বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩

আলাদা

সুযোগ কদাপি অপর্যাপ্ত নয় ।
মানবজীবনে প্রামাণ্য অগ্রগতি 
ও স্থায়ী উত্তরণ 
বাস্তব সার্থকতার পরিচয় ।

সাফল্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে, 
ক্ষিপ্রতম শিকারের বিষয় ।

সততার সাথে
সাহস ও আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধন 
শ্রদ্ধেয়ের চিরন্তন পরিচয় ।
কেবল আত্মমুখাপেক্ষিতার জোরে
উচ্চতরতার অভিযানে, জীবনভর,
আপোষহীন-সৎ থাকতে পারা
দুর্বল ও ভীতুর 
শর্টকাটের আবদারে লভ্য নয় ।

শুক্রবার, ২৬ মে, ২০২৩

ভালবাসা - শ্রদ্ধা = মোহ

কবির যেদিন কেউ ছিল না
সেদিন কবির অভীষ্ট ছিল
একার অধিকারে
একটিমাত্র কাছের মানুষ ।

তবে, মোহের
ফানুসের আয়ু দীর্ঘ হয় না কখনো ।
শ্রদ্ধাহীনের নিত্য-শ্রাদ্ধে
কাছের মানুষটি 
এত তাড়াতাড়ি ডাল-বরাবর 
বিস্বাদ হয়ে যায়,
যে, তাকে নিয়ে খুব বেশিদিন
নতুন কবিতা রচনা চলে না আর ।

প্রতিটি অহমিকা-জনিত অশ্রদ্ধা,
গুণে গুণে, কঠিন ও সফল কোপ মারে
ভালবাসার কোমল গোড়ায় ।
ফলতঃ, ধারালো, খোঁচা খোঁচা, 
স্বার্থ বেঁচে থাকে শুধু ।
বেদরদের আরোপিত অবহেলায়
অনুরাগের প্রাণদায়ী রসটুকু 
সহজেই শুকিয়ে, ফুরিয়ে যায়  ।

অথচ 
একটা কবিতার বই ছাপাতে হলে
ন্যূনতম 
চল্লিশটি কবিতা লেখা না হলে হয় ?
তাই এবার প্রেমে পড়তেই হয়
একটি দূরের মানুষের ।

আবার
আচমকা, বেহিসেবী প্রেমে পড়লে পরেও
বেশ কবিতা গজায় পরাণে -
এমনটাও হতে পারে ।

পরকীয়ায় রোমাঞ্চ সর্বদা অধিকতর ।
যে ভাবেই হোক, দূরের মানুষটিকে
আবিষ্কার করা মাত্রই
কবিতার চাষ তাই তুমুল বাড়তে পারে ।
ঝটপট বই বেরোতে পারে 
বাজার কাঁপিয়ে
একটা, দুটো, তিনটে ।

তবে, এমনটা চলে না বেশিদিন ।
হিসেব কবিকে অবধারিত বশ ক'রে নেয় ।
দূরের যে মানুষটির প্রেমে পড়া গেল
তার দিক থেকে 
কদাচিৎ, ফাঁকেতালে,
দুই একবার অন্ততঃ
শরীরী সাড়া না পেলে,
কিছুদিন পরে বিরহের ভারে
বাধ্য ঝিমিয়ে পড়েন বেচারা কবি ।
কলম চলতে চাওয়ার আগেই
হাঁপিয়ে যায় ।

দূরদর্শী অনায়াসে চিনতে পারেন - 
জগৎজুড়ে আত্মশ্রদ্ধাশূন্য ভোগীদের
ঠিক এমনই বিভৎস প্রকার
কবিত্বে সাময়িক অভিসার ।

অথচ, স্বল্পায়ুদের থেকে বহুদূরে
একক ও একাকী প্রেমে
বিরলতম রবির 
অশ্রদ্ধা-বর্জিত ফুলের বাগানে শুধু
জীবনভর অক্লান্ত সুন্দরের বাহার !
.

বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩

আশীর্বাদ ও অভিশাপ

মানুষকে 
মানবিকতার ঐশ্বর্যে 
যথাসময়ে বাঞ্ছিত সাড়া দিয়ে
সুন্দর আর মহান হয়ে উঠতে দেখলে 
বুক ভরে যায় খুশি হওয়ার সুখে 
আর 
চোখ ভেসে যায় হরপা নোনাজলে ।

মন বলে - 
"যাক, এমন দৃষ্টিনন্দন দিন প্রত্যক্ষ হলে
পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া সার্থক তাহলে ।

কোন অবাঞ্ছিত হতভাগারা যেন
জীবনের মানে ভুল বুঝে
ক্রগাগত দোষ আবিষ্কারের কালে
পরমুখাপেক্ষী আপদের পারা
অনবরত ঝগড়া করে চলে
ধর্ম আর রাজনীতির 
সুযোগসন্ধানী ধান্দাবাজির তালে তালে ?

