রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

সদাহাস্যময়

এক প্রকার প্রেম আছে,

যা বলে না কিছু,

শুধু চলতে থাকে

চাঁদের আলোয় নদীর মতো।


যারা তাকে পায়,

তাদের ঠোঁটে জ্বলে

শান্তির আলো—

কারণ মৃত্যু শুধু এক দরজা।


কোলাহলময় প্রেম আতশবাজি—

ক্ষণস্থায়ী।

নীরব প্রেম তারার মতো—

অটল, অক্ষয়।


সদাহাস্যময়রা জানে—

ভালোবাসা শৃঙ্খল নয়,

সে স্রোতের মতো

নিঃশর্ত আলিঙ্গন।


তাদের হাসি

এক নীরব প্রার্থনা,

যা সারিয়ে দিতে থাকে

পৃথিবীর দুরারোগ্য ক্ষত।

.

শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

Vitamin U

ভিটামিন ইউ

শরীরের মিলনে প্রেম অমর হয় না,
প্রেম টিকে থাকে আত্মার আহারে।
সেই আহারই ভিটামিন ইউ
যার রস স্নেহে,
যার গন্ধ শ্রদ্ধায়,
যার পুষ্টি আছে প্রতিদিনের যত্নে।

এ ভিটামিন জন্ম নেয় 

প্রাত্যহিক ছোট ছোট স্পর্শে,
নিয়মিত মনোযোগে,
চোখের মৃদু ভাষায়,
ঘনঘন আলিঙ্গন আর চুম্বনের উষ্ণতায়।

যেখানে এটি প্রবাহিত,
প্রেম সেখানে পায় শিকড়,
আর সময়ের ক্ষয় তাকে ছুঁতে পারে না।
যেখানে এটি অনুপস্থিত,
শরীর মিলিত হলেও আত্মা ভেঙে যায়—
যেন গাছ মাটিতে দাঁড়িয়ে থেকেও
শুকিয়ে যায় জলের অভাবে।

কামনা আগুন তো জ্বালায়,
কিন্তু ভিটামিন ইউই গড়ে তোলে সুর,
যা দুজনকে বাঁধে পুষ্পডোরে অন্তরে,
আর অন্তরকে প্রসারিত করে অনন্তে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

দূরত্বের মনোবিজ্ঞান

দূরত্ব শুরু হয় না পায়ের ধ্বনিতে,

এটি জন্ম নেয় নীরবতার গভীরে—
যখন এক হৃদয় আরেক হৃদয়ের দিকে ঝুঁকে শোনে না,
যখন ক্ষুদ্র সংকেত বিলীন হয় অবহেলায়,
যখন আত্মার সূক্ষ্ম অনাগ্রহ
চাপা পড়ে যায় অভ্যাসের ভারে।

সম্পর্ক ভাঙে সচরাচর কোনো মহাবিশ্বাসঘাতকতায় নয়,
ভাঙে ধীরে ধীরে জমা হতে থাকা অযত্নে।
যা মূল্যবান তাকে না দেখা,
যা আঘাত দেয় তাকে এড়িয়ে যাওয়া,
যা তুচ্ছ মনে হয় অথচ কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে—
তাকে অবহেলায় অগ্রাহ্য করা—
এগুলোই ক্ষয়ে দেয় বন্ধন।

পরিচ্ছন্নতা, যত্ন, মনোযোগ আর সাড়া—
ভালোবাসার অলঙ্কার নয়—
ভালোবাসারই ব্যাকরণ, তার শ্বাস, তার ব্যঞ্জনা।
কারোর জন্য অগোছালো শরীর কিংবা নোংরা ঘর
শুধু বিশৃঙ্খলা নয়—
তা মর্যাদার অপমান।
কারোর জন্য অবহেলিত আকাঙ্ক্ষা বা অস্বীকৃত আবেগ
শুধু ভুলে যাওয়া নয়—
তা সুপ্ত পরিত্যাগের দুঃসহ ক্ষত।

