শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

বিপত্তি

প্রেম করতে গেলেই
সেক্স যদি উপচে এসে
লাগাম কেড়ে নেয় প্রতিবার—
তবে সত্যিই
ঘোড়াটা নয়,
অশ্বারোহীরই বিপদ।

দেখো, হৃদয়ের ভেতরে
একটা নরম নদী থাকে—
সে চায় ছুঁয়ে যেতে,
ধীরে, শব্দহীন,
চাঁদের আলো মেখে।
কিন্তু শরীরের ভেতরেও
আরেকটা সমুদ্র আছে—
তার ঢেউগুলো
কোনো নকশা মানে না,
তারা ভাঙতে জানে,
ডুবাতে জানে,
জোর করে নিজের ভাষা চাপিয়ে দিতে জানে।

তখন প্রেম দাঁড়িয়ে থাকে
দুই জলের মাঝখানে—
একদিকে শান্ত নদীর ডাক,
অন্যদিকে উত্তাল লবণাক্ত হাহাকার।

প্রতিবার যদি
সমুদ্রই জিতে যায়,
তবে তো মানচিত্র বদলে যায়—
নদীর নাম মুছে যায়,
রেখে যায় শুধু
ভেজা বালির অস্পষ্ট স্মৃতি।

প্রেম তো ছিল
একটা দীর্ঘ হাঁটা—
আঙুলে আঙুল রেখে
অচেনা শহরের ভিতর দিয়ে,
একটা ধৈর্যের শিল্প,
একটা ধীর আলোকের জন্ম।

কিন্তু যখনই
তাড়াহুড়ো করা আগুন এসে
সবুজ ঘাসে লেগে যায়,
তখন
ফুলগুলো ফুটবার আগেই
ছাই হয়ে যায়।

তাই
যদি ভালোবাসো,
তবে লাগামটাকে
পুরো ছিঁড়ে যেতে দিও না।
কারণ
যে প্রেম নিজেরই ঘোড়াকে
চিনতে পারে না,
সে শেষ পর্যন্ত
নিজের পথই হারিয়ে ফেলে
একটা অদ্ভুত, উষ্ণ,
কিন্তু দিকহীন অন্ধকারে।

তবু—
সব বিপদের মাঝেও
একটা গোপন শিক্ষা লুকিয়ে থাকে।
শরীরের ঝড়কে
অস্বীকার করা যায় না,
তাকে বশ মানাতেও নয়—
শুধু শেখাতে হয়
কোন দরজায় থামতে হয়,
কোন স্পর্শে ধীরে যেতে হয়,
কোন আগুনকে
আলো হয়ে উঠতে হয়।

কারণ
সব তাড়না পাপ নয়,
সব স্পর্শ ক্ষুধা নয়—
কিছু স্পর্শ
আসলে ভাষা খুঁজে পায়
দুই আত্মার মধ্যে।
যে প্রেম
নিজের উত্তাপকে
শুধু ভাঙতে নয়,
গড়তেও শেখায়—
সেই প্রেমই
সমুদ্রকে নদী বানাতে পারে
একদিন।

তখন ঢেউ আর
ধ্বংসের কথা বলে না,
তারা হয়ে যায় তাল,
হৃদস্পন্দনের মতো নিয়মিত,
নিঃশব্দে শক্তিশালী।
প্রেম তখন আর
হারায় না নিজেকে—
সে জানে,
কখন থামতে হয়,
কখন জ্বলে উঠতে হয়,
কখন নিভে গিয়ে
আবার জন্ম নিতে হয়।
আর তখন—
লাগামটা আর শত্রু থাকে না,
সে হয়ে যায়
একটা নরম দিশা,
যে দিশা ধরে
দুজন মানুষ
হারিয়ে না গিয়ে
আরও গভীরে পৌঁছাতে পারে।

কারণ শেষ পর্যন্ত—
প্রেম মানে শুধু আগুন নয়,
প্রেম মানে
আগুনের ভিতরে দাঁড়িয়েও
নিজের আলোকে চিনে নেওয়া।