শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

সরলতা বিনা

ফেসবুকে পরিচিতি ! ক্রমে ক্রমে আকর্ষণ দুর্বার !

দুজনেই আগ্রহের আতিশায্যে

উভয়ের প্রতি লাইক কমেন্টে সুনিবিড় ও ভিন্নমাত্রিক !

সামনাসামনি দেখা অথচ নেই !

শুধু গড়িয়ে চলছিল এক এর পর এক

একাকী অপেক্ষাদের অলস বছর !


আচমকা এক ভোরে চায়ের দোকানে মুখোমুখি ৷

বুক থেকে ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে

এযাবৎ জমিয়ে রাখা উদ্বেল কথাদের বুদবুদ ৷

কিন্তু যেচে আপন পরিচিতি দেওয়া, অথবা

"আপনি অমুক না ?" দিয়েও

শেষ অবধি কেন যে শুরু হলো না বাক্যালাপ !

অভিমান কি ভর করে এল ওমনি একরাশ -

"ও যখন চিনতে পারছে না, তখন আমিই বা কেন ?"


উভয়েরই একসময়ে ফুরালো চা খাওয়া !

এবার উত্তেজনা থিতিয়ে আসার মোচড়ানো ব্যথা ৷

ধীর পায়ে এঁটো ভাঁড় জঞ্জালের ডাব্বায় ফেলে,

দৃষ্টির আকুতিকে সম্বরণ করে,

অতঃপর, নিয়তিতে যেমনটি নির্দিষ্ট ছিল -

সেই অযাচিতকে বাধ্য মেনে নিয়ে, সঙ্গীর বাইকে চড়ে

ক্রমশঃ ছোট হতে হতে অনির্দিষ্টে মিলিয়ে যাওয়া ৷

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১

পবিত্রতা

 এ পৃথিবীতে কে কত ভাগ ভালবাসে আর কত ভাগ নিখাদ শুতে চায়, সে তথ্য ছেঁকে আলাদা করে বিছিয়ে দিলে বেশ সমস্যায় পড়ে যেতে পারে অধিকাংশ মানুষ ৷ দেনা-পাওনার হিসেব ? আর সেই নিয়ে মাঝে মাঝেই একটানা ঘেউ ঘেউ ও কেঁই কেঁই, অথবা দীর্ঘশ্বাস যোগে, সম্পর্কটি অতৃপ্তিতে অতীব বিষাদময় ? এটাকে ভালবাসা বলে ?


না, এ হচ্ছে মুখোশ অথবা নিছক মধ্যচিত্ততা ! ভালবাসার উদ্দেশ্য কোনও ক্ষুদ্র স্বার্থ কদাপি নয় ৷ কোনও প্রকার ধান্দাবাজি লুকানো না থাকলে, কাউকে কৃতার্থ করবে বলে ভালবাসে না মানুষ ৷ 


যে, যাকে ভালবাসে, তাকে আপন শ্রদ্ধার উৎকর্ষে, আত্মবিকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মাত্র ৷ তার বেশি আর কিছু নয় ৷


মানুষ ভালবাসে, ঐশ্বরিক ব্যপ্তি ও মহানুভবতাকে আপন হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্তে সরাসরি চুটিয়ে উপভোগ করতে ৷ শতকরা একশো ভাগ ব্যক্তিগত স্বার্থে, অবচেতনে আপন জ্যোতির্বলয়ে আকস্মিক প্রসারণ-প্রবণতা অনুধাবন করে ৷


এক্ষেত্রে, যে ভালবাসছে সে ই স্পষ্ট প্রকৃষ্ট ৷ যাকে ভালবাসছে, তার গুণ-বিচার, পরিপ্রেক্ষিতের স্বার্থে, আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ প্রাপকের যোগ্যতা অথবা যৌক্তিকতা বরং অপ্রাসঙ্গিকতায় ঝাপসা হতে পেলে ভালবাসার সত্যরূপটি স্বচ্ছতর হওয়ার অধিক সুযোগ পায় ৷


ভালবাসা, এইকারণে ঋণগ্রস্ত হয় না অথবা করে না কখনও ৷ যে ভালবাসা পেল, তারও কৃতজ্ঞতার অবকাশ থাকে না, কারণ ভালবাসার বিচরণ কৃতজ্ঞতার গোচারণ অপেক্ষা অনেকটা ঊর্ধ্বস্তরে ! 