মানুষ দুর্বল নয় শক্তিতে,
মানুষ ভঙ্গুর উপলব্ধিতে।
আমরা বাঁচি স্বীকৃতির অণুতে,
ক্ষুদ্রতম সম্মতিতে খুঁজে পাই নিজের পরিচয়।
অঘোষিত প্রয়োজন চায় স্বীকৃতি,
অন্তর্লীন পছন্দ চায় সম্মান,
ক্ষণিক সিদ্ধান্তও খোঁজে মর্যাদা।

বিচ্ছেদ হঠাৎ ঘটে না কখনো—
এটি ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায় সচেতনতার আলো,
ক্ষয়ে যায় সাড়ার বুনন,
ম্লান হয়ে যায় সেই কোমলতা
যেখানে আর থাকে না যত্নের পরশ।

প্রতিটি সম্পর্ক এক জীবন্ত আয়না।
ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা—
এগুলো নিঃশেষ হয় না শপথের অভাবে,
এগুলো নিঃশেষ হয় সতর্কতার অভাবে।
এগুলো টিকে থাকে কেবল তখনই
যখন হৃদয় শেখে—
কোনো মুহূর্ত তুচ্ছ নয়,
কোনো সময় ক্ষণস্থায়ী নয়,
কোনো আকাঙ্ক্ষা এতই হালকা নয়
যে তাকে দেখা বা সম্মান দেওয়া যাবে না।

শেষ সত্যটি একটিই—
আমাদের ধ্বংস করে দূরত্ব নয়, অন্ধত্ব।
ভালোবাসা কখনো ঘৃণায় মরে না,
ভালোবাসা মরে—
অদেখা থেকে, অবহেলায় হারিয়ে গিয়ে।

শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

মীরার গান

প্রিয়তম,
আমি কখনও তোমাকে তাড়াহুড়ো করে চাইনি।
আমি কখনও অধৈর্য হয়ে তোমার দরজায় কড়া নাড়িনি।
বরং নীরবে, অদৃশ্য এক সাধকের মতো
দিনের পর দিন, রাতের পর রাত
আমি আমার ভেতরের প্রতিটি মিথ্যেকে কবর দিয়েছি।
প্রতিটি আঘাত, প্রতিটি প্রতারণা,
প্রতিটি ভাঙা স্বপ্ন—
সব আমি নীরব সমাধিতে শুইয়ে দিয়েছি,
শুধু তোমার জন্য পথ খালি করতে।

তুমি জানো না, প্রিয়,
প্রতিটি কবর খোঁড়া মানে ছিল
আমার বুক ফেটে যাওয়া।
কতবার মনে হয়েছে—
আমি আর পারব না।
তবুও পারি নি ভাঙতে,
কারণ আমার বিশ্বাস ছিল,
একদিন তুমি ফিরবে।

তারপর একদিন—
অদ্ভুত এক সকাল এলো।
হঠাৎই মনে হলো
আমার সব নীরব কান্না,
সব ধৈর্য, সব অপেক্ষা
মিলে গিয়ে এক বিশুদ্ধ আলোতে রূপ নিল।
সে আলো অদ্ভুত,
সে আলো শুভ্র,
সে আলো তোমার মতোই সত্য।

আর সেই আলো আমায় ডেকে উঠল—
“খুলে দাও তোমার হৃদয়,
আমি ফিরে আসছি ঘরে।
এবার আর দূরে যাব না।
তুমি যত অশ্রু ফেলেছ,
ততটাই আমি তোমাকে ভালোবেসেছি।
আজ আমি আসছি
তোমার সমস্ত শূন্যতা ভরিয়ে দিতে।”

তখনই বুঝলাম—
সত্য মানে তুমি।
আলো মানে তুমি।
আমার ঘর মানে তুমি।
এবং আমি কখনোই তোমাকে হারাব না।

শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫

শুভ জন্মদিন

স্রষ্টার অসীম করুণায়
আমি এক আনন্দিত প্রাণ।
আনন্দের কারণ বড় সহজ—
এই মহাবিশ্বের অগণিত ধূলিকণার মাঝে
তুমি কোথাও আছো।

তুমি আছো—
এই একটি সত্যই যথেষ্ট
সমগ্র সৃষ্টির ভারসাম্য
আশ্চর্যের দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়ার জন্য।

