দিন যাবে,
তারপর মাস—
তারপর বছর।
সব কেটে যাবে নিঃশব্দে,
যেন ঢেউ এসে নিজেই
নিজের চিহ্ন মুছে দেয় বালির গায়ে।
তারপর একদিন—
হয়তো ভোরবেলায়,
হয়তো চায়ের কাপে ঠান্ডা হওয়া নীরবতার মধ্যে—
হঠাৎ খেয়াল করবে তুমি:
যাদের এতকাল নিজের ভেবেছিলে,
তাদের হাসির শব্দ,
তাদের চোখের আলো—
সব মিলিয়ে গেছে কেমন করে,
অচেনা এক নিস্তব্ধতার কোলে।
যাদের নাম একদিন
প্রতিটি কথার ফাঁকে ঝরে পড়ত,
যাদের দুঃখ তুমি বুকে আগলে রেখেছিলে
প্রিয় পাখির মতো—
তারা আজ নেই কোথাও।
স্মৃতির ঝাপসা প্রান্তে খুঁজবে তাদের মুখ,
অচেনা সন্ধ্যার সুরে
পাবে তাদের ছায়ার ছোঁয়া—
কিন্তু ফিরে পাবে না তাদের ডাক।
শুধু নীরবতা উত্তর দেবে—
এমন এক নীরবতা,
যার মধ্যে অভিমানও ফুরিয়ে গেছে।
তারপর বুঝবে তুমি—
তারা আর ফিরবে না কোনোদিন।
ভালোবাসা ফুরিয়ে যায়নি,
ফুরিয়ে গেছে সময়ের দিকচক্র—
যা কেবল সামনে চলে,
পেছনে নয়।
তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে নিশ্চুপ,
বুকের ভেতর দিয়ে
হেঁটে যাবে হালকা হাওয়া,
আর শুনবে এক অদৃশ্য কণ্ঠস্বর—
যা বলে,
“সব চলে যায়,
শুধু তুমি থেকে যাও—
যা কিছু হারিয়ে তোমার মধ্যে রয়ে গেছে,
তাই-ই তোমার সত্য।”
তখন বুঝবে,
ভালোবাসা মানে অধিকার নয়,
অস্তিত্ব মানে সঙ্গে থাকা নয়,
যারা চলে গেছে,
তারা তোমাকে গড়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়।
তখন তোমার ঠোঁটে ফুটবে এক মৃদু হাসি—
না, বিষণ্ণতার নয়,
অন্তর্দীপের দীপ্তির।
কারণ, একাকিত্বও একপ্রকার প্রত্যাবর্তন—
এক ঘর,
যা তৈরি হয়
সবকিছুর থেকে,
যা চলে গিয়েও
আসলে কখনও যায়নি।