ভালবাসলে, অনাবিল শ্রদ্ধা, আনন্দময় আস্থার সুবাসে, আপন আত্মপ্রসারের সাথে, বিশ্বস্ত যোগসূত্রটি নিঃশব্দে গড়ে নিতে পারে ৷ যে ভালবাসে, সে আত্মিক সম্পদে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করে বন্যার বন্যতায় ৷


শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

 The Call

_________Arup Sarkar

.

Man often visualised revolution

As an external purpose only.

Theoreticians toiled a lot to implement, 

Couldn't sustain and finally were Compelled to let go.


Revolution yet 

Remains the most important term

In human life, provided

It is sensed deep within

As a constant roar for liberation

From one's own limitations.


Life claims -

"You lose freedom of choice for consumption

If you don't earn and store beforehand."

Do we still have to confuse priorities ?

What should be

The primary purpose of human life ?

Creation first or consumption ?


If it is swallowing, then

We are no better than any animal.

If it is resurrection,

Then we are, at least, wiser than, but

Is it possible without love ?


We earn capabilities

Whenever we create ourselves and grow.

The objects of our love may vary

But they are still 'means' only.

The principal fuel of our self-creation

Is the inner sun, we miserly hide

At our individual fountain of love

That awaits a liberation

To flood all barriers of

Sadness driven stagnancy.


Do we hear the tune of the flute ?

Can we,

That has ever been inviting us

To the paradise of revolution

Individual by individual ?

Do we ever feel due urge inside

For the bake and call and turn bright

To transform into deeper green

While growing gloriously in spirit

Even far tall ?

.

https://go2arup.blogspot.com/2019/12/the-call.html

.

শুক্রবার, ২৩ জুলাই, ২০২১

আনন্দম

ভালবাসি ব'লে

আমার বহু-মাত্রিক চেতনার রঙে

তোমার পান্নারা হতে পারে অবিশ্বাস্য সবুজ,

চুনীরাও ওঠে রাঙা হয়ে ৷


ভালবাসা বিপ্লবের চিরকালীন বীজ-মন্ত্র ব'লে 

আমার এ সাত-পুরানো দৃষ্টিতে 

নূতন সৃষ্টির খেলা উৎসারিত রোজ রোজ,

তোমাকে, অবাক বিষ্ময়ে,

আরও বেশি প্রাণ ভরে শেখার সুযোগে ৷


ভালবাসার স্বর্গীয় মহিমায়

অনবরত খই ফুটতে থাকা পরাণ হতে

উত্তরণের মই অনায়াসে পৌঁছেই যায় 

বীমা-হীন আকাশের অশেষ সীমানায় ৷


ভালবাসি বলে তুমুল বাঁচি - 

একথা তুমিও যদিও ভালই বোঝো,

সাপের প্যাঁচে জড়িয়ে ধরে

এ স্বাধীনতাকে হরণের দিশা

বারবার খুঁজে পেতে চাও তবু -

আপন বীর্য-গন্ধী অমার স্খলিত অগভীরে !


পাথেয় যে অশেষের-আলো, 

তাকে, এ জনমে, কোনও অদূর অন্তে, 

পুনর্বার হারাতে পারবো না ব'লে,

আমার এ অমৃত-সর্ত উপার্জনে

সাময়িকের ভাষায় ভাসার মত

কোনও প্রসারণ-উন্মুখ ডানা নেই ৷


বিশুদ্ধ আত্মনির্ভরের অবারিতে

ভালবেসে নিরন্তর উৎরে যেতে যেতে,

এক বারের জন্যও, 

কোনও প্রকার পরনির্ভর মানার 

ঠিকানা-চেনা হানার ফরমান, 

বহুকাল হলো, এ চত্তরে আর জানা নেই ৷

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

এ দুর্লভ প্রেম

নিজেকে সম্যক খুঁজে পাওয়া 

পরকে অপর করা সুনিবিড় আগ্রহের ফাঁকে !


ভালবাসার জোয়ারকে 

শেষ অবধি আটকে রাখার মত বাঁধ

কোনওদিন তৈরী করতে পারে নি এ ধরা ৷


শুধু অনুভবের প্রতি বিশ্বাসের শক্তিতে

তিলে তিলে গড়ে তোলা

আপন উন্নততর সংস্করণ 

খুঁজে নেবেই উত্তীর্ণ সুন্দরের দিশা

মানবজনমের পরম্পরায় !

