শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০

জোর

সে চায়নি অন্ধ অনুকরণ !
সে চায়নি অন্ধ অনুগমন !

যদি ভাল কিছু থেকে থাকে তার
সেটুকুকেই জায়গা দিতে পারো
আপন পরিসরে !

তার যে কথা মেলে না 
তোমার যুক্তি অথবা অনুভবের সাথে
তাকে বাইরেই রেখো
তোমার অন্দরমহল হতে
নিরপেক্ষ উদারে !

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২০

উদয়

কখনো কখনো
হঠাৎই ঐশ্বরিক ভোর হয় !

ঘৃণা, বিদ্বেষ আর অভিমানরা
তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে ৷

অনুভব যত, 
পঙ্কের ভার ঝেড়ে ফেলে
আবার উঠে দাঁড়াতে চায় 
অবিচলিত সহমর্মিতার দ্যোতনায় 
আর অবলীলায় প্রসারণ খুঁজে নেয়
ক্ষমার করুণায় !

আশেপাশের মানুষগুলো
ভরিয়ে দিতে থাকে - অযাচিত বিষ্ময়ে
ভালবাসার ভুরভুর সুগন্ধে !

জন্মের কারণ হাতছানি দিয়ে ডাকে
অনাগত কর্ম-যাপনে !

রাশি রাশি হাসি 
কোথা হতে উড়ে এসে জুড়ে বসে !

তোমার কথা বড্ড মনে পড়ে !
তখনো ঘুমিয়ে রয়ে বুঝি
বাহুডোরের স্মৃতির নিরাপত্তায় ?

কখনো সকাল
নিজেকে একলা ভাবার
অজ্ঞ স্বার্থ-বন্ধ হতে মুক্ত করতে
পুষ্পবৃষ্টির অবগাহন হয়ে আসে
অবিশ্বাসের অভিশাপ হতে পতিত-উদ্ধারে
স্রষ্টার অপার মহিমায় !
.

সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০

অ্যাডভেঞ্চার

"একজনেই বেশ হয়" -
একথা বললে মিথ্যেই বলা হবে !
প্রেম - ন্যূনতম দুজনকে চায়ই চায় ৷

বাইরের জন মানেই 
অবধারিত ভাবে বাজারে পৌঁছে গেলে
আর বাজার বসলেই, সে আবার
ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন মাপতে চায় !
তা, তোমার ইউ এস পি-টি ঠিক কি ?

একটি সুঠাম যৌবন
যার খাঁজে খাঁজে সেতারের তার
যে বইতে জানে, বাহন পেলে,
সাতটি সুরের 
অনন্য পারমুটেশন, কম্বিনেশনের দ্যোতনায় ?

তোমার একটি ধারালো ইন্টালেক্টও আছে ?

বাঃ ! খুউব ভাল ! তবে, এটুকুতেই
সাফল্যকে প্রতিক্ষেত্রে ছুঁয়ে ফেলা কি যায়,
যদিও বুঝতে পারো
তোমার তরফ থেকে 
ইচ্ছার ঢেউ এর উদ্ধত ধেয়ে আসাতে
প্রতিটিবার 
সেও সমানতালে চপচপে ভিজেই যায় ?

যদি বাধ্য জানতে হয় -
এরও পরে মানুষের প্রারব্ধ থাকে
ভাসমান বরফের উত্পাদয়িতা-ভেদে
জলের তলের অংশটিতে ভরের বিশালতায় ?

ওপর মেপে - সহজ মনে হলেও
তোমার মোহময়ী শক্তিতে তাকে ভোলাতে,
ভুলিয়ে, নিজের ইচ্ছামত চালনা করতে
পারো কি সর্বদা, 
আপন সঞ্চিত ধনে
এ অবধি আরব্ধটুকু-মাত্রের আকাঙ্খিত অবলীলায়,

দুটি ট্রেণ ঝড়ের বেগে দৌড়ে আসে
একে অপরের পানে
কিন্তু সমান্তরালের সামান্য কারণে
স্তরভেদ যেদিন 
অবিচলিত নিরাপত্তা হয়ে
সংঘর্ষমুখী ঘর্ষণ সামলেই নেয় ?

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০

Love ও লোভ

পাওয়ার কথা সরিয়েই রাখা যদি,
তথাপি ভালবাসতে কে আর না চায় !