শনিবার, ২০ মে, ২০২৩

হিসাব পে মারো গোলি

আমাদের প্রতিদিন হোলি ।
অপরিসীম দোলযাত্রা ।

আমরা অপেক্ষায় থাকি । 
সুযোগ পেলেই
প্রাণ ঢেলে, আশ মিটিয়ে,
ছুঁড়ে দিই নানা রকমের রঙ
অজস্র প্রকারের ভালবাসায়,
যখনই ভাল কিছু দেখতে পাই
অথবা পড়তে পারি ।

আমরা ভালবেসে ভাল থাকি খুব ।
সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে ব্যতিক্রমী,
একটি উৎকৃষ্ট-হৃদয় জাতি ।
আমরা আবেগ-প্রবণ বাঙালি ।
রোজ অবসর পেলেই 
টুক ক'রে ফেসবুকে ঢুকে পড়ি ।
:)

বিপথগামিতা

জীবন বড় সুখের হয় তবে,
যে গুণগুলো কে আদর্শ মনে হয়,
তাদের যদি বাস্তবে, কারোর মধ্যে
হুবহু প্রতিফলিত দেখতে পাওয়া যায় ।

বুকের সব দরজা-জানালা
হাট করে খুলে দিয়ে
ভালোবাসা যায় তার পরে ।

অথচ সমস্যা হলো, 
বিপরীতলিঙ্গে দেখামাত্র 
মানুষ বিপথগামী হতে পারে ।

পরাণের সহজাত সুন্দরের আরতি
অসহায়-রূপে ঢাকা পড়ে যায়
ভোগের অদম্য তাড়নায়,
যেই মস্তিষ্কের অশালীন অধিকারবোধ, 
লুকোনো দাঁত-নখ-সহ, 
ইচ্ছার আর অনুভবের উপরে
আচমকা আগ্রাসন শুরু করে ।

যা হারিয়ে যায়

জীবন অনাদি-অনন্ত নয় । এ হলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ, যা শেষ হয়ে যাবেই মাত্র কয়েক দশক পরে । যা করতে পারতে অথচ করনি, তা ভেবে আঙুল কামড়িও না শেষদিকে । তারপরে একদিন তুমি নামক এই জলজ্যান্ত অস্তিত্বটি আচমকা নেই হয়ে যাবে । পড়ে রইবে কেবল তোমার যাবতীয় কৃতি । হাজার খুঁজলেও পাওয়া যাবে না আর জীবন্ত তোমাকে ।

জীবন কিছু অসাধারণ সুযোগের সমন্বয় মাত্র । এখানে সকাল হতে রাত হয়ে পরের সকাল অবধি ক্যালেণ্ডারের এক একটি দিন তোমাকে বিশেষ কিছু সুযোগ দেয় । এখানে সময় নামক অনন্ত গতিশীল একটি পরিবাহী স্থির গতিতে তোমাকে পেরিয়ে যায়, প্রতিদিন-চিরতরে, যখন তুমি ক্রমশই বাধ্য বৃদ্ধ হতে থাকো রোজ একটু একটু করে । ( আগামী কালের দিনটি আসবে অপর নূতন দিন হয়ে । আজকের যে দিনটি পেরিয়ে যাচ্ছে, সে নিঠুরকে হারাতে হবেই চিরতরে, হাজার চাইলেও ফেরাতে পারবে না আর । )

সময়ের এই অনিরুদ্ধ গতি অবশ্য খুব বেশি নয় । তুমি চাইলেই আপন কর্মের গতিটি সময়ের গতি হতে বাড়িয়ে, সারাদিন ধরে, খেপে খেপে, সময় যে সুযোগ দিয়েছে তোমাকে, তাকে - বেশ কিছু সফল কার্যে, তথা অর্জনে পাল্টে নিতে পার, যার দ্বারা মহাকালের একটি ক্ষুদ্রাংশকে অচিরে বাঁধা পড়তে হয়, পরবর্তীতে, তোমার কর্তৃত্ব ও অধিকারের কাছে ।