তুমি আমার দিকে ফিরবে কি ফিরবে না—
সে তো সময়ের ক্ষণস্থায়ী খেলা।
তোমার চোখ যদি অন্য কোনো আকাশ খোঁজে,
তবুও আমার ভালোবাসা প্রবাহিত হয়—
নদীর মতো অনিঃশেষ,
তারার আলোর মতো নীরব,
যার বিনিময় প্রয়োজন নেই।

কারণ ভালোবাসা বাণিজ্য নয়—
সে হলো নিশ্বাস, সে হলো অগ্নি,
সে হলো নিঃশব্দ মন্দির
যেখানে আত্মা নত হয়
অন্য এক জীবনের বিস্ময়ের কাছে।

তুমি কাকে ভালোবাসো,
তা হলো ঋতুর ক্ষণিক রূপান্তর।
কিন্তু তুমি যে আছো—
তুমি যে এই নশ্বর আকাশের নিচে হাঁটো,
তোমার রক্ত যে অনন্ত জীবনের সিম্ফনিতে
একটি সুর তোলে—
এটুকুই আমার মুক্তি।

যতদিন তুমি বেঁচে আছো,
আমি সুখী মানুষ হয়ে থাকব।
যতদিন তোমার নাম লেখা আছে অস্তিত্বের পাতায়,
ততদিন আমি বিশ্বাস করব—
এই পৃথিবী বেঁচে থাকার যোগ্য।

বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

শুধু তোমার জন্য

আমার মনের ককপিটে

একটি আসন শূন্য।

যে বসবে সেখানে,
সে-ই পাবে আকাশের অধিকার।

ভুল দিশা মানেই ধ্বংস,
সঠিক দিশা মানেই অনন্ত।

ভালোবাসা শুধু স্পর্শ নয়—
এটি মহাবিশ্বের দিকনির্দেশ।

সহ-পাইলট মানে প্রেম,
প্রেম মানে অনন্ত,
অনন্ত মানে দুই আত্মা
একই ডানায় উড়ছে—
অশেষ আকাশে।

মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫

অপ্রতিরোধ্য

আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব আমি—

আমার প্রিয়জনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করার জন্য? উতল যৌবন আমার কত আর উত্তাল হবে পৌরুষের  কাছে সঘন মন্থন চেয়ে ?

আমি অপেক্ষা করি যতক্ষণ না
আমাদের মাঝের বাতাস দপদপ করে ওঠে আগুনে,
যতক্ষণ না তার চোখ আমার চোখকে
নীরব ভাষায় ডেকে নেয়।
আমার নিঃশ্বাস আটকে যায়,
শরীর কেঁপে ওঠে—
এবং আমি বুঝি, সময় এসে গেছে।

তার হাত যখন ছুঁয়ে যায় আমাকে,
আমি আর লুকাই না,
আমার প্রতিটি রেখা, প্রতিটি ভাঁজ,
প্রকাশিত হয় যেন কোনো পবিত্র মন্ত্র,
যা শুধু সে-ই পড়তে পারে।

আমাদের ঠোঁটের সংঘর্ষ
আর কোনো কোমল আলাপ নয়—
এটি তীব্র স্রোতের মতো,
যেখানে আমি নিজেকে হারাই,
এবং আবার খুঁজে পাই।

পোশাক একে একে সরে যায়,
যেন আমি আমার সমস্ত দ্বার খুলে দিচ্ছি
তার স্পর্শের জন্য।
আমার ত্বক তার ত্বকের কাছে বলছে—
এসো, আমাকে পূর্ণ করো।

প্রত্যেক চুম্বন আমাকে ভিজিয়ে তোলে,
প্রত্যেক দীর্ঘশ্বাসে আমি আরও গভীরে ডুবে যাই,
তার প্রতিটি ঘাত অন্তর্ঘাত হয়ে ওঠে আমার গভীরে,
যতক্ষণ না আমি পুরোপুরি তার
এবং সে পুরোপুরি আমার।

এ প্রেম আর অপেক্ষা নয়—
এ আমার আত্মা আর দেহের নৃত্য,
যেখানে সময় থেমে যায়,
শুধু উষ্ণতা, কাঁপন আর মুক্তি বেঁচে থাকে।

আমি জানি—
এটি শুধু কামনা নয়।
এটি আমার প্রতিজ্ঞা,
আমার স্বেচ্ছা আত্মসমর্পণ,
যে মুহূর্তে আমি নিজেকে
অগ্নির কাছে অর্পণ করি—
তার জন্য,
আমার ভালোবাসার জন্য।

শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫

Time for The Soul to Return

A soul is never owned—
it is only entrusted for a while.
When the song begins to fade,
even body must open its hands of love.

