রবৃত্তি হতেই সমূহ কৃপণ । 
সে দিনের-পর-দিন ধরে সঞ্চয় করে, 
আপন নিবিড়ে, বিশেষ কিছু গুপ্তধন, 
কাউকে কিচ্ছুটি না জানিয়ে, কেবলমাত্র 
স্বপ্নের 
আপনতম মানুষটির কথা মাথায় রেখে ।

তার মূল সিন্দুকটি থাকে পরাণে,
যার রঙ আজীবন চাপা রইতে পারে না ব'লে,
বাধ্য হয়ে
ছড়িয়ে পড়ে ক্রমশই - মন বেয়ে শরীরে ।
ভাণ্ডারটি ভরে গেলে কানায়-কানায়,
উপচেও পড়ে জলপ্রপাতের পারা ।
বুকের আঁচল, 
বেখেয়াল কলমের একপশলা খোঁচায়
আচমকা একটুখানি সরে যেতেই 
চকচক করে ওঠে হৃদয়ের গোপনতম আমন্ত্রণ !

তার ঔজ্জ্বল্যের তীব্রতায়
নিরুপায় অনুভবীর 
বাকরুদ্ধ দৃষ্টি ঝলসে যেতে থাকে ।
হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হতে চায় ।
অজান্তে, অপারগ হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে 
উপরে উঠে
আছড়ে পড়ে শূন্যে, হাওয়ায় ।

সকরুণ বেণু সাড়া দিতে চেয়ে
হৃদয়কে ক্রমাগত বিচলিত করলেও,
বিবেক শেষ অবধি 
আবেগের দাস হতে পারে না ব'লে,
পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের প্রতি স্খলনহীন নিষ্ঠায়,
অকবি-আপোষহীনতাকে, টলটল-জলেও
অতঃপরেও অটল রইতে হয় ।

শিক্ষক আহরণ

মানুষের চিন্তা বেশিরভাগ সময়ে
তার অভ্যস্ত আন্তর-প্রবূত্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,
ও নির্দেশিত হতে থাকে ।
একটি বাঁধা-গতের সীমিত পরিধির বাইরে
একটি মানুষের অভ্যাস
সচরাচর বেরোতে বিফলই হয় ।
প্রগতি-জনিত উত্তরণ তাই কদাপি সহজ নয় ।

মানুষ যখন, নিরহঙ্কার মনের দরজাটি খুলে
মুক্ত বাতাসকে,
পরাণে, অনুভব অবধি ডেকে নেয়,
( যদিও, অনুভবের 
গভীর হতে গভীরতর স্তরও থাকতে পারে )
একমাত্র তখনই সে পরের অভিজ্ঞতা হতে
অজানা সূত্র আহরণ করতে সক্ষম হয়,
যা, তার গতানুগতিক প্রবৃত্তির বাইরে গিয়ে 
আপন পথটিকে খুঁজে নিতে
ও স্বচ্ছতর হতে যারপরনাই সাহায্য করে ।

অন্তরে শ্রদ্ধার লালন অবিরত রাখলে
শিক্ষা শেষ হয় না কোনও বয়সেই ।
শিক্ষকরাও, আশেপাশেই থেকে,
হামেশাই, আপন বোকামির দ্বারা,
কঠিন সমস্যার এমন সহজ সমাধান
চোখের সামনে অহরহ ফুটিয়ে তোলে, যে,
কৃতজ্ঞ চিত্তে, তেমন বোকাদের
পায়ের ধুলো মাথায় নিতে প্রাণ চায় ।

নিজেই আগে-ভাগে ঠকে না গিয়ে,
উন্নত ধৈর্যের মূল্যে, পরের ভুল করা অবধি
আপন প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাকে প্রসারিত করলে
এবং পরের ভুল - 
প্রথম সুযোগে চিহ্নিত করতে পারলে,
কোনও সমালোচনায় না গিয়ে,
অপ্রতিরোধ্যতার অমায়িক উৎসবে, নীরবে,
কেবল নিজেতে, বিচক্ষণতার সুমধুর ঐতিহ্য
যত্ন করে রক্ষা করা সম্ভব হয় ।

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩

খায় ? না, মাথায় মাখে ?

ভালবাসার দায় যেমনই থাক
সে শুধুমাত্র অনুভবের জগতে ।

প্রথম দায়টি হলো, - যে ভালবাসলো,
তার নিজের হৃদয়াকাশে
কোন স্ফূরণ ঘটালো নতুনের !
সেই স্ফূরণ আপন একান্তে 
সুন্দরকে রচনা করলো কোন অবধি !
উত্তরণে - চরৈবেতি অবাধ হলো কতদূর !

দ্বিতীয় দায়টি হলো, - যাকে ভালোবাসলো,
ভাব-বিনিময়ে সুযোগ যথেষ্ট পেলে,
তার আন্তর-প্রগতির এযাবৎ বাধা 
অপসারণ সম্ভব হলো কতটা !
যে পেল,
পাওয়ার পরে তার জীবন কী 
সহজ, তথা আনন্দময়
ও অধিকতর আসান হলো ?
তেমন হলে, তার রেশ প্রাপকের জীবনে
কতটা স্থায়িত্বের আশ্বাস যোগালো !

এরপরেও তৃতীয় একটি দায়
যা হামেশাই আরোপ করে থাকে 
মানব-প্রবৃত্তি, বহুলরূপে,
সে হলো "ভালবেসে কী পেলাম ?"
প্রসঙ্গতঃ, ভালবাসা যেহেতু
সাগরের মত, কদাপি অনুমতিসাপেক্ষ নয়,
তাই কোনও দায় থাকে না তার
পাওয়ার অথবা পাওয়ানোর প্রশ্নে ।

ভালবাসা যেহেতু কেবলই পরাণের ধন,
দুটি মানুষ, 
এমনকি, চাক্ষুষে একে অপরকে না দেখেও,
জীবনভর ভালবেসে যেতে পারে
অনুভবে ক্রমাগত ধনী হতে চেয়ে, 
আপন পরাণের ব্যাকুল তাগিদে ।

শরীর আর মন যদিও ভাবতে থাকে - 
ও সম্পত্তিটি অবধারিত তার একার,
তবে, বাজারে যেহেতু কেনা যায় না
ক্যাশ-অন-ডেলিভারিতে
এক পরাণ হতে অপর পরাণে
দুশো-টাকার ভালবাসা, 
লাভ-লোকসানের হিসেব
তাই, শেষ অবধি, খাটে না এখানে ।

তাহলে উপসংহারে যা দাঁড়ালো, সে হলো -
ভালবাসার প্রথম দায়টি আবশ্যিক,
দ্বিতীয়টি ঐচ্ছিক
আর তৃতীয়টি অনাবশ্যক ।

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৩

প্রেমিকা

মা বলে ভাবতে পারিনি ব'লে,
প্রেমিকার আসনে রেখেছি ।
সন্তানকে দুধ দেওয়ার কালেও
তোর যৌবন-জ্বালা দেখেছি ।

তেজে যখন জ্বলে উঠিস তখন
কাম-জ্বরে অসহায় ঠেকেছি,
বরদা-রূপী স্নিগ্ধ নয়নের টানে
রমন-ইচ্ছাকে ফের মেখেছি ।

তোর কথা মাথায় আসা মানেই
উদ্দাম-দামাল হতে চেয়েছি ।
চাওয়া-রা তো একার ছিল না আমার
তোর তন্ত্রে ঠ'কেই হেরেছি ।

রুদ্রাণী তুই, চির-সংহার-রূপা,
তাই সংযমকে অগত্যা পুজেছি ।
শিব কেন যে একা সোহাগ তোর
হাড়ে-হাড়ে বেশ বুঝেছি ।

#আছে_একতারেতে_এইবেলা_মন_চুটিয়ে-ফসল_কেটে_নে_না_মন_রে_কৃষি_কাজ_জানো_না ।

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৩

প্রায়শ্চিত্ত

'মানিব্যগে রাখা টাকার গোছ ঘন-ঘন কমতে থেকে, একসময়ে, অবধারিত শূন্যে মিলাতে চায়' - এ সমস্যা বোধহয়, কম-বেশি, সকলেরই । মাঝেমধ্যেই আবিষ্কার করি ব্যথিত পরাণে, আমাকে অবাক করে, কখন যেন তিনি ফের খালি হয়ে বসে আছেন ।

অথচ এটিএম এর সুবিধা নিয়ে যে, তৎক্ষণাৎ বিপদ সামলে নেব, তার আবার অন্য সমস্যাটি হলো - "পাঁচশো টাকার খুচরো নেই" ।

এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে, একটা বাফার সেভিংস এর কথা মাথায় এল কয়েক বছর আগে । মোবাইলের কভারের ফ্ল্যাপে তৎক্ষণাৎ দুটো একশো টাকার নোট ভরে রেখে দিলাম । সে টাকা যে বেশ কয়েকবার অসময়ে পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করে নি, এমনও নয় ।

তবে এই বিষয়টি কবে যে আমার চেতনার স্তরে পরিবর্তন এনেছিল একটু একটু ক'রে, সে কথা খেয়ালে ছিল না । দীর্ঘদিন ঐ দুটো একশো টাকার নোটে হাত পড়ার আগেই মানিব্যাগ ভর্তি হয়ে যেত আবার ।

