বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উপবাস

আলোরা আমার নাম শিখে নিয়েছিল
আমার আগেই।
আমি যখনই কাচ ছুঁই,
ওদের তখনই সম্মতি ঝলসে উঠত।
আঙুল ঘুরে বেড়াতো
কৃত্রিম সূর্যাস্তের ভেতর—
প্রতিটা আরও উজ্জ্বল,
প্রতিটা আরও ফাঁকা।

আমার মস্তিষ্ক হয়ে উঠেছিল এক হাট—
ব্যবসায়ীহীন ঘণ্টাধ্বনি,
ফসল ছাড়াই পুরস্কারের বৃষ্টি,
পরিশ্রম দাঁড়াবার আগেই
উত্তেজনা এসে বসতো।

একদিন
আমি দরজাগুলো বন্ধ করলাম।
দেয়াল থেকে ঝরল না সুর।
নীল আলো আর
মধ্যরাতে চোখ ভারী করলো না।
শুধু নীরবতা—
ঘন, অস্বস্তিকর,
এক পুরোনো বন্ধুর মতো
যাকে এড়িয়ে গিয়েছিলাম
আর এখন মুখোমুখি হতে হলো।

বিরক্তি এসে পাশে বসল,
কথা বলল না।
শ্বাস নিল জোরে।
আমাকে পালাতে বলল।
মিনিটগুলো
অপরিচিত আকার নিল।
সময় আর আমাকে বিনোদন দিল না—
সে জিজ্ঞেস করল,
তালি ছাড়া আমি কে?

আমার হাত কেঁপে উঠল,
প্রশিক্ষিত কুকুরের মতো
নির্দেশের অপেক্ষায়।
মস্তিষ্ক চিৎকার করল—
সহজ কিছু দাও।
কিন্তু কিছুই এলো না।

ধীরে ধীরে—
কিছু প্রাচীন জেগে উঠল।
চিন্তা ভার পেল।
শ্বাস ছন্দ খুঁজে নিল।
ভুলে যাওয়া পরিশ্রম
ধুলো ঝেড়ে বলল,
“আমার সঙ্গে হাঁটলে
আমি তোমাকে অর্থ দেব।”

ব্যথা আর শত্রু রইল না।
বিরক্তি হয়ে উঠল শিক্ষক—
কোনো পাঠ্যসূচি ছাড়া।
অস্বস্তি খুলে দিল
একটা আকাশ।
কাজ আর অনুনয় করল না।
সে অপেক্ষা করল।

আর আমি যখন তার কাছে গেলাম—
আনন্দের জন্য নয়,
সম্মানের জন্য—
সে আমাকে পুরস্কৃত করল
চুপিচুপি,
শুকনো মাটিতে বৃষ্টির মতো।

উচ্ছাস ফিরল,
কিন্তু অন্য পোশাকে।
সে দেরিতে এল।
সে পরিশ্রমের প্রমাণ চাইল।
সে দীর্ঘদিন থাকল।
পৃথিবী ম্লান হলো,
কিন্তু তীক্ষ্ণ।

খাবার স্বাদের ভেতর
স্মৃতি জেগে উঠল।
চলাফেরা হয়ে উঠল অর্জন।
নীরবতা আর হুমকি নয়—
সে শুনতে শুরু করল।
এখন আনন্দ ধীরে কড়া নাড়ে।
আমি ঠিক করি
কখন খুলব।

কাচ আর আমার চোখের মালিক নয়।
শব্দ আর আমার আত্মার ভাড়া নেয় না।
আমি শিখেছি এই সরল রসায়ন—
ভ্রমকে অনাহারে রাখলে
বাস্তব উজ্জ্বল হতে শেখে।

আর সস্তা আতশবাজির অনুপস্থিতিতে
সবচেয়ে ছোট শিখাটুকু—
মনোযোগে
সূর্য হয়ে ওঠে।