কর্মের দ্বারা মহাকাল-কে বস্তু অথবা ক্ষমতা বা শক্তি তে পাল্টে ফেলার এই অবাস্তবতা-বর্জিত পদ্ধতির নামটিই হলো মানবজীবন । বহু মানুষ, অবশ্য, অলীক কল্পনার আলস্যে কর্মবিমুখ থেকে, অথবা ভোগের মায়ায় আত্ম-অপচয়ে ব্যস্ত থেকে, পার করে দেয় এই দুর্লভ মানবজীবন আর তারপরে ভোগে অবসাদে । সুযোগ ক্রমশঃ ফুরিয়ে এলে, এরাই একদিন ভীড় বাড়ায় 'চিরটাকাল-সংখ্যাগরিষ্ঠ', চহিদা-প্রবণ অথচ কর্মবিমুখ, 'হতাশ হয়ে বিলাপ করা' গোবর-গনেশদের দলে ।

শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

চাইতে জানা

'অল্পে সন্তুষ্ট' কাঁচা-রা হতেই পারে ।
রসিকের তেমন সামান্যে চলে ?

গাঢ় সোহাগের একটু পরেই
দৃষ্টি ফের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে গেলে
তখন হাসির পারস্পরিক অনুগমনে
যে অসামান্য মধু ক্ষরণ 
অবধারিত হতে হয়
যুগলবন্দীর সদ্য সাফল্যে অর্জিত
অনুরণনের প্রলম্বিত বিকিরণে

যাপনের প্রতিটি অবসরে
নতুন উদ্যমের অফুরাণ যোগান
আগে থেকে না বলে
তৎসম আনন্দ পুনরায় সৃষ্টি করতে 
ও উপহার দিতে বিলক্ষ্মণ সক্ষম হলে

তাকে ভালবেসে 'বাঁচার মত বাঁচা' বলে ।

রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

সহজ

যে যত শেখে
সে তত বেশি অনুভব করে
"শেখার শেষ হতে পারে না কোনওদিন" ।

তুমি যত বড় শিক্ষিতই হও না কেন,
তারপরেও তোমার ভুল হতেই পারে ।
ভুল হওয়া কোনও অপরাধ নয় মানুষের ।

খেয়াল রেখো 
অহমিকা যেন এমন দেয়াল না তোলে
তোমার ব্যক্তিত্বের দরজায়
যাতে
কোনও প্রকৃত শুভাকাঙ্খী চাইলেও
তোমার কোনও একটি বিশেষ ভুল
সংশোধন করে দিতে 
কোনভাবেই আর সুযোগ না পায় ।

শনিবার, ১৩ মে, ২০২৩

ফলন

ধরে রাখতে পারনি ধার 
সংযমের অগভীরতায় -
সে আলাদা প্রসঙ্গ,

তবে, মনে কি পড়ে আজও
সে ভার,

কোন ভরন্তে 
কী বিস্ময়কর ফলবতী হয়েছিলে
আঠেরো আর উনিশের 
বাঁধ-না-মানা, বেপরোয়া সন্ধিক্ষণে ?

বধ

আকাশ মেঘলা বিগত দুদিন ধরে
ঠিক গতবারের আম্ফানের মত ।
ভরা বৈশাখ, অথচ সূর্যের প্রখরতার 
খবরই নেই কোথাও কোনও ।
উঁচু নারকেল গাছের 
বিশাল লম্বা পাতারা
অবিশ্রান্ত দুলে চলেছে ভূতের মত,
জানান দিতে তার বিধ্বংসী আগমনের ।

শুধু কেউ বুঝছে না
অপর একটি পূর্বাভাস ।
একা আমি, স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি,
স্কুল থেকে পড়িয়ে ফিরে,
তাণ্ডব ডাকছে লম্বা দুহাত বাড়িয়ে,
চকচকে চোখে,
নীল পাড় সাদা শাড়ি পরা,
ওই ছিপছিপে, দীঘল শরীরটি তোমার !
ডাকছে বানের উথাল-পাথাল কে
পার ছাপিয়ে
সরাসরি ঘরের উঠোনে আছড়ে পড়তে
আর সহসা কেড়ে নিয়ে 
পাল্টে ফেলতে বাধ্য আমাকে
তোমার বধ্য শিকারে...