অবশ্য, অন্য সব প্রয়োজনীয় কাগজের ফাঁকে ঢুকিয়ে রাখা একশো টাকার নোট দুটো, বাধ্য হয়ে, মাঝেমধ্যেই প্রায় জোর করে, অন্য কাগজদের সাথে বেরিয়ে এসে, "আমরাও আছি"-র মরীয়া জানান দিত । যতবার এরকম করতো, আমিও বিশেষ-রূপে বিরক্ত হয়ে, একপ্রকার জোর করে ফেরৎ পাঠাতাম তাদের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাপের অন্ধকার ডেরায় । এভাবে কাটছিল, খুব সম্ভবতঃ এক বছরের বেশি ।

এবছর লক্ষ্মীপুজোর পরদিনই আচমকা পুরোনো পরিস্থিতি আবির্ভূত হলো ফের । সকালে, মাছের বাজারে, মাছ কিনতে কিনতে, মানিব্যাগের টাকা হাতবদল হতে হতে, ফুরিয়ে গেল একসময়ে । আর সব ধরণের মাছ কেনা হয়ে গেলেও, আমার লোলুপ নজর তখনো আটকে লইট্যা মাছে । খেয়ালও পড়ে গেছে মোবাইলের ফ্ল্যাপের গচ্ছিত উদ্ধারকর্তাদের কথা । ফলতঃ, এক কিলো লইট্যা কেটে দিতে বলে হাত বাড়ালাম মোবাইলে । আর সব কাগজের সাথে যথারীতি বেরিয়ে এল নোট দুটো । 

নোটের ভাঁজ খুলতেই, লক্ষ্য করলাম দুটোর একটা, কখন ছিঁড়ে, অচল হয়ে বসে আছে অদ্ভুতভাবে, বেখেয়ালে অন্য কাগজ টানাহ্যাঁচড়া করতে গিয়ে । "এবার কী হবে" - ভেবে 'থ' হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ, অবধারিত অপরাধবোধে । মন সেইফাঁকে পৌঁছে গেল এক অনাস্বাদিত বিষাদে ভারাক্রান্ত অসহায়তার জগতে ।

দীর্ঘ অবহেলার ভার সইতে-সইতে, একসময়ে আর না পেরে, জীবনের কাছে বাধ্য হেরে গিয়ে, কোনও মানুষের পরাণও, একসময়ে, এভাবেই ছিঁড়ে গিয়ে, অকেজো ও পরিত্যক্ত হয়নি তো, আমার অজ্ঞাতে, আমারই দ্বারা, চিরতরে ? কেবল যুক্তিবুদ্ধির মনটুকু সম্বল করে পঙ্গু-যাপন করে না মানুষ, এমনটা হ'লে, যখন ইচ্ছে-রা শুকাতে শুকাতে একপ্রকার মরেই যায়, আবেগে সাড়া না পাওয়ার কারণে আর্দ্রতা-বঞ্চিত পরাণে ? বেখেয়ালে ঘটে না অঘটন ? মানুষ কি অপর হৃদয়ের যত্ন সবসময়ে ঠিকঠাক নিতে পারে ? সব অপরাধী কি অননুভব-জনিত অপরাধ সজ্ঞানে করে ? তেমন বিশেষ ক্ষেত্রে, পাপীজনশরণপ্রভুও কি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন অক্ষমকে ক্ষমা করার বিরোধে ?

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৩

স্পষ্ট কথা

এক জীবনের যত কিছু চাওয়া আর পাওয়া
সবই, মূলতঃ, দায়রা-সোপর্দ নিজের কাছে ।
ফলতঃ, অবশিষ্ট একা, ব্যতিক্রম - ভালবাসা,
তোমাকে অনুভবে পেলে, তবে ভরপুর বাঁচে ।

The Object

শৈল্পিক

ইশারা সুযোগ দিলেই,
নিরাপত্তাটুকুও বুঝে নিতে পেলে,
শুরু আর সাড়া মধ্যে 
কে আর খুব বেশি দেরী করে ?

কিন্তু, হয়ে যাওয়ার ঠিক পরে
অভ্যাস-বশতঃ
পরিধেয়-র পানে হাত না বাড়িয়ে
বরং, নবাবী কায়দায় 
পরম নিশ্চিন্তিতে, মুখোমুখি সোফায় বসে,
এক পায়ের উপরে আর এক পা তুলে
ফস করে সিগেরেট ধরিয়ে
দুজনে মিলে
পালাবদল-সুখটানের অবসরে
সমানতালে
দৃষ্টি দিয়ে, পরষ্পরের সাবলীল ঔদ্ধত্যকে 
আপাদমস্তক লেহনের অভাবনীয় মধুর স্বাদে,
ইতিমধ্যে লব্ধ সুখের রেশটি 
তারিয়ে তারিয়ে দীর্ঘায়িত করার সুযোগ
চুটিয়ে নেওয়ার কথা
কতজনের আর মাথায় আসতে পারে ?

কাজ যাই হোক, 
পেলবতার স্বচ্ছ আচ্ছাদনের আড়ালে
সুন্দরের কমনীয় অবকাশ
লুকিয়ে থাকে জীবনের যে কোনও স্তরে ।

বুধবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৩

স্বাধীনতার সুখ

অনেকদিন সময় নিয়েছিলি
কেবল নিজের বাইরে-টুকু চেনাতে ।

আমি, অবশ্য, মেয়েলি সুবিধাবাদে
নষ্ট করিনি এক মুহূর্ত সময় ।
তুই যখন বারংবার মেপে দেখছিলি
মনের সাথে মনের মিল কতটা হয়,
আমি তখন তোকে না বলে,
তোর মনের ফাঁক গলে, কখন যে
সড়াৎ করে ঢুকে পড়েছিলাম
পরাণের ঘরে, সে খবর
জানতেও পারিস নি কখনো ।
অঢেল অবসর পেয়ে
একে একে, নিঃশব্দে, বুঝে নিয়েছিলাম 
তোর আদরের খুঁটিনাটির মাঝে
হবু সংসারখানি আমার ।

ফলতঃ, ফুলের রাতে, 
ছিটকিনি অবশেষে বন্ধ হ'লে,
তোকে প্রায় নিষ্ক্রিয় রেখে
আমার সহসা বিপরীতকরণী
আশাতীত চমকে দিয়েছিল তোকে
আমাকে চেনায় 
তখনো তোর বহুল বাকিতে ।

নিজেকে অত্যধিক স্মার্ট প্রমাণ করা আমি
শুধু জানতাম না তখনো,
সেদিন থেকেই বিরলতম উপহারে 
ছেড়ে দিবি আমার একার উপরে 
বাকি জীবনের 
ইচ্ছেমত প্রতিবারের সূচনার মহার্ঘ্য দায় ।

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩

হাসো-তো দেখি

এ জগতে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো
পরকে দোষারোপ করা
আর সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো
আপন স্বপ্নকে প্রবলতম ভালবেসে
নিঃশব্দে ঘাম ঝরিয়ে-ঝরিয়ে
অবশেষে
একদা সত্যে পরিণত করতে পারা ।

দ্বিতীয়-টি করতে
অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না,
কারণ অপেক্ষা-রা আবার হামেশাই
জীবনভর হওয়া পছন্দ করে ।
তবে, যা সত্যিই প্রয়োজন পড়ে, সে হলো -
আপোষহীন নিষ্ঠায়
কর্মের সাথে শৃঙ্খলার সুসমন্বয় অর্জন ।

তারপরে ? অবশেষে বোঝা যাবে -
সময়ে-অসময়ে
হাসির বাঁধভাঙা উৎসব
চিরকাল কেবলমাত্র সফলের অধিকারে ।

কর্মণ্যতা

যে কোনও জাতির অর্থনৈতিক দুঃসময় আসতেই পারে সময়ের পরিবর্তনের সাথে । তবে জাতীয় চরিত্রের মেরুদণ্ডে একবার পচন ধরলে সমস্যা অনেক গভীরে যায়, কারণ, একটি জাতির চরিত্রের ভিত্তিমূলে সার্জারী সহজ নয় মোটেও ।

বাঙালি-গর্ভ হতে বিরল প্রতিভার বহুমুখী উৎসারণ প্রায় নিয়মিত ছিল বিগত শতাব্দী অবধি । তবে গত দুই দশকে তেমন ঘটনা দেখা যায়নি আর খুব একটা । 

বিগত ছয় দশক যাবৎ রাজনীতির কুটিল আবর্ত, হঠকারী বিপ্লব ও সমবেত মধ্যাচারী অগ্রগতির দামামায়, প্রায় গলা টিপে ধরেছে বাঙালি প্রতিভার ব্যক্তিত্ব-কেন্দ্রিক ঊর্ধ্বাচারী স্বতঃস্ফূর্ততার । বাঙালির চিরাচরিত জাতিগত আদর্শ-রা বর্তমানে ভূলুন্ঠিত, নীতগত আপোষে ক্রমাগত জড়িয়ে পড়ে, সুদূরপ্রসারী দৈন্য ও হীনতায় । ফলতঃ, বাঙালি বলতে যে যুব-সম্প্রদায় বেড়ে উঠছে আজ, তারা মূলত লেজুড় প্রবৃত্তি-সম্ভূত মেধাশূন্য গড্ডলিকা মাত্র, যাদের সত্যানুভব-জনিত ন্যূনতম তেজ বা ধক নেই, সাহসী সিদ্ধান্তে, আপন কার্যকরী কর্মের নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাসের জোরে, আপন পূর্বসূরিদের মত, উত্তরসূরিদের জন্য যোগ্য পথপ্রদর্শক হওয়ার ।

এ ঘোর কলিতে বাঙালির সামনে কে দাঁড় করাবে অনুসরণযোগ্য আদর্শ আবার নতুন ক'রে ? কোন পথে উত্তির্ণ হবে বাঙালি-জাতি ফের প্রবল পরাক্রমের স্বমহিমায় ? আপামর বাংলা-ভাষীর মধ্য হতে প্রাতঃস্মরণীয় বাঙালি জেগে উঠবে আবার কোন শ্রদ্ধা ও কর্মের দ্বান্দ্বিক অপ্রতিরোধ্যতায় ?

