যেদিন মানুষের দম ফুরিয়ে আসে,
সেদিন পথ হঠাৎ
অদ্ভুত এক ছন্দে কাঁপতে থাকে—
যেন বহুদিন চেপে রাখা নিঃশ্বাস
এক অচেনা প্রাণীর মতো ফস করে বেরিয়ে এল
হাঁপানোর শব্দে।
পথ তখন আর পথ থাকে না—
তার চোখে ঝিলিক দেয়
কোনও অজানা সতর্কবার্তা,
ধুলোর আড়াল ভেদ করে
সে আড়চোখে তাকায় পথিকের দিকে,
যেন স্বপ্নের ভেতর থাকা কেউ
ভুল করে জেগে উঠেছে
এ পৃথিবীর আলোয়।
সে তাকানোয়
এক ধরনের অমোঘ সংকেত থাকে—
ফিরে যাওয়ার,
অথবা আরও গভীরে ডুব দেওয়ার,
যেখানে দিশার বদলে
শূন্যতাই পথ দেখায়।
পথিক তখন
নিজের ভেতরের আগুনের শব্দ শুনতে চায়,
কিন্তু আগুনও আজ
অদ্ভুতভাবে নীরব।
কোথা থেকে যেন কেউ ছুঁয়ে যায়
তার পদচিহ্নগুলো—
কেউ, অথবা কিছু—
যার অস্তিত্বের প্রমাণ
মাটিতে থাকে,
কিন্তু চোখে দেখা যায় না।
উদ্যমের অযাচিত বিশ্বাসঘাতকতায়
পথিক হঠাৎ থমকে দাঁড়ায়—
চারপাশে কেবল অচেনা প্রতিধ্বনি,
অপরিচিত বাতাস,
আর এমন এক নরম অন্ধকার
যা তার কানে ফিসফিস করে বলে,
“এখানেই তোমার পথ শেষ নয়…
কিন্তু পথ এখন আর তোমার সহচর নয়।”
এভাবেই
পথিক এক অদৃশ্য রেখায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়—
হারায় পথ,
হারায় দিশা,
কিন্তু ঠিক তখনই জন্ম নেয়
এক নতুন রহস্যময় যাত্রা,
যার গন্তব্য
পথও জানে না,
পথিকও জানে না,
তবু দু’জনেই
অদ্ভুতভাবে মুক্ত নয়।