শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

গল্পটা কী তোমার?

শুতে দেরী হয়ে গেছে ফের—

গতকাল রাতে?
বিলম্বিত স্বপ্নে ভেসে গেছে
অসংখ্য অপার সম্ভাবনা।

একজন হত্যাকারী
খুঁজে পেতে পারে একদিন
মহৎ জীবন?
যদি প্রতিটি প্রভাতকে
হত্যা করেই কাটাও,
অলস নিদ্রার ছায়ায়?

তবু আশা করছো,
একদিন ঠিক হয়ে যাবে সব,
একদম স্বপ্নের মত?
যেন ভাগ্যের হাতে লেখা
কোনো অলৌকিক চিঠি,
যেখানে জীবন
আপনাকে ক্ষমা করে দেবে।

কিন্তু কপালে ঝুলছে
অভ্যস্ত পরাজিতের তকমা,
অলস আক্ষেপের অদৃশ্য স্মৃতি,
তুমি কি সত্যিই ভেবেছো—
শেষ হয়ে গেছো?

নাকি, শেষ হওনি এখনও?
আজও রয়ে গেছে এক মুহূর্ত,
একটা সূর্যোদয়ের অপেক্ষা,
একটা ছোট্ট পদক্ষেপ—
যে পদক্ষেপ
তোমাকে বদলে দিতে পারে,
একজন হত্যাকারী থেকে
এক মহৎ জীবনে।

একটি গোপন স্বীকারোক্তি
কী এই মুহূর্তে
তোমার অন্তর হতে
জন্ম নেওয়ার অপেক্ষায়?

রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫

বিভ্রান্ত

এগোতে পারলে না ব'লে
হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবে ?
এগোবে ? 
কোথায় এগোতে চেয়েছিলে?

বাইরে, বিস্তারের পথে 
কোনও শেষ নেই এগোনোর ।
এগোনোর শেষ খুঁজে পাবে
কেবল ভিতরে ।

নেতি শুধুমাত্র 
শেষ খুঁজে দিতে পারে একদিন, অবশেষে ।
একেই অঙ্কের নিয়মে
Process of elimination বলে ।
দূরের ট্রেনের 
সব স্টেশনে থামতে নেই ।
নেতি কে চেনো । 
তাকে সহজে আপন করে নাও ।
সে-ই শেষ অবধি
পৌঁছে দেবে সব রাস্তার শেষে
সত্য-সুন্দরে ।

শাস্তি

মানুষ 
নিজের ভালো চেয়ে
নিজেকে নিজে অনেক বুঝায়। 

তবু যদি মন অবাধ্য হয় বারবারই,  
তবে তাকে আর না আটকিয়ে 
নিজের ইচ্ছামত চলতে দাও
আর দেখতে থাকো
সে কেমন মৃত্যু নিয়ে
আঁতলামির 
বৃথা কাব্য শুরু করে এবার!

কেউ কেউ শুধু 
নিজের বিনাশ হতেই শিখতে আসে
নশ্বর এই দুনিয়াতে,
একথা জেনেই - 
সুযোগ এখানে আদপেই অফুরন্ত নয়।

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

নির্ভর

কিছু অক্ষমতা মানুষের
আশীর্বাদ হয়ে আসে জীবনে,
অদৃশ্য সূতোর বাঁধনে জড়িয়ে রাখে,
যেন নিয়তির নিভৃত দান।

এই যেমন ধর—
আমাকে না জড়িয়ে নিয়ে শুলে,
ঘুম তোমার দুয়ারে এসে থমকে দাঁড়ায়,
বালিশে মাথা রেখেও নিঃশ্বাস ওঠে-নামেই শুধু,
শরীর ভারী হয়, মন ডুবতে থাকে শূন্যতায়।

যেমন ধর—
আমার অস্তিত্ব ছুঁতে পেলেই,
তোমার আঙুল পথ খুঁজে নেয় চুলের গভীরে,
নীরব বাতাসে বয়ে যায় এক নেশামাখা সুর,
আমি হারিয়ে যাই সেই মৃদু আদরে,
তোমার স্পর্শের অলিখিত গ্রন্থে ডুবে থাকি রাতভর।

ততক্ষণ, যতক্ষণ না ভোরের আলো
কপালে ছুঁয়ে দেয় নিঃশব্দ আশীর্বাদ,
তোমার চোখে জমে ওঠা স্বপ্নের কণা
আমার চোখে এসে মিশে যায়,
আর আমরা জেগে উঠি—
আলোর প্রথম কিরণে গড়া
একটি আত্মতৃপ্ত হাসির মন্দিরে।

একে আশীর্বাদ ছাড়া
আর কী নাম দিতে পারো তুমি?

বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫

অপচয়

একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ?