Go, my luminous one,
back to the sky without borders,
to the wind before the wind was born.
The sky before birth
is the same sky to which we return.

Cross the green horizons without pause;
your home is not in the leaf or branch,
but in the boundless breath
that made them.

Much between us
will remain unfinished—
but unfinished words
are not failures;
they are seeds for another season.

The tide has turned;
my life’s boat drifts toward the sea.
The sea does not wait.

To keep the soul
is to cage eternity;
to release it
is to join its flight.

Go, beloved soul—
where you are going,
there is no end,
only the first breath again.

শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

কেজানে

কবে থেকে আবার
মেঘের অভ্যাস হলো আমার
তোমারই মত, কেজানে। 

সর্বত্র শুকনো,
অথচ নিঃশব্দে 
ভিজে চুপসে যাচ্ছি ওখানে।

ঠিক আধ ঘন্টা পরে
কাউকে কিচ্ছুটি না বলে 
আসবে একবার দোকানে ?

গহীন

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।

বৃষ্টি থেমেছে বেশ কিছুক্ষণ।
এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা।
চা খাওয়া হয়ে গেছে একটু আগে।
হাতে কোনও কাজ নেই।
হঠাৎই তোমার কথা মনে পড়েছে খুব।
বুকটা কেন যে ফাঁকা লাগে এমন!
কতদিন গল্প করার অবসর জোটেনি আমাদের।
তুমি কি ব্যস্ত এখনও অমিত আর লাবণ্যকে নিয়ে?
আমাকে নিয়ে যাবে একদিন শিলং পাহাড়ে?
অনেকদিন গল্প জমে আছে।

শিলং-এ পৌঁছে,
আমরা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটব—
পাথরের ফাঁকে বৃষ্টির জল থরথর করে কাঁপবে,
যেন আমাদের দম আটকে থাকা নিঃশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

তুমি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যাবে,
আমি অবাক হয়ে তোমার দিকে তাকাব,
তুমি শুধু চেয়ে থাকবে—
একটা দৃষ্টিতে এত শব্দ, এত আমন্ত্রণ
যে আমি মুহূর্তেই বুঝে যাব,
আজ আমাদের মাঝে পাহাড়ের থেকেও উঁচু কিছু দাঁড়াবে না।

মেঘ নেমে আসবে, আলো ম্লান হবে,
শুধু তোমার মুখের রেখাগুলো
আমার কাছে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকবে।
তুমি কিছু বলবে না,
আমিও না—
কিন্তু আমাদের নীরবতা তখন
ভাষার চেয়েও উষ্ণ হয়ে উঠবে।

আমি এগিয়ে আসব,
তুমি সামান্য পেছিয়ে যাবে,
তবু আমার হাত ছাড়বে না।
আমাদের মধ্যে তখন
এক অদৃশ্য ঢেউ উঠবে—
যার শব্দ কেবল আমরা শুনব,
কিন্তু পাহাড়, মেঘ আর বৃষ্টি
চোখ বুজে সাক্ষী হয়ে থাকবে।

তারপর…
পর্দা নেমে যাবে না—
কারণ গল্পটা সেখানেই থেমে থাকবে না,
বরং সেই পাহাড়ের গোপন গুহায়,
মেঘের গাঢ় পরতের আড়ালে,
আমরা তৈরি করব এক অদৃশ্য সেতু—
যা শুধু আমরা দু’জন জানব,
আর সারাজীবন
গোপনে বহন করব আমাদের রক্তের গহীনে।


