শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

উত্থান-রহিত

আগের রাতে

লক্ষ্যের প্রতি শ্রদ্ধেয় আপোষহীনতা 

আর তৎপর প্রস্তুতির সমূহ অভাবে


পরের সকালে

চেতনা আর ইচ্ছাশক্তির যথার্থ সমন্বয়

অনুদিত হলো না সেই কর্মের আন্তর্বিপ্লবে,


যে গাত্রোত্থান বিনা

আবারও আর একটা চব্বিশ ঘন্টার পুরো দিনের

সুবর্ণ সুযোগ 

নিছকই ঠকিয়ে দিয়ে, চোখ মেরে,

জীবন নামক কর্মশালা হতে 

নিখুঁত আগেরই গতানুগতিকে চিরতরে হারিয়ে যায় !


প্রমাণিত কলুর বলদের লাভের ঘরে 

বাধ্য সঞ্চয় -

মরীয়া বিস্মরণ-প্রবণ "হায় হায়" !

.



বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

ফুল ও Fool

শীতের শিশির পেয়ে 

যে ধবধবে সাদা পিটুনিয়ারা

উপচে যেতে চেয়ে

প্রায়ই আঁটতো না খোলা মুঠোয়,

তারা গ্রীষ্মের পরশে, কুঁচকে গিয়ে,

আমড়ার থেকে ছোট হয়ে গেছে সাইজে ৷


যত ঘন-লাল পাতা-বাহার

বৈচিত্রের অভিনবত্বে ভরে রাখতো 

এক এর পর এক বারান্দার টব,

তারা, একে একে, লাল রঙ সম্পূর্ণ খুইয়ে ব'সে

এখন নিছকই সবুজ-সর্বস্বে 

এক-একটি অতি সাধারণ গাছ !


যে বেগনভেলিয়ারা লড়ে যেত 

একে অপরের সাথে

রঙের অভিনবত্বে - তীব্রতার প্রতিযোগিতায়,

তারা এখন ক্রমশই ম্যাড়ম্যাড়ে, 

রঙ জ্বলে যাওয়া শুকনো কাগজ-ফুল ৷


তবে প্রতিটি গাছের মধ্যে যা লক্ষ্যণীয়,

সে হলো - অবধারিত ভাবে তাদের অন্দরে

জাগছে নূতন কোষ,

ঠিক প্রতিটি মানুষের অচেতনে 

অথবা অবচেতনে শরীর জাগছে যেমন

নতুনের ঢেউয়ে 

মৃত কোষদের সাফ করে দিতে দিতে !


শীত গ্রীষ্মের এই পরম্পরার খেলায় 

প্রকৃতির আপত্তি নেই তো তেমন কোনও !

শুধু আনন্দের পরে বিরহকে

তুমি সহজ ভাবে মেনে নিলে না ব'লে,

হিসেবের খাতায় মাপতে না পারা

পরাণের ধন - হাসিরা 

আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে গেল প্রতিটিবার


সেই প্রথম দিন থেকে আজ এ অবধি, 

যেমন ধর, কাজের মেয়ে

সুযোগ বুঝে আজই প্রেমের ছুটি নেওয়ায়,

সক্কালে উঠেই, ডাঁই করা বাসন মাজার,

সারা বাড়ি ঝাড়ু দেওয়ার আর

হাঁপাতে হাঁপাতে ঠাকুর ঘর অবধি মোছার

সুখটি উপহার দিলো

সুগৃহিণী-সুলভ আহা-মরি ১লা বৈশাখে ! 

.

রবি কিন্তু তারপরেও 

লভ্যে - নিটোল ও ভরাট রয়ে গেছে

আগের মতই অকৃত্রিম অবিচলে !

.


.

শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

চৈতন্য

ভ্রমের ভ্রমর 

অন্ধ ব'লে কেবলই বাইরে ঘুরে ঘুরে মরে ৷

মোহকে ভালবাসা ভাবার ভুল তবু

এ জীবনে আর গেল না আমাদের !


