পরাণটি হৃদয়ে থাকে ।
মস্তকে, মনের কৃপণ সঞ্চয়ে
থাকতে আছে শুধু
অহমিকা-দুষিত
ভোগের অপরিসীম লোভ
আর তদজনিত দেনা-পাওনার
পুঙ্খানুপুঙ্খ বেনিয়া হিসেব ।
প্রেমের মুখোশটি
আলখাল্লার মত গলিয়ে নিয়ে,
অপেক্ষায়, সে শিকারীর মত ওৎ পাতে,
নিজে অধিকতর শোষক হয়ে
অপরকে কতদূর অবধি দোহন ক'রে
সাময়িক সুখের ক্ষীর খাওয়ার
ফয়দাটি লুঠে নিতে পারে !
আদ্যন্ত যৌনতা-চালিত পুতুল হয়েও
ভুরি ভুরি কবতে রচনাও আবার
দিব্যি চলে ।
অনুভবের মিলে
প্রাণের ব্যাকুল টানে সাড়া দেওয়ার
সাথে সাথে
নিজেকে মিলনের ঊর্ধ্বতর স্তরে
সুন্দরের সার্থক প্রতিবেদনে
নিয়োজিত করার তার অবসর কোথায় ?
তদৃশ মানবিক আভিজাত্যের আগে
মনের পাশবিক নিম্নস্বার্থটিকে যে
আপোষহীন সততায় বশে আনতে হয় !
আজীবনই নীচু দরে
যে সস্তা মাংসের কারবারি,
সে অশক্তের আসক্ত রুচিতে
অনুভবের পরম উৎকর্ষই বা
কিভাবে মুকুলিত হতে পারে ?
বরাহ-যাপনে আপাতঃ সুখী
ক্ষণিকা মনটি তার
সুযোগ পাওয়া মাত্রে
কাম্য কায়ার নিম্নধামে
লোভনীয় বিনিময় না পেলেই
ওমনি বিপুল বিরহে উদাস,
ঘন ঘন অবসাদের কাব্য লেখে
আর তুমি গেছিলে তাকে
ধবধবে সাদা পরমান্নভোগের
প্রসাদী স্বাদের উৎসখানি
হৃদমাঝারে চিনিয়ে দিতে ?