মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮

প্রীতিস্পর্ধ

হে চিরপরিচিতা, হে সমর্পিতা,

তোমাকে যে কথা আজও হলো না বলা,

প্রথমে জানতে হয় - কেমনে কাছে

আর কোন প্রবীণ দীনে - আরও দূরে !

 

বোধকে বোঝের ভ্রমে

মানব জনমের দোষ ভেবে নিও না সহসা !

প্রকৃতি হতে পুরুষেই বিবর্তন-দিশা !

বিপরীতে, ক্ষয়ে কোন ক্ষেত্রে নয়,

সৃষ্টি হতে একমাত্র মহাশূন্যে

শক্তিতে পরিণত হয় যে মেশা !

 

তাই তোমার শ্বাস দীর্ঘতর যুগে যুগে

মাটির মূলকে খুঁজে না পেয়ে স্থূলে!

সে রাখেনি আসক্তি-শিকড়,

আসেনি সেখানে চিরস্থায়ী

রয়ে যেতে মেতে ভুলে !

 

যাকে পেয়ে দোঁহে

পাওয়ার সুখ পারেনি অনন্ত হতে

তাকে খুঁজেছিলে হয়তো সাময়িক মোহে !

 

আর যাকে আকুল নিবিড়ে -

সে অস্তিত্ব - মাংসল পারে নি হতে !

তার নিবাস সূক্ষ্মতরে, হে প্রিয়া, তাই

অধোগতি মতি হলে - নিরুপায় মানা ছুঁতে !

 

অবিরত সূর্যালোক বরষে

আত্মবিশ্বাসের সুকোমল হরষে

একার একাকিত্ব-হরণী প্লাবন যে সে

সমকালীন চন্দ্র-দোষে দুলে

অনুভবের বরে

স্বরচিত অক্ষয় বিরামাগারে

তোমারই

চিরস্বাধীনতা-বিলাসী অন্তঃপুরে !

.


অথঃ মানবিকতা-কথা

প্রতিটি আঘাত - অতি আবশ্যিক ভাবে

প্রত্যাঘাতের বীজটিও বোনে,

জমিয়ে রাখে সময়ের করালে,

ফিরে পেতে - পূর্ণতর শক্তিতে

একদিন হেরে যেতে - আবার

নিয়তির

দাবার গুঁটি পাল্টে দেওয়ার কালে !

.

অথচ মার খেয়ে,

দীর্ঘদিন যাবৎ মার খেতে খেতে

সহনশীলতার ব্যায়ামে

সহ্যকে শক্তিতে পাল্টে নেওয়ার সকালে -

.

"তোমার মারে

নতুন কিছু আর হওয়ার নেই - আমার"

.

সেকথা

পাল্টা প্রত্যয়ে ঘুরিয়ে ফেরত দিলে

হীনমন্যতা আরোপে

তার আত্মবিশ্বাসকে অবধারিত পতনের দিশায়

ঠেলে দেওয়া যে যায়

- সেকথা ইতিহাস ঘেঁটে সুযোগ-মত জেনো !

.

এরপরে, খুব বেশি কিছু করার থাকে না আর !

একবার চোখ পাকিয়ে "চোপ" বলে বকে দিলে

যত বড় নামডাক থাক তার বোকার বাজারে,

তোমার বাঁশে

আপনে ডুবন্ত আবিলে - সে

ল্যাজটি গুটিয়ে কেটে পড়ে অন্য বিলে !

.

তার তূণের সব অস্ত্র ফুরিয়ে দিলে

তোমার হাতের একটি মাত্র ঘাসের টুকরোও

ব্রহ্মাস্ত্র হতে হয় - রাজার বাধ্য মাতে

বোড়ের অতি সামান্য সে চালে !

.

মানুষ, সেই কবে থেকে

কত কত বড় বড় ভাষণ রচনা করে !

বোঝে না - এ সামান্য সূত্র

দোসরা অক্টোবরের সকালে !