হাঃ হাঃ হাঃ !
কোনও কিছু মনের মত ক'রে
ঠিকঠাক হবে না কোনদিন ।
অলীক বিশ্বাসের উপরে
অগাধ ভরসায়
একটি অমূল্য সম্ভাবনাময় জীবন
নিছক কর্মহীনতায় ক্ষয় হতে হবে ।

যাবতীয় সুসময়দের
আলস্য 
অজগর সাপের মত
একটু একটু করে গিলে নেবে 
আর তুমি কেবলই বাধ্য বুড়ো হবে ।

বিশ্বাসের 
ছলনাময় কাল্পনিকতা থেকে
নেমে এস
অলঙ্ঘনীয় যুক্তির বাস্তবে ।
লক্ষ্যের পানে এগোতে শুরু কর
স্থির-দিশা কর্মের জোরে ।
নিজেকে স্বাধীন কর ক্রমশই। 
যা চেয়েছো এতকাল -
সব একে একে অচিরেই পাবে ।

অমিত

প্রতিটি মানবজীবনের 
অদৃশ্য সীমাবদ্ধতার প্রাচীরটি 
লুকিয়ে থাকে ঠিক কোথায়?

আপন প্রশ্রয়ের
অভ্যাসজনিত কূপমণ্ডূকতায় ।

একবার সাহস করে
এই অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতাকে
অস্বীকার করে
ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এলে
মানুষ সহসা দেখতে পায়
মুক্ত আকাশতলে
সামনে অগাধ উন্মুক্ত পরিসর
কেবলই এগিয়ে যাওয়ার 

আর তার সামনে বাধার প্রাচীরের
কোনও প্রকার বাধ্যবাধকতা
তখন আদপেই অবশিষ্ট নেই। 

মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫

বিবশ

না চাইতেই
রোদ পোহাতে দাও, 

ডেকে নাও আজও
যখন তখন, আলতো ইশারায়
হৃদয়ের দরাজ উষ্ণতার কোলে -

ব'লে,
এই আমি
বেঁচে থাকি আজও
জীবনের প্রতি
নিদারুণ অভিযোগ ছাড়া ।

ভালবাসা
মানুষের কী যে দরদী সাহারা !


শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৫

নিয়ম

মানবজীবনের সরলতম সত্যটি হলো - 

ভালোবাসার উৎসুক আগ্রাসনের সামনে 
একবার পড়ে গেলে, 

সে আপন অন্তরে হোক অথবা বাইরে,

সর্বপ্রকার বাধা, 
সে যতই দূরহ বা প্রতিস্পর্ধী হোক না কেন, 
শালা, শেষ অবধি 
অবধারিত রূপে বেমালুম জব্দ, 
বশীভূত, বাধ্য 
ও নিঃশর্ত উত্তরণকামী। 

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫

অবিনশ্বর

একদিন আমার দিনগুলো ছিল 
পাহাড়-প্রমাণ ভারী—
দায়িত্বের বোঝায় সতত নুয়ে পড়া,
কাদায় আটকে থাকা একটি গাড়ি
যেন চলার ভারেই ক্লান্ত 
ও প্রায় স্থবির।

তবু, নিস্তব্ধতার মাঝে
জেগে উঠত এক স্বপ্ন—
একটি নিভে না যাওয়া অঙ্গার।
সেই স্বপ্ন ফিসফিস করে বলত
একদিন আমি মুক্ত হবো,
যেখানে প্রতিটি ভাবনা,
প্রতিটি কাজ হবে অচেনা, 
শিশুর মতো নির্মল উদ্দেশ্যে,
নির্ভুল সৃষ্টিতে,
উজ্জ্বল পরিণামে।

আমি চাইতাম তেমন জীবন—
যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত
বোঝা হয়ে নয়,
আলো হয়ে জ্বলবে,
যেখানে আমার যাত্রা
বেশি কিছু হবে নিছক হাঁটার চেয়ে-
একটি আত্মবিশ্বাসের গান,
একটি দ্যুতি,
শুধু আমার জন্য,
শাশ্বত ও অনন্য,
যখন আমার পরাণ ভরে রইবে
বাঁশির পাগল করা সুরে
তৃপ্তির প্রাণখোলা হাসিতে ।

দিন কেটে গেলেও 
আমি এগিয়ে গিয়েছি পায়ে পায়ে
যুগান্তকারী
সেই অবধারিত লক্ষ্যপথে ।

সোমবার, ১০ মার্চ, ২০২৫

The Golden Rule

If someone asks you "What are you seeking in life?"

Your answer should be "I am seeking every day the deepest satisfaction from my resilient performance. I am enhancing my pride, my level best, of how much I may become true to myself.