সে উদ্ভিন্ন রূপ দেখে 

অবাক বন্ধু-রা ফেটে পড়তে চাইবে

বাহবা আর হাততালি তে !


প্রণতি জানিও, 

আপন হৃদয়ের নির্ঝরের সামনে

হাঁটু মুড়ে বসে, খোদ নিজেকে, 

রবি ঠাকুরের কথায় - 

যে তোমার "এযাবৎ অনাগত দূরের আমি" !

কৃতজ্ঞ থেকো সমর্পণে 

অবিরাম আপন বিবর্তন-স্পৃহার ডাকে !


যাকে ভালবেসেছিলে

সে তোমার বিকাশে অধিক গুরুত্বপূর্ণ 

বা মহান কারক না হতেই পারে ৷ 

হৃদয়ের আলো 

একবার অন্তর হতে বিচ্ছুরিত হলে 

আর কি সহজে নেভে পিছু-ডাকে ?

ভ্রমর চিনলো অথবা হয়তো চিনলোই না, 

ফোটার সময়ে ফুল কি অনিশ্চয়তায় কাঁপে ?

.

রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

সহযোগ

সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে নি কোনওদিন !

সুযোগ যে হারায়, সে চিরতরে হারায় ৷

লাভের লোভে

মানুষ সর্বদা অনাবশ্যক তাড়ায় থাকে ৷

তার পক্ষে তাই

অবসরের প্রকৃত উপযোগিতাদের চেনা দায় ৷


একবার নিজের পানে তাকাও ! 

প্রতিটি অবসর কি 

জহুরীর অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে থাকে, 

দৈনন্দিন বাধ্যতাদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে

জীবনের গভীরতর তলে ডুব দিয়ে

তোমাকে বিরল মনি-মানিক্যদের খুঁজে দিতে ?


আপন গভীরে 

তার দৃঢ়তাকে পুরোটা পাওয়ার পরেও

আত্মকেন্দ্রিক বিহ্বলতা পেরিয়ে

খুঁজে পেয়েছো এ অবধি কখনও

তেমন অবসরের নিশ্চিন্তি - আপন আত্মবিশ্বাসে,

কোমল ও কঠিনের নান্দনিক দ্বন্দ্বের

তাৎক্ষণিক প্রগাঢ় অনুভবে, সুরের মিলটি হয়ে গেলে,

দৃষ্টিকে দৃষ্টির বাহুমূলে ডেকে নিয়ে

কেবল অধর-সুধার দরদী বিনিময়ের

ধৈর্যশীল আদরের ভরসায় 

তাকে তৃপ্তির আপ্লুত-স্তরে পৌঁঁছে দিতে পারায় ?


অবসর কি কখনো 

আমি হতে বিশুদ্ধ তুমি-র

দূরদর্শী লক্ষ্য অবধি পৌঁছে যেতে যেতে

ধৈর্যকে সংযমী উত্তরণে বাড়ায় ?

মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

দেনা-বিনা

কামনা-বাসনার অপর নামটি দেনা ৷


একজনের নাম একাকিত্ব বা অতৃপ্ত কামনা আর

অপরের নাম ভালবাসা,

যুযুধান দূরত্বে বাস করে দুইজনা ৷

দুজনে এত অধিক বিকর্ষণ, যে

কখনো কেউ কারও সামনেই আসে না ৷


একাকী হতে পারে বুঝি সে কখনো,

হিসেব করে ভালবাসে না বলে

ফুরিয়ে ফেলার ভয়

যাকে কদাপি স্পর্শ করে না ?


তাকে, এ ধরা, না দিয়ে দিয়ে

কি করে ঠকাবে,

বাসনা জমিয়ে প্রবল করে

সুযোগ-মত চাইবে বলে,

যে একবারও অপেক্ষায় থাকে না ?


একা ভাবলে তাকেই,

যে সম্রাট-সুলভ চরৈবেতি  

সামান্য-সাময়িকীর লোভে

পরের দুয়ারে কৃপাপ্রার্থী হতেই জানে না ?


সিক্ততা

ভিজছিলে রাস্তার ধারে অসহায়ে,

সেদিন অঝোর বর্ষা !

কারা যেন দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছিল দেখেও !

