বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩

অপারগ

এই জগতে প্রায় প্রতিটি মানুষ 
সহজাত প্রবৃত্তি হতেই সমূহ কৃপণ । 
সে দিনের-পর-দিন ধরে সঞ্চয় করে, 
আপন নিবিড়ে, বিশেষ কিছু গুপ্তধন, 
কাউকে কিচ্ছুটি না জানিয়ে, কেবলমাত্র 
স্বপ্নের 
আপনতম মানুষটির কথা মাথায় রেখে ।

তার মূল সিন্দুকটি থাকে পরাণে,
যার রঙ আজীবন চাপা রইতে পারে না ব'লে,
বাধ্য হয়ে
ছড়িয়ে পড়ে ক্রমশই - মন বেয়ে শরীরে ।
ভাণ্ডারটি ভরে গেলে কানায়-কানায়,
উপচেও পড়ে জলপ্রপাতের পারা ।
বুকের আঁচল, 
বেখেয়াল কলমের একপশলা খোঁচায়
আচমকা একটুখানি সরে যেতেই 
চকচক করে ওঠে হৃদয়ের গোপনতম আমন্ত্রণ !

তার ঔজ্জ্বল্যের তীব্রতায়
নিরুপায় অনুভবীর 
বাকরুদ্ধ দৃষ্টি ঝলসে যেতে থাকে ।
হৃদস্পন্দন স্তব্ধ হতে চায় ।
অজান্তে, অপারগ হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে 
উপরে উঠে
আছড়ে পড়ে শূন্যে, হাওয়ায় ।

সকরুণ বেণু সাড়া দিতে চেয়ে
হৃদয়কে ক্রমাগত বিচলিত করলেও,
বিবেক শেষ অবধি 
আবেগের দাস হতে পারে না ব'লে,
পূর্ববর্তী অঙ্গীকারের প্রতি স্খলনহীন নিষ্ঠায়,
অকবি-আপোষহীনতাকে, টলটল-জলেও
অতঃপরেও অটল রইতে হয় ।

শিক্ষক আহরণ

মানুষের চিন্তা বেশিরভাগ সময়ে
তার অভ্যস্ত আন্তর-প্রবূত্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত,
ও নির্দেশিত হতে থাকে ।
একটি বাঁধা-গতের সীমিত পরিধির বাইরে
একটি মানুষের অভ্যাস
সচরাচর বেরোতে বিফলই হয় ।
প্রগতি-জনিত উত্তরণ তাই কদাপি সহজ নয় ।

মানুষ যখন, নিরহঙ্কার মনের দরজাটি খুলে
মুক্ত বাতাসকে,
পরাণে, অনুভব অবধি ডেকে নেয়,
( যদিও, অনুভবের 
গভীর হতে গভীরতর স্তরও থাকতে পারে )
একমাত্র তখনই সে পরের অভিজ্ঞতা হতে
অজানা সূত্র আহরণ করতে সক্ষম হয়,
যা, তার গতানুগতিক প্রবৃত্তির বাইরে গিয়ে 
আপন পথটিকে খুঁজে নিতে
ও স্বচ্ছতর হতে যারপরনাই সাহায্য করে ।

অন্তরে শ্রদ্ধার লালন অবিরত রাখলে
শিক্ষা শেষ হয় না কোনও বয়সেই ।
শিক্ষকরাও, আশেপাশেই থেকে,
হামেশাই, আপন বোকামির দ্বারা,
কঠিন সমস্যার এমন সহজ সমাধান
চোখের সামনে অহরহ ফুটিয়ে তোলে, যে,
কৃতজ্ঞ চিত্তে, তেমন বোকাদের
পায়ের ধুলো মাথায় নিতে প্রাণ চায় ।

নিজেই আগে-ভাগে ঠকে না গিয়ে,
উন্নত ধৈর্যের মূল্যে, পরের ভুল করা অবধি
আপন প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষাকে প্রসারিত করলে
এবং পরের ভুল - 
প্রথম সুযোগে চিহ্নিত করতে পারলে,
কোনও সমালোচনায় না গিয়ে,
অপ্রতিরোধ্যতার অমায়িক উৎসবে, নীরবে,
কেবল নিজেতে, বিচক্ষণতার সুমধুর ঐতিহ্য
যত্ন করে রক্ষা করা সম্ভব হয় ।