রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রত্যুত্তর

সেদিন অঝোর বরষণ
আর আমার হাতে ধরা ছিল
তোমার পছন্দের সিনেমার দুটো টিকিট !
আসবে কথা দিয়ে
একঘন্টা অপেক্ষার পরেও আসোনি ।

তুমি বেড়াতে যাবে বলেছিলে
সমীরদের সাথে ডায়মণ্ড হারবারে ।
আমি লুকিয়ে জেনে নিয়ে
ঠিক সময়ে ভিড়ে গেছিলাম দলে ।
তুমিই আসোনি দেখে
উতলা হয়ে ফোন করাতে
শুধু বলেছিলে "কাজ আছে, তাই পারিনি ।"

শ্রাবণীর শুভ পরিণয়ে
পৌঁছাতে চেয়েছিলাম তোমার বাইকে চড়ে ।
তুমি বলেছিলে - সেদিনই, কেন কে জানে,
বাইক চালাতে ইচ্ছে মোটেও করেনি ।

তুমি তারপরেও, নিঃসন্দেহে 
খুবই ভালো বন্ধু ছিলে আমার !
হতাশ আমি, দীর্ঘশ্বাস অস্বীকার করে 
নূতন উদ্যমে
তোমার 'কেবল বন্ধুত্বের' অনগ্রসর পরিসরে
ধাক্কা খেতে খেতে
নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুতে পারিনি ।

মর্যাদা-বোধ

তোমাকে প্রতিবার 
অবহেলা-জনিত তাচ্ছিল্যের উদযাপনে
এক এর পর এক পুড়িয়ে মারা
অভিপ্রায় ছিল না কোনওদিন !
প্রতিটি আগ্রহী চুম্বনে 
আমি তোমাকে 
নিসিক্তির চরমতমে
তারিয়ে তারিয়ে আত্মস্থ করতে চাই ।

তাই, যতই ব্যস্ততার মধ্যেই থাকি,
বহুক্ষণ সংযমকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরে
যখন প্রতিটিবার 
তুমি অবশেষে তীব্রতম পায়,

তখন নির্দ্বিধায় সবকিছু ফেলে রেখে,
কারোর কাছে 
পরবর্তীর ঠিকানা না রেখে এসে,

একান্তের নৈঃশব্দ্যে
মুখাগ্নির নির্জন আহুতিতে, 
ও আমার অর্ধশতাব্দী যাবৎ
অবসরের বিশ্বস্ততম অনুবাদ,
তোমাকে নিরাভরণে চাই ।

সহজিয়া

অনুরাগের
অকস্মাৎ ঘনীভবনের
তেমন যৌথ লগনে
ইশারার প্রশ্রয়টুকু বাদে
তোমার যদি
ফের আপোষী মৌনতা বরণ,
তবে নিশ্চিত জেনো পরের বার
পার পাবে না আর সে লগন !

সোহাগ বাধ্য রওনা দেবেই
মন্থনাভিমুখে,
ঠিক যেমন করে
পরাণের একান্ত-আপন
নিছক দয়িতের অধিকারে
গোপনের 
তিরতির কম্পন থেকে
কুসুমিত করতে সক্ষম
তোমার অবধারিত সমর্পণ

আর তারপর 
দৃঢ়তার অনমনীয় দিক-নির্দেশে
দ্রবীভবনের উত্তরোত্তর সহযোগে
মসৃণতার রথে চেপে
গতির চুড়ান্তে উত্তরণে
নিবিড় সুখের অসহ্য শিহরণ ।

অবশিষ্ট তো শুধু 
বিনিয়োগের অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে
আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধারে
শীৎকারের 
অন্তর্ভেদী বিজয়-বর্ণন ।