বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২০

রেখেছ কাঙালি করে

ঈশ্বরের নিবাস থাকেনি কোনদিন -
বাইরের দূরে ৷

দাম্ভিক অথচ
সততার টিকিট-টি হাতে ধরে
মাথা নীচু করে, অন্তর-মন্দিরে
প্রবেশ করার সাহস করে না ৷

আপোষী বরং 
ঘুষের থলি যতদূর পারে ভরে নিয়ে
ধর্ম-নির্বিশেষে 
তাকে বর্ণাঢ্য উপাসনাগৃহে, বহির্বিশ্বাসে
অন্ধের বন্ধ্যাত্ব-সুখে হাতড়ে মরে ৷

মানুষ
নিরপেক্ষের স্বাধীনতা ভোগ করে
অবিমিশ্র আত্মশ্রদ্ধাবোধে - 
সাহসের অর্জিত স্বাবলম্বনে !

অপরপক্ষে
যে কোন গর্বিত দলদাস
বিচারশূন্য দাসত্ব-প্রবণতার
এই একটি মাত্র কারণেই
মানুষ হিসেবে 
মানের পর্যায়ভুক্তিতে বরাবর
পরিত্যক্তের পশ্চাদ-সারিতে ঘর করে ৷

মার্ক্সিজম একদিন শিখিয়েছে -
সমাজের উত্থান লুকিয়ে আছে
একমাত্র শ্রমিকে, কৃষকে,
শোষিতের অবহেলিত প্রান্তরে !

ইন্টালেকচুয়াল ?
সে তো আত্মকেন্দ্রিক 
আর চরম স্বার্থপর শ্রেণী-বিশেষ,
সমাজের অপ্রয়োজনীয় লোম ৷
লঘু - গুরুত্ব পাবে কোন অধিকারে ?
ইঞ্জিন - প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজন-শূন্য !
শূন্য বগিতেই, গল্পের গরু ভরে দিলে
ট্রেণ দিব্বি গড়গড় করে চলতে পারে ৷

নেতারা জনে জনে শিখিয়েছে -
কমিউনিজমকে বোঝা সহজ - ভেবো না ৷
ত্বত্ত্বটি কে পড়ে জানতে হলে
একটা গোটা লাইব্রেরীর বইকে
পড়ে ফেললেও 
আংশিকেই মাত্র জানা যেতে পারে !
সুতরাং সেদিকে ভুল করেও না এগিয়ে
আমাকে সে মহানের প্রকৃত প্রতিভূ জেনে
আমি যখন যা বলছি,
পরে ঐতিহাসিক ভুল প্রমানিত হলেও,
তাকেই বেদবাক্য মেনে চলতে হবে ৷

ভগবানকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তাই
তার স্থানে আমাকে ভাবা 
অভ্যাস করে নাও, নতুন করে !
তোমার আপোষহীন, দৃঢ় প্রত্যয়ের জোরে
দেশটি - তবেই একদিন, অবশ্যই,
ধনধান্যে ভরে, উৎরে যাবে ৷

স্বীকৃতি-ভিক্ষু, শিক্ষিত বাঙালি সমাজ
এত সুগভীর ত্বত্ত্বের
সমান্তরাল আর কিছু সামনে না পেয়ে
'চরম আঁতেল' - আত্মপরিচয়টিতে মরমী ধাবনে
একটি মৃতপ্রায় ও ব্যর্থ ইজমের
শ্রেষ্ঠতম ভক্ত - নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে,
নেতাদের পায়ে, যথা-আজ্ঞায়,
শর্তহীন তেল দিতে দিতে,
সেই থেকে 
আত্মবিকাশকে আটকে রেখেছে -
মহানের প্রসাদী অশ্রদ্ধার শিক্ষায়
শ্যুুডো আঁতেলের বনসাই যাপনে,
আপন বিবেকের সাথে 
প্রতিনিয়তঃ, ন্যাক্কারজনক আপোষের অভিসারে ৷

দুশো বছরের পরাধীনতার অভ্যাস
মেরুদণ্ডকে ততটা ভঙ্গুর করতেই পারে,
ক্রীতদাস যখন নাম পালটে
দলদাস হতে তড়িঘড়ি ছুটে যায় !
অভাগা, আপন ভাগ্যের শ্রদ্ধেয়তর সংজ্ঞা
আবার কি করেই বা গড়তে পারে ?