একটা কাক-ভেজা রাস্তার কুকুর

আরও বেশি ভিজে যাবে জেনেও

যেচে এসে দাঁড়িয়েছিল প্রায় পাশে !

সহযাপনে ?

কুকুরটা দেখতে বেশ ফর্সা !

তোমার জলে ভেজা ঠোঁট

আটকাতে পারেনি 

তেমন সঘন ররষণ মাঝেও

সুস্পষ্ট একচিলতে হাসির বরষা !


আচমকা ঝাপসায় 

স্পষ্ট হলো একটি ছায়ামূর্তি আর ছাতা ৷

কাছে আসতেই এক ধমক -

"এভাবে গরুর মত ভেজে কেউ ?

ধর, ধর ছাতাটা !"

কাঁপা হাতে ছাতাটা ধরতেই

মূর্তি, ছায়ামূর্তি হয়ে, ফের পুরোটা ঝাপসা !


মনে কি পড়লো তখনো, ও লো সখি,

এই অবলা-অবেলায়

সেই ছোটবেলায় হৈ হৈ করে খেলা - ধাপসা ?

.

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১

আঘাত

নিজেকে এবং তৎসহ তোমাকে

বুদ্ধি-সর্বস্ব চতুর ও লোভী হওয়ার পথে, ফলতঃ 

ক্রমশঃ নিষ্প্রাণ-অননুভবী হতে দেখলেই,

ঝন-ঝন শব্দে 

প্রতিবার পুরোটা না ভেঙে ফেললে,

গড়তে পারা সম্ভবই না - সম্পর্কের নিবেদনকে

নবরাগের ভোরে অনাবিল সুন্দরতরে

অপ্রতিরোধ্য ভালবাসার যোগ্য করে ৷


প্রস্তুত রেখো তাই চেতনে -

"নূতন পাতা যতদিন গজাতে পারে ভালবাসার

গাছ ঠিক ততদিনই বাঁচতে পারে, 

না হলে অবধারিত মরে ৷"


ফিনিক্স-রক্ত না বইলে ধমনীতে

মানুষ কেবল মরার ভয়ে 

বাঁচাকে - নিজে, নিরন্তর আপোষে,

প্রায় রোজই গলা টিপে একবার করে মারে ৷


রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

বেঘোর

"নাভির নিচে 

তেমন অমৃতকুম্ভ ছিল না কোনওদিন

সুখকে চিরতরে অমর করে দেওয়ার

গ্যারেন্টি সহকারে,

কোনও মহত্তম ঈশ্বরের ব্যতিক্রান্ত বরে !"


তনুর বহু-ব্যবহারে দীর্ণ তুমি

সে কথা হাড়ে হাড়ে জেনেও,

কোন লোভের আপোষে 

পড় না আজও সে সত্য-গাথা 

বিবেকের সাথে সমানতালে উচ্চস্বরে ?


তোমার যাবতীয় ব্যথা, কথকতার প্রবণতা,

সবই ঘুরে ফিরে একমাত্র সাময়িক ভোগের তরে ?


ভালবাসতে পারার অধিকারে 

নিজেকে উত্তীর্ণ কর নি বাস্তবে 

অনুভবের শিখরে - অর্জিত আভিজাত্যে ?

পদে, বিপদে, যে ভালবাসায় অদম্য বিশ্বাস

রাজি ছিল জীবনকে সতত উদ্ধারে,

কেন সে উচ্চতর স্থিতি তবে 

অস্থায়ীর পায়ে পায়ে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরে

প্রতিনিয়তঃ নির্লজ্জের পারা কেঁদে মরে ?


সাহসী সত্যকে আর অস্বীকার না করে

পারলে মেনে নিও -

"শরীরে তোমার তেমন রসদ ছিল না কখনো

যা পুরুষকে নিশ্চিত রূপে, অদৃশ্য বকলেসে, 

প্রতিটি ক্ষেত্রে আজীবন বেঁধে রাখতেই পারে ৷"


শুধু পুরুষ কেন, যে কোনও মানুষ, আজও,

শ্রদ্ধায় নতজানু থেকে যেতে পারে, দ্বর্থহীন সমর্পণে,

শুদ্ধ ভালবাসার 

অক্লান্ত সহযোগের শর্তহীন আদরে ৷

শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

অচেনা

হ্রস্ব বালির চর

আর পাঁকাল খাঁড়ির

বিবিধ বিন্যাস-চেনা যাপনে,

নদীর পক্ষে

মোহনায় পৌঁছানোর আগে

সম্ভব কি হতে পারে

কল্পনা করা

চিন্তার যে কোনও বিস্তারে,

.