মানুষ তো আয়নার সামনেও দাঁড়ায় !
প্রশ্ন করে কখনো নিজেকে -
"আচ্ছা বল তো
ভালবাসতে কতদূর অবধি পারা যায় ?

মানুষ মানেই স্বপ্নময় !

তুমি কি তেমন কোনও উদার মানুষ,
পরকীয়া-সুলভ 
প্রতারক দায়িত্বজ্ঞানহীনতায়
যার মোক্ষ 
শরীর-লক্ষ্যের অনতিদূরে শেষ নয় ?

যে, নিঃশর্তে,
আর একটি মানুষের স্বপ্নদের হাত ধরে
কালবিলম্ব না করে
অদম্য শপথ নিতে পারে
প্রতিটি অনাগত ঝড়ের বিরুদ্ধে
আপোষহীন যুদ্ধ ঘোষণায় -

যে প্রেম জীবনভরের 
দ্বন্দ্বমুক্ত নির্ভরে
একে একে পৌঁছে দিতে পারে অবলা স্বপ্নদের -

বাস্তবে - স্বীকৃতির ভিতে
একদিন সত্যের স্নেহশীল আদরে
অভিনয়হীনে অভিনন্দন কে চেনায় ?

সস্তা-মাত্রে
যত্র তত্র পাওয়াই তো যায় !"

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২০

লাড্ডু

সঙ্গম-মাত্রে, আপন ঐকান্তিক গভীরে
অদ্বৈতের আদি আহ্বাণে
অভেদকে অতি সাময়িকে ছুঁতে পারে ৷
নারী-পুরুষে প্রতিটি প্রেম তাই
মরীয়া হয়ে 
যেন-তেন উপায়ে সঙ্গম-শিকারী হতে চায় !

তবু, একথাটি মানুষ ভুলেই যায়,
এক বাটি লোভনীয় আহার
আর একটি সঙ্গম
সাময়িক সুখের নিরিখে
প্রায়ই একই দূরত্ব অবধি 
সমানতালে উপযোগী হতে পারে ৷

রাঁধুনী-ভেদে, আস্বাদনে
তৃপ্তির হারে পার্থক্যও থাকতেই পারে ৷
তবে, সে ও সমগ্র জীবনের
মহানতার নিরিখে
তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় !

গুরুত্বে যেটি শতগুণ, সে হলো -
তৃপ্তির লেখচিত্রটি যেই
সময়ের প্রবাহমানতার পরিসরে
অবধারিত ভাবে নীচে নামতে শুরু করে,
আবেগে শূন্যতার হাহাকার
ওমনি প্রবলতর বেগে ফের বর্তায় !

তৃপ্তির পুনরুত্থান-পিপাসা 
মানুষকে অহোরাত্র অধিকতর তাড়া করে ৷
পরনির্ভর তাই সুখের উৎসে পুনর্বার
আসক্তির অবধারিতে নিরুপায়ে ধায় !
আড়বুঝো, একবগগা আবেগ 
ধার ধারে না সামাজিক বিধির ৷
তৃপ্তির উচ্চতর হারের সংরক্ষণ
তার, তখন, যে কোনও মূল্যে চাই !

ইতিহাসকে বিশৃঙ্খলার 
অভিশাপে, 
অতঃপর, বিনা দ্বিধায় ছেয়ে ফেলে
অভিসার - 
আত্মশ্রদ্ধাশূন্য দাসত্বের শৃঙ্খলটি অচিরে, দাবীর অধিকারে 
পরিপাটি নিয়তি করে নিতে পারে !

মুখ্য

যে দায়টি তোমার নয়
তা নিয়ে দুঃখ পেয়ো না কখনো !

নিজেকে দুঃখী ভেবে
ব্যথার সুখটি মৃদু মৃদু খোঁজা
কৃপণের সুচতুর নেশা ৷
এ নেশা বেশ্যার পেশায়
একদিন মারক হতে পারে ৷

দুঃখ পেয়ো না এই তো সেদিন
পার্টিতে গিয়ে শোর মচাতে না পেলে !

