দীপ আর জয় প্রাণের বন্ধু । একই ক্লাসে ইংরেজি অনার্স পড়ে । গতকালই শাহারুখের জওয়ান দেখেছে দুজনে । আজ ক্লাসে নিচু স্বরে আলোচনা চলছিল তাই নিয়ে । কিন্তু স্যারের দৃষ্টি এড়ানো গেল না । একটা চকের টুকরো আচমকা উড়ে এল জয়ের কপালে । স্যার চোখে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিয়ে সরাসরি তাকিয়ে আছেন ওদের দুজনের দিকে । কিছুক্ষণের নীরবতা । তারপরে কোনও রাগ না দেখিয়ে স্যার দুটো শব্দ উচ্চারণ করলেন - "Be teachable" ! আরও একটু তাকিয়ে থেকে, স্যার ফিরে গেলেন তার বাকি লেকচারে ।
জয়ের একটা অস্বস্তি হতে শুরু করলো । তারা দুজনে মিলে ক্লাস আর স্যারকে ডিস্টার্ব করে ঠিক করেনি । অথচ আগের অংশ মন দিয়ে না শোনায়, এখন স্যার যা বলছেন, তা যে খুব ভাল বোঝা যাচ্ছে এমন নয় । জয় তবুও এক মনে শুনতে শুরু করলো ।
দীপ একটা নূতন শব্দ শুনেছে । #Teachable ! স্যার হতে বলেছেন, কিন্তু "Teachable" কীভাবে হতে হয় ? দীপের ভিতরে শুরু হলো তোলপাড় শব্দটি নিয়ে । আচ্ছা, এই teachable শব্দটির বাংলা কী হতে পারে ? খুব সম্ভবতঃ, শিক্ষণ-যোগ্য । তাহলে শিখতে গেলে যোগ্যতার প্রয়োজন । এবার একটা শিহরণ বয়ে গেল দীপের ভিতরে । কোন যোগ্যতা দ্রুততম শিখতে সাহায্য করে ? সে অতীতে শুনেছিল আর একটা কথা - "নরম মাটিতে সবচেয়ে ভাল পায়ের ছাপ পড়ে ।" তাহলে গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে হলে, সবার আগে নিজেকে কোমল ও সংবেদনশীল রাখতে হবে ।
কিন্তু কোমল পরাণে তো আঘাত লাগতে হয় অধিকতর । তাহ'লে সংবেদনশীল হ'লে, সবার আগে নিজেকে বাঁচাতে শিখতে হবে অনাকাঙ্খিত প্রভাব-জনিত বিভ্রান্তি হতে । সেটা কীভাবে সম্ভব ? তেমনটা সম্ভব হতে পারে, যদি বাইরের থেকে যে কোনও দূষণ আরোপনের ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিক্রিয়াহীন রাখতে পারা যায় । কিন্তু নিজেকে প্রতিক্রিয়া-প্রতিরোধী রাখতে গেলে তো stoic হতে হয় ।
তাহলে stoic হওয়ার সাথে সাথে, বিশেষ কোনও অভীষ্ট শিক্ষার প্রতি বিপরীতধর্মী, তথা, তীব্র রূপে আগ্রহশীল হতে হবে । এই বিশেষ আগ্রহের কারক মানুষের কোন গুণটি হতে পারে ?
এবার আবার মনে পড়লো একটি সংস্কৃত বচন । সে হলো - "শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম" । ব্যাস, এইতো ! গভীর শ্রদ্ধা মানুষকে সবচেয়ে দ্রুত জ্ঞান আহরণে সাহায্য করে ।
এবারে পুরোপুরি teachable হতে শেষ যে সমস্যাটি পড়ে রইলো, তা হলো একদিকে stoic আর অপরদিকে শ্রদ্ধাশীল, এই দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত-ধর্মী অভ্যাসের চর্চা একই সময়ে যুগপৎ করা সম্ভব কীরূপে ?
এবার তাহ'লে ফিরতে হবে মার্কস এর দিকে, যার অন্য সব কথা সম্মন্ধে দ্বিমত থাকলেও, "দ্বন্দ্ব বিনা মানবজীবনে কোনও উত্তরণের বীজ প্রোথিত হওয়া সম্ভব নয়" - এই অমোঘ সত্যটির মধ্যে লুকিয়ে আছে একই সাথে, একই সময়ে, stoic ও শ্রদ্ধাশীল হতে পারার সূত্রটি ।