আত্মশ্রদ্ধা শব্দটির সাথে সম্পর্কশূন্য, পরমুখাপেক্ষিতার পরকাষ্ঠারা কেবল চলে-ফিরে বেড়াচ্ছে বর্তমানে, এদেশে, মানুষের অবয়বে, সমবেত অদূরদর্শিতার, তথা, অকর্মণ্যতার 'গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক'-এর বিবশ উদযাপনে ।

সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৩

Achiver-Style

A good-morning smile is always nice.
You give a smile at every dawn
To all the new blooms of nature 
Around you and feel jubilant and happy.

You also deliver a recognising smile at
The thousand and a one infatuations,
Which generally prove man faker-fools
And as dumb as flowing sheeps 
At the success of every helplessness
Before consumptive greeds of life.

You laugh at the repeating defeat
Of the basic instincts
When they fail to take you down
Of your straight-line advancement
To the higher destiny
That you earn by your everyday actions,
Following your personal routine
Guarded by acute discipline,
Guided by your uncompromising,
Conscience-driven, consciousness
And a determined will 
That silently retains an erect spine.

শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩

উদভ্রান্তি

'জীবনের অচেনাদের
একটি-একটি ক'রে, অথবা একটু-একটু ক'রে
চিনে নিতে হবে ব'লে, বাড়াতে হবে
দিকভ্রান্ত পা - যে কোনও সহজ-লভ্য পথে', 
বা ভাসিয়ে দিতে হবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীন -
এরকম কথা ছিল না আদপে কোনদিন ।

উদাসীন মানে - 'অনুভবহীন, চেতনা-বিহীন
ও প্রত্যুৎপন্নমতি নয়' - এমনটাও নয় ।

আপন চিরাচরিত বিশ্বাসের অগোচরে
লক্ষ্যের রথ থেকে স্বেচ্ছায় নেমে পড়ে
ভিনদেশী পথের ধুলো 
মাখতেই হবে সারা গায়ে-পায়ে,
সাময়িকে হলেও
অন্ধ হতেই হবে ধুলো কচলে চোখে,
এমন হাস্যকর দাবী 
করেনি জীবন এ-অবধি ভুল ক'রে ।

সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩

দ্বান্দ্বিক এ মানবজীবন

ইচ্ছা - প্রবৃত্তি ও আবেগ-সম্ভূত লতা-বৎ ।
নারী-শক্তি ব'লে, তার থাকতে হয় 
অপেক্ষা-উদ্ভূত বাধ্য পরনির্ভরতা,
অপ্রাপ্তি-জনিত দুঃখ ও হতাশা
এবং কদাপি দীর্ঘ শোক ।

তেজ-উদ্ভূত শালপ্রাংশু জেদ - পুরুষকার ।
সংশয়-শূন্য আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনে
তার নিরাসক্ত কর্মদ্যোগ আদপে কোমল নয়,
বরং কাঠিন্যের চমৎকারে ও করুণায়
সুখে-দুঃখে নির্বিকার ও আক্ষেপহীন । 
ফলতঃ অশোক ।

শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

জীবনদায়ী অপ্রাপ্তি

পুরোনো হয়ে 
বাসি হয়ে যেতে পারে না প্রেম,
যতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারা
মাঝখানের বন্য-সৌরভের 
উৎসস্থলে
কিছুটা অজানা-জনিত 
যৎসামান্য স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অচেনা ।

জল ঢালতে পার রোজ, 
এমনকি দূর হতেও,
তবে, ভাল যতই বাসো,
আকাঙ্খিত পুষ্পবৃক্ষকে 
অবশেষে 
একান্ত সাক্ষাতের অবৈধ সুযোগে,
শিকড়-সমেত তুলে,
সম্পূর্ণ নিরাভরণ করে ফেলতে ব'লো না ।

আনন্দর উৎসমুখ

নিঃশব্দ প্রগতি

রোজকার ইতিহাস 
চিরকালই কি আর রইবে আগের মত ?
ক্লান্ত মনে, দিনের লড়াই শেষ ক'রে
যখনই একদিকের ঢলে পড়া
অবশেষে নিদ্রার কোলে,
ঠিক তখনই অপর পারে 
চেতনার ঘরে জ্বলে ওঠে
যৌথ আগ্রহের আলো
আর সেই কোজাগরি প্রেমে
উদিত হয় হাওয়া-চেরা গতি,
স্কেটিং বুট-পরা দাপুটে অগ্রগতিতে
দুটো অদম্য পায়ের পেশি 
এক ঝলকে প্রকট হয়ে ওঠে
পাশাপাশি ঠিক যেমন !

Should

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩

অন্যরকম

নিজের সাথে নিজের খুব ভালো চলে যাদের,
তারা এ জগতে প্রকৃত ব্যতিক্রম ।
সারাদিনের এক-এক সময়
আলাদা প্রকার কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য 
পূর্বনির্ধারিত থাকে ।
প্রাণোচ্ছলতা - পরিস্থিতির 
অথবা অন্য মানুষের অধীন নয় ব'লে,
গতি ও উজ্জ্বলতায় ঘাটতি পড়ে না কখনো ।
অথচ, গভীর জলে বাস ব'লে,
উপরতলের হালকা জগৎ ও মানুষের জন্য
তাদের আগ্রহ পাওয়াই যায় না দেখতে তেমন ।

ভুল ক'রে কূপমণ্ডূক ভেবে
এদের সখ ক'রে খোঁচাতে যেও না কখনো,
কপালে লেখা থাকতে পারে মারণ ছোবল ।
.

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

জাগরণ

বাইরে সাজিয়ে-গুজিয়ে, 
ধুপ-ধুনো আর আরতি দিয়ে
তিন দিন ধরে 
পুজো-পুজো খেলা যার সাথে,
সে নিছকই মাটির পুতুল,
সৃষ্ট হয়েছিল কুমোরের কল্পনাতে,
চার দিনের দিন, খেলা শেষ হ'লে,
এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও যাকে জলে ।

তাকেই ভিতরে জাগাও যখন
হৃদয়ালোকের পূর্ণিমাতে,
সেই তিনিই তখন হয়ে ওঠেন সাক্ষাৎ শক্তি ।
তার তেজে কেঁপে ওঠ আপন অন্তরে 
সহসা বর্ধিত 
সরলরৈখিক আত্মবিশ্বাসের উচ্চতাতে ।
অবরুদ্ধ অনুপ্রেরণা-রা আর দ'মে না গিয়ে 
প্রবলবেগে বিস্ফোরিত হতে পারে
জাগরণের যে কোনও এক সুপ্রভাতে ।

চাহিদা

নির্দিষ্ট কোনও কথা ছিল না
তবু জীবন যেমনি সুখে ভরে

ডাকে বাঁশি সেই অন্তঃপুরে
বিরহ-কে পেতে একটু পরে

যেতে হয় চলে অজানা দূরে
পাশ-বালিশ-সহ পিছনে ঘুরে

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

PEACE AGAINST WAR

Time has come to put a WHY
Before any WAR, whatever.

"ONE GROUP OF YOUNG PEOPLE ARE COMPELLED TO HATE AND KILL ANOTHER GROUP OF YOUNG PEOPLE, WHO, BEING NOT EVEN PREVIOUSLY KNOWN TO EACH OTHER, NEVER HAD ANY REAL ANIMOSITY, AT ALL,"

IF WAR MEANS THIS SLAVE-LIKE COMPULSION, IMPOSED BY MALICIOUS AND WICKED, OLD LEADERS, AGAINST MASS-FREEDOM OF CONSCIENCE,

IT AUTOMATICALLY BECOMES EVERYBODY'S MANDATORY
RESPONSIBILITY TO RESIST SUCH AN INHUMAN PRACTICE BY STRICT NON-COOPERATION EVERYWHERE, ROUND THE WORLD.

শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৩

আবিষ্কার

তখন ভাবতাম
বুক উপড়ে, তোর পছন্দ মত
সাজিয়ে দেব ভালবাসা 
বেহাগের সুরে,
যতটা পারি, কোমল পাপড়িতে ভ'রে ।
সেদিন সবে ষোল চলছিল তোর-আমার
প্রথম হৃদয় উন্মোচনের তোড়ে ।

আরও পনের বছর পরে, 
শুনি - মধ্যরাত্রে প্রেমের উত্তাল তাণ্ডবে 
আচমকা ঘুম ভেঙে, মাঝেমধ্যেই ছোট-রা
চোখ কচলে, তাকিয়ে থাকে তোদের দিকে 
অবাক দৃষ্টিতে ।
অগত্যা, প্রতিবার, জোড় না খুলেই
জোর ক'রে ঘুম পাড়িয়ে দিস আবার,
মাত্র এক হালুমে, অবিশ্বাস্য তৎপরে ।

সেই থেকে 
মনে পড়লেই নেতিয়ে পড়ি ।
বেঁচে গেছি খুব বরাত জোরে ।
বেহাগ আর বাঘ ? ওরে ব্বাপ রে !!

