রবিবার, ১২ মার্চ, ২০২৩

সুতো ছিঁড়ে যাওয়া

তুমি ভিন্ন গ্রহের মানুষ, আমার জগতের না ।
কখনো বোঝনি তা, এ আমার দোষ নয় ।

তবু ভালবাসি, শ্রদ্ধা জাগে, কৃতজ্ঞতাও,
যখনি মহান হয়ে ওঠো আপন পরিসরে
সমর্পণের নিবিড়ে, বিরল উচ্চতায় ।

আবার কষ্টও দাও, নীরব হতে বাধ্য কর,
নিজেকে সুন্দরে ধরে রাখতে ব্যর্থ যখন,
অসূয়ার কদর্যতায় ।

হয়তো কোনও একদিন 
দীর্ঘশ্বাস শেষ বারের মত জানান দেবে
ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভুলে যেতে হবে তোমাকেও,
মুছে দিতে হবে আগ্রহের কোমলতা যত,
তোমারই একরোখা সীমাবদ্ধতায় ।

বলা হয়নি তোমাকে কখনো,
ভালবেসে পাশে বসতেই পারো,
তবে বিছানায় উঠে পড়ার অধিকার
যে কোনও কারোর জন্য লভ্য নয় ।

বিচক্ষণতা

কিপ্টে-রা মরুক আপন দৈন্যে 
আর হিসেবী হওয়ার অহঙ্কারে ।

ভাল একটা মানুষ পাওয়া মাত্রই
নিকুচি করেছে আর দ্বিতীয়বার ভাবার ।
প্রথম সুযোগেই, শ্লা, যতটা পার
প্রাণ ঢেলে ভালবেসে,
সময়ের তাৎক্ষণিক উদারতাকে 
যে অবধি পারো 
ভরপুর উসুল ক'রে নাও
আপন সিংহ-হৃদয়ের সহজাত অধিকারে,

যেন পরে, যে কোনদিন,
যে কেউ একজন
হঠাৎ না ব'লে হারিয়ে গেলে,
যে পড়ে রইলো
তার যেন কোনও আফশোষ 
বাধ্য অবশিষ্ট না রইতে পারে ।

নিয়তি যেন প্রবুদ্ধের দুয়ারে
ব'লে ব'লে, অসহায়ের মত হারে ।

প্রবাসী

যে কোনও বয়সে 
যে কোনও একটা কেউ
পরের অগোচরে থাকে যদি জীবনে, 
পরাণ যাকে
চুপচাপ প্রাণ ঢেলে ভালোবাসে,

ব্যাস, জীবন ওমনি গার্ডেন-গার্ডেন 
আর মনটা সবসময় ম-ম করে 
বিরল পাহাড়ি ফুলের সুবাসে !

যাপন তখন সব বাধাকে তুচ্ছ ক'রে, 
আগেভাগে পথ চলতে চায় 
আর কিছু-না-কিছু বলার ফাঁকে 
দোলের রঙের মত রহস্য মাখিয়ে
অন্যদের, দ্যাখ-না-দ্যাখ, ভূত বানিয়ে দিয়ে,
সদ্য-ভেজা গায়ে
থর-থর কাঁপনের কাব্য লিখে
নিজে প্রতিটিবার খিলখিলিয়ে হাসে ।

এ ধরায়
শুধু সুখী মানুষ-রা বেদম ভালবাসে ।
.

প্রবাস

যে কোনও একটা কেউ
থাকে যদি জীবনে, 
পরাণ যাকে
চুপচাপ প্রাণ ঢেলে ভালোবাসে,

ব্যাস, জীবন ওমনি গার্ডেন-গার্ডেন 
আর মনটা সবসময় ম-ম করে 
বিরল পাহাড়ি ফুলের সুবাসে !

 যাপন তখন সব বাধাকে তুচ্ছ ক'রে, 
আগেভাগে পথ চলতে চায় 
আর কিছু-না-কিছু বলার ফাঁকে 
রহস্যময় খিলখিলিয়ে হাসে ।

কারুবাসনা - ২

উভয়েই যুগপৎ আবির্ভূত ।
শুধালাম "কে তোমরা ?"

তারা বললেন -
"আমরা তোমার হতে এসেছি ।
তবে উভয়ে একসাথে নয় ।
যে কোনও একজন-কে পাবে ।
বল কাকে চাও ।
আমি 'সৃষ্টি' আর ও 'সুখ-বৃষ্টি' ।"

আমি বললাম "সুখ ! জানি তুমি কত মিষ্টি ।
কিন্তু তোমার পশ্চাৎ-টি আদপে তুমি নয় ।
বিচক্ষণ-মাত্রে বিলক্ষ্মণ জানে -
যে অপর, সদা-জাগ্রত, অস্তিত্ব
অপেক্ষায় রয়েছে সর্বক্ষণ, সেখানে, 
সে হলো দুঃখ-নামক চির-শত্তুর, 
মানুষ-মাত্রের 
চিরাচরিত আসক্তির বেকুব-অভিধানে ।
তোমার অধিকার নেই একটিবারও,
এ ধরায়, 
তার থেকে নিজেকে পৃথক ক'রে
একক অস্তিত্বে স্থিত হওয়ার ।
তুমি তাই ফিরে যাও বরাবরের মতন ।

সুখ, বাধ্য ফিরে গেলে, 
স্মিত হেসে সৃষ্টিকে বললাম
"গ্রহণ কর চরণে তোমার 
আমার সর্বান্তঃকরণে সমর্পণ ।
দাও উল্লাস আর বিতর কৃষ্টি ।
সার্থক হোক মানবজনম ।