সব প্রতিরোধ চূর্ণ করে,
শেষবারের মত জলের প্রবল টানে 
ভাসিয়ে নিয়ে 
আর নিজে তাল মিলিয়ে ভেসে গিয়ে, 
অতঃপর ভাসানের অবধারিত মিলে
তুমি একার গরবে 
বিজয়ীর শেষ হাসি হাসবে ব'লে ।

রোমন্থন

একবারও অতিরিক্ত দেখায়নি
একটিও কৌতুহল কখনো ।
অন্তর্যামী জানেন
বরাবর স্বামী-সোহাগিনীই ছিলে ।

"ধন্যবাদ" ছাড়া
বলার সুযোগ ছিল না কিছু তেমন
পরদিন সকালে 
গুড-মর্নিং চায়ের কাপে ।

দুপুরে যদিও 
ঘাটতি ছিল না অতিথিসেবায়
এগারো পদে ।

তাব'লে, বিকেলের চা অবধি
অপেক্ষা করিনি আর ।
চলে আসার সময় 
আমাকে থমকে দিয়ে
হাত নেড়েছিলে একটু যেন বেশিই ।

বোঝাতে চেয়েছিল দিলরুবা 
সে ইঙ্গিতে অনাগত প্রস্রবণ কোনও
মধুর ইত্তেফাকে ?

শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩

মন চেয়েছে

এমন মেঘলা দিনে
তুমি বিনে
বেহাগ বাজলে
মন কি ভাল থাকে ?

যখন নদীর ধারে
গাছের ছায়ায়
ঝোপের আড়াল
টেনে নিলে

লুকোনো কোয়া
অধীর হয়ে
মাছের পারা
কপকপালে

সাঁতার-সোহাগী
বাধ্য তুমি
ঢেউ মাখতে
দুবাহু বাড়ালে

উতোল জোয়ার
মাতাল খেলায়
এই অবেলায়
আদুল হতে ডাকে ? 

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩

সম্প্রতি

শরীরের সাথে সম্পর্ক শরীরের
বাসি হতেই হয় কিছু কাল পরে ।

মনের সাথে মনের সম্পর্কে
লাভ-লোকসানের হিসেব
একতরফা দাদাগিরি করে ।

পরাণের সাথে পরাণের সহবাস
মানুষকে ডাকে তৃপ্তিদায়ক সুন্দরে ।

আচ্ছা, তুমি কেমনতর প্রবৃত্তির দাস তবে ?
পরাণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে এলে
শরীর আর মনের অধিকারবোধ
আস্কারা পায়নি ব'লে ?

বুধবার, ১০ মে, ২০২৩

তিনি

.তিনি একদিন মাত্র বাইরে বসেন ।
পঁচিশে বৈশাখ একসাথে সবাইকে পান ।

বাকি তিনশো চৌঁষট্টি দিন
যার যার আপন বুকের কারাগারে
মহাসুখে বন্দী থেকে
যার যেমনটি চাই
পছন্দসই আলাদা ক'রে
কলম চালান আর গান শোনান ।

বাসা

জীবনটি যে পাখির বাসা
সময় এলে তার থাকবে খসা ।

তাব'লে কোন বাঁধ দমাবে রে
পাহাড়-প্রমাণ ভালবাসা ?

তোমার কাছে চাইনি কিছুই,
নিজেকে ছাপাবো - এটুকু আশা ।

সুখ

হাঁপিয়ে গেলে প্রাচীন দীনদের মত 
এত অল্প দিনে ?
এমনি এমনি 
ভরন্ত সুন্দর থাকতে পারে না 
বিরল উজ্জ্বলতায় জীবনটি সবার ।
পারস্পরিক অর্জনে
যথার্থ সহযোগ দরকার ।

ভালবাসার ঢেউকে 
উত্তাল রাখতে জানতে হয়
চকচকে চোখের অপ্রতিহত দুষ্টু হাসিতে 
আর সহসা টেনে নিতে হয় তাকে বুকে
চুম্বন-অবগাহনে বারংবার
প্রতিটি ক্ষণিক সুযোগের 
লোভনীয় অবসরের পুরো ফয়দা তুলতে
ফের আরও একবার ।

এমনকি, বয়স পঁয়তাল্লিশ পেরোলেও
সন্তান-সন্ততি এড়িয়ে
সুযোগ পাওয়া মাত্র
কৈশোরে ফিরে গিয়ে উচ্ছল হতে
একদিনে ন্যূনতম ছেচল্লিশ বার ।

হ্যাঁ, দুটি ভিন্ন সুর 
আন্তরিকতার প্রবল তীব্রতায়
একে অপরের মাঝে এসে
পাকাপাকি বসে গেলে
'পরাণের তুঙ্গে 
যুগলবন্দী বাঁচা কাকে বলে'
অবাক হয়ে দেখবে, না হয়, 
মধ্যচিত্ত জনজীবনের সমাহার ।

না, এমন নির্লজ্জ অসঙ্কোচের 
নিত্য প্রতিযোগে
পারস্পরিক উদ্ধত প্রশ্রয়ের জন্য
এ জীবনে একটিবারও 
আফশোষ করতে হবে না তোমার ।
.

মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

প্রেম - প্রবৃত্তি মাত্র, চেতনা না

প্রেমে পড়া মানেই ভালবাসা না ।

প্রেমে পড়া বলতে সাধারণতঃ - 
প্রবৃত্তির দ্বারা
একটি মোহ-জনিত কল্পনায় আঁকা
শারীরিক কামনার মিলনময় আল্পনা ।
ভালবাসা আখেরে অতও সহজ না ।

ঔৎসুক্য যে গভীর অবধি গেলে,
একসময়ে 
সুরের মিল খুঁজে পাওয়ার সুবাদে,
ভাবের প্রত্যক্ষ অনুরণনের দ্বারা
ক্রমশ তীব্রতর ব্যক্তিত্বের মন্থনে,
অপর মানুষটির উৎসে উদ্ভুত
যাবতীয় ভাল গুণের সমন্বয়কে 
এক এর পর এক 
নিজেতে সাইফন করে
চিরতরে আত্মস্থ করে নিতে পারা
বাস্তবে সম্ভব করতে পারে -
সমর্পণ-জনিত প্রাণের সঙ্গম
সেই অব্যর্থ অভেদে না পৌঁছালে
ভালবাসার 
আদপে কোনও মানে থাকে না ।

প্রবৃত্তির গতানুগতিক স্বার্থ-প্ররোচিত
ভেজাল ও ফাঁকির নেট রেজাল্ট 
অপদার্থতার অবধারিত প্রসবে,
কয়েক বার মাত্র
সুযোগ খুঁজে শুয়ে পড়লেই
আবশ্যিক ভাবে ক্ষান্ত দিতে পারে  ।
এর অধিক এগোনোর
পরিসর অথবা উপায় প্রেমের থাকে না ।

প্রসঙ্গতঃ,
ভালবাসার নামে বিছানা কাঁপিয়ে,
বাস্তবে, একটিবারও 
পরাণে অথবা আত্মিকে
কোনও স্থায়ী অর্জন সম্ভব না ।

ভালবাসা ভেবে, 
ভালবাসার মত দেখতে,
যা পড়ে থাকতে পারে, 
সে হলো বড়জোর
মোহ-জনিত ঢ্যাঁড়স-পনা,
আর তার অলীক বেচা-কেনায়
সময়ের হাস্যকর অপচয়-জনিত 
ভবিতব্যের দেনা ।

( এক্ষেত্রে মোহ বলতে বোঝায় -
শান্তিনিকেতনী 
পিছনের সারির অযোগ্যরা, 
"গুরুদেব" উচ্চারণ করতে করতে
যেমন প্রায়শই মূর্ছা যান, 
তেমনটি চেনা ।

অথচ,
কবির বিরল প্রতিভার 
কোনও একটিমাত্র বিশেষ দিক নিয়ে 
সামান্য স্বচ্ছ ধারণা দাবী করলে,
ওমনি ইনিয়ে-বিনিয়ে
এমন ঘেঁটে-ঘ করে ছাড়েন তারাই, 
যে শ্রোতার বাধ্য হয়ে
"ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি" 
গোত্রের দশা উপস্থিত হতে হয়,
একথা, দেরীতে হলেও, জানা ।

এই মোহের ধরণটিও ঠিক তেমনই কিনা !

নাচু দে-র মুকুরে

গ্রীষ্মের দুপুরে 
কুকুরের মত 
সব গুটিয়ে
একলা 
ঘুমাতে না পারলে
ঘুমানো হারাম ।

না হলেই
জাগতে পারে 
দোকলা
তোলার ব্যারাম 

অথবা ধর,
ধর্তব্যদের
আগ্রহভরে
মুঠোয় না পুরে

বরং মাঝে
নাক ঢুকিয়ে 
হালকা সুরে
ডাক শুনিয়ে
অগত্যা
ঘুমিয়ে পড়লে

ফলতঃ, ফের
ফাঁক শুকিয়ে,
বিকল
বিকেলের চায়ে
অভিমান কে 
তোল্লা দেওয়ার 
ব্যাপক অভিরাম ।