সাগরের

দুই অদৃশ্য বাহুর মাঝে 

আদিগন্ত প্রসারিত বক্ষে

ঝাঁপ দিয়ে পড়ার সুখ

সুদীর্ঘ অপেক্ষার শেষে

ঠিক কতটা পরিমান হতে পারে ?

বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

দায়

প্রেম আর কর্ম-জগৎ

দুই-ই মানুষের পূজার উপাদানে 

মূলতঃ সমর্পণ চায় ৷


দ্বন্দ্বটি যেখানে, সে হলো -

কেউ কারও হতে লঘু নয় ৷

একজনকেই নিতে হয়

সময়ের ভেদে উভয়ের একক দায় ৷


কোনও এক শারদ প্রভাতে

বাঁশিকে গোকুলে নামিয়ে রেখে

বার-বার কানাইকে তাই

পায়ে পায়ে

হস্তিনাপুরের পানে চলে যেতে হয় ৷


সে চিরন্তনীর বয়ান

কবির অবিশ্বাস্য কলম

আজি হতে শতেক বরষ আগে

কতই না অক্লেশে রচনা করে যায় !

.

.

বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১

পরিচয়-সঙ্কট ( Identity Crisis )


অকারণ ভয় আর অন্ধ-সংস্কার

যুগে যুগে পরমুখাপেক্ষী করেছে মানুষকে !


আর সেই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে

শার্দূল কর্তৃত্ব-লোভ, কেবল ধূর্ততার অধিকারে,

মানুষকে, গলায় বকলেস বেঁধে,

একটি মনুষ্যেতর পরিচয়পত্র মাত্র ঝুলিয়ে,

চারপেয়ে তে পাল্টে, হিঁচড়ে টেনে নিয়ে চলেছে

গড্ডলিকা প্রবাহে,

আপন স্বার্থসিদ্ধির এক এর পর এক দিশায়, 

রাজনীতি আর ধর্মের সুবিধাবাদী মুখোশ

নিজে আগে পরিপাটি করে সর্বাঙ্গে গলিয়ে নিয়ে !


সুদীর্ঘ দৈন্যের পরম্পরা মুক্তি দেবে না সহজে ৷

এ চারপেয়ে-যাপনের দুর্ভোগ

সাহসে-পঙ্গু মানুষকে 

এখনো অনেকদিন ভোগাবে ৷


তারপরে একদিন ফের

সকালের মত সকাল আসবে

একে একে সকলের জন্য,

মানুষ যেদিন মুখোশের আড়ালে থাকা

প্রতিটি কুটিলতাকে ঠিক-ঠাক বুঝতে পেরে,

তার অপ্রয়োজনীয়ের ভারকে 

ঠিক কমিউনিজমের মত

জীবন হতে খুলে, ছুঁড়ে, 

চিরতরে সংস্পর্শের বাইরে ফেলে দেবে ৷


"ভালবাসা ছাড়া 

আর কোনও নৈতিক নিরাপত্তার

প্রয়োজন নেই আদপে মানুষের" -

একথা খোলাখুলি উচ্চারণে

যেদিন আর ভয় থাকবে না কোনও,

নিছকই ফাঁকা বুলি-সর্বস্ব 

ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভেদাভেদের

যত্ন করে সাজানো জটিলতার পসরাকে সেদিন

তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়তেই হবে,

মানুষ যেদিন ফের 

শুধু আপন দুই পায়ের জোরে

নতুন ক'রে, গর্ব-ভরে, 

হাসতে হাসতে আবার উঠে দাঁড়াবে ৷ 


মানবিকতার অফুরাণ ঐশ্বর্য্যে, মানুষের পরিচয়ে -

ঠিক যেমন রাজকীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠার কথা,

শুদ্ধ আত্ম-নির্ভরতাকে স্থায়ী রূপে অন্তরে পেয়ে

মানুষ ও তার স্বাধীনতা, সেদিন,

ঠিক তেমনই অপ্রতিহত ঔজ্জ্বল্যে অটুট হবে ৷