দুঃখ পেয়ো না - অনেকদিন
প্রিয় সঙ্গীর হাত ধরে
দূর দেশে বেড়ানো হলো না বলে ৷

দুঃখ পেয়ো না ছুটির দিনগুলো
বেকার অপব্যয়ে চলে গেলে ৷

দুঃখ পেয়ো না স্বীকৃতির লোভে
ঘন ঘন, 
আগাডুম বাগাডুম বিরহ লিখে গেলে ৷

দুঃখ পেয়ো না, এমনকি,
তার সাড়া থেকেও বঞ্চিত থেকে,
এ যাবৎ হাসি ফুটেছে মুখে
যাকে নিঃশর্তে ভালবাসো ব'লে ৷

যে দায়টি তোমার নয়
তা নিয়ে দুঃখ পেয়ো না যেন
বোকার মত ৷

দুঃখ পেয়ো - আপন সংজ্ঞার 
ধারক অভিধানে
বিগত এগারো ঘন্টায়, নিজে,
একটিও সুন্দরতর ভাব-বন্ধ,
ভালবাসার, অস্মিতা-মুক্ত,
ঊর্ধ্বগামী ওজঃ রসে
অনায়াসে, নিখাদ স্বর্ণকমলে
প্রসবিত - আদৌ হতে না দিলে ৷

রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০

হয়তো তোমার জন্য নয়

ও চিরাচরিত হিসেবী মন,
ভালবাসা - কার্পণ্যহীনতাকে
যদি কোনদিন সত্যিই অক্লেশে ছোঁয়
তবে, সে একখণ্ড পাথর হোক 
অথবা মাটির প্রতিমা,
হোক সে তোমার মা, বাবা, বন্ধুজন,
অথবা ইপ্সিত প্রেম,

তোমার অজান্তে, প্রতিপদে
সে তোমার সাথে সাথে থাকে ৷
বিপদে, বুঝতে না দিয়ে, 
এমনকি তার নিজেরও অজান্তে,
তোমার ভালবাসার সুকর্মে
ফলদায়ী হয়ে,
তোমাকেই বার বার বাঁচায় ৷

বিশ্বাস - না করতেই পারো !
একশোবার স্বাধীনতা আছে
তোমার অস্মিতার !

তবে, অনুভবকে সূক্ষ্মতর করতে করতে
অবোধের সীমাটি যেদিন পেরিয়ে গেলে,
বুদ্ধির পরাধীনতার ক্ষয়ে
সেদিন অবধারিত জানবে -
উপলব্ধ কৃতজ্ঞতা - মানুষকে কিভাবে
সুন্দরতরে নমনীয় করতে পায় ৷

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২০

নিয়তি

অনুমতি তো নাওই নি,
আলোচনাও নয় !

ভাল বুঝেছিলে !
তাই ভুল ধরাতে ঘাম ঝরানো
নৈকট্যের আবদারকে ঠেলে ফেলে, 
উদ্ধত গাম্ভীর্যে,
চিঠির ঠিকানায় কালি ঢেলে দিয়ে,
অহংকার যে অধিকারে
আন্তরিকতাকে পদদলিত করতে পারে,
তাকে উপহারের বাধ্য গ্রহণে
অপেক্ষায় সাজিয়ে রেখে,
নির্বিকার, অকবি নিঠুরে,
নাগালের বাইরে 
দীর্ঘ শৈত্যের পথে, গটগট করে 
দমদার হাঁটা দিয়েছিলে ৷

ফিরে আসার দায় 
ছেড়ে রাখা - তবে থেকে তাই 
তোমার একার হাতে !

তাবলে ভেবো না ভুল করেও -
না বলে, দেখা হয়ে যাবে কোনদিন
পথভোলা মিছিলে ৷

বিরহ-আশ্রম

উড়তে - দুটিই তারও ডানা !

একটিতে যদি ব্যথার প্রকোপ
অপরটিও সে ভারে কানা ৷
বিরহেরই অভীষ্ট আবেশে
কানুরও বাসর রচনা মানা ?

সুখের সাথে দুখের দ্বন্দ্বে
মোক্ষ - সত্যে সঠিক জানা,
দিশায় - ঘর আর বার যদি
উল্টে আহ্লাদে আটখানা !

পরশ-পারগ কায়াই একা ?
দরদ, বরদে - বেকার পানা ?


