শনিবার, ১২ জুন, ২০২১

গল্প হলেও সত্যি

পনেরো বছর অতিক্রান্ত

অভি আর রিমঝিম বিবাহিত দম্পতি ৷


দুজনেই চাকরি করে ৷

অভি রোজ সকালের চা করে 

রিমঝিম কে ডাকে ৷

রিমঝিম ঘরঝাঁট দিতে দিতে

অভি রাতের বাসন মেজে নেয় ৷

রিমঝিম বাথরুমে যায় যখন, স্নান সেরে নিতে,

অভি, ডাণ্ডা দিয়ে, পুজোর জায়গা সহ

চারটি ঘর মুছে রাখে ৷

রিমঝিম স্নান সেরে এসে পুজোয় বসে ৷

তারপরে রান্না ঘরে যায় ৷


এরপরে একটানা কাজ রিমঝিমের ৷

লক ডাউনে যদিও দুজনেরই ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম,

রিমঝিমের সব কাজ শেষ হতে

দুপুর আড়াইটে পেরিয়ে যায় ৷

ফাঁকেতালে থাকে

ছেলে, মেয়ে, আর অভির জন্য

লাঞ্চ বেড়ে দেওয়া ৷


রান্নাঘর ধুয়ে, ভাতের থালা হাতে

রিমঝিম যখন অভির কাছে

অবশেষে পৌঁছায় কিছুটা টলমল পায়ে,

অভি ততক্ষণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ৷


থালাটি রিমঝিমের হাত থেকে টেনে নিয়ে

ডাল, ভাজা, তরকারি, মাছ দিয়ে

একটু একটু করে ভাত মাখতে থাকে ৷

তার পরে গ্রাসে গ্রাসে আদর

বিশ্রান্ত প্রিয়তমার মুখে তুলে দিলে,

রিমঝিমের এযাবৎ ক্লান্তি কেটে গিয়ে

একটু একটু করে রঙ পাল্টানোর সাথে

মুখে অনাবিল হাসি ফের ফুটতে পায় ৷


না না, অভি অথবা রিমঝিম,

কেউই অবাঙালী অথবা বিদেশী নয় ৷

.

প্যারাসাইট

 "কবিতাকে শরীর দেব" -

 

শালা, এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করা মাত্রই

আমার বাম দিকে আর ডান দিকে

ওমনি খাড়া হয়ে গেল যুযুধান দুই পক্ষ

আকস্মিক বাঙালিয়ানার প্রতিযোগিতায়

ঘেউ ঘেউ আস্ফালনে - 

তুমুল বাক-বিতণ্ডা সহযোগে ৷


বাম-পক্ষ বললো - "ও যে রাজি হলো শরীর দিতে,

তা, কবিতা কবে চাইলো নির্লজ্জের মত 

ওরই কাছে বহুমূল্য শরীর ?

কী প্রমাণ আছে তেমন অঙ্গ ওরই একার আছে, 

দেখাতে হবে আগে ৷"


ডান-পক্ষ বললো "ও কত বড় কবি ?

কটা পুরষ্কার রেখেছে বগলে, যে ঘটা করে

ঘোষণা দিতে হবে - "কবিতাকে অবয়ব দেওয়ার" ?

কী এমন দৃষ্টান্তমূলক শরীর ও দিয়েছে

অতীতে কবিতায় ?


দুপক্ষ অতঃপর একযোগে চেঁচিয়ে উঠলো -

"একজনের কেন হবে এত একতরফা বাড় ?

সমবন্টনে প্রতিভার কী মূল্য আছে ?"


ঝগড়া, বাঙালীর নিয়মে, 

দ্রুত হাতাহাতির ঠিক আগের স্তরে পৌঁছে যেতেই,

'লড়াই যথারীতি জমে গেছে' - এ বিষয়ে

পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে, 

টুক করে, ছোট, বড়, মেজ,

সকল পরমুখাপেক্ষী বগলের তল দিয়ে গলে,

আমি আর কবিতা 

আত্মমুখাপেক্ষিতায় তুমুল আস্থা রেখে,

হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, 

সটান পাগার পার ৷