Be it the saints in the caves of the Himalayas or great men like Alon Musk, are doing nothing different, so to say."

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

কী চাই

ভালবাসার কাছে 
শুধুমাত্র ভোগ আর সুখ চাও?
ভালবাসা নিবিড় যত্ন শেখাতে আসে
একথা বুঝেছো কতটুকু?
ভালবাসা শ্রদ্ধা শেখাতে চায়।
দরাজ হৃদয় কাকে বলে জানো?
হৃদয়ের কোমলতা-রা
একে একে উজাড় হলে
আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ভালবেসে আঘাত পেতে ভয় পাও?
ভাল যদি নাই বাসো
স্বার্থহীন পরাণে 
দিতে শিখবে না কখনো।
একতরফা পাওয়ার আশায়
বয়ে যাবে জীবন।
ভিক্ষুক পরাণের সংকীর্ণতায়
মানুষের শরীরটুকু বইবে কেবল।
ভালো মানুষ হওয়া হবে না এ জনমে
শেষ অবধি।

বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫

পূর্ণ প্রাণে

জন্ম নিয়েছে সে এ ধরায়,

কয়েক বছর কিংবা কয়েক দশকের অতিথি হয়ে।
সুতরাং কার্পণ্য বৃথা,
কোনও অযথা দুঃখের ভার আঁকড়ে রেখে।

ভবিষ্যতের খাতায়
আনন্দ জমিয়ে রাখার মানে নেই,
হাসির আলো নিভিয়ে দেওয়া বোকামো।
বর্তমানের রঙেই রাঙাতে হবে হৃদয়,
কারণ ভবিষ্যৎ কেবলই মায়া—
সামনের পথ কুয়াশায় ঢাকা।

তৃষ্ণার্ত প্রাণে সে বাঁচুক, উদ্দাম আনন্দে,
প্রতিটি মুহূর্তকে ভালোবেসে গ্রহণ করে।
স্বপ্নের অপেক্ষায় সময় নষ্ট যেন না হয়,
জীবন এক বিশাল বাঁচার উৎসব—
এখানেই রস, এখানেই আস্বাদন।

নিজ কাজে ঢেলে দিক সে সমস্ত সত্তা,
পায়ে থাকুক নাচের ছন্দ,
হৃদয় হোক মুক্ত স্রোতস্বিনী,
যে বয়ে চলে, কখনো না থেমে।

যেদিন সময়ের পর্দা নামবে শেষবার,
পেছনে যেন না থাকে হাহাকার—
"ইস, যদি আরেকটু বাঁচতাম!"
এই কথাটি যেন উচ্চারিত না হয়।
এমনভাবে বাঁচুক, এতটাই প্রাণভরে,
যেন অনন্তকালও তাকে অভিনন্দন জানায়
উদাত্ত দুই হাত বাড়িয়ে।

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫

নিছক কথা

ফুল বললো "চল, তোর বাগানে ফুটে
এক সকালে তোর সাথে দেখা করি।"
পাখি বললো "আ মলো যা!
আমি যেন কত পর, আহা মরি মরি।"

প্রেমিকা বললো "ধর, চলছে সফর,
একে অপরের পানে, গানে গানে।
সঙ্গত চাই - সেকথা ফুল, পাখিরা জানে।
হাসতে পারিস দুষ্টু চাউনি মেলে,
তুই কিন্তু যা বলবি, কেবল কানে কানে।
না হলে লজ্জায় লাল হয়ে যাব, 
বলে দিলাম, সক্কলের মাঝখানে।"

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫

শিল্প হতে স্থাপত্যে

উঁচু ঢিবিতে বাতাস খেলে,
গোধূলি রঙ আকাশে মেলে।
এক তরুণী বসে চুপটি করে,
নিঃশব্দ বুকে ঢেউটি ধরে।

এক শিল্পী এল, চোখে আলো,
দাঁড়িয়ে রইল পলক গেল।
শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করে,
"তুলিতে তোমায় রাখবো ভরে?"

সে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল,
পটটি মুখের রেখাকে পেল।
অর্ধেক পথে থামল ক্ষণ,
"একটু ফেরো, অনুরোধ মন"।

সে সামান্য ফিরলো, আঁকা চলল,
কিন্তু শিল্পী নিজেই টলল।
হাত গোছা চুল ছুঁয়ে গেল,
একটি অশ্রু আঙুল পেল।

নিস্তব্ধ হাওয়ায় প্রতিধ্বনি রয়,
ছুঁল তাকে ধীর, মৃদু হাওয়ায়।
তরুণী চাইল নয়ন মাঝে,
আগ্রহ সহসা উঠল বেজে।

"বিরল যোগ এ," সে বলল ধীরে,
"স্বাগতম অতলে, মধু যে ঝরে।"

