মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

স্বাচ্ছন্দ্যের সমস্যা

স্বাচ্ছন্দ্য একটি ঘর তোলে
নরম দেওয়ালে মোড়া,
তার নাম দেয়—নিরাপত্তা।
প্রতি রাতে ছাদের উচ্চতা
ইঞ্চি ইঞ্চি কমিয়ে আনে,
এত ধীরে
যে মেরুদণ্ডের বাঁকটাকে
তুমি পরিণতি ভেবে বসো।

ভেতরে কিছুই তোমাকে আক্রমণ করে না।
কিন্তু কিছুই তোমাকে ডাকে না সামনে।
আয়নাগুলো দয়ালু—
তোমার ধার ভোঁতা করে,
ক্ষুধাকে মসৃণ করে,
ভয়কে অনুবাদ করে
অভ্যাসে।
স্বাচ্ছন্দ্য তোমাকে খাওয়ায়
গরম পুনরাবৃত্তি।
বলে—থাকো।
তুমি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট বেঁচে গেছ।
সন্দেহকে তুলে রাখে এক ড্রয়ারে
লেবেল সাঁটে—শান্তি।

কিন্তু আত্মবিশ্বাস এখানে
শ্বাস নিতে পারে না।
তার দরকার তর্ক করা হাওয়া,
ডগমগে সিঁড়ি,
আর এমন দরজা
যারা তোমার নাম চিনতে অস্বীকার করে।

বৃদ্ধি শুরু হয় সেই সীমানায়
যেখানে মেঝে ভুলে যায়
কীভাবে ধরে রাখতে হয়,
যেখানে নীরবতা আর সান্ত্বনা দেয় না,
বরং প্রশ্ন করতে শেখে।
ওখানে ব্যর্থতার একটি কণ্ঠ আছে।
সে জোরে কথা বলে,
অনেক সময় রূঢ়,
তবু সে সত্য বলে।

তোমার পুরোনো সত্তা থেকে যায় পেছনে—
চেয়ারে গুছিয়ে ভাঁজ করা,
কৃতজ্ঞ, অপরীক্ষিত,
ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত।

স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি পেরোলে
মাটি হাততালি দেবে না।
সে তোমাকে পরীক্ষা করবে।
তোমার নিশ্চিততায় ক্ষত দেবে।
ঘাম আর সন্দেহে
দাম চাইবে।

কিন্তু সেখানে কিছু বন্য জেগে ওঠে—
দাঁতওয়ালা এক আত্মবিশ্বাস,
নিরাপত্তা থেকে নয়,
নিজের কাঁপুনি টিকে যাওয়া থেকে গড়া।
স্বাচ্ছন্দ্য তোমাকে অক্ষত রাখে।

বৃদ্ধি তোমাকে খুলে দেয়,
আর শেখায়
কীভাবে দাঁড়াতে হয়
দেয়ালের সহায়তা ছাড়া।