অহল্যা

"ভালবাসি" শব্দটি
প্রথম যেই নেচে ওঠে মনে
শিশুর সরলতায়
সে তখন বিশুদ্ধ আনন্দের আকর ৷

মানুষের সমস্যা হলো
সে তাকে উৎসের আপন উৎকর্ষে
এককে
নিরন্তর দীর্ঘস্থায়ী করতে জানে না ৷

"আমি ভালবাসি" তে পাল্টে যায় চারণ
কখন অলখে !
"আমি"র আসক্তিটি ঘাড়ে চেপে বসলেই
মানুষ "তুমি"র কাছে
অবধারিত ভাবে প্রতিদান চাইতে বসে !

না পেলে, প্রস্তর-ভারে
অবনমনে আসীন হতে হয়
দুঃখ, হতাশা আর ঘৃণা ৷
.
.

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০

রেখেছ কাঙালি করে

ঈশ্বরের নিবাস থাকেনি কোনদিন -
বাইরের দূরে ৷

দাম্ভিক অথচ
সততার টিকিট-টি হাতে ধরে
মাথা নীচু করে, অন্তর-মন্দিরে
প্রবেশ করার সাহস করে না ৷

আপোষী বরং 
ঘুষের থলি যতদূর পারে ভরে নিয়ে
ধর্ম-নির্বিশেষে 
তাকে বর্ণাঢ্য উপাসনাগৃহে, বহির্বিশ্বাসে
অন্ধের বন্ধ্যাত্ব-সুখে হাতড়ে মরে ৷

মানুষ
নিরপেক্ষের স্বাধীনতা ভোগ করে
অবিমিশ্র আত্মশ্রদ্ধাবোধে - 
সাহসের অর্জিত স্বাবলম্বনে !

অপরপক্ষে
যে কোন গর্বিত দলদাস
বিচারশূন্য দাসত্ব-প্রবণতার
এই একটি মাত্র কারণেই
মানুষ হিসেবে 
মানের পর্যায়ভুক্তিতে বরাবর
পরিত্যক্তের পশ্চাদ-সারিতে ঘর করে ৷

মার্ক্সিজম একদিন শিখিয়েছে -
সমাজের উত্থান লুকিয়ে আছে
একমাত্র শ্রমিকে, কৃষকে,
শোষিতের অবহেলিত প্রান্তরে !

ইন্টালেকচুয়াল ?
সে তো আত্মকেন্দ্রিক 
আর চরম স্বার্থপর শ্রেণী-বিশেষ,
সমাজের অপ্রয়োজনীয় লোম ৷
লঘু - গুরুত্ব পাবে কোন অধিকারে ?
ইঞ্জিন - প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজন-শূন্য !
শূন্য বগিতেই, গল্পের গরু ভরে দিলে
ট্রেণ দিব্বি গড়গড় করে চলতে পারে ৷

নেতারা জনে জনে শিখিয়েছে -
কমিউনিজমকে বোঝা সহজ - ভেবো না ৷
ত্বত্ত্বটি কে পড়ে জানতে হলে
একটা গোটা লাইব্রেরীর বইকে
পড়ে ফেললেও 
আংশিকেই মাত্র জানা যেতে পারে !
সুতরাং সেদিকে ভুল করেও না এগিয়ে
আমাকে সে মহানের প্রকৃত প্রতিভূ জেনে
আমি যখন যা বলছি,
পরে ঐতিহাসিক ভুল প্রমানিত হলেও,
তাকেই বেদবাক্য মেনে চলতে হবে ৷

ভগবানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তাই
তার স্থানে আমাকে ভাবা 
অভ্যাস করে নাও, নতুন করে !
তোমার আপোষহীন, দৃঢ় প্রত্যয়ের জোরে
দেশটি - তবেই একদিন, অবশ্যই,
ধনধান্যে ভরে, উৎরে যাবে ৷

স্বীকৃতি-ভিক্ষু, শিক্ষিত বাঙালি সমাজ
এত সুগভীর ত্বত্ত্বের
সমান্তরাল আর কিছু সামনে না পেয়ে
'চরম আঁতেল' - আত্মপরিচয়টিতে মরমী ধাবনে
একটি মৃতপ্রায় ও ব্যর্থ ইজমের
শ্রেষ্ঠতম ভক্ত - নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে,
নেতাদের পায়ে, যথা-আজ্ঞায়,
শর্তহীন তেল দিতে দিতে,
সেই থেকে 
আত্মবিকাশকে আটকে রেখেছে -
মহানের প্রসাদী অশ্রদ্ধার শিক্ষায়
শ্যুুডো আঁতেলের বনসাই যাপনে,
আপন বিবেকের সাথে 
প্রতিনিয়তঃ, ন্যাক্কারজনক আপোষের অভিসারে ৷

