মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯

ভাই ভাই

প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছে সদরে ! আব্বা একদিন অনেক খরচা করে দামী সেগুণে বানিয়েছিল দরজা ! তার উপর পড়ছে শাবল, বাঁশ বল্লমের কোপ ! দরজাটা আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে আব্বার পরম আদরের মিনুকে বাঁচাতে ! তবে ওকে আজ হেরে যেতে হবে !


আমি তসমিন, এগারো বছর ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে ভালবাসার পর আজ সকালে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছি সোহম চ্যাটার্জিকে !


আমার যে চিরকালের আদর্শ ফিরোজদা, যে জ্ঞানতঃ কমিউনিষ্ট বলে নামাজে যায় না, যে বিয়ে করেছে আমাদের কলেজেরই অধ্যাপিকা লিপিকাদিকে, যে লিপিকা কর্মকারের চিকেনপক্সে আমি প্রায় একমাস, দুবেলা ওদের বাড়ির রান্নাবান্না আর রুগীর সেবা একা হাতে সামলেছিলাম, আমরা নিশ্চিন্ত ছিলাম - সেই ফিরোজদা আমাদের বিয়ের পরে তার ফাঁকা গেস্টরুমটিতে অন্তত সাতদিন থাকতে দেবে !


সোহম যে বাড়িটা ঠিক করে এসেছিল সেটা ভাড়া পাওয়া যেত সাতদিন পরে, সোহমের কাজের জায়গায়, এখান থেকে দেড়শো কিমি দূরে !
সোহমের বাবা নেই ! মা, - কাকার ভয়ে বাড়িতে তুলতে রাজি নন !


অথচ ফিরোজদার বাড়িতে দুজনে মিলে গিয়ে থাকার কথাটা পাড়তেই, ফিরোজদা প্রথমে লিপিকাদি আর সোহমকে পাশের ঘরে পাঠালেন ! তারপর, আমার কখোনো না জানা, শীতল নিস্পৃহতা দিয়ে ফিসফিস করে বললেন "জানিস না নাজায়েজ কাকে বলে ? সোহমকে নিয়ে ঘরের বাইরে যা ৷"


সোহম তারপরে আর উপায়ান্তর না পেয়ে বললো বাড়ি ফিরে যেতে ! কিন্তু আমি জানতাম খবর ওরা পাবেই আর আমার এতদিনের পাড়াটা সাথে সাথে পাল্টে যাবে হায়নার গুহায় !


এখানের সবাইকে খুব ভালবাসতাম আমি ! কিন্তু আর সময় নাই ! ওই এলো দরজা ভেঙে পড়ার আওয়াজ ! যে শাবল, বল্লম, দরজা ভাঙছিল এতক্ষণ, এবার তাদের সময় হয়ে এলো আমার রক্তে স্নান করার !


নূতন করে আর একবার ভালবেসে সুখী হয়ো জীবনে, সোহম ! বিদায় হে সুন্দর পৃথিবী ! খুউব ভালবাসতাম তোমায় ৷.