ফাঁক

চালচিত্র

কী যে কীভাবে হয় ! 
কে কেমন ক'রে যে পারে !

এত অজস্র পুজোর ঢাকের বাদ্যি শোনা দিনভর !
তাকে ছাপিয়ে বুকে বাজে সানাইয়ের সুর
যখনি সক্কালে ঘুম ভাঙার পরেই
সহসা বুকের মধ্যে জাপটে ধরে
তুমুল ঢাক বাজাতে শুরু কর পিঠে
খুশির উদ্দামে
অবাক আনন্দের অভিসারে !

'সুখের ঘড়া কেমন ক'রে
কানায় কানায় পূর্ণ হতে পারে'
মনে পড়ে সেকথা বারংবার - পরে ।
.

সরলতা

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৩

শিখর

ক্রমশঃ দামাল - পরাণ-গভীরে 
মুহুর্মুহু উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে,
প্রবলতর প্রাণশক্তিতে
ক্ষণে-ক্ষণে নিজেকে ছাপিয়ে
আরও বেশি 
সুন্দর হয়ে ওঠার নেশায় মেতেছো ।

উপভোগে 
কোনও ভাবে ভাটা যেন না পড়ে,
তাই বাকরুদ্ধ আমি এখন, 
প্রবল বিস্ময়ের ঘোরে ।

নিঃশব্দ অপেক্ষার শেষে, 
লুফে নেব বিজয়োল্লাসে
নিজের ক'রে, 
উদযাপনের অধিকারে ।

বিপরীত

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৩

অভিযান

অভিমানকে সংযত কর ।
খুলতে ব'লো না একাগ্রতার মুষ্টিবদ্ধ হাত ।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কথা বলা অপরাধ ।

কথা বলতে গেলে
এখান থেকে অনেকটা পথ পিছনে হেঁটে 
পৌঁছতে পারা যাবে 
বিশ্রামাগারের সাময়িক অবসরে ।
সহযাত্রী-সময় আমাকে পিছনে ফেলে
বাধ্য হয়ে এগিয়ে যাবে কর্তনলীলায় ।

তা না ক'রে, 
এখনই জেদের বশে কথা বলতে গেলে
কথা-কে থেমে যেতে হবে চিরতরে ।
পড়ে থাকবে 
পাহাড়ের ঝোপে মুঠো-খোলা লাশ -
যাকে দেখে
"সাবাস" - বলবে না একজনও ।
তুমি যখন খবর পাবে 
অনেক দেরী হয়ে গেছে তখন ।
.

পরিচ্ছন্নতা

ঘুম থেকে ওঠার পরে এটা প্রতিদিনের কাজ ।
প্রবৃত্তির জমানো প্রতিটি আবর্জনা
মন থেকে ঝাঁট দিয়ে সাফ করে ফ্যালো ।
এবার জল ঢেলে সব মলিনতা ধুয়ে দাও ।
তারপরে, পুরোটা শুকিয়ে ঝরঝরে হয়ে গেলে,
পূজায় সমর্পণ যতক্ষণ না শুরু হয়,
মনের দরজায় 
বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে রাখো ।

নিষ্ঠা-চর্চার শুভ উপচার 
কোনও প্রকার শুকর-বিষ্ঠার অহ্বায়ক নয় ।

সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩

ভুল বুঝো না

ক্রমাগত দ্বন্দ্বের মহরৎ - জীবন তার নাম ।

এক-পারে, তোমার জন্য থাকতে হবে 
স্বেচ্ছায় বাড়িয়ে রাখা সহৃদয় হাত,
সমব্যথী পরাণের মানবিক সংবেদনে,
বিবেকের উজানে, পালে হাওয়া লেগে,
শৈল্পিক ভালবাসার ফিনিক্স-অভ্যুদয় ।

অপর-পারে, নিজের তরে, 
রইতে হবে সমানহারে আপোষহীন,
কঠিন নিয়মানুবর্তিতা আর 
আলস্যবিমুখ স্হির লক্ষ্যে 
আত্মবিশ্বাসী অগ্রসরমানতার বরাভয় ।

এই দুই বিপরীত পারের আকর্ষণে
অবিচল তীব্রতায়
মাঝনদীতে বাড়তে হবে জল ।
বইবে জীবন-তরী তোমায়-আমায়
অদৃশ্য সুতোয় জুড়ে
তরতরিয়ে আনন্দময়তায় ।

বুঝলে কি পরিশেষে ?
আমার হাতে রাখতেই হবে আগুন, তাই
তোমার প্রস্রবণ ভিজাতে অপেক্ষায়
অবিরাম শীতলতায় ।

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩

ভারসাম্য

অদ্ভুত কমনীয় হয়ে ওঠো, ক্রমে ক্রমে,
প্রসন্ন চিত্তে, শুদ্ধ ভালবাসার সুযোগ পেলে ।

সংবেদী কেউ, নিয়মিত হারে,
প্রাপ্য দরদটুকু, হিসেব না ক'রে ঢেলে দিলে
ওমনি সব বিরহ ছুঁড়ে ফেলে
অফুরাণ হয়ে ওঠো আপন ভাণ্ডারে !

হুড়মুড়িয়ে, একসাথে, সব্বাইকে বিলিয়ে দিলে 
যতবার, যত জন, নিতে এসে দাঁড়ালো
দুয়ারে তোমার
আপন কাতর হৃদয়টি অকৃপণে খুলে ।

আদতে 'দশভূজা-স্বভাব' !
অভাব জানলো শুধু - প্রশমন কোনখানে মেলে !
বিনিময়ে, তুমি নিজে শুধু আরো অনন্যা হ'লে ।

আশ্রয়

মস্তি


শনিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৩

যৌবন

রোমাঞ্চ

"ন্যূনতম ভোগ ছাড়া জীবন বাঁচে না" - 
একথা যেমন মিথ্যা নয়,
ঠিক তেমনই, সম্পর্ক-কে 
শুধুমাত্র অবচেতনের প্রবণতায় 
নিয়ন্ত্রিত হতে দেওয়া জীবনকে মসৃন করে না ।

মানুষকে ছাপিয়ে যেতে হয় 
প্রবৃত্তির অবধারিত নিম্নগামিতা,
প্রতিদিন, সচেতন আনন্দের ভূয়সী তোড়ে ।
খুশি হতে, মহানন্দে বুকে জড়িয়ে ধরতে হয়
 প্রাণের মানুষটিকে, 
রোজ অন্ততঃ একবার - নতুন উদ্যমে, 
কেবলমাত্র ভালবাসার প্রতিদানে 
শ্রদ্ধাশীল ও কৃতজ্ঞ স্বীকৃতির নিরন্তর উদযাপনে ।

প্রসঙ্গতঃ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা,
এই দুটি মহান উপাদান বিনা
সুন্দর, হৃদয়ের নিবিড় আলিঙ্গনে, 
কদাপি স্থায়ীরূপে ধরা পড়ে না 
আর একমাত্র তবেই, শরীর একদিন ক্ষয়ে গেলেও,
যাপন উত্তীর্ণ হতেই থাকে তৃপ্ততর স্তরে ।

সুরে সুর - ক্রমশঃ অধিক মিলতে পেলে,
আপন বিশ্বাসের বিস্মিত আবডালে
সাথীর জন্য আকুলতা যতদিন বাড়তে চায়,
বুকের উষ্ণ-প্রস্রবণের সহজাত গুড়গুড়ানি-তে
পুলকের হাসি লেগেই থাকে ঠোঁটের কোণে ।
তখন আর, একজন, অপরের কাছে, 
একদিন পুরোনো হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না ।

শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩

লীলা

"ইচ্ছা" - শব্দটিকে অনুভবের গভীরে ডেকে নিলে,
শব্দটি যখন আপন অবগুন্ঠন স্বেচ্ছায় খোলে,
আমরা তার যে রূপটি অবলোকন করি,
সে হলো "লক্ষ্যের স্থিরতা 
বা Fixiety of Purpose" !

"মন জারিত যুক্তির দৃঢ়তা" এই শব্দবন্ধটিকে
অনুভবের গভীরে উন্মোচিত করলে
তার যে ঋজু আকারটি 
আমাদের সামনে প্রকট হয়,
সে হলো "একাগ্রতার তীব্রতা
বা Intensity of Concentration".

এ জগতে আমরা যাদের শ্রদ্ধেয় মনীষী বলি
তারা একজনও সুখাসক্ত, 
ফলতঃ, হতাশা-প্রবণ নয় ।
তাদর প্রত্যেকের জীবন বরং
এই "Fixiety of Purpose" এর সাথে
"Intensity of Concentration" এর 
এক-একটি অসাধারণ ও বিস্ময়কর লীলা ।

সুখাসক্তি, - অনুভবের নিবিড়ে যে
কদাপি পৌঁছাতে পারে না,
সেকথা প্রতিটি মধ্যচিত্ত কিছুতেই বোঝে না ।
.

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩

প্রশ্ন

- "তোমার ভালবাসা স্বপ্ন দ্যাখে আজও ?"

