বসন্ত দিচ্ছে ডাক এই ফাঁকে—
না ঘণ্টায়, না কণ্ঠে,
ডাকটা আসে হঠাৎ
হাড়ের ভেতর জমে থাকা শীতে কাঁপন ধরিয়ে।
আমি ভাঁজ করে রেখেছি বন—
পাতার ভেতর পাতা,
গন্ধের ভেতর গন্ধ,
একটা সবুজ মানচিত্র
যেখানে পথের নাম ভুলে গেছে পথ নিজেই।
ও বনমালী,
তুমি পরতে পরতে খুলে দাও ঋতু—
একটা বোতাম খুললে আলো,
আরেকটা খুললে শিশির,
তারপর হঠাৎ
পৃথিবীটা নরম হয়ে যায়।
তুমি হাসো—
সে হাসি কোনো মুখের নয়,
সে হাসি নদীর বাঁক,
সে হাসি কাঁচা আমের টক,
সে হাসি সেই মুহূর্ত
যখন সময় থেমে থেকে
নিজেকে ভুলে যায়।
আমি পুলকিত—
আমার ত্বক নয়,
আমার স্মৃতিগুলো কাঁপে।
পুরনো অপেক্ষারা উঠে দাঁড়ায়,
তারা বলে,
“এই তো, আমরা জানতাম।”
তুমি সহাস্যে প্রবেশ করো—
দরজা ছাড়াই,
অনুমতি ছাড়াই,
কারণ এই বনে
তুমি আগেই ছিলে।
বসন্ত তখন আর ঋতু নয়,
সে একটানা শ্বাস,
সে একটানা হ্যাঁ—
আর আমি
ভাঁজ খুলে যাওয়া বন,
নিজের দিকেই প্রথমবার
হেঁটে যাচ্ছি।
হেঁটে যাচ্ছি—
কিন্তু পা নয়,
আমার ইচ্ছেগুলোই হাঁটে।
প্রতিটা পদচিহ্নে
একটা করে নাম ঝরে পড়ে—
ভয়, হিসেব, আগামীকাল।
মাটি সেগুলো নেয়,
আর বদলে দেয় অঙ্কুর।
ও বনমালী,
তোমার আঙুলে সময় গলে যায়।
যেখানে ছোঁও,
সেখানে অতীত ঘাস হয়ে শুয়ে পড়ে,
ভবিষ্যৎ পাখি হয়ে
এখনই উড়তে শেখে।
আমি জিজ্ঞেস করি না,
এই পথ কোথায় যায়।
কারণ তোমার আগ্রাসনে
গন্তব্যের দরকার হয় না।
পাতারা ফিসফিস করে—
“এটাই থাকা।”
নদী থামে,
নিজের শব্দ শুনতে।
আকাশ একবার চোখ বন্ধ করে,
ভুল করে যেন বেশি সুন্দর না হয়ে যায়।
বসন্ত তখন
আমাদের গভীরে ঢুকে পড়ে—
রক্তে রঙ লাগায়,
শ্বাসে রেণু মেশায়,
আর বলে,
“এবার ভুলে যাও,
কীভাবে নিজেকে লুকোতে হয়।”
আমি আর ভাঁজ নই,
আমি খোলা বন।
তুমি আর আগন্তুক নও,
তুমি সেই নাম
যেটা উচ্চারণ করলেই
তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়।