বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

নির্মম নীরবতা

তুমি তো চিরকালই ছিলে এক মর্যাদাসম্পন্ন নারী—

সংযমে গাঁথা প্রতিটি দিন,
সম্মানের ভাষায় উচ্চারিত হতো তোমার নাম,
সেইসব ঘরে, যেখানে শালীনতাই ধর্ম।
একটি জীবন—পরিপাটি, সুশৃঙ্খল,
একটি বিবাহ—সমাজ-স্বীকৃত গৌরবচিহ্ন,
একটি অস্তিত্ব—ঈর্ষণীয়,
সন্দেহের ধুলা পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি তোমায়।

কিন্তু প্রেম—
সে তো প্রাচীন এক রাজদ্রোহী,
যে কখনোই অনুমতি চায় না।
সে ঢুকে পড়েছিল তোমার ভিতরে নিঃশব্দ আগুন হয়ে,
আর তুমি—
একজন নারী, যার হৃৎসংবেদনে বরণের বিধান লেখা—
চলে গেলে তার পিছু,
আমার মতো এক অপরিচিত পুরুষের অরণ্যে।

তা তোমার উপযুক্ত ছিল না—
এই বিচ্যুতি, এই কাঁপা-কাঁপা আত্মসমর্পণ।
এটি ক্ষুণ্ণ করেছিল তোমার পরিপাটি প্রতিমা,
বিপন্ন করেছিল চিরচেনা কাঠামো।
তবুও তুমি এলে—
না, বোকামিতে নয়,
বরং সেই উদ্ভিন্ন সাহসে
যা কেবল এক নারী দেখায়,

প্রয়োজনে প্রকাশ্য রাজপথে,
যে আত্মার পবিত্র ডাক অমান্য করতে শেখে নি।

আমি সবই দেখেছিলাম—
তোমার পারাপারের খাত,
তোমার নীরব ঝড়।
আর আমি—
আমি বেছে নিলাম সে তীর,
যে তীর উচ্চতার ঔদ্ধত্যে অস্বীকার  করে আকুল ঢেউকে।

অহমিকার সাহসে নয়,
বরং এক নিঃসহায় ভালোবাসা
তোমার জগৎটিকে ধ্বংস করতে পারেনি।
তাই আমি নিজের শরীরে পরালাম নির্মমতার পোশাক—
তোমার কোমলতাকে বললাম কৌতুক,
তোমার আকাঙ্ক্ষাকে বললাম বিভ্রম,
তোমার প্রেমকে বানালাম
আমার নির্লিপ্তির ভুল পাঠ।

তোমাকে ভেঙে দিলাম—
তোমারই রক্ষার্থে।

বছর পেরিয়ে গেছে—
আর তার সাথে,
চিরতরে হারিয়ে গেছে সেই পথ
যা দিয়ে আমি পৌঁছাতে পারতাম
তোমার কাছে,
সততা কিংবা অনুতাপে।

আমি জানি—
তোমার করুণার দরজায় দাঁড়ানোর আমার কোনো অধিকার নেই।
আমি সেই পুরুষ,
যে দাহ বয়ে বেড়ায় অবিরত,
যে দহনের সে নিজেই কারক।

তাই এই ক্ষত—
চামড়ায় নয়,
আরও গভীরে—
যেখানে এখনো তোমার নাম
একটা গির্জার ঘণ্টার মতো প্রতিধ্বনিত হয়—
যা কেবল একবার বাজে,
কিন্তু অনন্তকাল ধরে শোনা যায়।

এই নীরবতাকে
আমি বয়ে চলেছি
এক পবিত্র পাপবোধ হিসেবে,
এবং বয়ে যাব
যতক্ষণ না সময় নিজেই আমাকে খুলে ভেঙে ফেলে,
আর পৃথিবী—
আমার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমাশীল ব'লে
শেষবারের মতো
ঢেকে দেয় আমার সমস্ত অপূর্ণতা।