- "স্বপ্ন দেখা শেষ হয়ে গেলে ভালবাসার ভিতরের সবুজ বাঁচতে পারে না আর ।"

- "কেমন নারীর স্বপ্ন দেখে ভালবাসা তোমার ?"

- "বাস্তবে যেমনটা কখনো হতে নেই ! অনেকটা রোগা, আপন-ভোলা, ঠাণ্ডা, স্বচ্ছ, উদার, পাহাড়ি নদীর মত, যে নিজেকে যেমন খুশি, যখন-তখন ভাঙতে পারে ফের নতুন ক'রে গড়ে নিতে ! যার তাড়া থাকে না কখনো কাউকে ধরে রাখার ! যে সততই শান্তির আধার ব'লে, থাকে না অবসরের অপেক্ষায় ! যার পাশে বসা যায় কোন কথা না ব'লে সুদীর্ঘক্ষণ ! যত দেরী করেই ফিরে আসো, মুখঝামটা দেবে না যে তীব্র অভিমানে ! যার পানে তাকালে 'আবিল' শব্দটিকে মনে পড়বে না তোমার একটিবারও ! শত ঝড়-জলের পরেও যে ফিরিয়ে দেবে হাসিকে তোমার, বারংবার ।"

- "সত্যি করে বলবে, এ প্রতিবিম্বটি আসলে কার ?"

সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৩

Man's Duel

PASSIVE means comfortable floating 
By opportunist instincts
Originated from the subconscious mind,
Driving only down inside
And wating for an undesired state, at last.

ACTIVE means remaining down-to-earth
By being back to consciousness
And preparing for freedom of action
For a chivalrous rise and further shine.

The challenge always remains in
Making one's conviction
Enough upright 
To grab the next higher domain
Of consciousness
To launch a superior flight.

শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৩

ছুটির হুল্লোড়

সাত-সকালে ঘুম থেকে উঠে, দুজনে মিলে
কেডস পরে মাঠে হাঁপাতে না গেলে, 
হালার আলসে জীবনে চালসে পড়ে পড়ে - 
এক্কেরে ডাঁহা বৃথা ।

ফিরে এসে স্নান করে এক কাপ চা ! আহা !
অবসরকে প্রয়োজনের অধিক সুযোগ না দিয়ে
তারপরেই, হুড়মুড় করে, আগের রাতের ঝড়
দিনের প্রকাশ্যে আর একবার ঝালিয়ে না নিলে,
( জুল-জুল চোখে তাকানোর সুখে 
আর একবার আশ মিটিয়ে না হাঁপানো হ'লে, )
ও ষষ্ঠিপদ ! ভাটাকে ঠিক সময়ে ল্যাং-টি মেরে
জোয়ার-কে কেমন করে অব্যাহত রাখতে হয়,
সেকথা জানতে কবে আর পেলে ?

আগ্রাসন বিশেষ-ক্ষণে বড্ড কাজের জিনিস ।
ও পক্ষও, দেখবে, বিপুল খুশি, 
সাড়া - তৎক্ষণাৎ সমানতালে দিতে হ'লে ।
সব সবুরে মেওয়া কি আর ফলে ?

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৩

প্রতিক্রিয়া

প্রথমে বুঝতে পারিনি
ভিতরে এত বেশি তুলতুলে তুমি ।
বুঝিনি - মোমের পুতুল
তোমার অবধারিত তুলা-রাশি ।

যদি ব্যথা লেগে যায় আবার,
ভুল করেও বের করি না আর
খাপ থেকে একটিও শব্দের ধার ।

তুমি যখন নতুন ক'রে বোঝাও "ভালবাসি",
আমি সংযত হয়ে, হাত-পা গুটিয়ে শুনি,
তুমি যে কত রকম সুন্দর হতে পারো -
করে এক-এক ক'রে গুনি,
অতঃপর  নিঃশব্দ অনাবিলে হাসি ।

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

জবাবদিহি

অভিনয়
সবচেয়ে কার্যকরী ও নিরাপদ আশ্রয় 
খুঁজে পায় মহত্বের মুখোশে ।
রাজনীতি আর ধর্ম পাল্লা দিয়ে লড়ে যায়
যুগ যুগ ধরে
এক এর পর এক সফল ইতিহাস রচনায় ।

বাস্তবে বিফল মানুষ, আপন অকর্মণ্যতায়,
বাধ্য হয়ে তদবধি মজে থাকে 
গাঁজাখোর-সম অলীক অবাস্তবে,
বহুবিধ বাঁজা বিপ্লবে, পিরিতের গল্পে 
আর পোতিবাদী কবিতায় ।

কিছু একটা নিয়ে ভুলে থাকাই যায়, কারণ -
সফল প্রতিরোধ কদাপি অক্ষমের দায় নয় ।

পুনর্গঠন

জোরসে চমকে যাও,
হঠাৎ যখন প্রথমবার খবরটি পাও -
কেউ, আপন অন্তরে, নতুন রাগিনীর ভোরে,
খুব নিবিড়-ভাবে ভালবাসছে তোমায় !
জীবনের সব ব্যস্ততাকে আচমকা মূল্যহীন লাগে
আর সকলের মাঝে, বাধ্য হয়ে,
তুমি, সহসা, বড় বেশি একা হয়ে যাও ।

তার কারণ - তুমি আবারও নতুন ক"রে
বুক ঢেলে ভালবাসার একটি অদম্য পরিসর
নিজের জন্য খুঁজে পেতে চাও ।
তাছাড়া, একথা অনেকেরই জানা, 
ভালবাসা, সবচেয়ে আশ মিটিয়ে
আপন অবগুন্ঠনটি খোলে অচেনা নির্জনতায় ।

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

দোহন

সন্তান সন্ততি-রা 
নির্ভরতার শ্রেষ্ঠতম আশ্বাসে
রোজ মাকে দুয়ে দুয়ে বেঁচে থাকে,
ক্রমশঃ একদিন যৌবনে পৌঁছায় ।

স্বামী আপন অধিকারের আঙিনায় 
স্ত্রীকে প্রকাশ্যে ও নিভৃতে 
আশ-মিটিয়ে, নিংড়ে দুয়ে নেয় ।
স্ত্রী ও কি 
আপন পরিসরে হার মানতে চায় 
বৈধ দুয়ে নেওয়ার সর্পিল খেলায় ?

অনস্বীকার্য এই বাস্তবের ফাঁক গলে
আমরা আপন যাপনে তারপরেও
চাতক পাখির পারা অনবরত গল্প খুঁজি 
বিরল ভালবাসার !
সর্ব-সুখ লব্ধ হওয়ার পরেও 
বিরহ তাই অসহ্য হাতছানি দিয়ে ডাকে ।
অজানার আহ্বাণে ব্যাকুল পরাণখানি
ঘর-সংসার ছেড়ে 
অন্য কোথাও পালাতে রাজি হয়ে যায় ।

চিত্ত, লোভন আহার 
নতুন বিহারে পেলে যে তীব্রতর সুখ পায় ।

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অধিগ্রহণ

ভণ্ড, বিশ্বাসের অজুহাতে মানুষ ঠকাতেই পারে,
তবু, বিশ্বাস নিজে কোনও ঠকবাজি নয় ।
বিবেক - 
বুদ্ধির চতুর প্রলোভনে পর্যুদস্ত হয়ে
সুখ-শিকারে গা না ভাসিয়ে দিলে,
শ্রদ্ধাশীলের সংযম সামর্থে
আপন কর্তৃত্বে অটুট রইতে পারলে,
বিবেকের স্বচ্ছতার আশীর্বাদে,
সত্যের সরাসরি পরশে, সুস্থ বিশ্বাসের জন্ম হয় ।

বিশ্বাস আর আত্মবিশ্বাসে প্রভেদ কোথায় ?
অটল বিশ্বাসের আপোষহীন ঋজুতা
মানুষে সেই প্রাবল্য দেয়, যে বিরল দক্ষতায়
এ পৃথিবীর প্রতিটি মহামানব 
বাস্তবে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করে গেছেন -

"হওয়াতে পারলে এই জনমেই হয় ।"

রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

Gita Confirms

Artificial Intelligence can remove 
Anything undesired from a photo.
But it fails to remove grief
From the memory of a human being.

Man has a magic wand, otherwise.
He can erase any scar from his memory
By applying a detaching tool,
He is always born with.

The tool is indifference.
Man's will can control and apply
His indifference 
To remove any damn thing negative 
From his existence
And, thus, become literally invincible
That the AI, unfortunately, can not.

Right

Fortune, at times, functions as a catalyst
For producing satisfactory results
Of sheer 'ACTION'

Its ACTION only, by which,
One can absorb time, deep inside,
To covert it into the desired output
And to retain permanently onwards
Like a precious personal property.
.

Else, 
One's inactive and lazy time of life
Being indifferent 
To one's silly expectations,
Has to leave one quite ruthlessly 
And flow, as usual, for good,
Like a river outside that waits for nobody
And refuses retention rights.