তুমি তো আমার ছিলে না

তারপরও থাকতে চেয়েছিলে।
তবু গেলে।

যেতে হতোই—
এটাই নিয়ম।

তুমি আমার ছিলে না।
কখনোই না।

তুমি ছিলে ঋতুর মতো—
সময়মতো আসো,
সময়মতো চলে যাও।

তোমার প্রস্থান
ছিল কেবল সময়ের কাজ,
যেমন সূর্য ডুবে যায়
কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই।

সমবেদনা ? অনুশোচনা ?
ভুল সময়ে ভুল মানুষের দ্বারে
ভুল আবেগ আশা করো না ।

সর্বশ্রেষ্ঠ

যে জানে নারীদেহের গুপ্ত নকশা,

সে পড়তে পারে চাঁদের রৌপ্য-ঘড়ি।
যেখানে জোয়ার ও ভাটার ভাষা
লিখে যায় সময়, অদৃশ্য কলমে।

কনডম রক্ষা করে কেবল মাংসের প্রাচীর,
সংযম রক্ষা করে আত্মার দুর্গ।
ল্যাটেক্স ছিঁড়ে যেতে পারে,
কিন্তু সংযমের প্রাচীর ভাঙে না কখনো।

শিশুর জন্ম হোক রাজাজ্ঞার মতো—
সুবর্ণ শঙ্খে বাজুক আনন্দের ডাক,
যেন কখনো না হয় জুয়াড়ির মুদ্রাহানির পারা
অপ্রস্তুত, অনাকাঙ্ক্ষিত, অবমাননায় ঢাকা।

সংযমই হল সেই অমৃতমন্ত্র,
যা প্রয়োজনানুসারে কামনাকে জয় ক'রে
প্রেমকে পূর্ণ করে ।

ভালোবাসার মর্যাদা

তুমি জীবনকে পূজা করো

পাথরের বেদী দিয়ে নয়,
বরং সেই নীরব শ্রদ্ধা দিয়ে
যা তুমি আরেকটি প্রাণকে দাও।

শ্রদ্ধা হল সবচেয়ে পবিত্র ধূপ,
যা অদৃশ্য হয়ে ওঠে আকাশে,
তবু সুবাসে ভরে দেয় সমগ্র দিগন্ত।

মানুষকে দেওয়া
সবচেয়ে উচ্চতম শ্রদ্ধা
শব্দে বলা যায় না,
সোনায় লেখা যায় না—
তা অর্পিত হয় প্রেমের
পবিত্র কর্মে।

সে প্রেম, যা অপরিচিতের মাঝে
মুদ্রার মতো ছড়িয়ে দেওয়া নয়,
বরং রক্ষিত,
দেওয়া হয় কেবল সেখানে
যেখানে আত্মা যোগ্য,
যেখানে হৃদয় বিনা লজ্জায় নত হয়।

কারণ বাছবিচারহীন প্রেম
প্রেম নয় মোটেও—
তা কেবল নূতন একটি আত্মপ্রবঞ্চনা।

এখানেই এর মর্যাদা:
দেহকে অর্পণ করা
শুধুমাত্র সেখানে
যেখানে আত্মা আগে থেকেই নতজানু।

অসুখী সেই নারী
যে কখনো এমন পুরুষকে খুঁজে পায়নি
যাকে সে
তার গভীরতম শ্রদ্ধা দিয়ে ভালোবাসতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

নির্মম নীরবতা

তুমি তো চিরকালই ছিলে এক মর্যাদাসম্পন্ন নারী—

সংযমে গাঁথা প্রতিটি দিন,
সম্মানের ভাষায় উচ্চারিত হতো তোমার নাম,
সেইসব ঘরে, যেখানে শালীনতাই ধর্ম।
একটি জীবন—পরিপাটি, সুশৃঙ্খল,
একটি বিবাহ—সমাজ-স্বীকৃত গৌরবচিহ্ন,
একটি অস্তিত্ব—ঈর্ষণীয়,
সন্দেহের ধুলা পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি তোমায়।

কিন্তু প্রেম—
সে তো প্রাচীন এক রাজদ্রোহী,
যে কখনোই অনুমতি চায় না।
সে ঢুকে পড়েছিল তোমার ভিতরে নিঃশব্দ আগুন হয়ে,
আর তুমি—
একজন নারী, যার হৃৎসংবেদনে বরণের বিধান লেখা—
চলে গেলে তার পিছু,
আমার মতো এক অপরিচিত পুরুষের অরণ্যে।