রবিবার, ৭ মে, ২০২৩

দেব-সম্ভব

বাহানার দরকার পড়তে নেই কখনও
ভালবাসবার ইচ্ছে প্রবল হলে ।
অনুরাগ
মানুষের অন্তরে সৃষ্ট হওয়ার লগনে
তাকেই সর্বাধিক ধনবান করে ফেলে ।
ভালবাসা এমন কোনও বস্তু নয়
যা অপরকে দিলে কমে যেতে পারে ।

যত জীবন্ত নারী-পুরুষ, এখন ব্যস্ত এত,
এরা সবাই মাত্র আর কয়েক দশক বাঁচবে ।
তারপর একদিন না ফেরার দেশে
হারিয়ে যাবে চিরতরে ।

এদের মধ্যে বেশির ভাগ জন
লাভ-লোকসানের ব্যর্থ হিসেবে
হারিয়ে ফেলতে থাকবে
জীবন নামক সুবর্ণ সুযোগ -
একথা শিশুর পারা ভাবতে ভাবতে,
"যাওয়ার দিন - যত সঞ্চয় এযাবৎ,
সব বুঝি সাথে করে নিয়ে যাবে ।"

এরা জীবন থেকে 
শেষ অবধি শুধু হতাশা কুড়াবে,
কারণ, কার্পণ্যের পার্থিব সঞ্চয়
কিনে এনে দেবে না 
কোনও অপার্থিব আনন্দ 
আর আজকের সব টাটকা উৎসাহ, তাই,
একদিন বাধ্য হয়ে শুকিয়ে ঝরে যাবে ।

যথাসময়ে
নিজের ভিতরে তাকাতে ভুলে গেছে, ব'লে,
এরাই কিছুদিন পরে 
কেবল বাইরে তাকিয়ে থাকবে আর
গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসবে -
"কী হবে এর পরে"
আর ক্রমাগত দীর্ঘশ্বাস ফেলবে ।

অথচ আবার, কেউ কেউ,
একই প্রকার পরিস্থিতিতে,
অনবরত যত উপায়ে সম্ভব
ভালবাসার তুখোড় সুযোগ খুঁজে নেবে ।
দমে গিয়ে, থেমে পড়বে না 
একবারও আঘাত পেয়ে ।
এরা আটকে পড়বে না, ভুল ক'রেও,
লাভ-লোকসানের হাস্যকর হিসেবে,
বরং পাগলের মত ইতিহাস রচবে    
এক এর পর এক, 
দুরন্ত ভালবাসার, একটি জীবনভর ।

এরা মানব-জীবনকে
কোনও না কোনও প্রকারে
প্রতিবার জীবন্ত উৎসবে পাল্টে ফেলে,
দৈবিক আভিজাত্যে মাথা উঁচু রেখে,
এ ধরাতেই 
স্বর্গের স্বাধীনতা 
আর বাঁধ-ভাঙা, তুরীয় আনন্দ
নিরন্তর উদযাপন করে যাবে ।

শেষবার চলে যাওয়ার অবধারিত দিনে
এই ব্যতিক্রমীদের 
মনের উজ্জ্বল প্রান্তরে
আক্ষেপ জমা রইবে না - আদপে,
কখনও, কোনও ।

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

ফাঁকিবাজ

এমনকি মাটির পুতুল গড়তেও
যথোচিত শিক্ষা 
ও অভ্যাসের প্রয়োজন পড়ে 
আর ভালবাসা, আপন সার্থক প্রমাণে,
মানুষকে অবধারিত নূতনে গড়ে ।

প্রতিদিনের আপোষহীনে
জীবনের আমন্ত্রণ হতে
একমাত্র সুন্দরতরদের
নব নব আলিঙ্গনে খুঁজে,
উদার উৎসর্গের মাঝে
উৎকর্ষটিকে
সচেতন ভাবে ভালবাসতে 
ও গভীর অনুরাগে
আপনতম ক'রে নিতে শিখলে,

স্তরে স্তরে খুলে যেতে হয়
অবারিত ভালবাসার 
এক অদৃশ্য, অবর্ণনীয়, বিদ্যালয়
পরাণের অভ্যন্তরে 
আলোকময় বিবেকের সুনিবিড় সাধন-ঘরে ।

নিজের প্রতি নির্বিরোধে প্রযোজ্য
ইতিমধ্যে শেখা 
সেই অভূতপূর্ব সূত্রগুলি একমাত্র তখনই
অপরের প্রতি সংযত প্রয়োগ চলে ।