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বিচ্ছেদের রোজনামচা

শ্রদ্ধাবোধে তীব্র ঘাটতি সাধারণতঃ বিচ্ছেদের প্রাথমিক কারণ হয় । 

শ্রদ্ধাবোধে পারষ্পরিক দৈন্য থাকলে, বিচ্ছেদের পরে বন্ধুত্বও অলীক কল্পনা মাত্র, যা বাস্তবের মাটি তে দাঁড়িয়ে আদপে সম্ভব নয় । পরমুখাপেক্ষিতার প্রাথমিক প্রমাণ রূপে ঘৃণা ও কুৎসা তখন প্রতিক্রিয়ার দায় নেয় ।

এক বা একাধিক বিশেষ পার্থিব কারণে, শ্রদ্ধা-সহযোগে বিচ্ছেদ যে হয় না, এমনও নয় । প্রাণের টান সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে শূন্যে নাও পৌঁছাতে পারে । তবে তা অতীব বিরল ঘটনা এবং তেমন ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পরে বন্ধুত্ব টিকে থাকাও অস্বাভাবিক নয় ।

আমাদের দেশের অভিনেতা আমীর খান আপন জীবনে কিছুটা এমন উদাহরণ স্থাপনে সক্ষম বোধ হয় ।

"মানুষ হ'লে, কোনও ক্ষেত্রে, কোনও চাপে পড়েই মানবিকতাকে পরিত্যাগ করা চলে না," এটা সর্বদা খেয়াল রাখতে আপন রুচিতে শুধু শুদ্ধ আত্মশ্রদ্ধাবোধের প্রয়োজন পড়ে ।

পরের দৈন্যে প্রতিক্রিয়া-প্রবণ না হয়ে, পরের হাতে আপন জীবনের স্টিয়ারিং তথা ভাগ্য একবারও না তুলে দিয়ে, রুচির আত্মমুখাপেক্ষিতায় আপোষহীনরূপে স্বাধীন হওয়া সম্ভব আর তাহলেই হয় ।  

অন্যের কর্ম ও ব্যবহারের প্রতিক্রিয়া যাদের জীবনকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক এ পৃথিবীতে । তাদের Secend Hander বলে । 

First Hander দের এসব অশান্তি ভোগ করতে হয় না, সচরাচর, আপন অভিন্ন স্বাধীনতার মুক্তাকাশে ।

আশীর্বাদ

আপন চরিত্রে যদি আগ্রাসন থাকে,
তবে তার জন্য লজ্জিত হওয়ার
প্রয়োজন নেই কোনও ।
আগ্রাসন - আদপে কোপন স্বভাব নয়
প্রয়োগ যদি নিয়ন্ত্রণকে প্রতিবার চিনতে পায় ।
আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্যের জনক ।

আগ্রাসন থাকুক
প্রতিটি অন্তর্ণিহিত সীমাবদ্ধতাকে
সচেতন প্রত্যয়ে
বিনাশ করার লক্ষ্যে 
প্রতিনিয়তঃ নিবিষ্ট কর্মে ।

আগ্রাসন থাকুক
লোভ ও মোহশূন্য
সহামর্মিতার অবধারিত নিচু-স্বরে 
অগাধ ভালবাসায় ।

আগ্রাসন থাকুক
জীবনকে নিয়মিত 
অধিকতর সুন্দরে ভ'রে তোলায় ।

আগ্রাসন থাকুক প্রতিটিবারের
প্রতিক্রিয়াহীন ক্ষমায় ।

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

Action Needs Cause

Idleness and easy-type life style
Gathers only useless moss.
A humbug also invites identical loss.

Conviction, on the other hand, adds 
Irresistible resilience to bounce back
With greater power, everytime,
And keeps continuing
Until the last hurdle is finally crossed.

Only the winner, everywhere,
Is always accepted as the natural boss.

সহজ কাজ

আমার দুটি চোখ, 
একই সাথে, একই সময়ে,
শুধুমাত্র একটি দিকেই দেখে 
আর অন্যের দোষ 
নজরে পড়ে যায় বেশ চট করে ।

তার মানে - নিজের দোষ দেখতে পাওয়া
অভ্যাসেই নেই আর ।

তার মানে - প্রতিনিয়ত সংশোধনের অভাবে
জীবন কেবল একতরফা অপচয়ে ক্ষয় হবে ।

তার মানে - আমাকে পিছনে ফেলে
একজীবনে অনেকে অনেক বেশি দূর
অবধারিত এগিয়ে যাবে ।

তার মানে - অপ্রিয় হব বহু মানুষের কাছে
বেকার সত্যবাদী সাজার ব্যাজার তাড়নায় ।

তার মানে - শেষ শ্বাসের ঠিক আগেও,
আর কিছু না-ও পারি যদি,
চোখে-আঙুল-দাদা'-র অকুণ্ঠিত জ্ঞান 
অবৈধ বিতরণ করতে গিয়ে,
অবশেষে চলে যাওয়ার পরে 
অসুন্দর স্মৃতির কারণে
ইতিহাসের অদূরে
ঝেঁটিয়ে বিতাড়িত হওয়ার সম্ভাবনা 
বেশ যথেষ্টই রয়ে যাবে ।

পাগল হতে বসেছি ভেবে ভেবে -
"আমার 'আমি'-র 
অতঃপর কী হবে তবে এই ভবে ?"

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অনস্তি ( Non Existent )

প্রতিবিধান মানেই 
অবধারিত, কিছু না কিছু, প্রত্যুত্তর দিতে হবে
কপট হেসে ?

যে আঘাত হেনেছিলে 
শ্বাপদের পারা সন্তর্পণে লুকিয়ে এসে
তার উষ্ণতা লোহাকে ইষ্পাতে পাল্টে 
অস্তিত্ব হারিয়েছে মহাশূন্যের দেশে ।
অবশিষ্ট বাঁচে নি কিছু আর তার
খামোকা শিশু-সুলভ-বেমানান 
ক্রোধের পরিবেশে ।

পরমুখাপেক্ষা নাছোড় শিকলে বাঁধা পড়ে গেলে
শীতল উপেক্ষাই 
একদিন মুক্তি দিতে পারে তাকে অবশেষে ।
শোধবোধে কিছু দেওয়ার আগ্রহ নেই তাই 
যোগ্য-জবাবে 
ভ্রান্ত আত্মতৃপ্তিকে বেকার ভালবেসে ।

শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অপরাজিতা

জীবন-সফরে স্বামী-সন্তান-সংসারের দায়িত্ব
কম চেপে বসেনি ঘাড়ে ।
এসব সত্বেও হারায়নি 'ভালবাসতে-ভালবাসা' ।
সযতনে গড়ে তুলেছিল, ক্রমে ক্রমে,
অপর দুটি, একান্ত আপন মরমী উদ্যান
স্বনির্ভরতার আর সাহিত্য চর্চার ।

মধ্য-চিত্তের অচির আত্ম-তৃপ্তি 
কি গ্রাস করতে পেরেছিল তারপরেও ?
অনেকটা বয়স পেরিয়ে এসে,
সাদার অবধারিত আধা আক্রমণে 
একফোঁটাও পরাজয় স্বীকার না ক'রে 
রোগা হয়েছিল ফের
অনাকাঙখিত মেদ ঝরিয়ে ফেলে,
কাঙ্খিত পুরুষের এক হ্যাঁচকা টানে,
নতুন ক'রে জীবনকে ভালবেসে,
বুকে জড়িয়ে ধরায় সাড়া দিতে
সটান কোলে উঠে পড়বে ব'লে ।

সময়কে পিছনে ফেলে দিয়ে
হৃদয়ের সবুজকে টাটকা-তাজা রেখে
উদ্যমের উপর্যুপরি, সুনিপুণ বিনিয়োগে
'বিরল তৎপরতা' আর কাকে বলে ?

বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সেযাবৎ

প্রতিটি ভালবাসার সম্পর্ক 
নীরব যতনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য দাবী করে ।

টেকেন-ফর-গ্র্যান্টেড - 
মানে অবহেলা-কে আমন্ত্রণ হতে হয়,
সিক্ততার শিশিরখানি
অসময়ে, বেখেয়ালে হারাতে পারে ।
.
ছবি - বন্ধুর দান ।

তথৈবচ

জীবনের আবডালে
প্রতিনিয়ত কবিতা খুঁজে পায় না যারা
তারা ততদূর ভালবাসতে শেখে না,
যতদূর হ'লে নিজেকে সমর্পণ করা যায় 
অধিকতর গুছিয়ে আর সুন্দর ক'রে
নিত্য জীবনের দ্বারে
সবিনয়ে, যথোচিত শ্রদ্ধা ও যত্ন সহকারে !

কত মানুষ যে 
কোন-না-কোন অলীকের মোহে আটকে প'ড়ে
আপন বাস্তব গুজরাণকে অবহেলা করে
ও অনাকাঙ্খিত শারীরিক স্থুলতা অর্জনের দ্বারা
অসময়ে চেহারার ধার খুইয়ে ব'সে
ন্যূনতম চেতনার অপারগতা-কেই প্রমাণ করে !

তথৈবচ

জীবনের মধ্যে 
প্রতিনিয়ত কবিতা খুঁজে পায় না যারা
তারা ততদূর ভালবাসতে শেখে না,
যতদূর হ'লে নিজেকে সমর্পণ করা যায় 
অধিকতর গুছিয়ে আর সুন্দর ক'রে
নিত্য জীবনের দ্বারে
সবিনয়ে, যথোচিত শ্রদ্ধা ও যত্ন সহকারে !

কত মানুষ যে 
কোন-না-কোন অলীকের মোহে আটকে প'ড়ে
আপন বাস্তব গুজরাণকে অবহেলা করে
ও অনাকাঙ্খিত শারীরিক স্থুলতা অর্জনের দ্বারা
অসময়ে চেহারার ধার খুইয়ে ব'সে
ন্যূনতম চেতনার অপারগতা-কেই প্রমাণ করে !