মোহ - মনে বাস ক'রে 

অবিরত লাভ-লোকসানের হিসেব করে,

কল্পনার আল্পনা আঁকে আর

সুতীব্র খোঁচায় শরীরকে বারংবার জাগায় ৷

স্বার্থান্বেষী মনে দহন ক্রমশ বাড়তেই থাকে

অথবা হতাশাকেই শেষ-অবধি কড়া নাড়তে হয়,

বাইরের কারও প্রতি বস্তু-প্রবণ পরমুখাপেক্ষিতায় ৷

মানুষ আশায় থাকে - উদ্ধার করবে অন্য কেউ, 

তার নিজের নেই তো অচিরে কোনই দায় !


মোহের অস্থির দৃষ্টি 

কেবলই বাইরে আটকে থাকে ব'লে

একবারও  নজর ফেরে না ভিতর-পানে !

ইচ্ছারা শিকলকে ভবিতব্য মেনে নেয়

মনের সাথে প্রাণের পার্থক্য-বিস্মরণে !

চৈতন্য বলে না - আপন অন্তরে

পরাণের গুপ্ত দরজাটিতে একবারটি ঠকঠকাই !


সে অন্দরমহলে কোনও ঝড় পৌঁছায় না ব'লে

দীপশিখাটি একবার প্রজ্বলিত হলে

অতঃপর নিষ্কম্প আলো দিতে জানে 

শান্তির দুর্লভ মহিমায়,

বাইরের লক্ষ্যে শেষ-অবধি নয়, 

বধিরতার উচাটন-শেষে

আমরা যে অলিন্দে খুঁজে পাই সুর,

আপন গভীরতার সম্যক পরিচয়ে

ভালবাসার ধ্যানমগ্ন তন্ময়তায় ৷


তুমি যদি কবি হও, বেশ ভালই জানো,

তোমার আদরের রবি,

মনে নয়, তোমাকে না জানিয়ে

ঠাঁই খুঁজে নিয়েছে পরাণের কোটরে ব'লে,

ভালবাসার যথাযথ সেবা

কতটা পরম-নির্ভরে তোমা হতেই পায়  !

বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

খোলামেলা খেলা

যাঁরা বলেন - কবিতা লেখা যায় না,

কবিতাকে আসতে দিতে

পরাণে আসন ও সময়টি যথাযথ পাততে হয়

তারা নমস্য ও উচ্চমার্গের,

এমনকি কেউকেটা কেউ কেউ ৷


জীবনকে সুন্দরের আহ্বানে বয়ে যেতে দিতে

নিষেধের যে কোনও বেড়া টপকে গিয়ে

যারা যাপনকে স্বয়ম্ভূ-বেশে আপন হতে দেন

সুদীর্ঘ অপেক্ষায় হত্যে দিয়ে পড়ে থেকে,

তারা অবশ্যই মরার আগে হতে পারা মমি 

অথবা বাঘের আগের নিশ্চিত ফেউ !


ঈশ্বরের মুণ্ডহীন ধরকে নতজানু করে

পোদে চুমু খাওয়ার অভিপ্রায়

যুগ যুগ ধরে 

আপন ক্রুশের কাঠের মত বইতে থাকা

সেই তারা - আসলে মুক্তোর বিরল স্বেদ,

যাদের আমরা 'বহতা চান্দ্রেয় বারি' 

বলতেই পারি !


বেচারা সূর্য্যবংশীর দিশার পরিসরে

ঈর্ষার অবসর বিরলতম ব'লে

প্রতিবিম্বের প্রতিযোগে

উৎসের অনুযোগও নেই তেমন কোনও !

দম্ভ বলেনি কখনো

"স্বাধীনতার অধিক কী আর আছে আমার

ছাড়তে পারি ?"

শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২১

চিঠি

তোমার বুকের মাঝ বরাবর যে অহমিকা-শূন্য প্রান্তর, সেখানে কোনও কাঁটা-ঝোপের ভয় নেই ! তুমি, তাকে অবাক করে, একদিন ডেকে নিয়ে বলেছিলে - সে অযাচিত পরিসরে নিজের পছন্দমত কুটির গড়ে নিতে ৷ 


তার আবার বড্ড বেশি নাক-উঁচু স্বভাব ! ভাল করে জরিপ করে, সাথে সাথে বুঝে ফেললো, তারই মধ্যে একটি বিশেষ অংশের জন্য কোনও ভাড়া দাবী কর না তুমি কখনও ৷ সে যে সেকথা বুঝে ফেলেছে, তার আভাসও দেয় নি সেভাবে ৷ তবে, রাধার অন্বেষণে কাটে না আর কাল ব'লে, রাখাল, কি মনে করে, থেমেছিল ! হাসিমুখে নামিয়ে রেখেছিল বাঁশি ৷ যে গৃহসুখ চির-অধরা ছিল, তার স্বাদ একটু একটু করে পেতে পেতে, আজ তার রোজ  ঘরে ফেরার প্রবল তাড়া ৷


প্রাণের আহার মানুষের প্রতিদিনের প্রয়োজন - নিছক বাঁচার তাগিদে ৷ চরতে বেরোতেও হয় তাই ৷ ভুল করে ভাবতে বসো তবু প্রায়ই, - যতই ভালবাসো না কেন, স্বভাবে-আকুল মানুষরা কোনও কূলে বাঁধা পড়ে না কখনও  ! রয় না তেমন কেউই, এ জগতে, শেষ অবধি হাতে-হাত ধরা !

.


বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

Journey

 

আসক্তিরা 

যে লোহার শিকলে মানুষকে বাঁধে

অধিকাংশ মানুষের সাধ্য নেই সে শিকল কেটে 

মুক্তির আকাশে ডানা মেলে 

আনন্দে অবগাহনকে স্থায়ী ও সুনিশ্চিত করার,

যে অবধি জ্ঞানালোকের প্রদীপটি

উজ্জ্বলতরতায় পূর্ণ-সহায় না হতে পারে তার !


বিরহ বহু প্রকারের হয় !

যে বিরহ যত অধিক স্থুল চাহিদার কারণে,

সে তত সাময়িক ও তীব্রতর উথাল-পাথাল !


বিরহ গভীরতর সংবেদীও হতে পারে ৷


ভাল তো আপন নিয়মে ভালবাসাবেই !

ভালবাসা মূলতঃ চায় শর্তহীন উপহার হতে ৷


পরাণের স্বতঃস্ফূর্ততাকে মূলধন করে

তুমি হয়তো আপন নিবেদনকে অঞ্জলি দিতে

পায়ে পায়ে পৌঁছালে হৃদয়ের দুয়ারে কারও ৷

তবে, পৌঁছানোর পরে-পরেই আবিষ্কার করলে -

তার আসক্তিরা ইতিমধ্যে জেগে উঠে

প্রায় পুরোপুরি কব্জা জমিয়ে ফেলেছে তার উপরে ৷

তোমার বিনিময়-মূল্য-হীন উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রে

তাই শর্তারোপ করতে উদ্যত সে,

যে শর্তের মাধ্যমে অর্জিত হবে বন্ধনের অধিকার !


তুমি খুব ভাল করে জানো,

যে কোনও শর্ত স্বীকার করা মানে

ভালবাসার শুদ্ধতাকে 

স্বর্গ হতে মর্তে পতনের সুবন্দোবস্ত করা ৷


সুতরাং তুমি বাকরুদ্ধ

এবং অসুন্দরকে সামান্যতম প্রশ্রয় না দিতে 

বদ্ধপরিকর হওয়ার কারণে

বাধ্য প্রতিবাদহীনও ৷


হ্যাঁ, তোমার কাছে সত্যটি স্বচ্ছ পরমুহূর্তেই ৷ 

তুমি ভুল বসন্তে পৌঁছে গেছিলে ৷

লগন আসেনি যে তখনও তার !


তোমার ফেরার পালা এবার !


সুযোগ আসেনি তোমার আগে কখনও

এমন অভিজ্ঞতার !

তুমি ঠারে ঠারে জানতে পেলে,

নির্লিপ্তি - চরৈবেতির দায় ফের কাধে তুলে নেওয়ার 

ঠিক আগের মুহূর্তে, বিরহের সংবেদী পরশ 

ছুঁতে পারে কোন সে নিকষ গভীরতা !