যে ধৈর্যহীন অর্বাচীন
নিজেকে ভালবাসতে শেখার আগে
পড়ে গেল পরের প্রেমে,
সে আবোদা
ধপাস করে আছাড় খেতেই 
সবার আগে আগ বাড়িয়ে গেছে
নিছক মোহের ফাঁদে পড়ে ।

মোহ কাটবেই অদূরে, শরীরের স্থুলে
অনেকটা বিফল প্রয়াসের সমাহারে
শেষ অবধি
হতাশদের দলে বাধ্য নাম লিখিয়ে
হঠকারিতার
মূল্য পুরোপুরি চুকিয়ে দেওয়ার পরে ।

ভালবাসার জগতে
"তুমি কোন অবধি নির্লোভ দাতা,
অথবা কতদূর সুবিধাবাদী গ্রহীতা"
এসব প্রশ্নের সৎ উত্তর
একসময়ে ধরা পড়ে যাবেই
নিঠুর বাস্তবে, পরিনতির ইত্যবসরে ।
পারবে না লুকিয়ে রাখতে 
একটিও গোপন কোপন প্রবৃত্তি
অপরের অগোচরে ।

শর্টকাট না খুঁজতে গেলে
জয় অথচ নিশ্চিতই ছিল
ধৈর্যশীল ও একনিষ্ঠ আত্মশিক্ষার বরে ।
.

বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

পথের ভুলে

যেখানে
পাতা-ঢাকা ঘন বনের
দীর্ঘ পথে বিশ্বস্ত আছে ছায়া,

যেখানে যতনের আনাচে-কানাচে,
অবিকল মায়ের পারা
অবিচল রয়েছে মায়া 

অথচ যে দিশায়
পথের শেষে অপেক্ষায় নেই
আকাঙ্খিত কায়া,

সেই পথটি শেষ অবধি
একটিবার চিনলে পরে,
সে আজ হোক অথবা কাল,
অবশেষে একদিন
অভ্যস্ত, একান্ত প্রবৃত্তিদের 
যাবতীয় পরিনতি
পাশে সরিয়ে রাখতে পাওয়া,

খুঁজে নেবেই তোমার 
হাসিমুখে, আপন-পানে,
চিরতরে ফিরে যাওয়া ।

মঙ্গলবার, ২ মে, ২০২৩

যখন বাড়ে

তোমার সাথে প্রথম দেখা যেদিন, 
তার কথা মনে রাখার কথা নয় পরে,
কারণ, ভীষণ রকম ব্যস্ত ছিলে সেদিন
শিশু অঙ্কনশিল্পীদের অনুষ্ঠান পরিচালনায়
নির্ণিমেষ দায়িত্ব-সহকারে 
এবং দরদভরে ।
দেখা হওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ, অবশ্য,
জোটেনি আমাদের আর তারপরে ।
 
এদিকে ক্রমশই পাল্টেছে পরিচয়
একটু একটু করে গভীরতরে,
প্রাণ চেয়েছে নিরিবিলিতে
আশ মিটিয়ে গল্প করতে কখনও
হাতে হাতখানি আলতো ক'রে ধরে ।

তারাই জীবনভর আহরণ-পটু,
বুকের একদম ভিতরের ঘরে
যে অবাধ্য গুড়গুড়ানি-গুলো,
তাদের 
সঠিক সময় না আসা অবধি
যারা 
সযতনে গোপনে রাখতে পারে ।

একদম ফাঁস করো না যেন 
কাউকে কখনো 
নিছক হড়বড়ে,
ওই বিশেষ ইচ্ছাদ্বয়ের 
সন্ধিক্ষণটি গো
সেদিন
প্রবল অধীর হয়েছিল কার 
সাত তাড়াতাড়ি ক'রে আগে
আর কার অব্যবহিত পরে ।
.