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অবগতি

যে কোনও বাঞ্ছিত সুখ
পেয়ে, পুরোনো হ'তে-হ'তে,
একদিন বিস্বাদ ঠেকে
বঞ্চনার তিক্ততাকে ডাকে
চির-অকৃতজ্ঞ
অভ্যাস বাবাজির ফাঁদে পড়ে ।

সাময়িক রোমাঞ্চের চাহিদা
যদি তথাপি না মরে,
সুখের সখ পূরণের সামর্থ
বাধ্য ফুরিয়ে এলে
তখন কোন পানে যাবি আর
নূতন ক'রে, ওরে বাবা হ'রে ?

রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

দায়

"বিদায়" শব্দটি শোনামাত্র
অবচেতনে আতঙ্ক জাগতে হয় আশু-বিরহের ।
"বিদায়" বলে থাকে মানুষ - কখনো অভিমানে,
আবার কখনো বাধ্য হয়ে ।

শরীরকে বিদায় নিতেই হয় একদিন ।
মন বিদায় চাইতে পারে যুক্তিবুদ্ধির নির্মমতায় ।
এইসবের পরেও যে পারে না বিদায় জানাতে
সে হলো পরাণ ।

যে সুর বেজেছে একবার যুগলবন্দী রাগে,
সেই সুর সে ভুলতে পারে না কখনো আর ।
"বিদায়" তাই পায় না স্থায়িত্ব খুঁজে, ফলতঃ
দায়মুক্ত করে না পরাণকে শেষ অবধি ।

শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুর

কত না সুর বাজায় এ দুর্লভ জীবন !
কেউ-কেউ কিছু-কিছু শুনতে পায় ।
কেউ কাঁদতেই থাকে গোপনে
আর কেউ আনন্দে বিভোর হয়ে যায় ।

আসল কথাটি হলো ভাগ না নিতে চেয়ে 
আপন ভাগটি আগ বাড়িয়ে উজাড় করা  ।
তবু শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ে আছ তুমি এখনো ?
জীবন যে অমলে মুক্তির গানও শোনায় ।

স্থিতপ্রজ্ঞ

একটি অসাধারণ সম্পর্ক
'মানুষদুটির যে কোনও একজন
অথবা উভয়েই
সাধারণ অথবা অসাধারণ কিনা'
তার উপরে আদৌ নির্ভর করে না ।

সম্পর্ক অসাধারণে পরিনত হয়ে
যুগল-ঐতিহ্যে পাল্টে যায় ক্রমশঃ, 
ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদের মত
বিরল আভিজাত্যে, -
কেবলমাত্র
সমর্পিত, একগামী নিষ্ঠার দ্বারা অর্জিত 
পারষ্পরিক, স্বাভাবিক বিশ্বাসের প্রতি 
যৌথ, নিরবচ্ছিন্ন প্রত্যয়ে ।

একটি সম্পর্ক অসাধারণ হতে পারার
প্রথম শর্তটি হলো - তাদের সম্মুখে প্রতিবার
প্রতিটি পর-প্রলোভনের আবশ্যিক পরাজয় ।
মানুষদুটির কেউ, একই সময়ে,
ভিন্ন নৌকায় লঘু পা কদাপি রাখে না ।

ভালোবাসা

অধিকারবোধহীন

কিছুই যায় আসে না
যোগাযোগ যদি নাই থাকে তেমন আর
বহুদিন তোমার আমার ।
রয়ে যাবে অনুভবের অদম্য বিশ্বাসে ।

দেখা হয়ে যাবে, আচমকা হলেও,
সুরে সুর একবার মিলেছিল ব'লে,
যে কোনও অবসরের পরেও
ফের মুখোমুখি হতেই -
আলাপ পেরিয়ে,
জোড়ের পথে অবধারিত জুড়ে,
ঝালাতে উদ্দাম হবই হব আমরা আবার ।

ভালবাসা রাজা হলে
অনুগত প্রজা হয়ে রইবে অনধিকার ।
.

শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

রুচি

এমনকি, বিবাহের পরেও ভালবাসা 
স্বতঃপ্রণোদনের স্বাধীনতা চায় ।
না, এ কোনও অপরাধ নয় ।
ভালবাসা যে কোনও পছন্দের দিশায় 
বাড়তেই পারে অনাবিলে
শ্রদ্ধাজনিত প্রশংসার ডাকে ।

বাড়লে, যথারীতি আনন্দই দেয়,
যতক্ষণ তুমি আপন পরাণের 
আন্তরিক সম্পদকে 
পার্থিব মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে
অপর পার্থিব শরীরের উপরে
সাময়িক অধিকার না কিনতে চেয়েছো ।

প্রতিটি অবৈধ, আড়ালে লুকিয়ে রাখে
সযতনে,  অবধারিত হতাশার পরাবার ।
.

বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

শিক্ষিত

রাত দুটো বেজে গেছে, বাহন পাওয়ার আশা 
মেনে নিয়েছিল বাধ্য পরাজয় ।
দুরুদুরু বুকে সাত কিলোমিটার হাঁটা
মনে জাগাতে বাকি রাখেনি যখন একটিও ভয়,

ঠিক তখুনি শিখিয়ে দিল পথ -
"শ্রদ্ধা সহযোগে 
মাটিতে রাখলে এক এর পর এক পা,
বিশ্বস্ত গন্তব্য আদপে দূরে নয় ।"

আরও একটা কথা শিখিয়েছিল পথ ।
"জীবনের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ হতে 
আপন শ্রদ্ধার ঐশী যোগ্যতায়,
বিনয়ী সাক্ষাৎকারে, সমর্পণ-মহিমায়,
নতুনতর শিক্ষককে 
পদে-পদে আহরণ করতেই হয় ।'

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ভারসাম্য

প্রতিটি ভোর এক-একটি সুবর্ণ-সুযোগ
নিজেকে প্রাণ ভরে ভালোবাসবার ।
পনেরো মিনিট প্রাণায়াম, কিছু হালকা ফ্রী-হ্যাণ্ড
আর তার ঠিক পরে 
অন্ততঃ কুড়ি মিনিট দ্রুত হাঁটার ।

জীবনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর শিল্পকর্ম হয় না আর ।
দূরে থাকো অথবা নিকটে,
আমার সাথে পাল্লা দিয়ে
সমানতালে নিজেকে ভালোবাসবে তুমি ?
নাকি, মেনে নেবে নারী-সুলভ
ভারসাম্যহীনতার নিয়তি 
একতরফা, বারংবার,
আত্ম-যতনে নিজেকে পিছিয়ে রাখবার ?

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

দ্বান্দ্বিকতা

মন বুদ্ধি দিয়ে যুক্তি সাজায় ।
যুক্তির জগতে ধার সমাদৃত, মসৃণতা নয় ।
যার যুক্তির ধার যত বেশি
সে তত শ্রেষ্ঠ ব'লে 
লোকসমাজে প্রশংসা আদায় করে নেয় ।

অপরপক্ষে, মসৃণতা সুরের জগৎ । 
সুরের ঢেউ সম্ভব কেবল পরাণে ।
একই প্রকার সুর 
একে অপরকে সহজেই চিনতে পারে
আর তেমনটা হলে
মনের শাসন আর না মেনে
শুদ্ধ প্রাণের টানে, কোনও এক ফাঁকে,
একে অপরের সাথে মিলতে বেদম উতলা হয় ।
এরে মানুষ ভালবাসা বলে ডাকে ।
প্রাণের টানে মনের বাহাদুরি নেই ।

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩

দৌড়

জীবনের চেয়েও সেরা কবিতা হয় না আর,
যাকে প্রত্যেকদিন, নতুন উদ্যমে,
উন্নততর স্তরে রচনা করতে চাওয়া
প্রতিটি জীবনের প্রথম নৈতিক দায় ।

কে কোন অবধি পারে,
তা, অবশ্য, তার অশ্বশক্তির উপরে নির্ভর করে ।
সাধারণ মানুষ যেখানে নিত্য
নিজেকেই ঠিকঠাক ম্যানেজ করতে পারে না,
বারংবার দিশাহীন হয়,
সেখানে, নেতাজীর মত হর্স-পাওয়ার হ'লে,
একটা গোটা দেশের মানুষের মনকে
একসাথে বুলডোজ করে
আপোষহীন যুদ্ধে নামাতে পারে
অবধারিত স্বাধীনতা লাভের পানে ।

একটা নয় হাজার হর্স-পাওয়ারের ইঞ্জিন
ঠেসে-ভরা খান চল্লিশ বগিকে
কতই না অনায়াসে টেনে নিয়ে যায়
হাজার হাজার কিলোমিটার ।

আজকাল
জীবন হামেশাই ফ্যাক ফ্যাক করে হেসে ফ্যালে
আমার দিকে তাকিয়ে ।
"হাসছো কেন" শুধলে বলে -

"হর্স-পাওয়ার কত তোমার ?
তদবধি ইঁদুর কোথাকার !
ক্রমাগত চেষ্টার দ্বারা
আপন অস্তিকে প্রসারণে না পেলে
কোনও অভীষ্ট কেষ্ট আখেরে বুঝি মেলে ?"

বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩

বিপরীত

ভুল বনাম দোষ

অভিযোগের আঙুল ওৎ পেতে থাকে আশেপাশে, ভুল করা মাত্রেই নির্মম সমালোচনার । যদিও ভুল করার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আশীর্বাদ আর হয় না মানবজীবনে, কারণ - নিরন্তর শিক্ষার প্রাথমিক সোপানটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হলো অনাকাঙ্খিত ভুল ।

এ জগতে সবচেয়ে ধুরন্ধর বিচক্ষণ তারাই, যারা নিজে ভুল করার আগেই নিঃশব্দে আত্মসংশোধনের অতি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি মুহূর্তে নিয়ে নেয় পরের ভুল প্রত্যক্ষ করার আকস্মিক সুযোগে ।

সাধারণ মানুষ জীবনের শিক্ষাদের গ্রহণ করে, মূলতঃ, আপন ভুল সংশোধনের মাধ্যমে । তবে, এই সংশোধনে নিরন্তরতার হার পার্থক্য গড়ে দেয় মানুষে-মানুষে । কারও সংশোধনের হার বেশ দ্রুত, আবার কারও কারও পক্ষে একই ভুল দশবার করার পরেও সংশোধন কঠিন হয়ে দাঁড়ায় । যার অভ্যাসে সংশোধন যত কম, সময়ের সাথে সাথে সে ততই পিছিয়ে পড়ে অন্যদের তুলনায় । এরাই জীবনের শিক্ষণ-কক্ষে প্রকৃত ব্যাক-বেঞ্চার । 

পুরুষ এইক্ষেত্রেই নারীর কাছে ব'লে ব'লে গোল খায় প্রায় প্রতিটি দাম্পত্যে, ফলতঃ হুকুম তামিল করতে বাধ্য হয় যুদ্ধে পরাজিত সৈনিকের মত বিপাকে পড়ে ।

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

স্থায়ী ও অস্থায়ী

প্রকৃতি বিবশ করে । মানুষের মন তাই ভালবাসলেই অপর মানুষটিকে আপন শরীরের অধিকারে চায় । একবার, দুইবার, তিনবার, বা আরও বেশি পেলে, তারপরে খেয়াল হয় - "মানুষটিকে পুরোটা পাওয়া হলো না তো । শরীরে পাওয়ার পরেও বেশিরভাগটাই বাকি রয়ে গেছে ।পুরোটা আছেই, তবে অন্য কোথাও, অন্য কোনও ভাবে ।"

যারা পেল না শরীরে, তারা বাধ্য হয়ে, মনের আশু সীমা পেরিয়ে, ডুব দেয় পরাণের অনন্ত গভীরে । অধৈর্য যারা, তারা অল্প একটু খুঁজেই, হাঁপিয়ে উঠে আশা ত্যাগ ক'রে । "ঠকে গেলাম" ব'লে বিলাপ করে অথবা গালাগালি দেয় । যাদের আত্মবিশ্বাস হার মানতে রাজি না তারপরেও, তাদের অন্তর-কলস নিঃশব্দে ভরতে থাকে । বাইরে দেখা যায় না কিছু । তবে, শেষ রইতে হয় প্রতিটি প্রয়াসে । 

রাধা-মন এভাবে, একটু একটু করে, মীরার পরাণে নিজেকে পাল্টে নেয় । পার্থিব জীবনের নিত্য-অনিত্যের পরেও জীবনের অপর এক উজ্জ্বলতর ও স্থায়ী অর্থ প্রতিভাত হতে পারে অন্তরে । সুখের পথে রওনা দিয়েছিল যারা, তারা যদিও শেষ অবধি গোহারা হারে অশান্তি ও প্রেমহীনতার দ্বারে, তাদেরই মধ্যে বিরল কিছু আত্মবিশ্বাস আপন বিচক্ষণতায়, সঠিক সময়ে পথ পাল্টে নিয়ে আলোকিত আনন্দের বিরল উৎসটিকে অবাধ স্বাধীনতায় নিজেতে খুঁজে পায় । এই সাক্ষাৎকারটিই মানবজীবনে একমাত্র শান্তি ও চির-প্রেমময় ।

অধিকাংশ মানুষই বোঝে না তারপরেও - সুখ সর্বদা সাময়িক, আনন্দের মত চিরন্তন ও প্রাণময় হতে পারার যোগ্যতা ও অধিকার তার নেই ।

গুরু ও লঘু

কিসের উপরে নির্ভর করে জীবনের সৌকর্য-জনিত সন্তুষ্টি ? সে কোন কাজ করে, - তার উপরে ? মনে হয় নয় । 

'প্রশ্রয়' শব্দটির অন্তর্ণিহিত অর্থ হলো - জীবনের দান, একটি অতীব গুরুতপূর্ণ সুযোগের অবহেলাজনিত অপমৃত্যু । 

একটি জীবনের সাফল্য-জারিত তৃপ্তি নির্ভর করে - মানুষটি তার অবসরদের কোন অবধি মূল্যবান করে তুলতে পারে, দিনের পর দিন ধরে, তার উপরে । মানুষটির অগ্রাধিকার-চেতনা ( Sense of Priority ) এক্ষেত্রে প্রাথমিক দায়িত্ব মাথায় তুলে নেয় ।

তারাই পারে, যারা জানে - যাপনের প্রতি সুযোগে, অবসরের গুরুত্ব বুঝে, তার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা ও সহানুভূতিশীল সুবিচার অবিচলরূপে ধারণ করতে পারাই একটি জীবনের প্রবুদ্ধতর আত্মসাক্ষাৎকারের শ্রেষ্ঠতম উপায় । যাপন চরৈবেতির এযাবৎ অনাগত ভ্রমণকে অন্তরে আপ্যায়নের মরীয়া তাগিদ যারা পলে পলে অনুভব করে, তারা মানে - জীবনের একটিও অবসর আরাম ও আয়েসে অপচয়ের মত সস্তা, হালকা অথবা খেলো নয় ।

সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

মৃত

বড্ড বেশি জেনে ফেলায় হারিয়ে গেছে 
কৌতুহল ও আগ্রহের সাবধানী পরশ
অপর মানুষটিকে
প্রতিদিন নিত্য-নূতন রূপে আবিষ্কার করার ?

ক্ষান্ত হয়েছে, সমানতালে, আপন পরাণ
নিজেকে সুন্দরতর পরিবেশনের চমৎকারে
উপহারের ডালিতে টাটকা ফুলে সাজানোয় ?

এখন কাজের মধ্যে কাজ
কেবল মনের লাভ-লোকসানের 
যুক্তি-অন্বেষণে
যতদূর সম্ভব নিজেকে অকাট্য প্রমাণ করায় ?
ফলতঃ, রোজ বাড়ে 
একতরফা অশালীন অভিযোগ 
ও কটু শব্দের প্রয়োগ তীব্র ক্ষমাহীনতায় ?

একথার একটাই মানে ।
দায়িত্ব হাজার গণ্ডা নিতেই পার রোজ-রোজ ।
নৈকট্যেও হয়তো দ্বিধাহীন রূপে সফল 
রোজ রাতে ক্ষুধার্ত শরীর-আধার ।

তবু তুমি তাকে আদপেই ভালবাসো না আর ।

শনিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৩

সুসময়

কী ভীষণ সাহসী, সরাসরি
এবং মধু-র চেয়ে মধুর আর গাঢ়
আভিজাত্যের রঙ তোমার শব্দ-পরশে ।
পেয়ে, শিউরে উঠে,
বাধ্য হয়ে নির্বাক হয়েছিলাম ।
জীবন হঠাৎ আকর্ষণীয় সাজ ধরতেই পারে,
হৃদয়ের হয় না তথাপি জীবনবীমা ।

তারপরে বিরল অবসরে
স্মৃতির খাতাটি খুলে বসি আজও
আর সমান বিস্ময়ে আস্বাদন করি
সে সুসময়ের বিরল আশীর্বাদে
ভালবাসার অনাবিল পরিসরে
বনেদি পরাণের 
দ্বর্থহীন, স্বভাবসিদ্ধ, উত্যুঙ্গ পরিক্রমা ।

গভীরতর

জীবনের পথে চলতে চলতে
একথা-সেকথা বলতে বলতে
খেয়ালই করনি
একটু-আধটু উঁকি দিতে দিতে
অতি-বজ্জাত কেষ্টার কারসাজিতে
কখন আনমনে বুক থেকে
পুরোটাই পারে বেরিয়ে পড়তে
এযাবৎ অতি সাবধানে আগলে রাখা
বিরল-গন্ধী, কোমলতম মাখন-ভাণ্ডার,
অগাধ, অবাধ, ভালবাসা তোমার ।

বেরিয়ে পড়েই, বেড়েও গেছে পরিমানে এত,
আঁটবে না তাকে ফেরালে ঘরে আবার !

এমন একরাশ ঝলমলে আত্মপ্রকাশ
কোনওমতে লুকিয়ে রাখা যায় ?
বিপদ হলো বড় ! সম্বিত ফিরলে -
ঠাণ্ডা মাথায়
খুব ভালো ক'রে ভেবে বল তো, 
রইলো এবার ঠিক আর কী করার !

বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৩

The Dancing Tide

Everyday life is a passing show
That you shouldn't trust.
Yet its quite cool 
And genuinely beneficial for you,
If you can perceive 
And execute the must.

BE FAST.

Cause, every opportunity
Offered on your palm
Is as volatile as pure spirit.
If you don't use it up 
Within the given limit of time,
It will silently evaporate 
With a mocking smile
While refusing to last.