বিমান জানে—
আকাশে পৌঁছানোর আগে
তাকে পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হবে।
মাধ্যাকর্ষণ কখনও
স্বেচ্ছায় কাউকে মুক্তি দেয় না।
তাই উড্ডয়নের প্রথম কয়েক মিনিটে
সে তার জ্বালানির বিরাট অংশ
পুড়িয়ে ফেলে।
অসংযত আগুনে।
অবিরাম গর্জনে।
প্রচণ্ড প্রতিরোধের বিরুদ্ধে।
রানওয়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ
প্রায়ই ভাবে,
“কী অপচয়!”
কিন্তু বিমান জানে—
এ অপচয় নয়।
এ বিনিয়োগ।
কারণ মাটি থেকে
মাত্র এক ফুট ওপরে ওঠাও
কখনও কখনও
পাঁচ হাজার মাইল ভ্রমণের চেয়েও কঠিন।
মহান মানুষদের জীবনেও
একই নিয়ম কাজ করে।
যারা নিজেদের সীমা ভেঙে
অন্য এক মানদণ্ডে পৌঁছাতে চায়,
তাদেরও প্রথমে
এক ধরনের নির্মম ত্বরণ সহ্য করতে হয়।
সেই সময়
তাদের অধিকাংশ শক্তি
বাহ্যিক ফলাফলে নয়,
অভ্যন্তরীণ রূপান্তরে ব্যয় হয়।
অন্যেরা দেখে—
কিছুই ঘটছে না।
কোনো পদক নেই।
কোনো করতালি নেই।
কোনো দৃশ্যমান সাফল্য নেই।
কিন্তু অদৃশ্যের ভেতরে
ইঞ্জিনগুলো জ্বলছে।
অভ্যাস বদলাচ্ছে।
চিন্তার কাঠামো বদলাচ্ছে।
আত্ম-শৃঙ্খলার নতুন স্নায়ুতন্ত্র
গড়ে উঠছে।
পুরোনো দুর্বলতাগুলো
এক এক করে পুড়ে ছাই হচ্ছে।
বাইরে থেকে
মানুষটি একই রকম দেখায়।
কিন্তু তার ভিতরে
একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মিত হচ্ছে।
সুপার হিউম্যানরা
সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলে
মহান হয় না।
বরং তারা জানে
কখন সমস্ত শক্তি
একটি নির্দিষ্ট দিকে কেন্দ্রীভূত করতে হয়।
তারা জানে,
জীবনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মুহূর্ত
সাধারণত শুরুতেই আসে।
যখন তুমি ভোরে ওঠা শুরু করো।
যখন তুমি অলসতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করো।
যখন তুমি ব্যবসা শুরু করো।
যখন তুমি শরীর বদলাতে চাও।
যখন তুমি নিজের চরিত্রকে
পুনর্গঠন করতে চাও।
সেই সময়
তোমার পুরোনো পরিচয়
তোমাকে নিচে টেনে ধরে
মাধ্যাকর্ষণের মতো।
বন্ধুরা বুঝতে পারে না।
পরিবার সন্দেহ করে।
সমাজ উপহাস করে।
আর তোমার নিজের মনও
অসংখ্যবার ফিরে যেতে বলে।
কারণ রানওয়ের উপর
ঘর্ষণ সবচেয়ে বেশি।
আকাশে নয়।
অনেকেই তাই থেমে যায়।
তারা গতি পায়,
কিন্তু উড্ডয়ন পায় না।
তারা উত্তপ্ত হয়,
কিন্তু প্রজ্জ্বলিত হয় না।
তারা শুরু করে,
কিন্তু যথেষ্ট জ্বালানি পোড়াতে রাজি হয় না।
ফলে তাদের জীবন
চিরকাল ট্যাক্সিওয়েতে ঘুরতে থাকে—
ইঞ্জিন চালু,
স্বপ্ন জাগ্রত,
কিন্তু চাকা এখনও মাটিতে।
আর যারা শেষ পর্যন্ত
নিজেদের আগুনকে ভয় পায় না,
তারা একদিন
অদৃশ্য এক সীমারেখা অতিক্রম করে।
হঠাৎ নয়।
ধীরে ধীরে।
যেন পৃথিবীর হাত
তাদের গা থেকে সরে যাচ্ছে।
তারপর একদিন
তারা আবিষ্কার করে—
যে শক্তি একসময়
উড্ডয়নের জন্য ব্যয় হচ্ছিল,
এখন তা দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য যথেষ্ট।
যে সংগ্রাম একসময়
অস্তিত্বের বিরুদ্ধে ছিল,
এখন তা উৎকর্ষের পক্ষে কাজ করছে।
আর তখনই তারা বোঝে—
মহত্ত্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ
শিখরে নয়,
শুরুর কয়েক মিনিটে।
কারণ প্রতিটি বিমান
প্রথমে পৃথিবীকে পরাজিত করে,
তারপর আকাশ জয় করে।
এবং প্রতিটি অসাধারণ মানুষও
প্রথমে নিজের অভ্যন্তরীণ মাধ্যাকর্ষণকে পরাজিত করে,
তারপর পৃথিবী তাকে
“অসাধারণ” বলে ডাকতে শুরু করে।