দুশো বছরের পরাধীনতার অভ্যাস
মেরুদণ্ডকে ততটা ভঙ্গুর করতেই পারে,
ক্রীতদাস যখন নাম পালটে
দলদাস হতে তড়িঘড়ি ছুটে যায় !
অভাগা, আপন ভাগ্যের শ্রদ্ধেয়তর সংজ্ঞা
আবার কি করেই বা গড়তে পারে ?

মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০

অবিবশ

অসুন্দরের প্রয়োজন আবশ্যিক এ ধরায়
যন্ত্রণার বিনিময়ে
সুন্দরকে 
নতুন করে উসকে দেওয়ার কারণে !
শক্তি অধিকতরও হতে পারে তার !

তবুও এ জগতের প্রতিটি অশুভ অসাধুর
একটি সীমাবদ্ধতা - সাধারণ !

সে তোমার 
স্থায়ী ক্ষতি করতে অপারগ,
যদি তুমি, মানুষটা নিজে,
নির্লিপ্তির অপ্রতিকার-গুণে
জীবনের প্রতিটি স্তরে, গুণে গুণে,
প্রতিক্রিয়াহীনতার সাধু-সুলভ নমনীয়ে
আপন শক-এবসর্ভারটি
একবার অটুট রাখতে শিখে গেলে !

বিলাপের হা হা হাহাকার-সহ
বাইরে দৌড়ে যেতে হবে না আর বারংবার -
শেয়ালের, ভীড় বাড়িয়ে,
হায়নাকে একদিন ঘিরে ফেলার
অসম প্রতিযোগে !
প্রতিবাদের অলীক ফলপ্রসুতায়,
অপ্রতিরোধের বন্ধ্যা অক্ষমতায়,
সঞ্চিত - যাবতীয় অপব্যায়-সম্ভাবনা রোধ হবে,
আঙুল তোলা তার্কিকের পরিসরে -
মধুর আকাঙ্খিত ছিল আখেরে তার, অলখে যত,

আপন উত্তীর্ণের চরণ পরশে
স্থিতপ্রজ্ঞতার 
অপ্রতিহত চারণটি চিনে নিলে ৷

শনিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২০

শাবক

যে কটিবার
মুখোমুখি সটান দাঁড়িয়ে,
আঁখিতে আঁখির সংযোজনে
আমন্ত্রণপত্রটি রেখে,
অপলকে উচ্চারণ করেছে - "ভালবাসি !" -

জীবন তাকে প্রতিটিবার আবার
হাত ধরে, পরম সমাদরে,
ডেকে নিয়ে গেছে
গরবের শিখরচূড়ায়
প্রাপ্য পারিজাত-সুরভিত সিংহাসনে !

তবে, 
রাজকার্য্য সহজ দায়িত্ব ছিল না কোনদিন !
প্রশ্রয়-রহিত থাকার কথাটি ছিল
বীর্যবত্তার, স্বার্থ-কলুষ শূন্যে, -
আজীবন প্রতিদান-প্রত্যাশায় !
তেমন তো একমাত্র
ভিক্ষুকদের মানানোর কথা ছিল ৷

অথচ, প্রতিবার পদস্খলনে,
সঙ্কুচিত - প্রবল আত্ম-অভিমানে,
বিতাড়িত, ফিরেছে সে ফের
প্রত্যাখ্যাত সীমিতের
কারুণ্য-নিদান অধমের ধরাধামে !

সিংহ-হৃদয় হতে পারে নি
মনুষ্যেতর-প্রবণ, অনভিজাত লোভ, -
ভালবাসার ধারণে ৷
করেছে সুযোগের সাথে দুর্যোগের
একতরফা - অনাবশ্যক, অপচয়ী
 একাকার !