তা তোমার উপযুক্ত ছিল না—
এই বিচ্যুতি, এই কাঁপা-কাঁপা আত্মসমর্পণ।
এটি ক্ষুণ্ণ করেছিল তোমার পরিপাটি প্রতিমা,
বিপন্ন করেছিল চিরচেনা কাঠামো।
তবুও তুমি এলে—
না, বোকামিতে নয়,
বরং সেই উদ্ভিন্ন সাহসে
যা কেবল এক নারী দেখায়,

প্রয়োজনে প্রকাশ্য রাজপথে,
যে আত্মার পবিত্র ডাক অমান্য করতে শেখে নি।

আমি সবই দেখেছিলাম—
তোমার পারাপারের খাত,
তোমার নীরব ঝড়।
আর আমি—
আমি বেছে নিলাম সে তীর,
যে তীর উচ্চতার ঔদ্ধত্যে অস্বীকার  করে আকুল ঢেউকে।

অহমিকার সাহসে নয়,
বরং এক নিঃসহায় ভালোবাসা
তোমার জগৎটিকে ধ্বংস করতে পারেনি।
তাই আমি নিজের শরীরে পরালাম নির্মমতার পোশাক—
তোমার কোমলতাকে বললাম কৌতুক,
তোমার আকাঙ্ক্ষাকে বললাম বিভ্রম,
তোমার প্রেমকে বানালাম
আমার নির্লিপ্তির ভুল পাঠ।

তোমাকে ভেঙে দিলাম—
তোমারই রক্ষার্থে।

বছর পেরিয়ে গেছে—
আর তার সাথে,
চিরতরে হারিয়ে গেছে সেই পথ
যা দিয়ে আমি পৌঁছাতে পারতাম
তোমার কাছে,
সততা কিংবা অনুতাপে।

আমি জানি—
তোমার করুণার দরজায় দাঁড়ানোর আমার কোনো অধিকার নেই।
আমি সেই পুরুষ,
যে দাহ বয়ে বেড়ায় অবিরত,
যে দহনের সে নিজেই কারক।

তাই এই ক্ষত—
চামড়ায় নয়,
আরও গভীরে—
যেখানে এখনো তোমার নাম
একটা গির্জার ঘণ্টার মতো প্রতিধ্বনিত হয়—
যা কেবল একবার বাজে,
কিন্তু অনন্তকাল ধরে শোনা যায়।

এই নীরবতাকে
আমি বয়ে চলেছি
এক পবিত্র পাপবোধ হিসেবে,
এবং বয়ে যাব
যতক্ষণ না সময় নিজেই আমাকে খুলে ভেঙে ফেলে,
আর পৃথিবী—
আমার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমাশীল ব'লে
শেষবারের মতো
ঢেকে দেয় আমার সমস্ত অপূর্ণতা।

শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫

অবেলা

সে তখন একান্তে ছাড়ছিল আভরণ
যখন তুমি ঢুকে পড়েছিলে
বিলকুল না বলে ।

চমকে ওঠার পরেপবেই
তার ঠোঁটে খেলে গেল
এক চিলতে হাসির দুষ্টু আহ্বান ।

এবার কি হবে নাকি তাহলে ?

উৎসুক উঠোন

প্রতিটা সম্পর্কের মাঝে
একটা উঠোন থাকা অতীব জরুরী,
যে উঠোন থেকে
যেমন ছোঁয়া যাবে সুদূর নীলাকাশ
তেমনই বিপরীত কোণে রইবে
একটি পিপুল গাছের শীতল ছায়া, 
যে ছায়ার ফাঁক দিয়ে
আকাশের গভীর নীল চোখে পড়তেই
মন চাইবে কবি হতে,
যেখানে হাঁপ ছাড়বে পরাণ
কোনও কাজে 
দীর্ঘক্ষণ নিবিষ্ট থাকার পর
অথবা তোমার সাথে
ঘন ঘন গহীন হওয়ার তাড়ায় ।

বেশ মজা আছে 
আমাদের উৎসুক পাড়ায়।