জীবন অনাদি-অনন্ত নয় । এ হলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ, যা শেষ হয়ে যাবেই মাত্র কয়েক দশক পরে । যা করতে পারতে অথচ করনি, তা ভেবে আঙুল কামড়িও না শেষদিকে । তারপরে একদিন তুমি নামক এই জলজ্যান্ত অস্তিত্বটি আচমকা নেই হয়ে যাবে । পড়ে রইবে কেবল তোমার যাবতীয় কৃতি । হাজার খুঁজলেও পাওয়া যাবে না আর জীবন্ত তোমাকে ।
জীবন কিছু অসাধারণ সুযোগের সমন্বয় মাত্র । এখানে সকাল হতে রাত হয়ে পরের সকাল অবধি ক্যালেণ্ডারের এক একটি দিন তোমাকে বিশেষ কিছু সুযোগ দেয় । এখানে সময় নামক অনন্ত গতিশীল একটি পরিবাহী স্থির গতিতে তোমাকে পেরিয়ে যায়, প্রতিদিন-চিরতরে, যখন তুমি ক্রমশই বাধ্য বৃদ্ধ হতে থাকো রোজ একটু একটু করে । ( আগামী কালের দিনটি আসবে অপর নূতন দিন হয়ে । আজকের যে দিনটি পেরিয়ে যাচ্ছে, সে নিঠুরকে হারাতে হবেই চিরতরে, হাজার চাইলেও ফেরাতে পারবে না আর । )
সময়ের এই অনিরুদ্ধ গতি অবশ্য খুব বেশি নয় । তুমি চাইলেই আপন কর্মের গতিটি সময়ের গতি হতে বাড়িয়ে, সারাদিন ধরে, খেপে খেপে, সময় যে সুযোগ দিয়েছে তোমাকে, তাকে - বেশ কিছু সফল কার্যে, তথা অর্জনে পাল্টে নিতে পার, যার দ্বারা মহাকালের একটি ক্ষুদ্রাংশকে অচিরে বাঁধা পড়তে হয়, পরবর্তীতে, তোমার কর্তৃত্ব ও অধিকারের কাছে ।
কর্মের দ্বারা মহাকাল-কে বস্তু অথবা ক্ষমতা বা শক্তি তে পাল্টে ফেলার এই অবাস্তবতা-বর্জিত পদ্ধতির নামটিই হলো মানবজীবন । বহু মানুষ, অবশ্য, অলীক কল্পনার আলস্যে কর্মবিমুখ থেকে, অথবা ভোগের মায়ায় আত্ম-অপচয়ে ব্যস্ত থেকে, পার করে দেয় এই দুর্লভ মানবজীবন আর তারপরে ভোগে অবসাদে । সুযোগ ক্রমশঃ ফুরিয়ে এলে, এরাই একদিন ভীড় বাড়ায় 'চিরটাকাল-সংখ্যাগরিষ্ঠ', চহিদা-প্রবণ অথচ কর্মবিমুখ, 'হতাশ হয়ে বিলাপ করা' গোবর-গনেশদের দলে ।