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২০

চিরশিশু

অনেক বেশি অভিজ্ঞ হতেই পারো
তবু, পুরানো জানার সাথে
তার আদপে কোন সম্পর্কই নাই !
ফরমূলা জেনে
একফোঁটাও এক্সপার্ট হবে না ৷

ভালবাসা প্রতিক্ষণে, প্রতিটি মানুষে,
সন্তানজন্মের অনন্য যত্ন চায় !
মানুষটিকে বুঝে ফেললেই
প্রতিবার ভাবো হয়ে গেছে শেখা !
বোকা !

নিজেকে যথেষ্ট নরম করে, তবে,
ভালবাসার গর্ভে
নবতর সবিতার অনুসরণে
প্রতিটি ক্ষেত্রে, সাক্ষাৎ নিজে
ভিন্ন সংস্করণে প্রসবিত হতে হয় !
.
.

মুকুল

চেহারায় ইতিমধ্যে ইয়াব্বড়া ! 
ঢলঢল প্রগলভ যৌবন !
মন তখনো আটকে, অথচ,
সদ্য অঙ্কুরের কচি সবুজে !
ঝড়-জলের প্রকোপে
বিপন্নতায়
বিবশ - যখন তখন নিয়ন্ত্রণ !

ছায়া খুঁজছিলে !
ছায়ারা রোদকেও ঢেকে দেয়
যদি চেয়ে ফেলা - আজীবন !
বাড়তে যে হবেই যেনতেন !

আসলে একটি 
প্রেমিক দরকার ছিল তোমার
অনেকটা পিতার মতন !
.

.

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০

উজাড়


আশা আকাঙ্খারা লুকিয়ে থাকে
মনের ফাঁকে !

শাখা মেলতে জেগে ওঠে
বসন্তোদয়ে
কুহু যেদিন আকুলে ডাকে !

বলে - "বলার ভাষাটি শিখিয়ে দাও !
একবার বলতে চায় সর্বস্ব আমার -
প্রতিটি ছোট-বড় শাখে শাখে
কোনও দ্বিধা না রেখে,
নিশ্চয়তায় পূর্ণ-কলস বুকে,


ভালবেসেছি তোমাকে !"
.

অযান্ত্রিক

মনের মাঝে
প্রাকৃত স্বাধীনতায় বেড়ে ওঠা
অসংখ্য ঝোপঝাড় ছিল
আর ছিল বড় বড় কত রকমের গাছ !


সে সব গাছ রোজ সকাল থেকে
ভরে যেত পাখির ডাকে - দিনভর !
কত দূর থেকে
কত রকমফেরে আসতো পাখিরা,
মাঝে মাঝেই মেলা বসে যেতো !


রাতে পেঁচার শিকার-শিকার খেলাও ছিল ৷


ঝোপগুলোতে ছিল
ধেড়ে ইঁদুর, গিরগিটি, পোকামাকড়
আর সাপখোপের বাস ৷
প্রবৃত্তিদের একমাত্র প্রভু মেনে
আপাত-রূপে মনটা স্বাধীনই ছিল !


হঠাৎই একদিন, 
মনের মালিক এসে হাজির হলো !
প্রোমোটিং হবে !


জেসিবির ঘড় ঘড় শব্দে
ঝোপঝাড়, ঢিবি যত, যেখানে ছিল
কয়েক দিনের মধ্যে
কেটে কুটে অসহায় সাফ !
যত অজানা রহস্যের নিগূঢ়
বুক ভরে লুকানো ছিল,
সব আচমকা উপড়ে তুলে ফেলে দিয়ে
দৃশ্যে প্রকট হলো - টানটান হলুদ মাঠ ৷

করাত এসে বড় বড় গাছদেরও
একে একে কেটে দিল ৷
চারপেয়েদের খুঁজে পাওয়া গেল না আর !
কে জানে কতজন মরেই গেল পিষে !
পাখিরা হাহাকার করতে করতে
অন্য কোথাও উড়ে গেল !


এবারে শুধু ভরে যাওয়া বাকি মনের -
কেবলই চৌকো চৌকো ঘরের বাক্সে ?


 মনের মালিক, কিন্তু অবাক করে, তারপরে,
যান্ত্রিকতার অলঙ্ঘ্য নির্বিবাদে না গিয়ে,
মনকেই, নদী ছুঁয়ে,
সত্যযুগের সতত নিয়মে
নিত্যে নিকোনো উঠানে
নূতন অরন্য-কুটিরের ছায়া-মাখা
নিজেকে সুন্দরতরে গড়ে নিতে দিল !
.

.