রবিবার, ২ মার্চ, ২০২৫

দিশা

মহত্তম গন্তব্য

জীবনের সবচেয়ে মহৎ গন্তব্য হলো আত্মবিকাশ, যা প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন ও উন্নততর রূপে গড়ে তোলার এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা। এই পথচলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুঅভ্যাসের প্রতিনিয়ত সংযোজন এবং তাদের কঠোর নিয়মের মধ্যে স্থাপন করা, যাতে তারা ধীরে ধীরে চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। আমাদের অভ্যাসই আমাদের জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। তাই যখন আমরা নতুন, ইতিবাচক অভ্যাস আত্মস্থ করি, তখন আমরা আমাদের অস্তিত্বকেই এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করি।

নতুন অভ্যাস এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতা

সুঅভ্যাস অর্জন একটি চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া, কারণ আমাদের মন সাধারণত পরিচিত ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। যে কোনো পরিবর্তন মানেই একপ্রকার অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়া, আর মানুষ স্বভাবগতভাবে অনিশ্চয়তাকে ভয় পায়। তাই নতুন অভ্যাস তৈরি করতে হলে প্রয়োজন কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং দৃঢ় সংকল্প।

একটি অভ্যাস গড়ে তুলতে সময় লাগে, তবে সেটি কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে তা চরিত্রের অংশ হয়ে যায়। যেমন, একজন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলে, শুরুতে তা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু যখন সে এটিকে একটি অপরিহার্য নিয়মে পরিণত করবে, তখন এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ধীরে ধীরে, এই অভ্যাস তার দৈনন্দিন শৃঙ্খলার ভিত্তি হয়ে উঠবে এবং পরবর্তী ভালো অভ্যাসের বিকাশের জন্যও একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

অতীতের আসক্তিকে পরাজিত করা

আমাদের ব্যক্তিত্ব ও মানসিক গঠনে পুরোনো অভ্যাস ও আসক্তিগুলো গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক সময় আমরা এমন কিছু অভ্যাসে আসক্ত হয়ে যাই, যা আমাদের মানসিক, শারীরিক বা নৈতিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন—অলসতা, নেতিবাচক চিন্তা, অপ্রয়োজনীয় বিনোদনে সময় নষ্ট করা বা অস্থিরতা। এই ধরনের আসক্তিগুলো আমাদের উন্নতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

যখন আমরা নতুন ও ভালো অভ্যাস তৈরি করি, তখন পুরোনো নেতিবাচক আসক্তিগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি সুস্থ অভ্যাস নতুন শক্তির জন্ম দেয় এবং ধীরে ধীরে অনুপ্রবেশ করে আমাদের চিন্তা, মনোভাব ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। ফলে, ধ্বংসাত্মক আসক্তিগুলো টিকে থাকার জায়গা হারিয়ে ফেলে এবং আমরা জড় হতে শক্তির নতুন এক সংস্করণে পরিণত হই।

নতুন ও উন্নততর অস্তিত্বে রূপান্তর

এই পরিবর্তন শুধুমাত্র বাহ্যিক নয়; এটি মূলত এক গভীর অন্তর্নিহিত রূপান্তর। একটি মানুষ যখন ভালো অভ্যাসগুলোকে তার চরিত্রের অংশ করে ফেলে, তখন সে এক নতুন মানসিক কাঠামোতে পৌঁছে যায়। তার চিন্তা, কাজ এবং লক্ষ্য নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়। এই রূপান্তর তাকে শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, সমাজের জন্যও একজন মূল্যবান ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে।

একজন ব্যক্তি যখন আত্মনিয়ন্ত্রণ, অধ্যবসায়, ইতিবাচক চিন্তা ও আত্ম-শৃঙ্খলা অর্জন করে, তখন সে নিজের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তখন তার অস্তিত্ব জড় হতে এক নতুন গতিশীল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—যেখানে সে নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অতিক্রম করে এবং এক উন্নততর সত্তায় রূপান্তরিত হতে পারে।

উপসংহার

জীবনের সবচেয়ে মহৎ গন্তব্য হলো নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের অভ্যাস, চিন্তা ও কাজ আমাদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটায়। এটি এক দিনের বা এক মাসের কাজ নয়; এটি প্রতিদিনের একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা নতুন অভ্যাস গড়ে তুলি, পুরোনো আসক্তিগুলোকে দূর করি, এবং প্রতিনিয়ত আত্মোন্নতির পথে অগ্রসর হই। এই যাত্রাই আমাদের প্রকৃত মুক্তি এনে দেয়—একটি উন্নত, সুশৃঙ্খল ও পরিপূর্ণ জীবনের মাধ্যমে।