সোমবার, ১ মে, ২০২৩

ব্যর্থ প্রয়াস

চোখ দিয়ে দেখার দৌড় তো 
অন্যের বাইরের ত্বক অবধি ।
বুক দিয়ে দেখার দৌড় 
আরও অনেকটা গভীরে যায় ।

বুদ্ধির উপরে একটু
বেশিই ভরসা করেছিলে ?
প্রলোভনে সাড়া দেওয়া
যে-আপোষটি তোমার 
একপ্রকার বাধ্য হয়েই 
অভিনয়ে ঢাকতে হয়,
একবারও ভেবো না
সে মুখের কথারা
অনায়াসে পার পেয়ে যাবে
বুক দিয়ে দেখার সমীপে ।

সব মরীয়া চেষ্টার পরেও, 
সে ভিন্ন দৃষ্টি, শেষ অবধি, 
আপন স্বচ্ছতার অধিকারে
একদিন তোমার
প্রতিটি অভিনয়-প্রয়াসকে 
অপ্রাসঙ্গিক করেই দেবে 

আর শুধু তাই নয়,
তোমার বিরল কবি-প্রতিভাটি
একইসাথে, তোমারই চোখের সামনে,
আপোষের চাপে, অকালে মারা যাবে ।
মুখ না বলুক, তোমার বুক 
সে পরাজয়কে বাধ্য হয়ে মেনেও নেবে ।

প্রতারক শব্দরা

গত পঞ্চাশ বছরে 
অনেক শব্দের অর্থ ঘুরে গেছে
একশো আশি ডিগ্রী ।
এককালে যা পরম শ্রদ্ধেয় ছিল
আজ তা পরিনত হয়েছে
সর্বাধিক হঠকারী উচ্চারণে ।

যেমন একটি শব্দ 'শহীদ' ।
বোকা অনুগামীদের
অন্ধ আবেগকে কাজে লাগিয়ে
সরকারী বন্দুকের সামনে
ঠেলে দিতে পারলেই
বিরোধী দলের কেল্লাফতে ।

যে সংসারগুলো হারালো টাটকা প্রাণ,
তাদের পুনর্বাসন কে
নিশ্চিত করবে না আর কোনও
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন,
অথচ
মহা সমারোহে পালিত হতে থাকবে
বছর-বছর "শহীদদিবস" ।

তেমন আর একটি শব্দ 'বিপ্লব' ।
বিপ্লব যে একটা মুখোশ মাত্র,
যার আড়ালে একমাত্র চলে
ক্ষমতার অলিন্দে
গদিদখল-জনিত আস্ফালন 
ও তার সুগুপ্ত, একতরফা অবৈধ প্রয়োগ,
সেকথা অতি-সাধারণ জনগনের
বুঝতে বাকি নেই আর ।

ভণ্ড নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে -
লক্ষ লক্ষ তরুণদের 
জীবনের মূল্যবান চৌত্রিশ বছরের
সমূহ বলিদানও
বাস্তবের মাটিতে
সামান্যতম "বিপ্লব" আনতে 
নেহাতই অক্ষম ।
তিক্ত এই বাস্তবটি 
অনস্বীকার্য রয়ে যেতেই হয় 
শেষ অবধি জনমানসে ।

সেকালের স্বপ্নের "বিপ্লব" শব্দটিকে
নেহাৎই অকর্মন্যদের 
পার্টির দাদাগিরি-জনিত 
অবৈধ অত্যাচারের
দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস 
একালে পরিনত করে ছেড়েছে
বাঁজা বাতেলাদের 
পুনঃ পুনঃ, পূনর্মুষিক ভব,
সংগ্রামী বায়ুপ্রসবের হাস্যরসে ।

'ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র' - অপর একটি ভণ্ডামির
নিরাপদ আড়ত ।
বিগত পঁচাত্তর বছরে
এমন একটিও রাজনৈতিক দল আসেনি
এযাবৎ
যারা পাঁচ বছর বাদে বাদে 
ভোট শিকারে নামেনি
বিশেষ ধর্মকে বিশেষরূপে তোল্লা দিয়ে ।

ভারতবর্ষে তাই
মানুষের সমৃদ্ধি যত না হয়েছে
স্বাধীনতার পরে,
মন্দির-মসজিদের সমৃদ্ধি ঘটেছে
তার ন্যূনতম দশগুণ অধিক ।
গরীবের প্রাপ্য দুবেলার আহার
তাদের না দিয়ে,
মানুষের তৈরী ঈশ্বর-আল্লার আড়ালে
তাদের তাবেদাররা 
আশ মিটিয়ে চেটেপুটে খেয়েছে
সরল মানুষের মাথায় বসে ।

রাজনীতি আর ধর্মের আপোষী হাতমেলানো
মানুষকে বারংবার 
যে মিথ্যাটি আখেরে বোঝাতে চেয়েছে,
সে হলো -
'ধর্মীয় কুসংস্কারের উপযোগিতার কাছে
মানবিকতার প্রয়োজন মূল্যহীন ।'
মানুষকে বোকা বানিয়ে গেছে হামেশা
আবার কখনো পারেওনি ।
.